জনশক্তি ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী নিয়ে ভাবতে হবে
jugantor
জনশক্তি ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী নিয়ে ভাবতে হবে

  এমএ খালেক  

০৪ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২-এর তথ্য মোতাবেক দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬।

২০১১ সালে যে জনশুমারি হয়েছিল, তাতে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ৪০ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৭। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে জনসংখ্যা ২ কোটি ১১ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিকভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে।

২০১১ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এখন তা ১ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মোট জনসংখ্যার মধ্যে নারী ৮ কোটি ৩৩ লাখ, পুরুষ ৮ কোটি ১৭ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ১২ হাজার ৬২৯ জন। প্রথমবারের মতো দেশে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি হয়েছে। দেশে জনঘনত্বের হার বেড়েছে। ২০১১ সালে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব ছিল ৯৭৬ জন। এখন তা ১ হাজার ১১৯ জনে উন্নীত হয়েছে। দেশে তরুণ জনশক্তি, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর, তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৯-এ। এ আদম শুমারি ও গৃহগণনা নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এ গণনা করা হয়েছে বলে প্রকৃত চিত্র সব ক্ষেত্রে উঠে আসেনি বলে অনেকেই মনে করছেন।

জনশুমারির তথ্যে উঠে এসেছে, দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সিদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবীণ বলা হয়। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশে এখন প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ৭১৯। এটি মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০১১ সালে দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর হার ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০০১ সালে ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০০১ সাল থেকে পরবর্তী দশ বছরে দেশে প্রবীণের সংখ্যা বেড়েছিল ১ দশমিক ২৪ শতাংশ। পরবর্তী ১০ বছরে এ সংখ্যা বেড়েছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর অর্থ হচ্ছে, প্রবীণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একদিকে জন্মহার কমে যাওয়া এবং নানা ধরনের আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে দেশে মৃত্যুহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় প্রবীণ জনসংখ্যা বেড়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি যখন ১৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি হয়, তখন সেই অবস্থাকে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলা হয়। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে অনুকূল। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা একবারই আসে। আবার কারও কারও মতে, হাজার বছরে একবার এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশের মতো কর্মক্ষম। ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থায় প্রবেশ করেছে এবং এটি ২০৩৫/২০৩৬ সাল পর্যন্ত চলতে থাকবে। তারপর আমরা আর ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুযোগ পাব না। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুফল কাজে লাগানোর মতো তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা উত্তীর্ণ হলে একটি দেশের অর্থনীতি কেমন পরিণতি ভোগ করতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থায় প্রবেশ করে। সেই অবস্থাকে তারা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। এরপর ৪৪ বছর ধরে জাপান বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসাবে বিরাজমান ছিল। সম্প্রতি জাপান চীনের কাছে তার অবস্থান হারিয়েছে। চীন এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা অতিক্রান্ত হলে দেশে প্রবীণের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। দেশে কর্মক্ষম মানুষের হার কমে যায়। জাপান এ অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ দ্রুত ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পেরিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগই হবে প্রবীণ। সে অবস্থায় দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম কিছুটা হলেও স্থবির হয়ে যেতে বাধ্য।

বাংলাদেশ আবেগে চলা একটি দেশ। আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য লালায়িত; কিন্তু কীভাবে সেই উন্নয়ন হবে তা নিয়ে আমাদের তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন যে ক’টি পিলারের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে, তার প্রায় সবই ভঙ্গুর এবং কোনোভাবেই টেকসই বলা যাবে না। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা বেশ উল্লসিত। এতে প্রচুর পরিমাণ স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে, এটি কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুফল ভোগ করতে আমরা কতটা প্রস্তুত?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বেকার সমস্যা। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো স্থাপিত হলে সেখানে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা কি প্রস্তুত আছি? বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের উদ্বৃত্ত পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন। তারা এখানে বিনিয়োগ করবেন। কিন্তু শ্রমশক্তির জোগান তো স্থানীয়ভাবে দিতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশের শ্রমশক্তি মোটেও প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ নন। বিদেশে বিনিয়োগকারীরা অদক্ষ শ্রমশক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়ে নিশ্চয়ই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন না। তারা যে কোনো মূল্যেই হোক দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত শ্রমশক্তি জোগাড় করতে চাইবেন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি উপযুক্ত দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত শ্রমশক্তির জোগান দিতে না পারে, তাহলে আশপাশের দেশ থেকে তা সংগ্রহ করবেন। আর আমরা তো বিদেশ থেকে শ্রমশক্তি ব্যবস্থা সহজীকরণ করে রেখেছি। আগে একজন বিদেশি শ্রমিক বাংলাদেশে কর্মরত অবস্থায় যে বেতন-ভাতা পেতেন, তার ৭৫ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে দেশে পাঠাতে পারতেন। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ অর্থ থেকে স্থানীয় বিভিন্ন কর এবং তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহন করার পর যা হাতে থাকত, তা স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে হতো। তারা যখন চূড়ান্তভাবে দেশে ফিরে যেতেন, তখন এ অর্থ দেশে নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু এখন আইনি সংস্কারের মাধ্যমে ৮০ শতাংশ বেতন-ভাতা তাৎক্ষণিকভাবে দেশে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ অর্থ দিয়ে স্থানীয় ট্যাক্স পরিশোধ ও থাকা-খাওয়ার ব্যয় নির্বাহের পর যা হাতে থাকবে, তা দেশে পাঠাতে পারবেন। এ আইনি সংস্কারের ফলে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশে কাজ করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। অর্থাৎ ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে সেখানে যাতে বিদেশি শ্রমিকরা কাজ করার ক্ষেত্রে আগ্রহবোধ করেন, তার ব্যবস্থা করে রাখা হলো।

এবারের জনসংখ্যা শুমারি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তারপরও প্রাপ্ত তথ্যে কিছু বতিক্রমী বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার আগের চেয়ে বেড়েছে। এ তথ্য এটাই প্রমাণ করে যে, দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এ লক্ষণ সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করলে উদ্বেগজনকই বটে। কারণ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির অর্থ হচ্ছে দেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা থেকে দ্রুত সরে আসছে। আগামীতে আমাদের দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রাধান্য সৃষ্টি হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্তিমিত হয়ে পড়তে পারে। সরকারি পর্যায়ে উন্নয়নের নানা ফিরিস্তি গাওয়া হয়। ভাবখানা এমন যে, সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টার ফলেই দেশ শনৈ শনৈ এগিয়ে যাচ্ছে। আসলে তা নয়। সরকারের উদ্যোগের চেয়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা উন্নয়নের জন্য বেশি ভূমিকা রাখছে। এ সুযোগ যদি আমরা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারতাম, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও উচ্চতায় পৌঁছে যেত। যারা কর্মক্ষম, তারা কিন্তু সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে থাকে না। তারা নিজেরাই কোনো না কোনো কর্মে নিযুক্ত হয়ে আয়বর্ধন করছে। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুততর এবং টেকসই করতে হলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাপকমাত্রায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। দারিদ্র্যবিমোচন আমাদের একটি অন্যতম জাতীয় অঙ্গীকার। এটি করার জন্য ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল জিডিপির ২৮ শতাংশ, কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার ছিল জিডিপির ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা আগের পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এটি কোনোভাবেই অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দেশে বিনিয়োগের কার্যকর অনুকূল পরিবেশ নেই। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৭তম। এ অবস্থা নিয়ে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় প্রত্যাশা করা যায় না। সরকারি খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে, এটি ঠিক। কিন্তু সরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অর্থই হচ্ছে দুর্নীতির হার বেড়ে যাওয়া। বাংলাদেশ যদি আগামী দিনের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই জনশক্তি উন্নয়নের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে। কারণ মানবসম্পদ উন্নয়ন ব্যতীত কোনোভাবেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে না।

বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, এটি অবশ্যই একটি তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার। এ আয়ু বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৫৯ বছর নির্ধারিত রয়েছে। জনগণের গড় আয়ু ৭৪ বছরের বেশি। কাজেই অবসর গ্রহণের বয়সসীমা বাড়ানো যেতে পারে। অবসর গ্রহণের পরও অনেকেই কর্মক্ষম থাকেন। অবসর গ্রহণের পর যারা কর্মক্ষম থাকেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়বর্ধক উৎপাদনশীল কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। তাদের বিভিন্ন আনন্দময় আয়বর্ধক কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে। এটি করা হলে দেশের জনসংখ্যার একটি অংশ কাজে ফিরে আসতে পারে। এতে তাদের সময় ভালো কাটবে আর দেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে।

এমএ খালেক : অর্থনীতি বিশ্লেষক

জনশক্তি ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী নিয়ে ভাবতে হবে

 এমএ খালেক 
০৪ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২-এর তথ্য মোতাবেক দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬।

২০১১ সালে যে জনশুমারি হয়েছিল, তাতে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ৪০ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৭। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে জনসংখ্যা ২ কোটি ১১ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিকভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে।

২০১১ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এখন তা ১ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মোট জনসংখ্যার মধ্যে নারী ৮ কোটি ৩৩ লাখ, পুরুষ ৮ কোটি ১৭ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ১২ হাজার ৬২৯ জন। প্রথমবারের মতো দেশে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি হয়েছে। দেশে জনঘনত্বের হার বেড়েছে। ২০১১ সালে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব ছিল ৯৭৬ জন। এখন তা ১ হাজার ১১৯ জনে উন্নীত হয়েছে। দেশে তরুণ জনশক্তি, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর, তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৯-এ। এ আদম শুমারি ও গৃহগণনা নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এ গণনা করা হয়েছে বলে প্রকৃত চিত্র সব ক্ষেত্রে উঠে আসেনি বলে অনেকেই মনে করছেন।

জনশুমারির তথ্যে উঠে এসেছে, দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সিদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবীণ বলা হয়। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশে এখন প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ৭১৯। এটি মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০১১ সালে দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর হার ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০০১ সালে ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০০১ সাল থেকে পরবর্তী দশ বছরে দেশে প্রবীণের সংখ্যা বেড়েছিল ১ দশমিক ২৪ শতাংশ। পরবর্তী ১০ বছরে এ সংখ্যা বেড়েছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর অর্থ হচ্ছে, প্রবীণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একদিকে জন্মহার কমে যাওয়া এবং নানা ধরনের আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে দেশে মৃত্যুহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় প্রবীণ জনসংখ্যা বেড়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি যখন ১৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি হয়, তখন সেই অবস্থাকে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলা হয়। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে অনুকূল। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা একবারই আসে। আবার কারও কারও মতে, হাজার বছরে একবার এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশের মতো কর্মক্ষম। ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থায় প্রবেশ করেছে এবং এটি ২০৩৫/২০৩৬ সাল পর্যন্ত চলতে থাকবে। তারপর আমরা আর ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুযোগ পাব না। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুফল কাজে লাগানোর মতো তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা উত্তীর্ণ হলে একটি দেশের অর্থনীতি কেমন পরিণতি ভোগ করতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থায় প্রবেশ করে। সেই অবস্থাকে তারা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। এরপর ৪৪ বছর ধরে জাপান বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসাবে বিরাজমান ছিল। সম্প্রতি জাপান চীনের কাছে তার অবস্থান হারিয়েছে। চীন এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা অতিক্রান্ত হলে দেশে প্রবীণের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। দেশে কর্মক্ষম মানুষের হার কমে যায়। জাপান এ অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ দ্রুত ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পেরিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগই হবে প্রবীণ। সে অবস্থায় দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম কিছুটা হলেও স্থবির হয়ে যেতে বাধ্য।

বাংলাদেশ আবেগে চলা একটি দেশ। আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য লালায়িত; কিন্তু কীভাবে সেই উন্নয়ন হবে তা নিয়ে আমাদের তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন যে ক’টি পিলারের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে, তার প্রায় সবই ভঙ্গুর এবং কোনোভাবেই টেকসই বলা যাবে না। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা বেশ উল্লসিত। এতে প্রচুর পরিমাণ স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে, এটি কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুফল ভোগ করতে আমরা কতটা প্রস্তুত?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বেকার সমস্যা। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো স্থাপিত হলে সেখানে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা কি প্রস্তুত আছি? বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের উদ্বৃত্ত পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন। তারা এখানে বিনিয়োগ করবেন। কিন্তু শ্রমশক্তির জোগান তো স্থানীয়ভাবে দিতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশের শ্রমশক্তি মোটেও প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ নন। বিদেশে বিনিয়োগকারীরা অদক্ষ শ্রমশক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়ে নিশ্চয়ই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন না। তারা যে কোনো মূল্যেই হোক দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত শ্রমশক্তি জোগাড় করতে চাইবেন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি উপযুক্ত দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত শ্রমশক্তির জোগান দিতে না পারে, তাহলে আশপাশের দেশ থেকে তা সংগ্রহ করবেন। আর আমরা তো বিদেশ থেকে শ্রমশক্তি ব্যবস্থা সহজীকরণ করে রেখেছি। আগে একজন বিদেশি শ্রমিক বাংলাদেশে কর্মরত অবস্থায় যে বেতন-ভাতা পেতেন, তার ৭৫ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে দেশে পাঠাতে পারতেন। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ অর্থ থেকে স্থানীয় বিভিন্ন কর এবং তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহন করার পর যা হাতে থাকত, তা স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে হতো। তারা যখন চূড়ান্তভাবে দেশে ফিরে যেতেন, তখন এ অর্থ দেশে নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু এখন আইনি সংস্কারের মাধ্যমে ৮০ শতাংশ বেতন-ভাতা তাৎক্ষণিকভাবে দেশে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ অর্থ দিয়ে স্থানীয় ট্যাক্স পরিশোধ ও থাকা-খাওয়ার ব্যয় নির্বাহের পর যা হাতে থাকবে, তা দেশে পাঠাতে পারবেন। এ আইনি সংস্কারের ফলে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশে কাজ করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। অর্থাৎ ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে সেখানে যাতে বিদেশি শ্রমিকরা কাজ করার ক্ষেত্রে আগ্রহবোধ করেন, তার ব্যবস্থা করে রাখা হলো।

এবারের জনসংখ্যা শুমারি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তারপরও প্রাপ্ত তথ্যে কিছু বতিক্রমী বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার আগের চেয়ে বেড়েছে। এ তথ্য এটাই প্রমাণ করে যে, দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এ লক্ষণ সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করলে উদ্বেগজনকই বটে। কারণ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির অর্থ হচ্ছে দেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা থেকে দ্রুত সরে আসছে। আগামীতে আমাদের দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রাধান্য সৃষ্টি হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্তিমিত হয়ে পড়তে পারে। সরকারি পর্যায়ে উন্নয়নের নানা ফিরিস্তি গাওয়া হয়। ভাবখানা এমন যে, সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টার ফলেই দেশ শনৈ শনৈ এগিয়ে যাচ্ছে। আসলে তা নয়। সরকারের উদ্যোগের চেয়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা উন্নয়নের জন্য বেশি ভূমিকা রাখছে। এ সুযোগ যদি আমরা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারতাম, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও উচ্চতায় পৌঁছে যেত। যারা কর্মক্ষম, তারা কিন্তু সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে থাকে না। তারা নিজেরাই কোনো না কোনো কর্মে নিযুক্ত হয়ে আয়বর্ধন করছে। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুততর এবং টেকসই করতে হলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাপকমাত্রায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। দারিদ্র্যবিমোচন আমাদের একটি অন্যতম জাতীয় অঙ্গীকার। এটি করার জন্য ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল জিডিপির ২৮ শতাংশ, কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার ছিল জিডিপির ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা আগের পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এটি কোনোভাবেই অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দেশে বিনিয়োগের কার্যকর অনুকূল পরিবেশ নেই। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৭তম। এ অবস্থা নিয়ে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় প্রত্যাশা করা যায় না। সরকারি খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে, এটি ঠিক। কিন্তু সরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অর্থই হচ্ছে দুর্নীতির হার বেড়ে যাওয়া। বাংলাদেশ যদি আগামী দিনের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই জনশক্তি উন্নয়নের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে। কারণ মানবসম্পদ উন্নয়ন ব্যতীত কোনোভাবেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে না।

বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, এটি অবশ্যই একটি তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার। এ আয়ু বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৫৯ বছর নির্ধারিত রয়েছে। জনগণের গড় আয়ু ৭৪ বছরের বেশি। কাজেই অবসর গ্রহণের বয়সসীমা বাড়ানো যেতে পারে। অবসর গ্রহণের পরও অনেকেই কর্মক্ষম থাকেন। অবসর গ্রহণের পর যারা কর্মক্ষম থাকেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়বর্ধক উৎপাদনশীল কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। তাদের বিভিন্ন আনন্দময় আয়বর্ধক কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে। এটি করা হলে দেশের জনসংখ্যার একটি অংশ কাজে ফিরে আসতে পারে। এতে তাদের সময় ভালো কাটবে আর দেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে।

এমএ খালেক : অর্থনীতি বিশ্লেষক

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন