নদীর বুকে ঘরবাড়ি, অতঃপর মানুষের আর্তনাদ
jugantor
মিঠে কড়া সংলাপ
নদীর বুকে ঘরবাড়ি, অতঃপর মানুষের আর্তনাদ

  ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন  

২১ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একদা পাবনা শহরের বুক চিরে ইছামতী নদী প্রবহমান ছিল; কিন্তু বর্তমানে তা নেই। কারণ নদীর দু’পাশ ভরাট করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে সেখানে জনবসতি গড়ে উঠেছে।

আর প্রায় ৫০/৬০ বছর আগে থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে নদীটি যখন প্রাণ হারিয়ে ফেলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নদীরক্ষা আন্দোলনের মুখে হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেসব ঘরবাড়ি এখন ভাঙাভাঙির মুখে পড়েছে এবং বুলডোজার দিয়ে বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ায় সেখানে বসবাসরত মানুষজনের আর্তনাদও শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।

নারী-পুরুষ-শিশুসহ সেসব ঘরবাড়ির অসহায় মানুষ পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় অনশন পালন করছেন। তাদের দাবি, তারা দুই-তিন পুরুষ ধরে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বংশানুক্রমে বসবাস করছেন এবং ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত তিন-চারটি জরিপের প্রতিটিতে তাদের নামে সেসব ঘরবাড়ি, জমি রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে।

অতঃপর জমির খাজনা খারিজসহ পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন করিয়ে তারা বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন এবং তাদের কেউ কেউ ব্যাংক থেকে গৃহনির্মাণ ঋণও গ্রহণ করেছেন। অনশন পালনকালে তারা সেসব রেকর্ডের ম্যাপ, খতিয়ান, খাজনার দাখিলা ইত্যাদিও প্রদর্শন করেছেন। অপরদিকে আদালতের রায় বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

এবারে পাবনা এসে বুলডোজার দিয়ে সেসব ঘরবাড়ি ভাঙা দেখে ভেবেছিলাম, ছোটবেলায় দেখা সেই ইছামতী নদীটি হয়তো আবার ফিরে পাব। কিন্তু ওইসব ঘরবাড়ির মালিক নারী, পুরুষ, শিশুদের আর্তনাদ দেখে শুনে আমাকে প্রমাদ গুনতে হলো। মনে হলো, ঘরবাড়ি ভাঙার দৃশ্যটি মুদ্রার এক পিঠ। এ ঘটনার অপর একটি পিঠও আছে। আর তা হলো, মানবতা বা মানবিকতা।

অনশন পালনকারী একজন মহিলা যখন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘আমরা তো রেকর্ডপত্র দেখেই জমি কিনে বাড়ি করেছি, সরকারি অফিস-আদালত, রেজিস্ট্রি অফিসও আমাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে, নামজারি করে খাজনা গ্রহণ করেছে, আবার সেই সরকারি অফিস-আদালতই এখন ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করছে। তারপরও সরকার যদি জমি নিয়ে নিতেই চায়, সেক্ষেত্রে আমাদের তো ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। এভাবে খালি হাতে আমাদের রাস্তায় নামিয়ে দিলে, শিশুসন্তানসহ আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব!’

বলা বাহুল্য, অনশন পালনরত সেই মহিলার আবেদন আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। যদিও নদীর জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণকারীদের সমর্থন করা আমার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তো তারা দখল বলতে যা বোঝায় তা করেননি! সরকারি ভূমি জরিপ কর্মকর্তারা জরিপের মাধ্যমে জমিটি খতিয়ানভুক্ত করার পর সেই জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরযোগ্য হওয়ায় একাধিক হাতবদল এবং রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে সেসব জমি ক্রয়-বিক্রয় করা হয়েছে।

সে অবস্থায়, এখন এখানে বসবাসকারীরা তো ক্ষতিপূরণ দাবি করতেই পারেন। তাই ক্ষতিপূরণের কথা বিবেচনা না করে সরাসরি তাদের বাড়ি ঘরের ওপর বুলডোজার চালিয়ে দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত ছিল বলেই মনে করি।

আগেই বলেছি, নদীর জমি দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মিত হোক তা আমি সমর্থন করি না। কিন্তু এক্ষেত্রে কে বা কারা কীভাবে নদীর জমি দখল করেছেন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় আনা দরকার। আর পাবনা শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীটি কবে, কখন, কীভাবে দখল হলো, সেখানে ঘরবাড়ি নির্মিত হলো, কারা সে সুযোগ করে দিল, সে বিষয়টি আমলে আনলে দেখা যাবে, এজন্য সরকারি জরিপ কর্মকর্তা তথা সরকারি আমলাচক্রই দায়ী।

কারণ বিভিন্ন সময়ে জরিপসহ নকশা প্রণয়ন, রেকর্ড ইত্যাদির মাধ্যমে তারাই এসব জমি হস্তান্তর বা বিক্রয়যোগ্য করে তুলেছেন। আর ভূমি জরিপের সময় এসব সরকারি কর্মকর্তারা কী করেন, তা আমাদের সবারই জানা। সে অবস্থায়, ইছামতী নদী দখলের জন্য সরকারি কর্মকর্তারাও যে দায়ী বা দোষী সে কথাটিও সত্যি। কারণ এসব কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে ভূমি জরিপের নামে যেভাবে তালগোল পাকিয়ে রাখেন, ভুক্তভোগী মানুষজনের সেসব প্যাঁচগোছ কাটিয়ে বেরিয়ে আসা মুশকিল হয়ে পড়ে; বছরের পর বছর আইন আদালতে দৌড়াতে হয়। অথচ তাদের এসব অপকর্মের অনেক প্রমাণ আমাদের জানা থাকলেও এ বিষয়ে তাদের কেউ শাস্তি পেয়েছেন বা কারও চাকরি গেছে এমন তথ্য আমাদের জানা নেই।

এ লেখাটি লিখতে গিয়ে পাবনার ইছামতি নদীর উৎস ইত্যাদি নিয়ে এখানে কিছু বলাও প্রাসঙ্গিক মনে করছি। ইছামতী নদীটি পদ্মা নদীর একটি শাখা। শহরের দক্ষিণ দিকের পদ্মা নদী থেকে নদীটি পাবনা জেলা শহরের মধ্য দিয়ে একদন্ত, সাঁথিয়া, বেড়া হয়ে হুরাসাগর নদীতে মিলিত হয়েছে। আর সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে বাংলার শাসনকর্তা ইসলাম খান চিশতী সে সময়ের প্রাদেশিক শাসনকর্তা ঈশা খানকে একটি খাল কেটে পদ্মা ও যমুনা নদীর মধ্যে নৌপথ সংযোগের নির্দেশ দান করলে এ নৌপথটি সম্প্রসারিত হয় এবং এর নামকরণ করা হয় ইছামতী।

এ নদীর তীরেই পাবনা, সাঁথিয়া ও বেড়া পৌরসভা শহর গড়ে উঠেছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি কৃত্রিম ও মৌসুমি নদী। পদ্মা নদীর পানির ওপর নদীটি নির্ভরশীল। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র মাসে পদ্মা নদী পানিতে স্ফীত হলে সেই পানি পেয়ে ইছামতী যৌবন পেত। ছোটবেলায় আমরা গয়নার নৌকাসহ বিভিন্ন নৌকা এ নদীতে চলাচল করতে দেখেছি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এ নদীপথে চলাচল করতেন বলে শুনেছি।

এখন প্রশ্ন হলো, এ নদীটিকে নাব্য করতে হলে প্রথমে তো পদ্মার দিকে নজর দিতে হবে নাকি? কারণ উৎস নদী পদ্মাই যদি মরে যায়, তাহলে ইছামতীও তো পানি পাবে না। অথচ, খোদ পদ্মার জমিই যে বেদখল হয়ে তা বেচাবিক্রি হচ্ছে, সেদিকে কারও খেয়াল নেই। আমার জন্মভিটা মূল পদ্মার ঠিক উত্তর পাশ ঘেঁষে বিধায় আমি পদ্মার নাড়িনক্ষত্র সবকিছু জানি। এ পদ্মা নদীতে আমি সাঁতার কেটেছি, বৈঠা দিয়ে ডিঙি নৌকা চালিয়েছি। সুতরাং নদী নিয়ে আমারও প্রবল আবেগ-অনুভূতি আছে।

আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে আমার লেখা ‘হারান মাঝি’ নাটকটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ায় এবং পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ায় সেই নাটকে আমি পদ্মাপাড়ের মাঝি, জেলেসহ নদীকে উপজীব্য করে নদীতীরে যারা বসবাস করেন, তাদের হাহাকার তুলে ধরায় সারা দেশের দর্শকমহলে নাটকটি ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেই পদ্মা এখন শুকিয়ে কাঠ! পদ্মা নদী এখন ধু-ধু বালুচর! আর সেই চরে ঘর বেঁধেছে অসংখ্য মানুষ।

কারণ পদ্মা নদীও এখন বিক্রি হচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। একশ্রেণির মানুষ সেখানে জমি কিনে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। তাদের অনেকে সেখানে দালানকোঠা পর্যন্ত নির্মাণ করছেন; শহরের অনেক ধনী ব্যক্তি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও শত শত বিঘা জমি কিনে রাখছেন। এভাবে মূল পদ্মা নদীই এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসাবে মানুষের দখলে। আর ভূমি জরিপকারী সরকারি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের সরকারি আমলা তথা সরকারেরও এসব ঘটনা অজানা নয়, অজানা থাকারও কথা নয়।

এসব বিষয় জেনেশুনেও তারা চুপচাপ আছেন! কী জানি ভবিষ্যতে আবারও বুলডোজার চালিয়ে সরকারকে বিব্রত করার জন্য হয়তো তারা ওৎপেতে বসে আছেন। অন্যথায় ইছামতী নদীতেই বা দালান কোঠা ওঠে কেমন করে, আর পদ্মা নদীর বালুচরই বা ক্রয়-বিক্রয় করা হয় কীভাবে?

ইছামতীতে আবার ফিরে আসি। পাবনার বর্তমান পৌর এলাকার ঠিক দক্ষিণাংশ, যা পূর্বদিকে মানসিক হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে এডরুক ল্যাবরেটরি পর্যন্ত প্রলম্বিত, সেই অংশে প্রায় অর্ধকিলোমিটার চওড়া একটি বড় শাখা পদ্মা নদী ছিল। বর্ষকালে যা পানিতে টইটুম্বুর করত। আজ থেকে ৫০ বছর আগেও এ শাখা পদ্মা নদীটি প্রবল প্রবহমান ছিল। জেলেদের জালে এই নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ত আর আমরা সেই ইলিশ কিনে খেয়ে রসনা তৃপ্ত করতাম।

তখন মূল পদ্মা কিছুটা দূরে দক্ষিণ দিকে সরে গিয়েছিল আর মাঝখানে চর ঘোষপুর নামে একটি চর জেগে উঠে সেখানে বসতি গড়ে উঠেছিল। ফলে আমাদের বাড়িসংলগ্ন দক্ষিণের বড় শাখা নদীটিও মৌসুমি নদী হিসাবে পরিণত হয়েছিল। অর্থাৎ আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র মাসে নদীটি প্রবহমান থাকত; সেসময়ে পাঁচশ মণি, হাজার মণি বজরা এসে বাজিতপুর ঘাটে ভিড়ত। আর ঢাকা থেকে মালামাল বোঝাই করে আনা পাবনার মহাজনদের সেসব মালামাল বজরা থেকে গরু গাড়ি করে শহরে পৌঁছে যেত।

এ অবস্থায় দেখা যায়, বর্ষাকালে পদ্মার উপচে পড়া পানি পাবনা মানসিক হাসপাতাল এবং এডরুক পর্যন্ত প্রলম্বিত শাখা পদ্মা নদীতে পড়ে রামচন্দ্রপুরের করিডোর দিয়ে তা ইছামতী নদীতে পড়ত এবং এভাবে ইছামতী নদীটিও একটি মৌসুমি নদী হিসাবে প্রবাহিত হয়ে বেড়া পর্যন্ত গিয়ে হুরাসাগর নদীতে মিলিত হতো। এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমান অবস্থায় মূল পদ্মা নদী তো আরও দক্ষিণে সরে কুষ্টিয়ার কাছাকাছি গিয়ে অনেকটা সরু একটি নদী হিসাবে কোনোমতে পদ্মার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে! সে অবস্থায় বাজিতপুর ঘাটের বড় শাখা পদ্মারই অস্তিত্ব নেই।

এসএ/আরএস রেকর্ডের মাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে ভোগদখল, ক্রয়, বিক্রয় করে চলেছে। দালানকোঠা, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ দোকানপাট নির্মাণ করে বসতি, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু অব্যাহত রয়েছে; এ ৫০/৬০ বছরে কোনো সরকারি মহল, পরিবেশবাদী বা নদীরক্ষা আন্দোলনের কেউ কখনো এসব নিয়ে টু শব্দটি পর্যন্ত করেননি, সে অবস্থায় ইছামতী নদীটিই বা ভবিষ্যতে পানি পাবে কী করে; কোথা থেকে কোন পথে পানি আসবে?

তাছাড়া মূল পদ্মা নদী বহুদূর দক্ষিণে সরে যাওয়ায় বাজিতপুর ঘাটের বড় শাখা নদীটি বন্ধ হয়ে তা ভোগদখলে চলে গেছে; একইভাবে বর্তমান পদ্মা নদী পর্যন্ত দক্ষিণের এলাকাসহ চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাও স্বার্থান্বেষীরা নিজ নিজ নামে রেকর্ডভুক্ত করিয়ে, ভূমি জরিপের সরকারি কর্মকর্তা, তহশিল অফিস, সহকারী ভূমি কমিশনারের অফিস ইত্যাদি সরকারি প্রশাসন যন্ত্র ব্যবহার করে মূল পদ্মা নদীর জমিও ভোগদখলে নিয়ে নিয়েছে এবং বর্তমানে সেসব জমিও সমানতালে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর হচ্ছে। পাবনা, কুষ্টিয়ার বিভিন্ন রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন এক সময়ের প্রমত্তা পদ্মা নদীর জমির দলিল রেজিস্ট্রি অব্যাহত রয়েছে!

এ অবস্থায় আবারও পাবনা শহরের বুক চিরে চলে যাওয়া ইছামতী নদী প্রসঙ্গে ফিরে এসে বলতে চাই, ইছামতী নদী অবশ্যই দখলমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে যারা টাকা দিয়ে জমি কিনে সেখানে বাড়িঘর করেছেন, তাদের কাগজপত্রে যদি যথাযথ সরকারি ছাপ থাকে, অর্থাৎ তাদের নামে যদি সরকারি রেকর্ড থাকে, খতিয়ান থাকে, মৌজাম্যাপে যদি নদী উল্লেখ না করে ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধা দেওয়া থাকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক নামজারি অনুমোদন থাকে, তহশিল অফিসের খাজানার দাখিলা থাকে, তাহলে উচ্ছেদের আগে ওইসব জমি এবং ঘরবাড়ির মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করাই সমীচীন এবং মানবিক আচরণ বলে মনে করি।

কারণ ওইসব ব্যক্তিকে সরকারের লোকজনই ইছামতী নদীর জমির মালিক বানিয়েছেন। তাই সরকারের ওপরও এসব নারী, পুরুষ, শিশুদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব বর্তায়। সরকারি কর্মকর্তারা এক সময় নদীর জমি ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দেবেন, বাড়িঘর নির্মাণের অনুমোদন দেবেন, আবার একসময় সেসব ঘরবাড়ি ভাঙতে বুলডোজার নিয়ে হাজির হবেন, আর ভুক্তভোগীদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হবে, দেশের মানুষের হৃদয় ভারাক্রান্ত হবে, এমনকি যারা সরকার পরিচালনা করেন, তারা পর্যন্ত বিড়ম্বিত হবেন, তেমনটি বোধহয় কারোই কাম্য হওয়া উচিত নয়। এ অবস্থায়, স্পর্শকাতর এমন সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবারই শুভ বুদ্ধির উদয় হবে, বিবেক জাগ্রত হবে, তেমনটিই প্রত্যাশা।

ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

মিঠে কড়া সংলাপ

নদীর বুকে ঘরবাড়ি, অতঃপর মানুষের আর্তনাদ

 ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন 
২১ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একদা পাবনা শহরের বুক চিরে ইছামতী নদী প্রবহমান ছিল; কিন্তু বর্তমানে তা নেই। কারণ নদীর দু’পাশ ভরাট করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে সেখানে জনবসতি গড়ে উঠেছে।

আর প্রায় ৫০/৬০ বছর আগে থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে নদীটি যখন প্রাণ হারিয়ে ফেলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নদীরক্ষা আন্দোলনের মুখে হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেসব ঘরবাড়ি এখন ভাঙাভাঙির মুখে পড়েছে এবং বুলডোজার দিয়ে বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ায় সেখানে বসবাসরত মানুষজনের আর্তনাদও শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।

নারী-পুরুষ-শিশুসহ সেসব ঘরবাড়ির অসহায় মানুষ পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় অনশন পালন করছেন। তাদের দাবি, তারা দুই-তিন পুরুষ ধরে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বংশানুক্রমে বসবাস করছেন এবং ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত তিন-চারটি জরিপের প্রতিটিতে তাদের নামে সেসব ঘরবাড়ি, জমি রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে।

অতঃপর জমির খাজনা খারিজসহ পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন করিয়ে তারা বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন এবং তাদের কেউ কেউ ব্যাংক থেকে গৃহনির্মাণ ঋণও গ্রহণ করেছেন। অনশন পালনকালে তারা সেসব রেকর্ডের ম্যাপ, খতিয়ান, খাজনার দাখিলা ইত্যাদিও প্রদর্শন করেছেন। অপরদিকে আদালতের রায় বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

এবারে পাবনা এসে বুলডোজার দিয়ে সেসব ঘরবাড়ি ভাঙা দেখে ভেবেছিলাম, ছোটবেলায় দেখা সেই ইছামতী নদীটি হয়তো আবার ফিরে পাব। কিন্তু ওইসব ঘরবাড়ির মালিক নারী, পুরুষ, শিশুদের আর্তনাদ দেখে শুনে আমাকে প্রমাদ গুনতে হলো। মনে হলো, ঘরবাড়ি ভাঙার দৃশ্যটি মুদ্রার এক পিঠ। এ ঘটনার অপর একটি পিঠও আছে। আর তা হলো, মানবতা বা মানবিকতা।

অনশন পালনকারী একজন মহিলা যখন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘আমরা তো রেকর্ডপত্র দেখেই জমি কিনে বাড়ি করেছি, সরকারি অফিস-আদালত, রেজিস্ট্রি অফিসও আমাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে, নামজারি করে খাজনা গ্রহণ করেছে, আবার সেই সরকারি অফিস-আদালতই এখন ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করছে। তারপরও সরকার যদি জমি নিয়ে নিতেই চায়, সেক্ষেত্রে আমাদের তো ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। এভাবে খালি হাতে আমাদের রাস্তায় নামিয়ে দিলে, শিশুসন্তানসহ আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব!’

বলা বাহুল্য, অনশন পালনরত সেই মহিলার আবেদন আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। যদিও নদীর জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণকারীদের সমর্থন করা আমার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তো তারা দখল বলতে যা বোঝায় তা করেননি! সরকারি ভূমি জরিপ কর্মকর্তারা জরিপের মাধ্যমে জমিটি খতিয়ানভুক্ত করার পর সেই জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরযোগ্য হওয়ায় একাধিক হাতবদল এবং রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে সেসব জমি ক্রয়-বিক্রয় করা হয়েছে।

সে অবস্থায়, এখন এখানে বসবাসকারীরা তো ক্ষতিপূরণ দাবি করতেই পারেন। তাই ক্ষতিপূরণের কথা বিবেচনা না করে সরাসরি তাদের বাড়ি ঘরের ওপর বুলডোজার চালিয়ে দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত ছিল বলেই মনে করি।

আগেই বলেছি, নদীর জমি দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মিত হোক তা আমি সমর্থন করি না। কিন্তু এক্ষেত্রে কে বা কারা কীভাবে নদীর জমি দখল করেছেন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় আনা দরকার। আর পাবনা শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীটি কবে, কখন, কীভাবে দখল হলো, সেখানে ঘরবাড়ি নির্মিত হলো, কারা সে সুযোগ করে দিল, সে বিষয়টি আমলে আনলে দেখা যাবে, এজন্য সরকারি জরিপ কর্মকর্তা তথা সরকারি আমলাচক্রই দায়ী।

কারণ বিভিন্ন সময়ে জরিপসহ নকশা প্রণয়ন, রেকর্ড ইত্যাদির মাধ্যমে তারাই এসব জমি হস্তান্তর বা বিক্রয়যোগ্য করে তুলেছেন। আর ভূমি জরিপের সময় এসব সরকারি কর্মকর্তারা কী করেন, তা আমাদের সবারই জানা। সে অবস্থায়, ইছামতী নদী দখলের জন্য সরকারি কর্মকর্তারাও যে দায়ী বা দোষী সে কথাটিও সত্যি। কারণ এসব কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে ভূমি জরিপের নামে যেভাবে তালগোল পাকিয়ে রাখেন, ভুক্তভোগী মানুষজনের সেসব প্যাঁচগোছ কাটিয়ে বেরিয়ে আসা মুশকিল হয়ে পড়ে; বছরের পর বছর আইন আদালতে দৌড়াতে হয়। অথচ তাদের এসব অপকর্মের অনেক প্রমাণ আমাদের জানা থাকলেও এ বিষয়ে তাদের কেউ শাস্তি পেয়েছেন বা কারও চাকরি গেছে এমন তথ্য আমাদের জানা নেই।

এ লেখাটি লিখতে গিয়ে পাবনার ইছামতি নদীর উৎস ইত্যাদি নিয়ে এখানে কিছু বলাও প্রাসঙ্গিক মনে করছি। ইছামতী নদীটি পদ্মা নদীর একটি শাখা। শহরের দক্ষিণ দিকের পদ্মা নদী থেকে নদীটি পাবনা জেলা শহরের মধ্য দিয়ে একদন্ত, সাঁথিয়া, বেড়া হয়ে হুরাসাগর নদীতে মিলিত হয়েছে। আর সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে বাংলার শাসনকর্তা ইসলাম খান চিশতী সে সময়ের প্রাদেশিক শাসনকর্তা ঈশা খানকে একটি খাল কেটে পদ্মা ও যমুনা নদীর মধ্যে নৌপথ সংযোগের নির্দেশ দান করলে এ নৌপথটি সম্প্রসারিত হয় এবং এর নামকরণ করা হয় ইছামতী।

এ নদীর তীরেই পাবনা, সাঁথিয়া ও বেড়া পৌরসভা শহর গড়ে উঠেছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি কৃত্রিম ও মৌসুমি নদী। পদ্মা নদীর পানির ওপর নদীটি নির্ভরশীল। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র মাসে পদ্মা নদী পানিতে স্ফীত হলে সেই পানি পেয়ে ইছামতী যৌবন পেত। ছোটবেলায় আমরা গয়নার নৌকাসহ বিভিন্ন নৌকা এ নদীতে চলাচল করতে দেখেছি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এ নদীপথে চলাচল করতেন বলে শুনেছি।

এখন প্রশ্ন হলো, এ নদীটিকে নাব্য করতে হলে প্রথমে তো পদ্মার দিকে নজর দিতে হবে নাকি? কারণ উৎস নদী পদ্মাই যদি মরে যায়, তাহলে ইছামতীও তো পানি পাবে না। অথচ, খোদ পদ্মার জমিই যে বেদখল হয়ে তা বেচাবিক্রি হচ্ছে, সেদিকে কারও খেয়াল নেই। আমার জন্মভিটা মূল পদ্মার ঠিক উত্তর পাশ ঘেঁষে বিধায় আমি পদ্মার নাড়িনক্ষত্র সবকিছু জানি। এ পদ্মা নদীতে আমি সাঁতার কেটেছি, বৈঠা দিয়ে ডিঙি নৌকা চালিয়েছি। সুতরাং নদী নিয়ে আমারও প্রবল আবেগ-অনুভূতি আছে।

আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে আমার লেখা ‘হারান মাঝি’ নাটকটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ায় এবং পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ায় সেই নাটকে আমি পদ্মাপাড়ের মাঝি, জেলেসহ নদীকে উপজীব্য করে নদীতীরে যারা বসবাস করেন, তাদের হাহাকার তুলে ধরায় সারা দেশের দর্শকমহলে নাটকটি ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেই পদ্মা এখন শুকিয়ে কাঠ! পদ্মা নদী এখন ধু-ধু বালুচর! আর সেই চরে ঘর বেঁধেছে অসংখ্য মানুষ।

কারণ পদ্মা নদীও এখন বিক্রি হচ্ছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। একশ্রেণির মানুষ সেখানে জমি কিনে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। তাদের অনেকে সেখানে দালানকোঠা পর্যন্ত নির্মাণ করছেন; শহরের অনেক ধনী ব্যক্তি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও শত শত বিঘা জমি কিনে রাখছেন। এভাবে মূল পদ্মা নদীই এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসাবে মানুষের দখলে। আর ভূমি জরিপকারী সরকারি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের সরকারি আমলা তথা সরকারেরও এসব ঘটনা অজানা নয়, অজানা থাকারও কথা নয়।

এসব বিষয় জেনেশুনেও তারা চুপচাপ আছেন! কী জানি ভবিষ্যতে আবারও বুলডোজার চালিয়ে সরকারকে বিব্রত করার জন্য হয়তো তারা ওৎপেতে বসে আছেন। অন্যথায় ইছামতী নদীতেই বা দালান কোঠা ওঠে কেমন করে, আর পদ্মা নদীর বালুচরই বা ক্রয়-বিক্রয় করা হয় কীভাবে?

ইছামতীতে আবার ফিরে আসি। পাবনার বর্তমান পৌর এলাকার ঠিক দক্ষিণাংশ, যা পূর্বদিকে মানসিক হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে এডরুক ল্যাবরেটরি পর্যন্ত প্রলম্বিত, সেই অংশে প্রায় অর্ধকিলোমিটার চওড়া একটি বড় শাখা পদ্মা নদী ছিল। বর্ষকালে যা পানিতে টইটুম্বুর করত। আজ থেকে ৫০ বছর আগেও এ শাখা পদ্মা নদীটি প্রবল প্রবহমান ছিল। জেলেদের জালে এই নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ত আর আমরা সেই ইলিশ কিনে খেয়ে রসনা তৃপ্ত করতাম।

তখন মূল পদ্মা কিছুটা দূরে দক্ষিণ দিকে সরে গিয়েছিল আর মাঝখানে চর ঘোষপুর নামে একটি চর জেগে উঠে সেখানে বসতি গড়ে উঠেছিল। ফলে আমাদের বাড়িসংলগ্ন দক্ষিণের বড় শাখা নদীটিও মৌসুমি নদী হিসাবে পরিণত হয়েছিল। অর্থাৎ আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র মাসে নদীটি প্রবহমান থাকত; সেসময়ে পাঁচশ মণি, হাজার মণি বজরা এসে বাজিতপুর ঘাটে ভিড়ত। আর ঢাকা থেকে মালামাল বোঝাই করে আনা পাবনার মহাজনদের সেসব মালামাল বজরা থেকে গরু গাড়ি করে শহরে পৌঁছে যেত।

এ অবস্থায় দেখা যায়, বর্ষাকালে পদ্মার উপচে পড়া পানি পাবনা মানসিক হাসপাতাল এবং এডরুক পর্যন্ত প্রলম্বিত শাখা পদ্মা নদীতে পড়ে রামচন্দ্রপুরের করিডোর দিয়ে তা ইছামতী নদীতে পড়ত এবং এভাবে ইছামতী নদীটিও একটি মৌসুমি নদী হিসাবে প্রবাহিত হয়ে বেড়া পর্যন্ত গিয়ে হুরাসাগর নদীতে মিলিত হতো। এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমান অবস্থায় মূল পদ্মা নদী তো আরও দক্ষিণে সরে কুষ্টিয়ার কাছাকাছি গিয়ে অনেকটা সরু একটি নদী হিসাবে কোনোমতে পদ্মার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে! সে অবস্থায় বাজিতপুর ঘাটের বড় শাখা পদ্মারই অস্তিত্ব নেই।

এসএ/আরএস রেকর্ডের মাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে ভোগদখল, ক্রয়, বিক্রয় করে চলেছে। দালানকোঠা, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ দোকানপাট নির্মাণ করে বসতি, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু অব্যাহত রয়েছে; এ ৫০/৬০ বছরে কোনো সরকারি মহল, পরিবেশবাদী বা নদীরক্ষা আন্দোলনের কেউ কখনো এসব নিয়ে টু শব্দটি পর্যন্ত করেননি, সে অবস্থায় ইছামতী নদীটিই বা ভবিষ্যতে পানি পাবে কী করে; কোথা থেকে কোন পথে পানি আসবে?

তাছাড়া মূল পদ্মা নদী বহুদূর দক্ষিণে সরে যাওয়ায় বাজিতপুর ঘাটের বড় শাখা নদীটি বন্ধ হয়ে তা ভোগদখলে চলে গেছে; একইভাবে বর্তমান পদ্মা নদী পর্যন্ত দক্ষিণের এলাকাসহ চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাও স্বার্থান্বেষীরা নিজ নিজ নামে রেকর্ডভুক্ত করিয়ে, ভূমি জরিপের সরকারি কর্মকর্তা, তহশিল অফিস, সহকারী ভূমি কমিশনারের অফিস ইত্যাদি সরকারি প্রশাসন যন্ত্র ব্যবহার করে মূল পদ্মা নদীর জমিও ভোগদখলে নিয়ে নিয়েছে এবং বর্তমানে সেসব জমিও সমানতালে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর হচ্ছে। পাবনা, কুষ্টিয়ার বিভিন্ন রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন এক সময়ের প্রমত্তা পদ্মা নদীর জমির দলিল রেজিস্ট্রি অব্যাহত রয়েছে!

এ অবস্থায় আবারও পাবনা শহরের বুক চিরে চলে যাওয়া ইছামতী নদী প্রসঙ্গে ফিরে এসে বলতে চাই, ইছামতী নদী অবশ্যই দখলমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে যারা টাকা দিয়ে জমি কিনে সেখানে বাড়িঘর করেছেন, তাদের কাগজপত্রে যদি যথাযথ সরকারি ছাপ থাকে, অর্থাৎ তাদের নামে যদি সরকারি রেকর্ড থাকে, খতিয়ান থাকে, মৌজাম্যাপে যদি নদী উল্লেখ না করে ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধা দেওয়া থাকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক নামজারি অনুমোদন থাকে, তহশিল অফিসের খাজানার দাখিলা থাকে, তাহলে উচ্ছেদের আগে ওইসব জমি এবং ঘরবাড়ির মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করাই সমীচীন এবং মানবিক আচরণ বলে মনে করি।

কারণ ওইসব ব্যক্তিকে সরকারের লোকজনই ইছামতী নদীর জমির মালিক বানিয়েছেন। তাই সরকারের ওপরও এসব নারী, পুরুষ, শিশুদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব বর্তায়। সরকারি কর্মকর্তারা এক সময় নদীর জমি ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দেবেন, বাড়িঘর নির্মাণের অনুমোদন দেবেন, আবার একসময় সেসব ঘরবাড়ি ভাঙতে বুলডোজার নিয়ে হাজির হবেন, আর ভুক্তভোগীদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হবে, দেশের মানুষের হৃদয় ভারাক্রান্ত হবে, এমনকি যারা সরকার পরিচালনা করেন, তারা পর্যন্ত বিড়ম্বিত হবেন, তেমনটি বোধহয় কারোই কাম্য হওয়া উচিত নয়। এ অবস্থায়, স্পর্শকাতর এমন সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবারই শুভ বুদ্ধির উদয় হবে, বিবেক জাগ্রত হবে, তেমনটিই প্রত্যাশা।

ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন