দেশ কি রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে?
jugantor
দেশপ্রেমের চশমা
দেশ কি রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে?

  মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার  

০২ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের রাজনীতিতে ক্রমান্বয়ে উত্তাপ বাড়ছে। এ বর্ধিত উত্তাপের সৃষ্টি আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে। আগামী বছর ডিসেম্বর বা পরের বছর জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাজনৈতিক দল, নাগরিক ও সুশীল সমাজ এবং বন্ধুপ্রতিম বড় পরাশক্তিধর অনেক দেশসহ বিশ্বের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ দেশ এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। এ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করছে আগামী বাংলাদেশের সামাজিক শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কয়েকটি সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় দেশ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। বহির্বিশ্বে নিষ্প্রভ হয়েছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি। অথচ এ গণতন্ত্রের জন্যই আমরা লাখো প্রাণের বিনিময়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানি ভোটারদের ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রদত্ত রায়কে অমর্যাদা করায় তার বিরুদ্ধে আমরা সশস্ত্র প্রতিবাদ করেছিলাম।

গত ৫০ বছর আমরা স্বাধীন দেশে বসবাস করছি। পৃথক ভূখণ্ড ও পতাকা পেয়েছি। কিন্তু যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা প্রাণ দিয়েছিলাম, সে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারিনি। স্বাধীন দেশের রাজনীতি সুস্থ ধারায় গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেশপ্রেমের চেয়ে দলপ্রেম বেড়েছে। দলগুলো রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ক্ষমতা ছাড়তে চায়নি। এজন্য দেশে ক্ষমতা রদবদলের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব রাজনৈতিক দলসহ গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে পারে-এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার সংকীর্ণ স্বার্থে সরকার নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়নি। পরিবর্তে, অঘোষিত নির্দেশনা দিয়ে ইসিকে নিজেদের অনুকূলে কাজ করিয়েছে। এতে নির্বাচনিব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনি পরাজয় মানার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিপক্বতার ঘাটতি থাকায় রাজনীতিতে একাধিকবার সেনাবাহিনীর আগমন ঘটেছে। সামরিক শাসকরা দেশ ও গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে ক্ষমতায় এসে পরে নিজেরা দল গড়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। সামরিক শাসনের অবসানের পর সামরিক নেতাদের গঠন করা দলগুলো এ দেশে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তবে অপার সম্ভাবনাময় হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বেড়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়ন করা যায়নি। দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির প্রভাবে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। আর্থিক ও প্রশাসনিক খাতসহ এমন কোনো খাত নেই, যেখানে সুশাসন দৃশ্যমান। এ কারণে সাধারণ মানুষ কাক্সিক্ষত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তির ঘাটতি রয়েছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অবিতর্কিতভাবে নির্বাচিত সরকার পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করতে। বিষয়টি খুবই জরুরি। তা না হলে ছলচাতুরীর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের পক্ষে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। বিষয়টি সম্প্রতি একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে। এমনভাবে নির্বাচিত সরকার গণবান্ধব নীতিনির্ধারণের পরিবর্তে নিজের গদি রক্ষায় ব্যস্ত থাকে। এর ফলে দেশ পরিচালনায় গণস্বার্থ উপেক্ষিত হয়। এ কারণে প্রায় একযুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে জনগণ প্রত্যাশিত মাত্রায় গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করতে পারছে না। বিশেষ করে নবম সংসদ নির্বাচনের পর থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত একযুগেরও বেশি সময় নাগরিক সমাজের গণতন্ত্র চর্চার পরিসর সংকুচিত হয়ে গেছে। যুগপৎ সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিরোধী দলগুলো স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চর্চা করতে পারছে না। নানা রকম নিয়ন্ত্রণ, নিপীড়ন ও হামলা-মামলায় তাদের নাস্তানাবুদ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো হচ্ছে একতরফা, যা যুগপৎ দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। বিরোধী দলগুলোও সম্মিলিত ঐক্য গড়ে সরকারি দলকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে সফল হতে পারেনি। প্রশ্নবিদ্ধ ও একতরফা সংসদ নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে বিরোধী দলগুলোর বোধোদয় হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, সরকারের মিষ্টি কথায় দলীয় সরকারাধীনে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অর্থহীন। এর মধ্যেও বিরোধী দলগুলো তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক ভুল করেছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। বিএনপিসহ অধিকাংশ বিরোধী দল ইভিএমবিরোধী। তারা সংসদ নির্বাচন ইভিএমে হোক, তা চায় না। বিএনপি ইভিএমের শক্ত সমালোচনাকরী। বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ভুল করেছে। তারপর আবার কেএম নূরুল হুদা কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ উপেক্ষ করে ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টি নির্বাচনি এলাকায় ইভিএমে নির্বাচন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিএনপির উচিত ছিল ওই ছয়টি আসনে নির্বাচন বর্জন করা। কিন্তু তারা ওই ছয়টি নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করে ভুল করেছে।

এখন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিকটবর্তী হওয়ায় সরকারি দল আবারও নতুন ফন্দিফিকির করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চাইছে। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশ একাধিকবার ধাক্কা খেয়ে এবার সরকারি ফাঁদে পা দিতে চাইছে না। বিএনপিসহ কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ দল সুস্পষ্টভাবে বলছে, তারা আর এ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না। সরকারের পদত্যাগ চেয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে দলটি সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে। সরকারি দল এ দাবি মানতে চাইছে না। সরকারদলীয় সাধারণ সম্পাদক বলছেন, ‘সরকার কেন পদত্যাগ করবে? কার কাছে পদত্যাগ করবে? সরকার একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। যথাসময়ে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকার পরিবর্তনের দুঃস্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই।’ আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ বলছেন, এরশাদ ১৯৯০ সালে এবং বেগম জিয়া ১৯৯৬ সালে যেভাবে পদত্যাগ করেছিলেন, এ ‘রাতের ভোটের সরকার’কে গণতন্ত্র ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে সেভাবে পদত্যাগ করতে হবে। তারা আরও বলছেন, একনায়কতান্ত্রিক সরকারের কাছে বিরোধীদলীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নৈরাজ্য মনে হয়। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান, রাজনীতিতে ১৯৯৬ সালের পুরোনো রেকর্ড আবারও বেজে উঠেছে। ওই সময় বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের বিরোধীদলীয় দাবি মানতে রাজি ছিলেন না। পরে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাপাকে সঙ্গে নিয়ে ১৭৩ দিন হরতালসহ কঠোর আন্দোলন করে সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করে।

বর্তমান সরকার জানে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাদের পুনরায় ক্ষমতায় আসা কঠিন হতে পারে। সে কারণে তারা অনেক আগেই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করার মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে। এরই জের ধরে সরকারের মাননীয় মন্ত্রীরা এখন সবাই কোরাসে গলা মিলিয়েছেন। তারা বলছেন, আমরা সংবিধান থেকে নড়ব না। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই হবে নির্বাচনকালীন সরকার। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে। সরকার কমিশনকে সহায়তা করবে। কোনো দল নির্বাচনে আসবে কিনা, তা দেখা সরকারের কাজ নয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করা দলগুলোর নিজস্ব এখতিয়ার। সম্প্রতি এ লক্ষ্যে সরকার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করেই ছলচাতুরী ও লুকোচুরি প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান কমিটির ২০ ও ১০ জনের তালিকা জনগণকে না জানিয়ে সরকারের সুবিধাভোগী একটি আমলানির্ভর নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। এ কমিশন যে অঘোষিত সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে, তা এর কার্যকলাপে স্পষ্ট হয়েছে। কমিশন প্রধান স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে লোকদেখানো সংলাপ করেছেন। তবে সংলাপে প্রদত্ত পরামর্শ আমলে না নিয়ে অনেকটা গোঁয়ার্তুমি ও একগুঁয়েমি করে কমিশন অনধিক ১৫০ আসনে ইভিএমে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে ইভিএম ক্রয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ইভিএমে অনধিক ১৫০ আসনে নির্বাচন হলে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অসাম্য সৃষ্টি হবে। কারণ, ১৫০ আসনে ভোটাররা যেভাবে ভোট দেবেন, বাকি আসনগুলোতে ভোটাররা একই প্রক্রিয়ায় ভোট দেবেন না। তাছাড়া যে ইভিএমের প্রতি সরকারিসহ কতিপয় দল ছাড়া অধিকাংশ দলের আস্থা নেই, আস্থা নেই সুশীল সমাজ ও ভোটারদের, সেই ইভিএমে কমিশন কী জাদু এবং মধু খুঁজে পেয়েছে যে, তারা ইভিএমে নির্বাচন করতে এতটা আগ্রহী? এতে অনুধাবন করা যায়, ‘ডালমে কুছ কালা হ্যায়।’ ইভিএমে কাগজের ব্যবহার নেই, নেই ভোট পুনঃগণনার ব্যবস্থা। এ মেশিন যে হ্যাকডপ্রুফ, তা-ও সুনিশ্চিত নয়। অনেক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশ যেখানে নির্বাচনে ইভিএম থেকে সরে এসেছে, সেখানে বাংলাদেশের স্বল্পশিক্ষিত ও প্রযুক্তি-অসচেতন ভোটারদের ওপর প্রায় সবার পরামর্শ উপেক্ষা করে ইভিএমে সংসদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত রহস্যঘেরা ও দুরভিসন্ধিমূলক। বিরোধী দলগুলো এসব বুঝতে পারছে। এ কারণে বিএনপি এ ইসি আহূত কোনো সংলাপে যোগদান না করে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, দলটি বুঝতে পেরেছে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা ব্যালটেই হোক বা ইভিএমেই হোক, ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে লাভ হবে না। সেজন্য প্রধান বিরোধী দলগুলো সরকারের পদত্যাগ চাইছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কমিশন গঠন করে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে অটল হয়ে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে সরকারও রাজপথ দখলের ঘোষণা দিয়ে পুরোনো ভঙ্গিমায় দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধীদলীয় সমাবেশে হামলা হয়েছে। কয়েক জায়গায় গুলি চলেছে। আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। তবে জনগণ চাইলে শক্তি প্রয়োগ করে গণদাবি উপেক্ষা করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে কিনা, তা দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। লক্ষণ দেখে মনে হয়, সরকার এখন ব্যাকফুটে আছে। আমেরিকান স্যাংশনের পর পোশাকধারী বাহিনীর ভূমিকায় নমনীয়তা এসেছে। গুম ও ক্রসফায়ার কমেছে। কাজেই প্রশাসন ও পোশাকধারী বাহিনী আগামীতে বিরোধী আন্দোলন দমাতে আগের মতো কঠোর ভূমিকা পালন করবে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। লেবু বেশি চটকে তিক্ত করার আগেই সরকার যদি বিরোধীদলীয় দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়, তাহলে সব রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান হবে। আর যদি সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়, তাহলে রাজপথে রক্তাক্ত সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠবে। নাগরিক সমাজ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ চান না। তারা চান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দলগুলো উৎসবমুখর পরিবেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করুক। ভোটারদের রায়ে নির্বাচিত সরকার সামাজিক শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করুক। রাজপথে রক্তপাত কারও জন্যই কল্যাণকর হবে না।

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

akhtermy@gmail.com

দেশপ্রেমের চশমা

দেশ কি রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে?

 মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার 
০২ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের রাজনীতিতে ক্রমান্বয়ে উত্তাপ বাড়ছে। এ বর্ধিত উত্তাপের সৃষ্টি আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে। আগামী বছর ডিসেম্বর বা পরের বছর জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাজনৈতিক দল, নাগরিক ও সুশীল সমাজ এবং বন্ধুপ্রতিম বড় পরাশক্তিধর অনেক দেশসহ বিশ্বের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ দেশ এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। এ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করছে আগামী বাংলাদেশের সামাজিক শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কয়েকটি সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় দেশ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। বহির্বিশ্বে নিষ্প্রভ হয়েছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি। অথচ এ গণতন্ত্রের জন্যই আমরা লাখো প্রাণের বিনিময়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানি ভোটারদের ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রদত্ত রায়কে অমর্যাদা করায় তার বিরুদ্ধে আমরা সশস্ত্র প্রতিবাদ করেছিলাম।

গত ৫০ বছর আমরা স্বাধীন দেশে বসবাস করছি। পৃথক ভূখণ্ড ও পতাকা পেয়েছি। কিন্তু যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা প্রাণ দিয়েছিলাম, সে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারিনি। স্বাধীন দেশের রাজনীতি সুস্থ ধারায় গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেশপ্রেমের চেয়ে দলপ্রেম বেড়েছে। দলগুলো রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ক্ষমতা ছাড়তে চায়নি। এজন্য দেশে ক্ষমতা রদবদলের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব রাজনৈতিক দলসহ গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে পারে-এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার সংকীর্ণ স্বার্থে সরকার নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়নি। পরিবর্তে, অঘোষিত নির্দেশনা দিয়ে ইসিকে নিজেদের অনুকূলে কাজ করিয়েছে। এতে নির্বাচনিব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনি পরাজয় মানার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিপক্বতার ঘাটতি থাকায় রাজনীতিতে একাধিকবার সেনাবাহিনীর আগমন ঘটেছে। সামরিক শাসকরা দেশ ও গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে ক্ষমতায় এসে পরে নিজেরা দল গড়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। সামরিক শাসনের অবসানের পর সামরিক নেতাদের গঠন করা দলগুলো এ দেশে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তবে অপার সম্ভাবনাময় হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বেড়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়ন করা যায়নি। দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির প্রভাবে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। আর্থিক ও প্রশাসনিক খাতসহ এমন কোনো খাত নেই, যেখানে সুশাসন দৃশ্যমান। এ কারণে সাধারণ মানুষ কাক্সিক্ষত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তির ঘাটতি রয়েছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অবিতর্কিতভাবে নির্বাচিত সরকার পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করতে। বিষয়টি খুবই জরুরি। তা না হলে ছলচাতুরীর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের পক্ষে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। বিষয়টি সম্প্রতি একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে। এমনভাবে নির্বাচিত সরকার গণবান্ধব নীতিনির্ধারণের পরিবর্তে নিজের গদি রক্ষায় ব্যস্ত থাকে। এর ফলে দেশ পরিচালনায় গণস্বার্থ উপেক্ষিত হয়। এ কারণে প্রায় একযুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে জনগণ প্রত্যাশিত মাত্রায় গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করতে পারছে না। বিশেষ করে নবম সংসদ নির্বাচনের পর থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত একযুগেরও বেশি সময় নাগরিক সমাজের গণতন্ত্র চর্চার পরিসর সংকুচিত হয়ে গেছে। যুগপৎ সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিরোধী দলগুলো স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চর্চা করতে পারছে না। নানা রকম নিয়ন্ত্রণ, নিপীড়ন ও হামলা-মামলায় তাদের নাস্তানাবুদ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো হচ্ছে একতরফা, যা যুগপৎ দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। বিরোধী দলগুলোও সম্মিলিত ঐক্য গড়ে সরকারি দলকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে সফল হতে পারেনি। প্রশ্নবিদ্ধ ও একতরফা সংসদ নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে বিরোধী দলগুলোর বোধোদয় হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, সরকারের মিষ্টি কথায় দলীয় সরকারাধীনে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অর্থহীন। এর মধ্যেও বিরোধী দলগুলো তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক ভুল করেছে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। বিএনপিসহ অধিকাংশ বিরোধী দল ইভিএমবিরোধী। তারা সংসদ নির্বাচন ইভিএমে হোক, তা চায় না। বিএনপি ইভিএমের শক্ত সমালোচনাকরী। বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ভুল করেছে। তারপর আবার কেএম নূরুল হুদা কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ উপেক্ষ করে ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টি নির্বাচনি এলাকায় ইভিএমে নির্বাচন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিএনপির উচিত ছিল ওই ছয়টি আসনে নির্বাচন বর্জন করা। কিন্তু তারা ওই ছয়টি নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করে ভুল করেছে।

এখন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিকটবর্তী হওয়ায় সরকারি দল আবারও নতুন ফন্দিফিকির করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চাইছে। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশ একাধিকবার ধাক্কা খেয়ে এবার সরকারি ফাঁদে পা দিতে চাইছে না। বিএনপিসহ কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ দল সুস্পষ্টভাবে বলছে, তারা আর এ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না। সরকারের পদত্যাগ চেয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে দলটি সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে। সরকারি দল এ দাবি মানতে চাইছে না। সরকারদলীয় সাধারণ সম্পাদক বলছেন, ‘সরকার কেন পদত্যাগ করবে? কার কাছে পদত্যাগ করবে? সরকার একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। যথাসময়ে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকার পরিবর্তনের দুঃস্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই।’ আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ বলছেন, এরশাদ ১৯৯০ সালে এবং বেগম জিয়া ১৯৯৬ সালে যেভাবে পদত্যাগ করেছিলেন, এ ‘রাতের ভোটের সরকার’কে গণতন্ত্র ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে সেভাবে পদত্যাগ করতে হবে। তারা আরও বলছেন, একনায়কতান্ত্রিক সরকারের কাছে বিরোধীদলীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নৈরাজ্য মনে হয়। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান, রাজনীতিতে ১৯৯৬ সালের পুরোনো রেকর্ড আবারও বেজে উঠেছে। ওই সময় বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের বিরোধীদলীয় দাবি মানতে রাজি ছিলেন না। পরে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাপাকে সঙ্গে নিয়ে ১৭৩ দিন হরতালসহ কঠোর আন্দোলন করে সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করে।

বর্তমান সরকার জানে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাদের পুনরায় ক্ষমতায় আসা কঠিন হতে পারে। সে কারণে তারা অনেক আগেই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করার মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে। এরই জের ধরে সরকারের মাননীয় মন্ত্রীরা এখন সবাই কোরাসে গলা মিলিয়েছেন। তারা বলছেন, আমরা সংবিধান থেকে নড়ব না। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই হবে নির্বাচনকালীন সরকার। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে। সরকার কমিশনকে সহায়তা করবে। কোনো দল নির্বাচনে আসবে কিনা, তা দেখা সরকারের কাজ নয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করা দলগুলোর নিজস্ব এখতিয়ার। সম্প্রতি এ লক্ষ্যে সরকার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করেই ছলচাতুরী ও লুকোচুরি প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান কমিটির ২০ ও ১০ জনের তালিকা জনগণকে না জানিয়ে সরকারের সুবিধাভোগী একটি আমলানির্ভর নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। এ কমিশন যে অঘোষিত সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে, তা এর কার্যকলাপে স্পষ্ট হয়েছে। কমিশন প্রধান স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে লোকদেখানো সংলাপ করেছেন। তবে সংলাপে প্রদত্ত পরামর্শ আমলে না নিয়ে অনেকটা গোঁয়ার্তুমি ও একগুঁয়েমি করে কমিশন অনধিক ১৫০ আসনে ইভিএমে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে ইভিএম ক্রয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ইভিএমে অনধিক ১৫০ আসনে নির্বাচন হলে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অসাম্য সৃষ্টি হবে। কারণ, ১৫০ আসনে ভোটাররা যেভাবে ভোট দেবেন, বাকি আসনগুলোতে ভোটাররা একই প্রক্রিয়ায় ভোট দেবেন না। তাছাড়া যে ইভিএমের প্রতি সরকারিসহ কতিপয় দল ছাড়া অধিকাংশ দলের আস্থা নেই, আস্থা নেই সুশীল সমাজ ও ভোটারদের, সেই ইভিএমে কমিশন কী জাদু এবং মধু খুঁজে পেয়েছে যে, তারা ইভিএমে নির্বাচন করতে এতটা আগ্রহী? এতে অনুধাবন করা যায়, ‘ডালমে কুছ কালা হ্যায়।’ ইভিএমে কাগজের ব্যবহার নেই, নেই ভোট পুনঃগণনার ব্যবস্থা। এ মেশিন যে হ্যাকডপ্রুফ, তা-ও সুনিশ্চিত নয়। অনেক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশ যেখানে নির্বাচনে ইভিএম থেকে সরে এসেছে, সেখানে বাংলাদেশের স্বল্পশিক্ষিত ও প্রযুক্তি-অসচেতন ভোটারদের ওপর প্রায় সবার পরামর্শ উপেক্ষা করে ইভিএমে সংসদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত রহস্যঘেরা ও দুরভিসন্ধিমূলক। বিরোধী দলগুলো এসব বুঝতে পারছে। এ কারণে বিএনপি এ ইসি আহূত কোনো সংলাপে যোগদান না করে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, দলটি বুঝতে পেরেছে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা ব্যালটেই হোক বা ইভিএমেই হোক, ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে লাভ হবে না। সেজন্য প্রধান বিরোধী দলগুলো সরকারের পদত্যাগ চাইছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কমিশন গঠন করে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে অটল হয়ে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে সরকারও রাজপথ দখলের ঘোষণা দিয়ে পুরোনো ভঙ্গিমায় দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধীদলীয় সমাবেশে হামলা হয়েছে। কয়েক জায়গায় গুলি চলেছে। আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। তবে জনগণ চাইলে শক্তি প্রয়োগ করে গণদাবি উপেক্ষা করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে কিনা, তা দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। লক্ষণ দেখে মনে হয়, সরকার এখন ব্যাকফুটে আছে। আমেরিকান স্যাংশনের পর পোশাকধারী বাহিনীর ভূমিকায় নমনীয়তা এসেছে। গুম ও ক্রসফায়ার কমেছে। কাজেই প্রশাসন ও পোশাকধারী বাহিনী আগামীতে বিরোধী আন্দোলন দমাতে আগের মতো কঠোর ভূমিকা পালন করবে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। লেবু বেশি চটকে তিক্ত করার আগেই সরকার যদি বিরোধীদলীয় দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়, তাহলে সব রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান হবে। আর যদি সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়, তাহলে রাজপথে রক্তাক্ত সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠবে। নাগরিক সমাজ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ চান না। তারা চান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দলগুলো উৎসবমুখর পরিবেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করুক। ভোটারদের রায়ে নির্বাচিত সরকার সামাজিক শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করুক। রাজপথে রক্তপাত কারও জন্যই কল্যাণকর হবে না।

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

akhtermy@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন