অনৈতিক ব্যবসা রুখতে হবে
jugantor
অনৈতিক ব্যবসা রুখতে হবে

  এস এম নাজের হোসাইন  

১৩ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনের পর দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারদর। চিনি, চাল, আটা, ডাল, পেঁয়াজ, মশলাসহ প্রতিটি পণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছ-মাংসের দাম আকাশচুম্বী।

শীত মৌসুমেও শাকসবজির বাজারে কোনোভাবেই মূল্য কমানো যায়নি। বাজারদরের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আয়ের হিসাব মেলানো এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নআয়ের অসহায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। এর মধ্যে ভোজ্যতেলের বাজারদর আরেক দফা বাড়ানোর প্রস্তাব-এমন খবরের পর প্রস্তাব পাশ হওয়ার আগেই বাজারে ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে ভোজ্যতেলের দাম।

গত দুসপ্তাহ ধরে বাজারে সয়াবিন উধাও। তেল নিয়ে তেলেসমাতি কখন যে শেষ হবে-এর সঠিক উত্তর পাওয়াও দায়।

ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন দেশে রান্নায় ব্যবহৃত সবচেয়ে জনপ্রিয় তেল হলেও ক্রমেই তা সর্বসাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। দফায় দফায় বাড়ছে এর দাম। তথ্য বলছে, দেশে বার্ষিক ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন। রোজায় কিছুটা বাড়লেও বাকি মাসে এর চাহিদা ১ লাখ ৩০ হাজার টন।

বিপরীতে রিফাইনারিগুলোর বার্ষিক সক্ষমতা রয়েছে ৫০ লাখ টন। অথচ সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাড়তি দামে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে ভোক্তাকে। ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, কারসাজি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভোজ্যতেলের বাজার থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

দেশে ভোজ্যতেল নিয়ে তেলেসমাতি দীর্ঘদিনের। গুটিকয়েক আমদানিকারক ও রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক। শুধু ভোজ্যতেল নয়, সব ধরনের ভোগ্যপণ্যসামগ্রী নিয়ে বেশকিছু তথাকথিত মৌসুমি ব্যবসায়ী দেশের বাজারব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। এসব গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজির কারণে সাধারণ মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষের জীবন ও জীবিকা অস্থির হয়ে উঠেছে।

এই নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পুরো দেশের মানুষ নীতিহীন, সুবিধাবাদী, মজুতদার, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সীমিত আয়ের মানুষ, হতদরিদ্র, দিনমজুর, স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী, সৎভাবে জীবিকা নির্বাহকারী মানুষ অসাধু ব্যবসায়ীদের অনৈতিক ও হঠকারী ব্যবসাকাণ্ডের কারণে স্বাভাবিক সংসার চালাতে পারছে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে দু’বেলা পুষ্টিকর খাবার তাদের কপালে জুটছে না।

একদিকে করোনা মহামারিতে অনেকের আয়-রোজগার কমেছে, অন্যদিকে সংসার চালাতে অতিরিক্ত খরচের বোঝায় মানুষ দিশেহারা। অবস্থাদৃষ্টে মানুষের এই নীরব আর্তনাদ শোনার কেউ আছে বলে মনে হয় না। এ সংকট নিরসনে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়া সরকারের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে মাঠে দেখা যায়নি।

বেশ কিছুদিন ধরেই দেশে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল। এরই মধ্যে কয়েকবার দাম বেড়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভোজ্যতেল পরিশোধনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতিলিটারে আট টাকা বৃদ্ধি করেছিল। ওই সময় এ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ পরিলক্ষিত হয়। এরপর মাত্র বিশ দিনের ব্যবধানে পরিশোধনকারীরা আবারও প্রতি লিটারে ১২ টাকা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করলে অতি মুনাফাখোররা মজুতের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়।

সর্বশেষ ৫ মে আবার সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয় সর্বোচ্চ ৩৮ টাকা এবং পাম তেল ৪৪ টাকা। এক্ষেত্রে তেলের আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী।

বস্তুত ভোজ্যতেলের বাজারে রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বারবার এদেশের ব্যবসায়ীরা বাজারে দাম বাড়াচ্ছে। বাস্তবে বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারদরের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে। ফলে নিম্নআয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে রান্নার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম তাদের আর্থিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে আজকের এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাজারে নজরদারি বাড়ানোই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

এদিকে জানা যায়, আমদানি করা বিপুল পরিমাণ সয়াবিন ও পাম অয়েলবাহী জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। সেসব জাহাজ এখন চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। আবার গত বছর দেশের উদ্যোক্তাদের আমদানি করা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সয়াবিন ও পাম অয়েলের শুল্কায়ন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সব মিলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলেও দেশে এখন সংকটের কারণে তেলের দাম বাড়ার কথা নয়।

তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সত্য হলেও আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব অন্তত আরও দুই মাস পর পড়বে। ফলে এ অজুহাতেও দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই। সুতরাং কৃত্রিমভাবে যে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কয়েক দিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে সরকারি সংস্থা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তাদের অভিযানে ভোজ্যতেলের কোনো ঘাটতি না থাকলেও ডিলারদের কারসাজিতে বাজারে সয়াবিন তেলের ‘কৃত্রিম সংকট’ সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। অভিযানে কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে জরিমানা করা হচ্ছে।

কার্যত দেখা যায়, কয়েকদিন সংবাদমাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ী, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কিছু সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এসব সংবাদ প্রকাশে তীব্র জনমত তৈরি হলেও বাজারে পণ্যের দাম তেমন একটা কমতে দেখা যাচ্ছে না। অনেকের ধারণা, অসাধু ব্যবসায়ীরা অনৈতিকভাবে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের দিয়ে জনগণের পকেট কাটা, লোক ঠকানো ও ফটকাবাজি ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে। তা না হলে ভোজ্যতেল, চালসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারসাজি চলা সত্ত্বেও প্রশাসন নড়েচড়ে বসে না কেন?

বিষয়টিকে অনেকেই ‘স্বাভাবিক’ বলে মতপ্রকাশ করে বারবার আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে থাকেন। অনেকে আবার ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত সামনে আনেন। তবে চাল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, রমজানসংশ্লিষ্ট পণ্যসামগ্রী, কুরবানিসংশ্লিষ্ট পণ্যসামগ্রীর দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর অপসংস্কৃতি দেশে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এর ফলে দুর্নীতি, অনিয়ম, অসাধু উপায়ে অর্থ উপার্জনকারীরা দ্রুত কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ, সীমিত আয়ের মানুষ অতি কষ্টে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। বস্তুত আয় বেড়েছে একশ্রেণির সরকারি চাকরিজীবী, চোরাকারবারি, অসাধু ব্যবসায়ী এবং অনৈতিকভাবে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ উপার্জনকারীদের। ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে কেবল তাদের।

বর্তমান সৎভাবে জীবনযাপনকারী স্বল্প আয়ের মানুষ ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়েনি। নতুন পে-স্কেল কিংবা মহার্ঘ ভাতা তারা পাচ্ছে না। অথচ গত পাঁচ বছর থেকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির টানাপোড়েনে জনগণের যে ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা, তা থেকে তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসছে না কেউ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন, দেশের অসাধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বিশ্বাস করে ভুল করেছেন। সয়াবিন তেলের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা রোজার ঈদের আগে থেকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারের কাছ থেকে আরও অধিক লাভবান হওয়ার সুযোগ আদায় করে নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সয়াবিন তেলের অবৈধ মজুতের সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এজন্য জরিমানা আদায় এবং মজুত তেল বোতলের গায়ে লেখা দামে বিক্রির ব্যবস্থা করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে এতেই অসাধুদের যথাযথ শাস্তি হয়েছে বলে মনে করে না সাধারণ মানুষ। যারা সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার অস্থির করছে, তাদের আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করে মানুষ।

নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ টিসিবির গাড়ি থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। মারামারির ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। এটি আমাদের জন্য মোটেই ভালো খবর নয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনার মতো দীর্ঘ মহামারি এবং নানা বিধিনিষেধের কারণে স্বল্প আয়ের মানুষই বেশি বিপদে পড়েছেন, যাদের বেশিরভাগই কাজ হারিয়েছেন। ছোটখাটো অনেক ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা পথে বসেছেন। এর পাশাপাশি প্রতিদিন বেড়েই চলছে নিত্যপণ্যের দাম। এ অবস্থায় মানুষের অসহায়ত্বও বাড়ছে। সরকারের কাছ থেকে এ অসহায় মানুষদের যে সহায়তা পাওয়ার কথা, তার খুব সামান্যই পেয়েছেন তারা। প্রান্তিক ও সীমিত আয়ের মানুষ কঠিন অবস্থার মধ্যে আছেন। এর মধ্যে টিসিবির অবস্থা হয়েছে ‘সাধ আছে, সাধ্য নেই’। যত মানুষ ট্রাক ও দোকানের সামনে ভিড় করছেন, তাদের সবাই পণ্য পাচ্ছেন না। এছাড়া গ্রাহকের তুলনায় পণ্য কম, আর যথাসময়ে ট্রাক নির্দিষ্ট স্থানে না আসায় নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ অবস্থায় টিসিবির ট্রাকগুলোর নিয়ম মেনে যথাস্থানে চলে আসা জরুরি। আর সরকারের উচিত টিসিবির মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া, নচেৎ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তেই থাকবে।

সরবরাহ ঘাটতিজনিত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি একটি বৈশ্বিক প্রপঞ্চ। এ ধরনের সংকটে দাম কম-বেশি সবখানেই বাড়ে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ইত্যাদি দেশে দামের সমন্বয়টা এমনভাবে করা হয়, যাতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অভিঘাত যথাসম্ভব কম পড়ে। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোথাও বাজার বিকৃতি ঘটছে কিনা, বিপণন ব্যবস্থায় সমস্যা হচ্ছে কিনা, ক্ষুদ্র কোনো গোষ্ঠী সিন্ডিকেট করছে কিনা-সবকিছু অনুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রকৃত কারণে দাম বাড়লে সরকারি উদ্যোগে ওপেন মার্কেট সেলের (ওএমএস) মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যাতে সর্বসাধারণের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বোপরি, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাড়ানো হয় বাজার নজরদারি। দূরে যেতে হবে না, প্রতিবেশী ভারতেও মানুষের ওপর দাম অভিঘাত প্রশমনে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। ওইসব দেশের নীতি ও অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। নয়তো নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকারের সব উন্নয়নের কৃতিত্ব ব্যর্থ হয়ে যাবে।

এসএম নাজের হোসাইন : ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

cabbd.nazer@gmail.com

অনৈতিক ব্যবসা রুখতে হবে

 এস এম নাজের হোসাইন 
১৩ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনের পর দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারদর। চিনি, চাল, আটা, ডাল, পেঁয়াজ, মশলাসহ প্রতিটি পণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছ-মাংসের দাম আকাশচুম্বী।

শীত মৌসুমেও শাকসবজির বাজারে কোনোভাবেই মূল্য কমানো যায়নি। বাজারদরের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আয়ের হিসাব মেলানো এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নআয়ের অসহায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। এর মধ্যে ভোজ্যতেলের বাজারদর আরেক দফা বাড়ানোর প্রস্তাব-এমন খবরের পর প্রস্তাব পাশ হওয়ার আগেই বাজারে ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে ভোজ্যতেলের দাম।

গত দুসপ্তাহ ধরে বাজারে সয়াবিন উধাও। তেল নিয়ে তেলেসমাতি কখন যে শেষ হবে-এর সঠিক উত্তর পাওয়াও দায়।

ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন দেশে রান্নায় ব্যবহৃত সবচেয়ে জনপ্রিয় তেল হলেও ক্রমেই তা সর্বসাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। দফায় দফায় বাড়ছে এর দাম। তথ্য বলছে, দেশে বার্ষিক ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ টন। রোজায় কিছুটা বাড়লেও বাকি মাসে এর চাহিদা ১ লাখ ৩০ হাজার টন।

বিপরীতে রিফাইনারিগুলোর বার্ষিক সক্ষমতা রয়েছে ৫০ লাখ টন। অথচ সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাড়তি দামে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে ভোক্তাকে। ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, কারসাজি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভোজ্যতেলের বাজার থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

দেশে ভোজ্যতেল নিয়ে তেলেসমাতি দীর্ঘদিনের। গুটিকয়েক আমদানিকারক ও রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক। শুধু ভোজ্যতেল নয়, সব ধরনের ভোগ্যপণ্যসামগ্রী নিয়ে বেশকিছু তথাকথিত মৌসুমি ব্যবসায়ী দেশের বাজারব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। এসব গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজির কারণে সাধারণ মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষের জীবন ও জীবিকা অস্থির হয়ে উঠেছে।

এই নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পুরো দেশের মানুষ নীতিহীন, সুবিধাবাদী, মজুতদার, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সীমিত আয়ের মানুষ, হতদরিদ্র, দিনমজুর, স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী, সৎভাবে জীবিকা নির্বাহকারী মানুষ অসাধু ব্যবসায়ীদের অনৈতিক ও হঠকারী ব্যবসাকাণ্ডের কারণে স্বাভাবিক সংসার চালাতে পারছে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে দু’বেলা পুষ্টিকর খাবার তাদের কপালে জুটছে না।

একদিকে করোনা মহামারিতে অনেকের আয়-রোজগার কমেছে, অন্যদিকে সংসার চালাতে অতিরিক্ত খরচের বোঝায় মানুষ দিশেহারা। অবস্থাদৃষ্টে মানুষের এই নীরব আর্তনাদ শোনার কেউ আছে বলে মনে হয় না। এ সংকট নিরসনে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়া সরকারের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে মাঠে দেখা যায়নি।

বেশ কিছুদিন ধরেই দেশে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল। এরই মধ্যে কয়েকবার দাম বেড়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভোজ্যতেল পরিশোধনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতিলিটারে আট টাকা বৃদ্ধি করেছিল। ওই সময় এ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ পরিলক্ষিত হয়। এরপর মাত্র বিশ দিনের ব্যবধানে পরিশোধনকারীরা আবারও প্রতি লিটারে ১২ টাকা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করলে অতি মুনাফাখোররা মজুতের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়।

সর্বশেষ ৫ মে আবার সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয় সর্বোচ্চ ৩৮ টাকা এবং পাম তেল ৪৪ টাকা। এক্ষেত্রে তেলের আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী।

বস্তুত ভোজ্যতেলের বাজারে রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বারবার এদেশের ব্যবসায়ীরা বাজারে দাম বাড়াচ্ছে। বাস্তবে বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারদরের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে। ফলে নিম্নআয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে রান্নার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম তাদের আর্থিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে আজকের এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাজারে নজরদারি বাড়ানোই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

এদিকে জানা যায়, আমদানি করা বিপুল পরিমাণ সয়াবিন ও পাম অয়েলবাহী জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। সেসব জাহাজ এখন চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। আবার গত বছর দেশের উদ্যোক্তাদের আমদানি করা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সয়াবিন ও পাম অয়েলের শুল্কায়ন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সব মিলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলেও দেশে এখন সংকটের কারণে তেলের দাম বাড়ার কথা নয়।

তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সত্য হলেও আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব অন্তত আরও দুই মাস পর পড়বে। ফলে এ অজুহাতেও দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই। সুতরাং কৃত্রিমভাবে যে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কয়েক দিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে সরকারি সংস্থা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তাদের অভিযানে ভোজ্যতেলের কোনো ঘাটতি না থাকলেও ডিলারদের কারসাজিতে বাজারে সয়াবিন তেলের ‘কৃত্রিম সংকট’ সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। অভিযানে কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে জরিমানা করা হচ্ছে।

কার্যত দেখা যায়, কয়েকদিন সংবাদমাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ী, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কিছু সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এসব সংবাদ প্রকাশে তীব্র জনমত তৈরি হলেও বাজারে পণ্যের দাম তেমন একটা কমতে দেখা যাচ্ছে না। অনেকের ধারণা, অসাধু ব্যবসায়ীরা অনৈতিকভাবে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের দিয়ে জনগণের পকেট কাটা, লোক ঠকানো ও ফটকাবাজি ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে। তা না হলে ভোজ্যতেল, চালসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারসাজি চলা সত্ত্বেও প্রশাসন নড়েচড়ে বসে না কেন?

বিষয়টিকে অনেকেই ‘স্বাভাবিক’ বলে মতপ্রকাশ করে বারবার আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে থাকেন। অনেকে আবার ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত সামনে আনেন। তবে চাল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, রমজানসংশ্লিষ্ট পণ্যসামগ্রী, কুরবানিসংশ্লিষ্ট পণ্যসামগ্রীর দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর অপসংস্কৃতি দেশে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এর ফলে দুর্নীতি, অনিয়ম, অসাধু উপায়ে অর্থ উপার্জনকারীরা দ্রুত কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ, সীমিত আয়ের মানুষ অতি কষ্টে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। বস্তুত আয় বেড়েছে একশ্রেণির সরকারি চাকরিজীবী, চোরাকারবারি, অসাধু ব্যবসায়ী এবং অনৈতিকভাবে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ উপার্জনকারীদের। ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে কেবল তাদের।

বর্তমান সৎভাবে জীবনযাপনকারী স্বল্প আয়ের মানুষ ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়েনি। নতুন পে-স্কেল কিংবা মহার্ঘ ভাতা তারা পাচ্ছে না। অথচ গত পাঁচ বছর থেকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির টানাপোড়েনে জনগণের যে ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা, তা থেকে তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসছে না কেউ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন, দেশের অসাধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বিশ্বাস করে ভুল করেছেন। সয়াবিন তেলের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা রোজার ঈদের আগে থেকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারের কাছ থেকে আরও অধিক লাভবান হওয়ার সুযোগ আদায় করে নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সয়াবিন তেলের অবৈধ মজুতের সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এজন্য জরিমানা আদায় এবং মজুত তেল বোতলের গায়ে লেখা দামে বিক্রির ব্যবস্থা করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে এতেই অসাধুদের যথাযথ শাস্তি হয়েছে বলে মনে করে না সাধারণ মানুষ। যারা সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার অস্থির করছে, তাদের আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করে মানুষ।

নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ টিসিবির গাড়ি থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। মারামারির ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। এটি আমাদের জন্য মোটেই ভালো খবর নয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনার মতো দীর্ঘ মহামারি এবং নানা বিধিনিষেধের কারণে স্বল্প আয়ের মানুষই বেশি বিপদে পড়েছেন, যাদের বেশিরভাগই কাজ হারিয়েছেন। ছোটখাটো অনেক ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা পথে বসেছেন। এর পাশাপাশি প্রতিদিন বেড়েই চলছে নিত্যপণ্যের দাম। এ অবস্থায় মানুষের অসহায়ত্বও বাড়ছে। সরকারের কাছ থেকে এ অসহায় মানুষদের যে সহায়তা পাওয়ার কথা, তার খুব সামান্যই পেয়েছেন তারা। প্রান্তিক ও সীমিত আয়ের মানুষ কঠিন অবস্থার মধ্যে আছেন। এর মধ্যে টিসিবির অবস্থা হয়েছে ‘সাধ আছে, সাধ্য নেই’। যত মানুষ ট্রাক ও দোকানের সামনে ভিড় করছেন, তাদের সবাই পণ্য পাচ্ছেন না। এছাড়া গ্রাহকের তুলনায় পণ্য কম, আর যথাসময়ে ট্রাক নির্দিষ্ট স্থানে না আসায় নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ অবস্থায় টিসিবির ট্রাকগুলোর নিয়ম মেনে যথাস্থানে চলে আসা জরুরি। আর সরকারের উচিত টিসিবির মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া, নচেৎ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তেই থাকবে।

সরবরাহ ঘাটতিজনিত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি একটি বৈশ্বিক প্রপঞ্চ। এ ধরনের সংকটে দাম কম-বেশি সবখানেই বাড়ে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ইত্যাদি দেশে দামের সমন্বয়টা এমনভাবে করা হয়, যাতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অভিঘাত যথাসম্ভব কম পড়ে। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোথাও বাজার বিকৃতি ঘটছে কিনা, বিপণন ব্যবস্থায় সমস্যা হচ্ছে কিনা, ক্ষুদ্র কোনো গোষ্ঠী সিন্ডিকেট করছে কিনা-সবকিছু অনুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রকৃত কারণে দাম বাড়লে সরকারি উদ্যোগে ওপেন মার্কেট সেলের (ওএমএস) মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যাতে সর্বসাধারণের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বোপরি, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাড়ানো হয় বাজার নজরদারি। দূরে যেতে হবে না, প্রতিবেশী ভারতেও মানুষের ওপর দাম অভিঘাত প্রশমনে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। ওইসব দেশের নীতি ও অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। নয়তো নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকারের সব উন্নয়নের কৃতিত্ব ব্যর্থ হয়ে যাবে।

এসএম নাজের হোসাইন : ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

cabbd.nazer@gmail.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন