শতবর্ষে সলঙ্গা বিদ্রোহ : বিস্মৃত ইতিহাস
jugantor
শতবর্ষে সলঙ্গা বিদ্রোহ : বিস্মৃত ইতিহাস

  মো. আসাদ উদ্দিন  

২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মূলত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে সূত্রপাত হয় ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের। জালিয়ানওয়ালাবাগের পথ ধরে ব্রিটিশ বেনিয়াদের নৃশংসতার আরেক রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়।

দিনটি ছিল ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি। এলাকার সবচেয়ে বড় হাটের দিন। এদিন সেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। সমগ্র ভারতবাসীর জন্য রক্তাক্ত বিদ্রোহের ঐতিহাসিক এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছিল সেদিন। ব্রিটিশ সৈন্যদের রাইফেলের গুলিতে রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল সলঙ্গার মাটিতে। অগণিত মানুষের করুণ আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। সলঙ্গার নির্মম এ ঘটনাকে কেউ কেউ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের চেয়েও ভয়ংকর ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। ইতিহাস এ দিনটিকে ‘রক্তাক্ত সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস’ হিসাবে আখ্যা দিয়েছে।

সলঙ্গা বিদ্রোহের বয়স আজ ১০০ বছর। এই ১০০ বছরে অর্জন বলতে দিবসের স্বীকৃতিমাত্র! কিন্তু সলঙ্গা আজ বিস্মৃতির আড়ালে হারাতে বসেছে। ২৭ জানুয়ারির সলঙ্গা বিদ্রোহের নেপথ্য নায়ক ছিলেন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ। তর্কবাগীশ ও সলঙ্গা বিদ্রোহ অবিচ্ছেদ্য। তার সম্পর্কে দুকলম না বললে অন্যায় হবে। তাকে সবাই ভাষা আন্দোলনের সিংহপুরুষ হিসাবে জানে। তিনি দেওবন্দ মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে বাঙালি ছাত্রদের অধিকার আদায়ে গঠন করেন ‘আজাদী সমিতি’। লাহোরের বিখ্যাত এশায়েতুল ইসলাম কলেজে অধ্যয়নকালে ‘তর্কবাগীশ’ উপাধিতে ভূষিত হন। পরবর্তী সময়ে দরিদ্র কৃষক সমাজের কল্যাণে গঠন করেন ‘নিখিল বঙ্গ রায়ত খাতক সমিতি’। সমিতির সেক্রেটারি হন তিনি নিজে এবং সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এ সমিতির আন্দোলনেই গঠিত হয় ঐতিহাসিক ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’। এরপর তিনি যোগ দেন মুসলিম লীগে। অবিভক্ত বাংলায় ১৯৪৬ সালে এমএলএ নির্বাচিত হন। ভাষা আন্দোলন চলাকালীন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সংগ্রামরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি করলে প্রতিবাদে পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক পরিষদে তিনি একাই ঝলসে ওঠেন। তিনি সেখানে বলেন, ‘ছয়জন ছাত্র মৃত্যুশয্যায়, তখন আমরা পাখার নিচে বসে হাওয়া খাব-এ আমি বরদাশ্ত করতে পারি না। আমি জালেমের এই জুলুমের প্রতিবাদে এ পরিষদগৃহ ত্যাগ করছি।’ পরবর্তী সময়ে তিনি গ্রেফতার হয়ে ১৮ মাস কারাবন্দি থাকেন। আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত। ১৯৭০ সালে তিনি এমএনএ নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭২ সালে জাতীয় পরিষদের প্রথম সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের বিরোধিতা করেন। ১৯৭৬ সালে ‘আজাদী লীগ’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

তর্কবাগীশ জন্মেছিলেন ১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বরে সলঙ্গারই এক অজপাড়া গ্রাম তারুটিয়াতে। সম্ভ্রান্ত এক পীর পরিবারে জন্ম নেওয়া এ মানুষটির পুরো জীবনটাই ছিল সংগ্রামমুখর। ১৯১৪ সালে তিনি শেরপুর ডায়মন্ড জুবিলী হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি গরিব কৃষক ও দুধ বিক্রেতাদের সংগঠিত করেন। তাদের নিয়ে স্থানীয় জমিদারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। জমিদারদের দুধ সরবরাহ বন্ধ করে প্রতিবাদ জানানোর মধ্য দিয়ে তার সংগ্রামী জীবনের উদ্বোধন হয়। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হয়েও এন্ট্রান্স পরীক্ষার্থী থাকাবস্থায় যোগ দেন ১৯১৯ সালের ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে। নিজের নেতৃত্বে এলাকার ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে চালিয়ে যেতে থাকেন ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের আন্দোলন। সেই থেকে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। এসব আন্দোলন-সংগ্রামের পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছিল ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি সলঙ্গার মাটিতে।

সেদিন এলাকার বড় হাট সলঙ্গায় যুবক আবদুর রশীদের নেতৃত্বে চলতে থাকে ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের প্রচারাভিযান। ‘বিলেতি পণ্য বর্জন কর, এদেশ থেকে ব্রিটিশ হটাও’ স্লোগানে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচারাভিযান যখন তুঙ্গে, তখনই ছুটে আসে পাবনার ম্যাজিস্ট্রেট আর এন দাস। সঙ্গে আসেন সিরাজগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক এসকে সিনহা ও ৪০ জন সশস্ত্র পুলিশ। আসেন পাবনা জেলার পুলিশ সুপারও। এর কয়েকদিন আগে সলঙ্গার পার্শ্ববর্তী চান্দাইকোনা হাটে ঘটেছিল আরেক ঘটনা। সেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের ব্রিটিশ পণ্যবিরোধী প্রচারাভিযানে পুলিশ বাধা দেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের রাইফেল কেড়ে নিয়ে তারা ‘ফুলজোড়’ নদীতে ফেলে দেয়। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই তারা সেদিন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সলঙ্গার হাটে আসে। তাদের সদম্ভ ও মারমুখী উপস্থিতি স্বেচ্ছাসেবক ও জনতার মাঝে ত্রাসের সৃষ্টি করে। একটা অশুভ কিছু ঘটার আশঙ্কায় চারদিকে তখন থমথমে অবস্থা। হঠাৎই পুলিশ কংগ্রেস অফিস থেকে প্রচারাভিযানের নেতা আবদুর রশীদকে গ্রেফতার করে। তাকে নিয়ে আসে গরু হাটে অবস্থানরত পুলিশ সুপারের কাছে। শুরু করে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন। নাক, কান ফেটে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত-বিক্ষত হয়ে রক্ত ঝরতে থাকে আবদুর রশীদের। সব হাটে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে ঝড়ের বেগে। আবদুর রশীদের পীর পিতার অসংখ্য শিষ্য এবং সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে যায় মুহূর্তেই। সবাই মিলে ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনীকে ঘিরে ধরে। উদ্দেশ্য, পীরজাদা ও প্রিয়নেতা আবদুর রশীদকে মুক্ত করা। হঠাৎ করেই উত্তেজিত জনতার মধ্য থেকে একজন লাঠি (গরু তাড়ানো নড়ি) দিয়ে পুলিশ সুপারের মাথায় আঘাত করে বসে। ফলে ক্রোধোন্মত্ত হয়ে ওঠে সে। আহত ও রক্তাক্ত আবদুর রশীদকে টেনেহিঁচড়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিয়ে আসে। জনগণও ইতোমধ্যে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মারমুখী জনতাকে প্রতিহত করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে পরামর্শ করে পুলিশ সুপার নির্দেশ দেয়-‘ফায়ার’। সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে ৩৯টি রাইফেল। জানা যায়, ঘটনাটি গরুর হাটের মধ্যে হওয়ায় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুলিশ গোহত্যার মহাপাপ থেকে বাঁচার জন্য গুলি করা থেকে বিরত থাকে। রাইফেলের নিষ্ঠুর গুলিতে রচিত হয় বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের মর্মান্তিক কাহিনি। পাখির মতো গুলি খেয়ে মরতে থাকে মানুষ। এমনকি মানুষের সঙ্গে হাটে আনা গরু, ছাগল, ভেড়া। কিন্তু কতক্ষণ? হাটে আসা পঞ্চাশ হাজার প্রতিবাদী মানুষের বিরুদ্ধে ৩৯টি রাইফেল শেষতক টিকতে পারে না। একসময় শেষ হয়ে যায় পুলিশের বুলেট। হাজার হাজার মানুষ চারদিক থেকে লাঠিসোটা, সরকি, বল্লম, হলঙ্গা, ফালা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছুটে আসে। ঘিরে ফেলে লাল টুপিওয়ালা ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনীকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা আবদুর রশীদকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এতে জনরোষ কিছুটা স্তিমিত হয়। কিন্তু তারা এগিয়ে যায় নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে। ২২ বছর বয়সের যুবক আবদুর রশীদ ছিলেন অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। তিনি জানতেন, জনতাকে না থামালে পুলিশসহ ব্রিটিশের কেউ বেঁচে ফিরবে না। কিন্তু পরিণতি হিসাবে পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ বেনিয়াদের জিঘাংসা ও প্রতিশোধের শিকার হতে হবে নিরীহ মানুষদের। তাই আশু ভয়াবহ পরিণতি থেকে ওই অঞ্চলের মানুষকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে এবং গান্ধীজির ‘অহিংস’ আন্দোলনের নীতির কারণে বিক্ষুব্ধ জনতাকে থামিয়ে দেন আবদুর রশীদ। সেদিন তার প্রতিশোধবিমুখ ভূমিকার প্রতিবাদে জনতার মধ্য থেকে একজন চিৎকার করে বলেছিল, ‘গান্ধীজিকে খবর দিন, তিনিও সৈন্য পাঠান।’ আবদুর রশীদ বলেছিলেন, ‘গান্ধীজির সৈন্য তো আমরা।’ তখন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছিল-‘তাহলে আর এ পচা লেজ ধরে আছেন কেন?’ সেদিনের সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে সলঙ্গার মাটি নিহত ও আহত মানুষ এবং গৃহপালিত পশুর লাল রক্তে ভেসে গিয়েছিল।

ব্রিটিশ পেটোয়াদের নিষ্ঠুরতা সেখানেই শেষ হয়নি। আহতদের চিকিৎসার নাম করে নিয়ে যাওয়া হয় সিরাজগঞ্জে। কিন্তু তাদের চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থাও করা হয়নি। আর নিহতদের লাশ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে। সেখানে তৈরি করা হয় দেশের প্রথম ‘গণকবর’। আজও সে ‘গণকবর’ সলঙ্গার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। এ ছাড়া হোসেনপুর, বাসুদেবকোলসহ সলঙ্গার বিভিন্ন জায়গায় নিহতদের কবরস্থ করা হয়। সরকারি হিসাবে এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা দেখানো হয় সাড়ে চার হাজার। কিন্তু বেসরকারি তথ্যমতে, এ সংখ্যা দশ সহস্রাধিক বলে জানা যায়। এই হলো সলঙ্গার রক্তেভেজা ইতিহাসের কাগুজে বর্ণনা, যার প্রকৃত চিত্র ছিল আরও নির্মম, ভয়াবহ ও করুণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী ‘বর্ণনাতীত’।

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ভারতের ইতিহাসের বিশাল জায়গাজুড়ে স্থান পেয়েছে। ঘটনাস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হয়েছে। জাতীয়ভাবে দিবসটি পালিত হয়। অত্যন্ত মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয় আত্মত্যাগী শহিদদের। এমনকি এক শতাব্দী পর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভারতে এসে সে ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে গেছেন। ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে নীরবতা পালন করে শোক জানিয়েছেন। তিনি বলে গেছেন, এটি ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা।

রক্তাক্ত ইতিহাস বুকে নিয়ে সলঙ্গাও সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। সলঙ্গার রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডকে জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যার চেয়েও বেশি ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক বলেছেন কোনো কোনো ইতিহাসবিদ। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অবহেলিত ও উপেক্ষিত রয়ে গেছে এ ইতিহাস। সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি আজও। হাজার হাজার শহিদকে স্মরণ করার অবসর পর্যন্ত নেই সংশ্লিষ্টদের। শুধু দিবসের তকমা দিয়ে কী হবে? এমনকি সে দিবসটিও জাতীয়ভাবে পালন করার নজির নেই। স্থানীয়ভাবে দায়সারা গোছের কিছু কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। আগামী প্রজন্মের কাছে হয়তো অজানাই থেকে যাবে এ রক্তস্নাত ইতিহাস।

সলঙ্গা থানা ঘোষণা হয় ২০০০ সালে। সেই থেকে কর্তাব্যক্তিরা ‘উপজেলা’র মুলো ঝুলিয়ে রেখেছেন। কিন্তু সেটি বাস্তবায়নেও সরকারের আন্তরিকতা বরাবরই অনুপস্থিত। উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়, ভৌগোলিকভাবেও সলঙ্গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগে সলঙ্গা হলো গোটা উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাংশের প্রবেশদ্বার। ব্যবসা, কৃষি, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ সব দিক দিয়েই অনেক এগিয়ে। সলঙ্গার অর্থনৈতিক গুরুত্বও এখন অনস্বীকার্য। উপজেলায় রূপান্তরিত হওয়ার ঐতিহাসিক, বাস্তব ও আইনগত সবকিছুরই অধিকারী সলঙ্গা। দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়ে অপেক্ষমাণ প্রায় তিন লাখ সলঙ্গাবাসী। ছোট্ট দুটি দাবি-বিদ্রোহের স্মৃতিস্তম্ভ আর উপজেলার স্বীকৃতি। রক্তাক্ত বিদ্রোহের ১০০ বছর পূর্তিতে এটুকু দাবি বেশি নয় নিশ্চয়ই।

মো. আসাদ উদ্দিন : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট

asadiuk@yahoo.com

শতবর্ষে সলঙ্গা বিদ্রোহ : বিস্মৃত ইতিহাস

 মো. আসাদ উদ্দিন 
২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মূলত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে সূত্রপাত হয় ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের। জালিয়ানওয়ালাবাগের পথ ধরে ব্রিটিশ বেনিয়াদের নৃশংসতার আরেক রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়।

দিনটি ছিল ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি। এলাকার সবচেয়ে বড় হাটের দিন। এদিন সেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। সমগ্র ভারতবাসীর জন্য রক্তাক্ত বিদ্রোহের ঐতিহাসিক এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছিল সেদিন। ব্রিটিশ সৈন্যদের রাইফেলের গুলিতে রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল সলঙ্গার মাটিতে। অগণিত মানুষের করুণ আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। সলঙ্গার নির্মম এ ঘটনাকে কেউ কেউ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের চেয়েও ভয়ংকর ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। ইতিহাস এ দিনটিকে ‘রক্তাক্ত সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস’ হিসাবে আখ্যা দিয়েছে।

সলঙ্গা বিদ্রোহের বয়স আজ ১০০ বছর। এই ১০০ বছরে অর্জন বলতে দিবসের স্বীকৃতিমাত্র! কিন্তু সলঙ্গা আজ বিস্মৃতির আড়ালে হারাতে বসেছে। ২৭ জানুয়ারির সলঙ্গা বিদ্রোহের নেপথ্য নায়ক ছিলেন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ। তর্কবাগীশ ও সলঙ্গা বিদ্রোহ অবিচ্ছেদ্য। তার সম্পর্কে দুকলম না বললে অন্যায় হবে। তাকে সবাই ভাষা আন্দোলনের সিংহপুরুষ হিসাবে জানে। তিনি দেওবন্দ মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে বাঙালি ছাত্রদের অধিকার আদায়ে গঠন করেন ‘আজাদী সমিতি’। লাহোরের বিখ্যাত এশায়েতুল ইসলাম কলেজে অধ্যয়নকালে ‘তর্কবাগীশ’ উপাধিতে ভূষিত হন। পরবর্তী সময়ে দরিদ্র কৃষক সমাজের কল্যাণে গঠন করেন ‘নিখিল বঙ্গ রায়ত খাতক সমিতি’। সমিতির সেক্রেটারি হন তিনি নিজে এবং সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এ সমিতির আন্দোলনেই গঠিত হয় ঐতিহাসিক ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’। এরপর তিনি যোগ দেন মুসলিম লীগে। অবিভক্ত বাংলায় ১৯৪৬ সালে এমএলএ নির্বাচিত হন। ভাষা আন্দোলন চলাকালীন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সংগ্রামরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি করলে প্রতিবাদে পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক পরিষদে তিনি একাই ঝলসে ওঠেন। তিনি সেখানে বলেন, ‘ছয়জন ছাত্র মৃত্যুশয্যায়, তখন আমরা পাখার নিচে বসে হাওয়া খাব-এ আমি বরদাশ্ত করতে পারি না। আমি জালেমের এই জুলুমের প্রতিবাদে এ পরিষদগৃহ ত্যাগ করছি।’ পরবর্তী সময়ে তিনি গ্রেফতার হয়ে ১৮ মাস কারাবন্দি থাকেন। আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত। ১৯৭০ সালে তিনি এমএনএ নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭২ সালে জাতীয় পরিষদের প্রথম সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের বিরোধিতা করেন। ১৯৭৬ সালে ‘আজাদী লীগ’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

তর্কবাগীশ জন্মেছিলেন ১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বরে সলঙ্গারই এক অজপাড়া গ্রাম তারুটিয়াতে। সম্ভ্রান্ত এক পীর পরিবারে জন্ম নেওয়া এ মানুষটির পুরো জীবনটাই ছিল সংগ্রামমুখর। ১৯১৪ সালে তিনি শেরপুর ডায়মন্ড জুবিলী হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি গরিব কৃষক ও দুধ বিক্রেতাদের সংগঠিত করেন। তাদের নিয়ে স্থানীয় জমিদারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। জমিদারদের দুধ সরবরাহ বন্ধ করে প্রতিবাদ জানানোর মধ্য দিয়ে তার সংগ্রামী জীবনের উদ্বোধন হয়। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হয়েও এন্ট্রান্স পরীক্ষার্থী থাকাবস্থায় যোগ দেন ১৯১৯ সালের ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে। নিজের নেতৃত্বে এলাকার ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে চালিয়ে যেতে থাকেন ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের আন্দোলন। সেই থেকে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। এসব আন্দোলন-সংগ্রামের পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছিল ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি সলঙ্গার মাটিতে।

সেদিন এলাকার বড় হাট সলঙ্গায় যুবক আবদুর রশীদের নেতৃত্বে চলতে থাকে ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের প্রচারাভিযান। ‘বিলেতি পণ্য বর্জন কর, এদেশ থেকে ব্রিটিশ হটাও’ স্লোগানে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচারাভিযান যখন তুঙ্গে, তখনই ছুটে আসে পাবনার ম্যাজিস্ট্রেট আর এন দাস। সঙ্গে আসেন সিরাজগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক এসকে সিনহা ও ৪০ জন সশস্ত্র পুলিশ। আসেন পাবনা জেলার পুলিশ সুপারও। এর কয়েকদিন আগে সলঙ্গার পার্শ্ববর্তী চান্দাইকোনা হাটে ঘটেছিল আরেক ঘটনা। সেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের ব্রিটিশ পণ্যবিরোধী প্রচারাভিযানে পুলিশ বাধা দেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের রাইফেল কেড়ে নিয়ে তারা ‘ফুলজোড়’ নদীতে ফেলে দেয়। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই তারা সেদিন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সলঙ্গার হাটে আসে। তাদের সদম্ভ ও মারমুখী উপস্থিতি স্বেচ্ছাসেবক ও জনতার মাঝে ত্রাসের সৃষ্টি করে। একটা অশুভ কিছু ঘটার আশঙ্কায় চারদিকে তখন থমথমে অবস্থা। হঠাৎই পুলিশ কংগ্রেস অফিস থেকে প্রচারাভিযানের নেতা আবদুর রশীদকে গ্রেফতার করে। তাকে নিয়ে আসে গরু হাটে অবস্থানরত পুলিশ সুপারের কাছে। শুরু করে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন। নাক, কান ফেটে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত-বিক্ষত হয়ে রক্ত ঝরতে থাকে আবদুর রশীদের। সব হাটে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে ঝড়ের বেগে। আবদুর রশীদের পীর পিতার অসংখ্য শিষ্য এবং সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে যায় মুহূর্তেই। সবাই মিলে ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনীকে ঘিরে ধরে। উদ্দেশ্য, পীরজাদা ও প্রিয়নেতা আবদুর রশীদকে মুক্ত করা। হঠাৎ করেই উত্তেজিত জনতার মধ্য থেকে একজন লাঠি (গরু তাড়ানো নড়ি) দিয়ে পুলিশ সুপারের মাথায় আঘাত করে বসে। ফলে ক্রোধোন্মত্ত হয়ে ওঠে সে। আহত ও রক্তাক্ত আবদুর রশীদকে টেনেহিঁচড়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিয়ে আসে। জনগণও ইতোমধ্যে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মারমুখী জনতাকে প্রতিহত করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে পরামর্শ করে পুলিশ সুপার নির্দেশ দেয়-‘ফায়ার’। সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে ৩৯টি রাইফেল। জানা যায়, ঘটনাটি গরুর হাটের মধ্যে হওয়ায় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুলিশ গোহত্যার মহাপাপ থেকে বাঁচার জন্য গুলি করা থেকে বিরত থাকে। রাইফেলের নিষ্ঠুর গুলিতে রচিত হয় বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের মর্মান্তিক কাহিনি। পাখির মতো গুলি খেয়ে মরতে থাকে মানুষ। এমনকি মানুষের সঙ্গে হাটে আনা গরু, ছাগল, ভেড়া। কিন্তু কতক্ষণ? হাটে আসা পঞ্চাশ হাজার প্রতিবাদী মানুষের বিরুদ্ধে ৩৯টি রাইফেল শেষতক টিকতে পারে না। একসময় শেষ হয়ে যায় পুলিশের বুলেট। হাজার হাজার মানুষ চারদিক থেকে লাঠিসোটা, সরকি, বল্লম, হলঙ্গা, ফালা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছুটে আসে। ঘিরে ফেলে লাল টুপিওয়ালা ব্রিটিশ পুলিশ বাহিনীকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা আবদুর রশীদকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এতে জনরোষ কিছুটা স্তিমিত হয়। কিন্তু তারা এগিয়ে যায় নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে। ২২ বছর বয়সের যুবক আবদুর রশীদ ছিলেন অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। তিনি জানতেন, জনতাকে না থামালে পুলিশসহ ব্রিটিশের কেউ বেঁচে ফিরবে না। কিন্তু পরিণতি হিসাবে পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ বেনিয়াদের জিঘাংসা ও প্রতিশোধের শিকার হতে হবে নিরীহ মানুষদের। তাই আশু ভয়াবহ পরিণতি থেকে ওই অঞ্চলের মানুষকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে এবং গান্ধীজির ‘অহিংস’ আন্দোলনের নীতির কারণে বিক্ষুব্ধ জনতাকে থামিয়ে দেন আবদুর রশীদ। সেদিন তার প্রতিশোধবিমুখ ভূমিকার প্রতিবাদে জনতার মধ্য থেকে একজন চিৎকার করে বলেছিল, ‘গান্ধীজিকে খবর দিন, তিনিও সৈন্য পাঠান।’ আবদুর রশীদ বলেছিলেন, ‘গান্ধীজির সৈন্য তো আমরা।’ তখন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছিল-‘তাহলে আর এ পচা লেজ ধরে আছেন কেন?’ সেদিনের সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে সলঙ্গার মাটি নিহত ও আহত মানুষ এবং গৃহপালিত পশুর লাল রক্তে ভেসে গিয়েছিল।

ব্রিটিশ পেটোয়াদের নিষ্ঠুরতা সেখানেই শেষ হয়নি। আহতদের চিকিৎসার নাম করে নিয়ে যাওয়া হয় সিরাজগঞ্জে। কিন্তু তাদের চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থাও করা হয়নি। আর নিহতদের লাশ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে। সেখানে তৈরি করা হয় দেশের প্রথম ‘গণকবর’। আজও সে ‘গণকবর’ সলঙ্গার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। এ ছাড়া হোসেনপুর, বাসুদেবকোলসহ সলঙ্গার বিভিন্ন জায়গায় নিহতদের কবরস্থ করা হয়। সরকারি হিসাবে এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা দেখানো হয় সাড়ে চার হাজার। কিন্তু বেসরকারি তথ্যমতে, এ সংখ্যা দশ সহস্রাধিক বলে জানা যায়। এই হলো সলঙ্গার রক্তেভেজা ইতিহাসের কাগুজে বর্ণনা, যার প্রকৃত চিত্র ছিল আরও নির্মম, ভয়াবহ ও করুণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী ‘বর্ণনাতীত’।

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ভারতের ইতিহাসের বিশাল জায়গাজুড়ে স্থান পেয়েছে। ঘটনাস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হয়েছে। জাতীয়ভাবে দিবসটি পালিত হয়। অত্যন্ত মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয় আত্মত্যাগী শহিদদের। এমনকি এক শতাব্দী পর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ভারতে এসে সে ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে গেছেন। ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে নীরবতা পালন করে শোক জানিয়েছেন। তিনি বলে গেছেন, এটি ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা।

রক্তাক্ত ইতিহাস বুকে নিয়ে সলঙ্গাও সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। সলঙ্গার রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডকে জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যার চেয়েও বেশি ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক বলেছেন কোনো কোনো ইতিহাসবিদ। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অবহেলিত ও উপেক্ষিত রয়ে গেছে এ ইতিহাস। সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি আজও। হাজার হাজার শহিদকে স্মরণ করার অবসর পর্যন্ত নেই সংশ্লিষ্টদের। শুধু দিবসের তকমা দিয়ে কী হবে? এমনকি সে দিবসটিও জাতীয়ভাবে পালন করার নজির নেই। স্থানীয়ভাবে দায়সারা গোছের কিছু কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। আগামী প্রজন্মের কাছে হয়তো অজানাই থেকে যাবে এ রক্তস্নাত ইতিহাস।

সলঙ্গা থানা ঘোষণা হয় ২০০০ সালে। সেই থেকে কর্তাব্যক্তিরা ‘উপজেলা’র মুলো ঝুলিয়ে রেখেছেন। কিন্তু সেটি বাস্তবায়নেও সরকারের আন্তরিকতা বরাবরই অনুপস্থিত। উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়, ভৌগোলিকভাবেও সলঙ্গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগে সলঙ্গা হলো গোটা উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাংশের প্রবেশদ্বার। ব্যবসা, কৃষি, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ সব দিক দিয়েই অনেক এগিয়ে। সলঙ্গার অর্থনৈতিক গুরুত্বও এখন অনস্বীকার্য। উপজেলায় রূপান্তরিত হওয়ার ঐতিহাসিক, বাস্তব ও আইনগত সবকিছুরই অধিকারী সলঙ্গা। দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়ে অপেক্ষমাণ প্রায় তিন লাখ সলঙ্গাবাসী। ছোট্ট দুটি দাবি-বিদ্রোহের স্মৃতিস্তম্ভ আর উপজেলার স্বীকৃতি। রক্তাক্ত বিদ্রোহের ১০০ বছর পূর্তিতে এটুকু দাবি বেশি নয় নিশ্চয়ই।

মো. আসাদ উদ্দিন : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট

asadiuk@yahoo.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন