অতি মুনাফাখোরদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করুন
jugantor
নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি
অতি মুনাফাখোরদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করুন

  ড. আর এম দেবনাথ  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার অনেক সময় কাজ করে ঠিকই, কিন্তু বেশ দেরিতে করে। ফলে বাজারের অশান্তি যায় না, বাজার গরম হয়। ভোগে সাধারণ মানুষ। এর সর্বশেষ উদাহরণ চালের বাজার। হঠাৎ করে চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। কথা নেই বার্তা নেই, প্রতিদিন চালের দাম বাড়তে থাকে।

মিডিয়া এ সম্পর্কে প্রতিদিন খবর দিতে শুরু করে। কী কারণে বাজারে দাম বাড়ছে, কার কারণে বাড়ছে-বোধগম্য হচ্ছিল না। দোকানিদের বক্তব্য-চালের অভাব। ৮-১০ দিন আগে আমি চাল কিনতে যাই। অত্যধিক দাম দেখে দোকানিকে জিজ্ঞেস করি, হঠাৎ করে দাম বাড়ার কারণ কী? তার উত্তর আশঙ্কাজনক। বলল, স্যার, চাল বেশি নিয়ে যান। আমি সাধারণত কিনি ২৫ কেজির বস্তা, যা অনেকদিন চলে যায়। দোকানি বলল দুই বস্তা নিতে।

কারণ দাম আরও বাড়বে। ও নিশ্চিতভাবেই বলল। কারণ নাকি খরা। ‘দেখছেন না উত্তরবঙ্গে পানির অভাবে মাটি ফেটে চৌচির।’ সামনে আমন ফসল। অগ্রহায়ণ/পৌষ মাসে তা উঠে। আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। অবশ্য বোরোই এখন আমাদের এক নম্বর ধানি ফসল, বোরো ছাড়া রয়েছে আউশ ও আমন। এখন ভাদ্র মাস। আশ্বিন-কার্তিক-অগ্রহায়ণ এমনিতেই আগের দিনে ‘হা-ভাতের’ মাস ছিল। এখন তা আর নেই।

আগের দিনে এ দিনগুলো ছিল বেশ কষ্টের। যতক্ষণ না আমন উঠত, ততক্ষণ ভাতের অভাব ঘুচত না। এ সময়টা ছিল বাঙালির জন্য খুবই খারাপ সময়। অবশ্য তখন বোরোর এত প্রচলন ছিল না। এবার কী হলো যে সরকারের হাতে এত খাদ্য থাকতেও ভাদ্র মাসে চালের দাম বাড়ছে? কারণ হিসাবে দোকানিরা বলছে খরার কথা। বৃষ্টির জল নেই। মাটির নিচে পানির স্তর নেমে গেছে। রয়েছে ডিজেলের সংকট, সারের সংকট। জামালপুর এর সাক্ষ্য।

সারের ডিলার বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় সার কম। কৃষকের সংখ্যা বেশি। তাই সে দোকান খুলছে না। ঝামেলা হতে পরে এ আশঙ্কায়। এদিকে কৃষকরা রাস্তা অবরোধ করছে সারের জন্য। খরায় মাটি চৌচির। সেচের অভাব, বৃষ্টিপাত নেই পর্যাপ্ত। সারের অভাব দৃশ্যত। এসব খোলা চোখের ঘটনা। ব্যবসায়ীরা ভালো করেই জানে। মিলার, চাতালের মালিকরা তা জানে। জানে বলেই সুযোগ আর ছাড়া যায় না! আমন ধানের ফলন কম হবে ধরে বাজারে আগুন ধরায়। দিনে দিনে চালের দাম ২-৪-৬-৮-১০ টাকা কেজিতে বাড়ায়। মানুষের চোখে মুখে অন্ধকার।

চাল-এটা সবজি নয়, মাছ-মাংস-দুধ নয় যে এসব খাবারের পরিমাণ কমাবে। চাল লাগবেই। এমনিতেই সব জিনিসের দাম আকাশচুম্বী। আটা-ময়দা, ডিম, শাক-সবজি, দুধ, মাছ-মাংস কোনটার কথা বলব। প্রথমে করোনা অতিমারির আক্রমণে বাজারে আগুন। এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।

এ যুদ্ধে বিশ্বে তেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে। সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার গম রপ্তানিতে ধস। অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব বিস্তর। বিশ্ববাজারের স্বাভাবিক মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যোগ হয় আমাদের ‘দেশপ্রেমিক’ ব্যবসায়ী-দোকানিদের মুনাফাখোরিতা। সরকার তেল-ডিজেল-অকটেনের দাম বাড়ায়। আর যায় কোথায়, রাতারাতি সব জিনিসের দাম ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ বেড়ে গেল। এর সঙ্গে যোগ হলো চালের দাম।

চালে আমাদের সেভাবে ঘাটতি নেই। গমে আছে। কিন্তু বাস্তবে চালে ঘাটতি আছে কী নেই এর হিসাবে সমস্যা আছে। প্রায়ই এর ওপর বিতর্ক হয়। ফলে বাজারে ধোঁয়াশা। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা ঘাটতির অভিযোগ তোলে। যেমন এখন তোলা হয়েছে। অবশ্য গমের দামের সঙ্গে চালের দাম সম্পর্কিত।

গম/আটার দাম বেশি হলে মানুষ চালের দিকে ঝুঁকে। এর ফলে চালের বাজার প্রভাবিত হয়। এসব কারণে চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়। আরও কারণ আছে। এত মূল্যবৃদ্ধি ঘটত না, যদি সরকার তার দায়িত্বটি সঠিক সময়ে পালন করত। চালের যে অভাব/ঘাটতি রয়েছে, খাদ্যশস্যের যে ঘাটতি রয়েছে, তা সরকার জানে। এটা বোঝা গেল আমদানির খবর দেখে। সর্বশেষ খবরে প্রকাশ-সরকার ভিয়েতনাম, রাশিয়া, ভারত ইত্যাদি দেশ থেকে গম ও চাল আমদানি করবে ৭-৮ লাখ টন। আমদানি কেন?

যেহেতু ঘাটতি আছে তা-ই আমদানি, তাই নয় কি? যদি তাই হয়, তাহলে আমদানির খবরটা আগেভাগে দিলে কী দোষ হতো? আগেভাগে দিলে বাজার এত গরম হতো না। ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারত না। এটা বোঝা যায়-যখনই আমদানির খবর এলো, তখন চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি নেমে এলো। অবশ্য শুধু আমদানির খবরে নয়, সরকার খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু করেছে। প্রায় ৮০ লাখ দরিদ্র পরিবারের মধ্যে চাল বিক্রি শুরু করেছে কম দামে।

এটা চলবে দুই-তিন মাস। বছরের পাঁচ মাসের মতো সময়ে চাল কম দামে বিক্রি করে সরকার। এবংবিধ ‘বাজারি কার্যক্রমে’র ফলে চালের বাজার কিছুটা নিম্নগামী হয়েছে। এখানেই কথা। এই পদক্ষেপগুলো যদি আগেভাগেই নেওয়া হতো, তাহলে আড়তদার, চাতাল মালিক, মিল মালিক ও দোকানিরা ঘাটতির কথা বলে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটে নিতে পারত না।

আমরা ভালো করেই জানি, আমাদের ‘দেশপ্রেমিক’ ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ বোঝে না। তারা বোঝে লাভ-মুনাফা। তারা সরকারের কথা শোনে না। তারা সরকারের সঙ্গে বসে, চা-নাস্তা করে। পরক্ষণেই যা করার দরকার, তা-ই করে। সরকারের কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপই কাজে আসে না। হুমকি-ধমকিতেও কাজ হয় না। এটা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। অতএব, একমাত্র ভরসা ‘ওপেন মার্কেট অপারেশন’।

সরকারের হাতে ২০ লাখ টনের মতো চাল/খাদ্যশস্য রয়েছে। এত খাদ্যশস্য গুদামে থাকতে খোলাবাজারি নীতি চালু করতে দেরি কেন? এই দেরিতে তো সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। আর লাভ অসাধু ব্যবসায়ীদের, যারা কারণে-অকারণে সংকট তৈরি করে প্রতিবছর নানা পণ্যের বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটে নেয়। এর জন্য কে দায়ী? জনগণের এ ভোগান্তির জন্য কে দায়ী?

বাজার থেকে মুনাফার টাকা লুটের আরও ঘটনা আছে, শুধু চাল নয়। সাম্প্রতিক সময়েই আমরা দেখেছি পেঁয়াজের ঘটনা, দেখছি সয়াবিন তেলের ঘটনা। সর্বশেষ দেখলাম ডিমের বাজারের কাণ্ড। ডিজেলের দাম বাড়ার অজুহাতে হঠাৎ হালিপ্রতি ডিমের দাম ৬০ টাকায় ওঠে। কী ব্যাপার? ডিমের তো অভাব নেই আমাদের। সরকার প্রতিনিয়ত বলছে, ডিমে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশে প্রতিদিন চার কোটি ডিম উৎপাদিত হয়।

প্রয়োজনও তাই-বলা হচ্ছে। তাহলে ব্যবসায়ীরা, খামারিরা হঠাৎ এর দাম বাড়ালো কেন? ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহণ খরচ কিছুটা বেড়েছে। তাই বলে কি ডিমের দাম ৫০ শতাংশ বাড়বে? মজা হচ্ছে, যে গতিতে ডিমের দাম বেড়েছে, সে গতিতেই তা আবার কমেছে। এখন হালিপ্রতি ডিমের দাম ৪০-৪৫ টাকা। কী কারণে হঠাৎ তাহলে ডিমের দাম কমলো? আমদানি হবে, এই খবরে? যদি আমদানি হয়, তাহলে দেশে তৈরি ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হবে, কারণ ডিম পচনশীল দ্রব্য।

আমদানির খবরে দাম কমা শুরু করল, নাকি ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের নজরদারির ফলে, বোঝা গেল না। তবে এটা বোঝা গেল, ব্যবসায়ী ও খামারিরা এই ফাঁকে বাজার থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা তুলে নিল। এটা ডিমের ঘটনা। পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও দুদিন পরপর এমনটি ঘটে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসে। সেখানকার বাজারের সঙ্গে আমাদের বাজার সম্পর্কিত। এ কথা বলে দুদিন পরপর পেঁয়াজের বাজারে আগুন লাগানো হয়।

সয়াবিন তেলের ব্যবসার কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। এ তেল কিছু ব্যবসায়ীকে কোটি কোটি, হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বানিয়েছে। এর বাজার কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে। তারা বাজারে উত্থান-পতন ঘটায়। যা প্রয়োজন তা-ই তারা করে। এভাবে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নেয়।

এই যে একেকটি পণ্যের বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নিচ্ছে, তার কারণ কী? আগের দিনেও তা হতো। প্রতিটি পণ্যের ক্ষেত্রে দামের ওঠানামা হতো। কিন্তু তা ছিল সহনশীল পর্যায়ে। তখন বাজারের খবর ছিল সীমিত। চাহিদা ছিল সীমিত, সরবরাহও সীমিত। গ্রামের ব্যবসায়ীরা, মহাজনরা চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতে মুনাফা করে নিত। এ মুনাফার স্তর ছিল নিচুতে।

এখন ঘটনাটি ঠিক উলটো। এখন চাহিদা বেড়েছে, সরবরাহ বেড়েছে, আমদানি বেড়েছে। মানুষের হাতে টাকা আছে। আগে কিছু মানুষ মিলে ঋণপত্র খুলত। কারণ বড় পরিমাণের ‘এলসি’ খোলার সামর্থ্যই ছিল না। এখন তা নয়। এখন একাই বড় বড় ব্যবসায়ীরা জাহাজ ভর্তি করে পণ্য আনে। নিজস্ব অর্থায়ন তো আছেই, এর সঙ্গে যোগ হয় ব্যাংকের ঋণ। দুইয়ে মিলে আজকের দিনের ব্যবসায়ীদের আমদানি ক্ষমতা অনেক বেশি। এবং একেকটি পণ্যের জন্য একেকটি ‘গ্রুপের’ সৃষ্টি হয়েছে। পণ্যভিত্তিক ‘সিন্ডিকেট’ হয়েছে।

এরাই এসব পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তারা খুবই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। অনেক সময় দেখা যায় সরকার তাদের হাতে বন্দি। বন্দি বলি কেন, সরকার তো এখন তাদের হাতেই। বর্তমান সংসদের সিংহভাগ সদস্যই ব্যবসায়ী-শিল্পপতি। তারাই বাজার, সরবরাহ, উৎপাদন ও আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে। এসবের মাধ্যমে প্রতিবছর বাজার থেকে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। মাধ্যম অতি মুনাফা! এখন কথা হচ্ছে-অতি মুনাফা কী? এর কি কোনো সংজ্ঞা আছে? কত মুনাফা করলে তা অতি মুনাফা হবে?

এসব আমাদের কাছে অজানা। দৃশ্যত আমরা অতি মুনাফার শিকার। মুনাফা শিকারিরা সামাজিক-রাজনৈতিক জীবন ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। তারা কি সরকারকে নিয়মিত কর দেয়? দিলে কত দেয়? তারা কি কর দেয়, নাকি সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা-সুযোগ নেয়? দৃশ্যত তারা কর দিতে নিরুৎসাহী। সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা নিতেই ব্যস্ত। অথচ যদি তারা নিয়মিত কর দিত, তাহলে সরকারের রাজস্বের কোনো অভাব হতো না।

কিন্তু তা হয় না। ফলে ভুগে সাধারণ করদাতারা। তাদের ঘাড়েই চাপে করের বোঝা। আয়কর ও ভোগকর (ভ্যাট)-এ দুইয়ের যন্ত্রণায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। অথচ বড় বড় ব্যবসায়ী যদি রাজস্বের বোঝা কিছুটা বহন করত, তাহলে রাজস্ব পরিস্থিতি এত নাজুক হতো না। এ প্রসঙ্গে দুটি ঘটনার কথা স্মরণ করা যায়। একটি সদ্য শপথ নেওয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের ঘটনা। আরেকটি দুই-তিন বছর আগের। সেটি হচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ঘটনা।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি ইশতেহারে বলেছেন ‘উইন্ডফল গেইন্স ট্যাক্সে’র কথা। অর্থাৎ, যারা ‘ফুকুটে’ লাভ/মুনাফা করে ধনী হচ্ছেন, তাদের ওপর করারোপ করে তিনি রাজস্ব বাড়াবেন। এদিকে ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে’ বলা হয়েছে ধনীদের ওপর করারোপ করতে। দুটো পরামর্শই আমাদের বেলায় প্রযোজ্য হওয়া দরকার। অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, আমরা অতি মুনাফার প্রবণতা বন্ধ করতে পারছি না।

ব্যবসায়ীরা কথা শুনছে না। অনেকে আইন ভেঙে অনৈতিকভাবে ব্যবসা করে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। কোনো প্রশাসনিক/আর্থিক ব্যবস্থাই তাদের বিরুদ্ধে কাজে আসছে না। এ অবস্থায় একটা কাজ তো করা যায়। যারা এ ধরনের ‘ফুকুটে’ লাভ করছে, তাদের মুনাফার ওপর ‘ট্যাক্স’ আরোপ করা যায়। মেধা, শ্রম, প্রতিযোগিতা ও দক্ষতা দিয়ে যারা লাভ অর্জন করছেন, তাদের কথা আলাদা।

আমি বলছি ডিম বিক্রিলব্ধ সাম্প্রতিককালের মুনাফার কথা, সয়াবিন ব্যবসার লাভের কথা। এ ধরনের অনৈতিক ব্যবসালব্ধ মুনাফার ওপর রাজস্ব বিভাগ করারোপ করুক, কড়াকড়িভাবে করুক। অতিরিক্ত মুনাফা যখন বন্ধ করা যাবে না, তখন অন্তত ওই মুনাফার একটা অংশ কর হিসাবে আদায় করা যায় না কি?

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নীতি দুর্নীতি অর্থনীতি

অতি মুনাফাখোরদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করুন

 ড. আর এম দেবনাথ 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার অনেক সময় কাজ করে ঠিকই, কিন্তু বেশ দেরিতে করে। ফলে বাজারের অশান্তি যায় না, বাজার গরম হয়। ভোগে সাধারণ মানুষ। এর সর্বশেষ উদাহরণ চালের বাজার। হঠাৎ করে চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। কথা নেই বার্তা নেই, প্রতিদিন চালের দাম বাড়তে থাকে।

মিডিয়া এ সম্পর্কে প্রতিদিন খবর দিতে শুরু করে। কী কারণে বাজারে দাম বাড়ছে, কার কারণে বাড়ছে-বোধগম্য হচ্ছিল না। দোকানিদের বক্তব্য-চালের অভাব। ৮-১০ দিন আগে আমি চাল কিনতে যাই। অত্যধিক দাম দেখে দোকানিকে জিজ্ঞেস করি, হঠাৎ করে দাম বাড়ার কারণ কী? তার উত্তর আশঙ্কাজনক। বলল, স্যার, চাল বেশি নিয়ে যান। আমি সাধারণত কিনি ২৫ কেজির বস্তা, যা অনেকদিন চলে যায়। দোকানি বলল দুই বস্তা নিতে।

কারণ দাম আরও বাড়বে। ও নিশ্চিতভাবেই বলল। কারণ নাকি খরা। ‘দেখছেন না উত্তরবঙ্গে পানির অভাবে মাটি ফেটে চৌচির।’ সামনে আমন ফসল। অগ্রহায়ণ/পৌষ মাসে তা উঠে। আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। অবশ্য বোরোই এখন আমাদের এক নম্বর ধানি ফসল, বোরো ছাড়া রয়েছে আউশ ও আমন। এখন ভাদ্র মাস। আশ্বিন-কার্তিক-অগ্রহায়ণ এমনিতেই আগের দিনে ‘হা-ভাতের’ মাস ছিল। এখন তা আর নেই।

আগের দিনে এ দিনগুলো ছিল বেশ কষ্টের। যতক্ষণ না আমন উঠত, ততক্ষণ ভাতের অভাব ঘুচত না। এ সময়টা ছিল বাঙালির জন্য খুবই খারাপ সময়। অবশ্য তখন বোরোর এত প্রচলন ছিল না। এবার কী হলো যে সরকারের হাতে এত খাদ্য থাকতেও ভাদ্র মাসে চালের দাম বাড়ছে? কারণ হিসাবে দোকানিরা বলছে খরার কথা। বৃষ্টির জল নেই। মাটির নিচে পানির স্তর নেমে গেছে। রয়েছে ডিজেলের সংকট, সারের সংকট। জামালপুর এর সাক্ষ্য।

সারের ডিলার বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় সার কম। কৃষকের সংখ্যা বেশি। তাই সে দোকান খুলছে না। ঝামেলা হতে পরে এ আশঙ্কায়। এদিকে কৃষকরা রাস্তা অবরোধ করছে সারের জন্য। খরায় মাটি চৌচির। সেচের অভাব, বৃষ্টিপাত নেই পর্যাপ্ত। সারের অভাব দৃশ্যত। এসব খোলা চোখের ঘটনা। ব্যবসায়ীরা ভালো করেই জানে। মিলার, চাতালের মালিকরা তা জানে। জানে বলেই সুযোগ আর ছাড়া যায় না! আমন ধানের ফলন কম হবে ধরে বাজারে আগুন ধরায়। দিনে দিনে চালের দাম ২-৪-৬-৮-১০ টাকা কেজিতে বাড়ায়। মানুষের চোখে মুখে অন্ধকার।

চাল-এটা সবজি নয়, মাছ-মাংস-দুধ নয় যে এসব খাবারের পরিমাণ কমাবে। চাল লাগবেই। এমনিতেই সব জিনিসের দাম আকাশচুম্বী। আটা-ময়দা, ডিম, শাক-সবজি, দুধ, মাছ-মাংস কোনটার কথা বলব। প্রথমে করোনা অতিমারির আক্রমণে বাজারে আগুন। এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।

এ যুদ্ধে বিশ্বে তেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে। সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার গম রপ্তানিতে ধস। অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব বিস্তর। বিশ্ববাজারের স্বাভাবিক মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যোগ হয় আমাদের ‘দেশপ্রেমিক’ ব্যবসায়ী-দোকানিদের মুনাফাখোরিতা। সরকার তেল-ডিজেল-অকটেনের দাম বাড়ায়। আর যায় কোথায়, রাতারাতি সব জিনিসের দাম ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ বেড়ে গেল। এর সঙ্গে যোগ হলো চালের দাম।

চালে আমাদের সেভাবে ঘাটতি নেই। গমে আছে। কিন্তু বাস্তবে চালে ঘাটতি আছে কী নেই এর হিসাবে সমস্যা আছে। প্রায়ই এর ওপর বিতর্ক হয়। ফলে বাজারে ধোঁয়াশা। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা ঘাটতির অভিযোগ তোলে। যেমন এখন তোলা হয়েছে। অবশ্য গমের দামের সঙ্গে চালের দাম সম্পর্কিত।

গম/আটার দাম বেশি হলে মানুষ চালের দিকে ঝুঁকে। এর ফলে চালের বাজার প্রভাবিত হয়। এসব কারণে চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়। আরও কারণ আছে। এত মূল্যবৃদ্ধি ঘটত না, যদি সরকার তার দায়িত্বটি সঠিক সময়ে পালন করত। চালের যে অভাব/ঘাটতি রয়েছে, খাদ্যশস্যের যে ঘাটতি রয়েছে, তা সরকার জানে। এটা বোঝা গেল আমদানির খবর দেখে। সর্বশেষ খবরে প্রকাশ-সরকার ভিয়েতনাম, রাশিয়া, ভারত ইত্যাদি দেশ থেকে গম ও চাল আমদানি করবে ৭-৮ লাখ টন। আমদানি কেন?

যেহেতু ঘাটতি আছে তা-ই আমদানি, তাই নয় কি? যদি তাই হয়, তাহলে আমদানির খবরটা আগেভাগে দিলে কী দোষ হতো? আগেভাগে দিলে বাজার এত গরম হতো না। ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারত না। এটা বোঝা যায়-যখনই আমদানির খবর এলো, তখন চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি নেমে এলো। অবশ্য শুধু আমদানির খবরে নয়, সরকার খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু করেছে। প্রায় ৮০ লাখ দরিদ্র পরিবারের মধ্যে চাল বিক্রি শুরু করেছে কম দামে।

এটা চলবে দুই-তিন মাস। বছরের পাঁচ মাসের মতো সময়ে চাল কম দামে বিক্রি করে সরকার। এবংবিধ ‘বাজারি কার্যক্রমে’র ফলে চালের বাজার কিছুটা নিম্নগামী হয়েছে। এখানেই কথা। এই পদক্ষেপগুলো যদি আগেভাগেই নেওয়া হতো, তাহলে আড়তদার, চাতাল মালিক, মিল মালিক ও দোকানিরা ঘাটতির কথা বলে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটে নিতে পারত না।

আমরা ভালো করেই জানি, আমাদের ‘দেশপ্রেমিক’ ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ বোঝে না। তারা বোঝে লাভ-মুনাফা। তারা সরকারের কথা শোনে না। তারা সরকারের সঙ্গে বসে, চা-নাস্তা করে। পরক্ষণেই যা করার দরকার, তা-ই করে। সরকারের কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপই কাজে আসে না। হুমকি-ধমকিতেও কাজ হয় না। এটা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। অতএব, একমাত্র ভরসা ‘ওপেন মার্কেট অপারেশন’।

সরকারের হাতে ২০ লাখ টনের মতো চাল/খাদ্যশস্য রয়েছে। এত খাদ্যশস্য গুদামে থাকতে খোলাবাজারি নীতি চালু করতে দেরি কেন? এই দেরিতে তো সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। আর লাভ অসাধু ব্যবসায়ীদের, যারা কারণে-অকারণে সংকট তৈরি করে প্রতিবছর নানা পণ্যের বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটে নেয়। এর জন্য কে দায়ী? জনগণের এ ভোগান্তির জন্য কে দায়ী?

বাজার থেকে মুনাফার টাকা লুটের আরও ঘটনা আছে, শুধু চাল নয়। সাম্প্রতিক সময়েই আমরা দেখেছি পেঁয়াজের ঘটনা, দেখছি সয়াবিন তেলের ঘটনা। সর্বশেষ দেখলাম ডিমের বাজারের কাণ্ড। ডিজেলের দাম বাড়ার অজুহাতে হঠাৎ হালিপ্রতি ডিমের দাম ৬০ টাকায় ওঠে। কী ব্যাপার? ডিমের তো অভাব নেই আমাদের। সরকার প্রতিনিয়ত বলছে, ডিমে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশে প্রতিদিন চার কোটি ডিম উৎপাদিত হয়।

প্রয়োজনও তাই-বলা হচ্ছে। তাহলে ব্যবসায়ীরা, খামারিরা হঠাৎ এর দাম বাড়ালো কেন? ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহণ খরচ কিছুটা বেড়েছে। তাই বলে কি ডিমের দাম ৫০ শতাংশ বাড়বে? মজা হচ্ছে, যে গতিতে ডিমের দাম বেড়েছে, সে গতিতেই তা আবার কমেছে। এখন হালিপ্রতি ডিমের দাম ৪০-৪৫ টাকা। কী কারণে হঠাৎ তাহলে ডিমের দাম কমলো? আমদানি হবে, এই খবরে? যদি আমদানি হয়, তাহলে দেশে তৈরি ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হবে, কারণ ডিম পচনশীল দ্রব্য।

আমদানির খবরে দাম কমা শুরু করল, নাকি ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের নজরদারির ফলে, বোঝা গেল না। তবে এটা বোঝা গেল, ব্যবসায়ী ও খামারিরা এই ফাঁকে বাজার থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা তুলে নিল। এটা ডিমের ঘটনা। পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও দুদিন পরপর এমনটি ঘটে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসে। সেখানকার বাজারের সঙ্গে আমাদের বাজার সম্পর্কিত। এ কথা বলে দুদিন পরপর পেঁয়াজের বাজারে আগুন লাগানো হয়।

সয়াবিন তেলের ব্যবসার কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। এ তেল কিছু ব্যবসায়ীকে কোটি কোটি, হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বানিয়েছে। এর বাজার কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে। তারা বাজারে উত্থান-পতন ঘটায়। যা প্রয়োজন তা-ই তারা করে। এভাবে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নেয়।

এই যে একেকটি পণ্যের বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নিচ্ছে, তার কারণ কী? আগের দিনেও তা হতো। প্রতিটি পণ্যের ক্ষেত্রে দামের ওঠানামা হতো। কিন্তু তা ছিল সহনশীল পর্যায়ে। তখন বাজারের খবর ছিল সীমিত। চাহিদা ছিল সীমিত, সরবরাহও সীমিত। গ্রামের ব্যবসায়ীরা, মহাজনরা চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতে মুনাফা করে নিত। এ মুনাফার স্তর ছিল নিচুতে।

এখন ঘটনাটি ঠিক উলটো। এখন চাহিদা বেড়েছে, সরবরাহ বেড়েছে, আমদানি বেড়েছে। মানুষের হাতে টাকা আছে। আগে কিছু মানুষ মিলে ঋণপত্র খুলত। কারণ বড় পরিমাণের ‘এলসি’ খোলার সামর্থ্যই ছিল না। এখন তা নয়। এখন একাই বড় বড় ব্যবসায়ীরা জাহাজ ভর্তি করে পণ্য আনে। নিজস্ব অর্থায়ন তো আছেই, এর সঙ্গে যোগ হয় ব্যাংকের ঋণ। দুইয়ে মিলে আজকের দিনের ব্যবসায়ীদের আমদানি ক্ষমতা অনেক বেশি। এবং একেকটি পণ্যের জন্য একেকটি ‘গ্রুপের’ সৃষ্টি হয়েছে। পণ্যভিত্তিক ‘সিন্ডিকেট’ হয়েছে।

এরাই এসব পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তারা খুবই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। অনেক সময় দেখা যায় সরকার তাদের হাতে বন্দি। বন্দি বলি কেন, সরকার তো এখন তাদের হাতেই। বর্তমান সংসদের সিংহভাগ সদস্যই ব্যবসায়ী-শিল্পপতি। তারাই বাজার, সরবরাহ, উৎপাদন ও আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে। এসবের মাধ্যমে প্রতিবছর বাজার থেকে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। মাধ্যম অতি মুনাফা! এখন কথা হচ্ছে-অতি মুনাফা কী? এর কি কোনো সংজ্ঞা আছে? কত মুনাফা করলে তা অতি মুনাফা হবে?

এসব আমাদের কাছে অজানা। দৃশ্যত আমরা অতি মুনাফার শিকার। মুনাফা শিকারিরা সামাজিক-রাজনৈতিক জীবন ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। তারা কি সরকারকে নিয়মিত কর দেয়? দিলে কত দেয়? তারা কি কর দেয়, নাকি সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা-সুযোগ নেয়? দৃশ্যত তারা কর দিতে নিরুৎসাহী। সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা নিতেই ব্যস্ত। অথচ যদি তারা নিয়মিত কর দিত, তাহলে সরকারের রাজস্বের কোনো অভাব হতো না।

কিন্তু তা হয় না। ফলে ভুগে সাধারণ করদাতারা। তাদের ঘাড়েই চাপে করের বোঝা। আয়কর ও ভোগকর (ভ্যাট)-এ দুইয়ের যন্ত্রণায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। অথচ বড় বড় ব্যবসায়ী যদি রাজস্বের বোঝা কিছুটা বহন করত, তাহলে রাজস্ব পরিস্থিতি এত নাজুক হতো না। এ প্রসঙ্গে দুটি ঘটনার কথা স্মরণ করা যায়। একটি সদ্য শপথ নেওয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের ঘটনা। আরেকটি দুই-তিন বছর আগের। সেটি হচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ঘটনা।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি ইশতেহারে বলেছেন ‘উইন্ডফল গেইন্স ট্যাক্সে’র কথা। অর্থাৎ, যারা ‘ফুকুটে’ লাভ/মুনাফা করে ধনী হচ্ছেন, তাদের ওপর করারোপ করে তিনি রাজস্ব বাড়াবেন। এদিকে ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে’ বলা হয়েছে ধনীদের ওপর করারোপ করতে। দুটো পরামর্শই আমাদের বেলায় প্রযোজ্য হওয়া দরকার। অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, আমরা অতি মুনাফার প্রবণতা বন্ধ করতে পারছি না।

ব্যবসায়ীরা কথা শুনছে না। অনেকে আইন ভেঙে অনৈতিকভাবে ব্যবসা করে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। কোনো প্রশাসনিক/আর্থিক ব্যবস্থাই তাদের বিরুদ্ধে কাজে আসছে না। এ অবস্থায় একটা কাজ তো করা যায়। যারা এ ধরনের ‘ফুকুটে’ লাভ করছে, তাদের মুনাফার ওপর ‘ট্যাক্স’ আরোপ করা যায়। মেধা, শ্রম, প্রতিযোগিতা ও দক্ষতা দিয়ে যারা লাভ অর্জন করছেন, তাদের কথা আলাদা।

আমি বলছি ডিম বিক্রিলব্ধ সাম্প্রতিককালের মুনাফার কথা, সয়াবিন ব্যবসার লাভের কথা। এ ধরনের অনৈতিক ব্যবসালব্ধ মুনাফার ওপর রাজস্ব বিভাগ করারোপ করুক, কড়াকড়িভাবে করুক। অতিরিক্ত মুনাফা যখন বন্ধ করা যাবে না, তখন অন্তত ওই মুনাফার একটা অংশ কর হিসাবে আদায় করা যায় না কি?

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন