বিশ্ব মানবতা আজ কোথায়?
jugantor
বিশ্ব মানবতা আজ কোথায়?

  এম এ হালিম  

১৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীতে যুদ্ধবিগ্রহ, দ্বন্দ্ব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতি অথবা গোষ্ঠীগত সংঘাত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ইত্যাদি ঘটেই চলেছে অবিরত। আর সারা বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো লেগেই আছে।

বাংলাদেশও এ বছর পরপর দুটি বন্যার তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এসব পরিস্থিতিতে মানবিক দুর্দশা অবশ্যম্ভাবী। আদিকাল থেকেই এ ধারা অব্যাহত রয়েছে; বরং যতই সময় গড়াচ্ছে, মানুষের দুর্দশা যেন ততই প্রকটতর হচ্ছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাব মানুষের দুর্দশাকে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে চলেছে।

এসবের পাশাপশি করোনা মহামারির প্রভাব, বিশেষত অসংখ্য মানুষের কর্মহীনতা ভুক্তভোগীদের জন্য এক ভিন্ন মানবিক দুর্দশার সাক্ষ্য দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশ আর আফ্রিকাজুড়ে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকট এক ধরনের স্থায়ী রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষে ছয় লাখ আর লেবাননে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গেল শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে আফগানিস্তানে মানবিক সংকট চলে আসছে অব্যাহতভাবে। চার কোটি জনসংখ্যার দেশটির অর্ধেকই এখন তীব্র খাদ্য সংকটে নিপতিত।

গত ৫ আগস্ট অবরুদ্ধ গাজার উত্তরাঞ্চলের একটি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলের বিমান হামলায় ছয় শিশুসহ ৩১ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া গাজায় সংঘটিত সাম্প্রতিক আরও কিছু হামলায় ১৭ শিশুসহ ৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২১ সালের মে মাসে গাজায় সংঘটিত ১১ দিনের সংঘর্ষে ২৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পাঁচ মাসে নিহত হয়েছে ১১ হাজার, উদ্বাস্তু ও আইডিপি ১ কোটি ২০ লাখ।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ৭ আগস্ট পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধে ৫ হাজার ৪০১ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৫৫ জন শিশু। সর্বশেষ ৫ আগস্ট ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলের দিনিপ্রোপেত্রভক্সে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এক অনিশ্চিত মানবিক সংকটের শিকার হিসাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিবেচিত।

যে কোনো সংকট মানেই মানবিক দুর্দশা তথা হতাহত, খাদ্য সংকট, জীবিকা-বাসস্থান-চিকিৎসা সমস্যা, দারিদ্র্য ইত্যাদি। এসব সংকটে সরকার ও দেশি-আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে, এমনকি ব্যক্তি পর্যায়েও মানবিক সহযোগিতা পরিচালনা করা হয়ে থাকে। আশির দশক থেকে বলা চলে সব এনজিওই তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমকে বিভিন্ন প্রকল্প বা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করছে।

একমাত্র রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে একশ ত্রিশের অধিক সংস্থা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২১ সালে সারা বিশ্বে এসব মানবিক সংস্থা প্রায় ২৩ কোটি মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে।

মানবিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংস্থার কর্মী বা স্বেচ্ছাসেবক অনেক সময় প্রতিকূলতার শিকার হন। জীবনহানিও ঘটে প্রায়ই। যেমনটা ঘটেছিল ২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকের বাগদাদে। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতসহ ২২ জন মানবিক কর্মী আততায়ীর হাতে নিহত হন।

এর ছয় বছর পর ২০০৯ সালে জাতিসংঘ এ দিনটিকে বিশ্ব মানবিক দিবস (World Humanitarian Day) হিসাবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতিবছর ১৯ আগস্ট দিনটিকে সারা বিশ্বে বিশ্ব মানবিক দিবস হিসাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

এ ধারাবাহিকতায় আজ সারা পৃথিবীতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানবিক দিবস। এ দিনটি পালনের লক্ষ্য হলো মানবিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও সম্মান সুসংহত করা। এ বছর দিনটিতে মানবিক কর্মীদের প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের সুরক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ ছাড়াও বিশেষ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘The Human Race’, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মানুষের বিপদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা প্রশমনের জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। অপরদিকে এ ধরনের প্রতিকূল পরিবেশে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মীদের অধিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।

দ্বন্দ্ব-যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন মানবিক সংকটে ভুক্তভোগী ও মানবিক কর্মীদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চুক্তি, আইন অথবা অঙ্গীকার রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-১৯৬৫ সালে রেড ক্রস-রেড ক্রিসেন্ট গৃহীত চারটি প্রধান মূলনীতি (মানবতা, পক্ষপাতহীনতা, নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা), রেড ক্রস, অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ আটটি আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবিক সহায়তা বিতরণকালে অনুসরণের জন্য ১০টি আচরণবিধি (Code of Conduct for Humanitarian Response) ১৯৯৪, মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুণগত মান, সহযোগিতার আদর্শ পরিমাণ ইত্যাদি নির্দেশনাসংবলিত The Sphere Humanitarian Charter (1997), মানবিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা এবং বৈষম্য ও পক্ষপাতহীনতা বর্জনবিষয়ক ৯টি অঙ্গীকারসংবলিত মানবিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা এবং গুণগত মূল আদর্শমান (Core Humanitarian Standard on Quality and Accountability-CHS), মানবিক কর্মকাণ্ড অধিক স্থানীয় সক্ষমতার ভিত্তিতে পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনার উদ্যোগসংবলিত পরিবর্তনের সনদ (Charter for Change-C4C), ‘সক্ষমতা উন্নয়ন’ নয়, ‘সক্ষমতা বিনিময়’ ও স্থানীয়করণ উদ্বুদ্ধকরণ উদ্যোগসংবলিত প্রত্যাশার সনদ (Charter of

Expectations) ইত্যাদি। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে এসব বিষয়ে নিজস্ব আইন/বিধি রয়েছে, যেমন-বাংলাদেশের দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি ২০১৯ (Standing Orders on Disaster)। এসবের সাধারণ লক্ষ্য হলো ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও সম্মান প্রদর্শন, সাহায্যপ্রাপ্তিতে তাদের অধিকারকে স্বীকৃতি প্রদান, অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করা এবং ঝুঁকি হ্রাসের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বিপদাপন্নতা হ্রাসকরণ।

এক সময় মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিপদাপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সাহায্য সংস্থার দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্ব পেত না, মনে করা হতো মানবিক সাহায্য অনেকটা অনুগ্রহ প্রদর্শন। তাদের ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয়টিকেও অবজ্ঞা করা হতো। মনে পড়ে, ইন্দোনেশিয়াসহ পূর্ব এশিয়ায় সুনামি (২৬ ডিসেম্বর ২০০৪) এবং ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প (২৮ মার্চ ২০০৫) পরবর্তী মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে রেড ক্রস মিশনে অংশগ্রহণকালে লক্ষ করি-ইন্দোনেশীয় রেড ক্রসের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রাণকেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত তথা উপকারভোগীকে কী সম্মানই না দেখাচ্ছেন। তবে আশার কথা, আজকাল আমাদের দেশেও বিপদাপন্ন বা উপকারভোগীদের প্রতি সম্মান তথা তাদের মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। উপরে আলেচিত বিভিন্ন সনদ ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, বিভিন্ন পক্ষের নজরদারি, সর্বোপরি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

এদিকে যুদ্ধ বিষয়ে রয়েছে অনেক প্রাচীন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আইন, যেমন-আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (হেগ কনভেনশন ও জেনেভা কনভেনশন), আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, রিফিউজি আইন ইত্যাদি। আছে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসসংক্রান্ত সেনদাই ফ্রেমওয়ার্ক, জলবায়ু অভিযোজনবিষয়ক প্যারিস চুক্তি ইত্যাদি। ২০১৬ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিশ্ব মানবিক সম্মেলনে ১৭৩ দেশের সরকার/রাষ্ট্রপ্রধানসহ জাতিসংঘ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন পেশার নয় হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন, যেখানে মানবিক কার্যক্রম স্থায়িত্বশীলতার স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং স্থানীয় সংস্থাকে কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে অধিক দায়িত্ব অর্পণ ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিসংবলিত ৫১টি অঙ্গীকারনামা ঘোষণা করা হয়, যা ‘গ্রান্ড বারগেইন’ নামে অভিহিত।

এতসব উদ্যোগ সত্ত্বেও কখনো থেমে থাকেনি মানবিকতার প্রতি অবজ্ঞা। ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা (৬ আগস্ট) ও নাগাসাকিতে (৯ আগস্ট) বোমা হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে যথাক্রমে ৮০ ও ৭৪ হাজার মানুষ মারা যায়। আর বোমার আঘাত ও তেজস্ক্রিয়ায় কত মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছে তার হিসাব নেই। চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে তো মানবতাকে চরমভাবে অবজ্ঞা করা হচ্ছে, কারণ এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত শিশুসহ ৫ হাজার ৪০১ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। অথচ জেনেভা কনভেনশন (১৯৪৯) অনুসারে যুদ্ধকালে বেসামরিক মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ১৯৬টি দেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। ১৯৬৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে ১২টি আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে। পাঁচ বৃহৎ শক্তি-যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীনসহ জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্র এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এসবের প্রয়োগে যেন সদিচ্ছার অভাব লক্ষ করা যায়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবজ্ঞাই করা হয়। মনে পড়ে, ইরাক যুদ্ধ শুরুর (২০০৩) আগে জাতিসংঘসহ সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ, তখন তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান অসহায় হয়ে বলেছিলেন, ‘ইরাকের ভাগ্য এখন ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’ উল্লেখ্য, ২০১১ সাল পর্যন্ত চলমান সে যুদ্ধে লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।

সম্প্রতি পৃথিবীতে প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলার ৭৭তম বার্ষিকীতে জাপানের হিরোশিমায় বক্তৃতাকালে জাতিসংঘর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বব্যাপী চলমান সংকটের কারণে পারমাণবিক বিপর্যয়ের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, বিশ্বমানবতা একটি ‘গুলিভরা বন্দুক’ নিয়ে খেলছে। ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার পারমাণবিক বোমা হামলার আশঙ্কা বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। খোদ জাতিসংঘের মহাসচিবের এমন হতাশাব্যঞ্জক বিবৃতি আমাদের আরও হতাশ করে। অপরদিকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা যখন তীব্র এক মানবিক সংকটে নিপতিত এবং বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গাদের আশু প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই বাংলাদেশে সফরকারী জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের ‘একটু ধৈর্য ধারণের’ আহ্বান জানিয়েছেন!

বাংলাদেশেও অহরহ ঘটছে মানবতার লঙ্ঘন। তুচ্ছ ঘটনায় অথবা হীন স্বার্থে একজন আরেকজনের ওপর অমানবিক আচরণ করছে সহসাই। বিনা বিচারে বছরের পর বছর নিরপরাধ ব্যক্তি কারাগারে আটকে থাকছে। হিংসা-বিদ্বেষ, কলহ, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি বেড়েই চলেছে। ফলে মানুষই মানুষের প্রতি অমানবিক হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা, ৩ নভেম্বর জেলহত্যা; ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এ দেশের ইতিহাসে অমানবিকতার নিকৃষ্টতম উদাহরণ। সারা বিশ্বে এমন অনেক অমানবিকতার উদাহরণ বর্ণনা করা যেতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানবিক দিবসে প্রশ্ন জাগে, বিশ্ব মানবতা আজ কোথায়?

এম এ হালিম : বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক; বর্তমানে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী কার্যক্রমের হেড অব অপারেশনস্

halim_64@hotmail.com

বিশ্ব মানবতা আজ কোথায়?

 এম এ হালিম 
১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীতে যুদ্ধবিগ্রহ, দ্বন্দ্ব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতি অথবা গোষ্ঠীগত সংঘাত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ইত্যাদি ঘটেই চলেছে অবিরত। আর সারা বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো লেগেই আছে।

বাংলাদেশও এ বছর পরপর দুটি বন্যার তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এসব পরিস্থিতিতে মানবিক দুর্দশা অবশ্যম্ভাবী। আদিকাল থেকেই এ ধারা অব্যাহত রয়েছে; বরং যতই সময় গড়াচ্ছে, মানুষের দুর্দশা যেন ততই প্রকটতর হচ্ছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাব মানুষের দুর্দশাকে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে চলেছে।

এসবের পাশাপশি করোনা মহামারির প্রভাব, বিশেষত অসংখ্য মানুষের কর্মহীনতা ভুক্তভোগীদের জন্য এক ভিন্ন মানবিক দুর্দশার সাক্ষ্য দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশ আর আফ্রিকাজুড়ে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকট এক ধরনের স্থায়ী রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষে ছয় লাখ আর লেবাননে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গেল শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে আফগানিস্তানে মানবিক সংকট চলে আসছে অব্যাহতভাবে। চার কোটি জনসংখ্যার দেশটির অর্ধেকই এখন তীব্র খাদ্য সংকটে নিপতিত।

গত ৫ আগস্ট অবরুদ্ধ গাজার উত্তরাঞ্চলের একটি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলের বিমান হামলায় ছয় শিশুসহ ৩১ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া গাজায় সংঘটিত সাম্প্রতিক আরও কিছু হামলায় ১৭ শিশুসহ ৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২১ সালের মে মাসে গাজায় সংঘটিত ১১ দিনের সংঘর্ষে ২৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পাঁচ মাসে নিহত হয়েছে ১১ হাজার, উদ্বাস্তু ও আইডিপি ১ কোটি ২০ লাখ।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ৭ আগস্ট পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধে ৫ হাজার ৪০১ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৫৫ জন শিশু। সর্বশেষ ৫ আগস্ট ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলের দিনিপ্রোপেত্রভক্সে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এক অনিশ্চিত মানবিক সংকটের শিকার হিসাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিবেচিত।

যে কোনো সংকট মানেই মানবিক দুর্দশা তথা হতাহত, খাদ্য সংকট, জীবিকা-বাসস্থান-চিকিৎসা সমস্যা, দারিদ্র্য ইত্যাদি। এসব সংকটে সরকার ও দেশি-আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে, এমনকি ব্যক্তি পর্যায়েও মানবিক সহযোগিতা পরিচালনা করা হয়ে থাকে। আশির দশক থেকে বলা চলে সব এনজিওই তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমকে বিভিন্ন প্রকল্প বা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করছে।

একমাত্র রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে একশ ত্রিশের অধিক সংস্থা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২১ সালে সারা বিশ্বে এসব মানবিক সংস্থা প্রায় ২৩ কোটি মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে।

মানবিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংস্থার কর্মী বা স্বেচ্ছাসেবক অনেক সময় প্রতিকূলতার শিকার হন। জীবনহানিও ঘটে প্রায়ই। যেমনটা ঘটেছিল ২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকের বাগদাদে। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতসহ ২২ জন মানবিক কর্মী আততায়ীর হাতে নিহত হন।

এর ছয় বছর পর ২০০৯ সালে জাতিসংঘ এ দিনটিকে বিশ্ব মানবিক দিবস (World Humanitarian Day) হিসাবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতিবছর ১৯ আগস্ট দিনটিকে সারা বিশ্বে বিশ্ব মানবিক দিবস হিসাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

এ ধারাবাহিকতায় আজ সারা পৃথিবীতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানবিক দিবস। এ দিনটি পালনের লক্ষ্য হলো মানবিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও সম্মান সুসংহত করা। এ বছর দিনটিতে মানবিক কর্মীদের প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের সুরক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ ছাড়াও বিশেষ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘The Human Race’, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মানুষের বিপদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা প্রশমনের জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। অপরদিকে এ ধরনের প্রতিকূল পরিবেশে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মীদের অধিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।

দ্বন্দ্ব-যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন মানবিক সংকটে ভুক্তভোগী ও মানবিক কর্মীদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চুক্তি, আইন অথবা অঙ্গীকার রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-১৯৬৫ সালে রেড ক্রস-রেড ক্রিসেন্ট গৃহীত চারটি প্রধান মূলনীতি (মানবতা, পক্ষপাতহীনতা, নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা), রেড ক্রস, অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ আটটি আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবিক সহায়তা বিতরণকালে অনুসরণের জন্য ১০টি আচরণবিধি (Code of Conduct for Humanitarian Response) ১৯৯৪, মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুণগত মান, সহযোগিতার আদর্শ পরিমাণ ইত্যাদি নির্দেশনাসংবলিত The Sphere Humanitarian Charter (1997), মানবিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা এবং বৈষম্য ও পক্ষপাতহীনতা বর্জনবিষয়ক ৯টি অঙ্গীকারসংবলিত মানবিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা এবং গুণগত মূল আদর্শমান (Core Humanitarian Standard on Quality and Accountability-CHS), মানবিক কর্মকাণ্ড অধিক স্থানীয় সক্ষমতার ভিত্তিতে পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনার উদ্যোগসংবলিত পরিবর্তনের সনদ (Charter for Change-C4C), ‘সক্ষমতা উন্নয়ন’ নয়, ‘সক্ষমতা বিনিময়’ ও স্থানীয়করণ উদ্বুদ্ধকরণ উদ্যোগসংবলিত প্রত্যাশার সনদ (Charter of

Expectations) ইত্যাদি। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে এসব বিষয়ে নিজস্ব আইন/বিধি রয়েছে, যেমন-বাংলাদেশের দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি ২০১৯ (Standing Orders on Disaster)। এসবের সাধারণ লক্ষ্য হলো ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও সম্মান প্রদর্শন, সাহায্যপ্রাপ্তিতে তাদের অধিকারকে স্বীকৃতি প্রদান, অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করা এবং ঝুঁকি হ্রাসের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বিপদাপন্নতা হ্রাসকরণ।

এক সময় মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিপদাপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সাহায্য সংস্থার দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্ব পেত না, মনে করা হতো মানবিক সাহায্য অনেকটা অনুগ্রহ প্রদর্শন। তাদের ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয়টিকেও অবজ্ঞা করা হতো। মনে পড়ে, ইন্দোনেশিয়াসহ পূর্ব এশিয়ায় সুনামি (২৬ ডিসেম্বর ২০০৪) এবং ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প (২৮ মার্চ ২০০৫) পরবর্তী মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে রেড ক্রস মিশনে অংশগ্রহণকালে লক্ষ করি-ইন্দোনেশীয় রেড ক্রসের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রাণকেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত তথা উপকারভোগীকে কী সম্মানই না দেখাচ্ছেন। তবে আশার কথা, আজকাল আমাদের দেশেও বিপদাপন্ন বা উপকারভোগীদের প্রতি সম্মান তথা তাদের মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। উপরে আলেচিত বিভিন্ন সনদ ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, বিভিন্ন পক্ষের নজরদারি, সর্বোপরি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

এদিকে যুদ্ধ বিষয়ে রয়েছে অনেক প্রাচীন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আইন, যেমন-আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (হেগ কনভেনশন ও জেনেভা কনভেনশন), আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, রিফিউজি আইন ইত্যাদি। আছে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসসংক্রান্ত সেনদাই ফ্রেমওয়ার্ক, জলবায়ু অভিযোজনবিষয়ক প্যারিস চুক্তি ইত্যাদি। ২০১৬ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিশ্ব মানবিক সম্মেলনে ১৭৩ দেশের সরকার/রাষ্ট্রপ্রধানসহ জাতিসংঘ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন পেশার নয় হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন, যেখানে মানবিক কার্যক্রম স্থায়িত্বশীলতার স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং স্থানীয় সংস্থাকে কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে অধিক দায়িত্ব অর্পণ ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিসংবলিত ৫১টি অঙ্গীকারনামা ঘোষণা করা হয়, যা ‘গ্রান্ড বারগেইন’ নামে অভিহিত।

এতসব উদ্যোগ সত্ত্বেও কখনো থেমে থাকেনি মানবিকতার প্রতি অবজ্ঞা। ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা (৬ আগস্ট) ও নাগাসাকিতে (৯ আগস্ট) বোমা হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে যথাক্রমে ৮০ ও ৭৪ হাজার মানুষ মারা যায়। আর বোমার আঘাত ও তেজস্ক্রিয়ায় কত মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছে তার হিসাব নেই। চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে তো মানবতাকে চরমভাবে অবজ্ঞা করা হচ্ছে, কারণ এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত শিশুসহ ৫ হাজার ৪০১ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। অথচ জেনেভা কনভেনশন (১৯৪৯) অনুসারে যুদ্ধকালে বেসামরিক মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ১৯৬টি দেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। ১৯৬৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে ১২টি আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে। পাঁচ বৃহৎ শক্তি-যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীনসহ জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্র এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এসবের প্রয়োগে যেন সদিচ্ছার অভাব লক্ষ করা যায়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবজ্ঞাই করা হয়। মনে পড়ে, ইরাক যুদ্ধ শুরুর (২০০৩) আগে জাতিসংঘসহ সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ, তখন তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান অসহায় হয়ে বলেছিলেন, ‘ইরাকের ভাগ্য এখন ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’ উল্লেখ্য, ২০১১ সাল পর্যন্ত চলমান সে যুদ্ধে লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।

সম্প্রতি পৃথিবীতে প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলার ৭৭তম বার্ষিকীতে জাপানের হিরোশিমায় বক্তৃতাকালে জাতিসংঘর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বব্যাপী চলমান সংকটের কারণে পারমাণবিক বিপর্যয়ের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, বিশ্বমানবতা একটি ‘গুলিভরা বন্দুক’ নিয়ে খেলছে। ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার পারমাণবিক বোমা হামলার আশঙ্কা বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। খোদ জাতিসংঘের মহাসচিবের এমন হতাশাব্যঞ্জক বিবৃতি আমাদের আরও হতাশ করে। অপরদিকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা যখন তীব্র এক মানবিক সংকটে নিপতিত এবং বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গাদের আশু প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই বাংলাদেশে সফরকারী জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের ‘একটু ধৈর্য ধারণের’ আহ্বান জানিয়েছেন!

বাংলাদেশেও অহরহ ঘটছে মানবতার লঙ্ঘন। তুচ্ছ ঘটনায় অথবা হীন স্বার্থে একজন আরেকজনের ওপর অমানবিক আচরণ করছে সহসাই। বিনা বিচারে বছরের পর বছর নিরপরাধ ব্যক্তি কারাগারে আটকে থাকছে। হিংসা-বিদ্বেষ, কলহ, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি বেড়েই চলেছে। ফলে মানুষই মানুষের প্রতি অমানবিক হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা, ৩ নভেম্বর জেলহত্যা; ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এ দেশের ইতিহাসে অমানবিকতার নিকৃষ্টতম উদাহরণ। সারা বিশ্বে এমন অনেক অমানবিকতার উদাহরণ বর্ণনা করা যেতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানবিক দিবসে প্রশ্ন জাগে, বিশ্ব মানবতা আজ কোথায়?

এম এ হালিম : বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক; বর্তমানে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী কার্যক্রমের হেড অব অপারেশনস্

halim_64@hotmail.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন