গুজব ঠেকাতে চার ‘সি’
jugantor
গুজব ঠেকাতে চার ‘সি’

  পরীক্ষিৎ চৌধুরী  

০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গুজব ঠেকাতে চার ‘সি’

ফের চাঙা হয়ে উঠেছে গুজবের কারবারিরা। বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা তথ্যকে ‘সংবাদ’ আকারে পরিবেশন করে ষড়যন্ত্রের জাল ফেলা হচ্ছে। সেই জালে জড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। আতঙ্ক ছড়াতে তৈরি করা হচ্ছে গুজবের চোরাস্রোত। সেই চোরাস্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে নিরীহ মানুষ। সহজলভ্য ইন্টারনেটের আশ্রয় নিয়ে সূক্ষ্ম কৌশলে এসব বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব। দেশ-বিদেশ থেকে স্বনামে, বেনামে অহরহ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। পাঠকের নিশ্চয়ই মনে আছে-পদ্মা সেতুর জন্য শিশুর মাথা খোঁজা হচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে সেতু নির্মাণকে বাধাগ্রস্ত করার পাঁয়তারা করা হয়েছিল, যে গুজবের শিকার হন একজন মা। শিশু অপহরণকারী ভেবে গুজবের ফাঁদে পা দেওয়া উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে মেরে ফেলে।

এভাবে গুজব বা মিথ্যা তথ্যের প্রচার হলে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিরীহ মানুষই। এ ফাঁদে না পড়তে সচেতন হতে হবে। গুজব বা মিথ্যা তথ্য ও প্রকৃত সংবাদের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। হতে হবে প্রকৃত তথ্যসমৃদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে ‘মিডিয়া লিটারেসি’ বা ‘গণমাধ্যম সাক্ষরতা’ বলে একটি শব্দবন্ধ সারা বিশ্বে চালু হয়েছে। ‘মিডিয়া লিটারেসি’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, লেখালেখি হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় এ নিয়ে বিশেষ বিভাগ খোলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, প্রত্যেক মানুষকে গণমাধ্যম ব্যবহার করার সাক্ষরতা অর্জন করতে হবে। আরও একটি শব্দবন্ধ সারা বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। ফেইক নিউজ বা ভুয়া সংবাদ। যদিও ‘ফেইক নিউজ’ শব্দজোড়াকে অনেক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মেনে নেননি। তাদের মতে, মিথ্যা বা ভুয়া তথ্য কখনই সংবাদ উপাধি পেতে পারে না। ‘সংবাদ’ সব সময় বস্তুনিষ্ঠ। যে তথ্য মিথ্যা তাকে সংবাদ বলাই যাবে না। ‘ভুয়া সংবাদ’ প্রাচীনকাল থেকেই চলমান। তবে গত কয়েক বছরে ইন্টারনেট ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার ঘটায় এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন মানুষের হাতেই তথ্যভান্ডার। মোবাইল ফোনে প্রতিমুহূর্তে লাখ লাখ তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে দুনিয়াজুড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় গুজব ছড়ানোর হার বেড়ে গেছে। এ সংকট বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়।

মোকাবিলার চার ধাপ

সরকার ও সমাজ সমষ্টিগতভাবে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় যা-ই করুক না কেন, এ ফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে ব্যক্তি মানুষকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে। জানতে হবে ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে কোন তথ্য নিতে হবে, কোন তথ্যটিকে দেখামাত্র ডিলিট করে দিতে হবে।

ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় ইংরেজি অক্ষর ‘সি’ দিয়ে তৈরি চারটি শব্দ বিবেচনায় নিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা। এগুলোর প্রথমটি হলো ক্যারেক্টারাইজেশন। কোনো তথ্য যখন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্যাড বা মোবাইল ফোনের পর্দায় ভেসে উঠবে, কোন লক্ষ্য নিয়ে সে তথ্য প্রচার হচ্ছে, তার চরিত্র নির্ধারণ করাই হবে প্রথম কাজ। কিছু অনলাইন পোর্টাল বা সংবাদপত্র চটকদার শিরোনাম দিয়ে তার কাটতি বাড়াতে চায়। ইন্টারনেটের বিস্তারে ‘ভুয়া তথ্য’ কীভাবে ইলেকট্রনিক মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সুন্দর সাজসজ্জা নিয়ে ‘সংবাদ’ আকারে পরিবেশিত হতে পারে, তাও বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। গুজবের লক্ষ্য হতে পারে সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা লোটা। যেমন, দেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল সবশেষ ২০২১ সালে শারদীয় দুর্গাপূজার সময়। আর্থিক ফায়দা লোটার জন্য রটানো হয়েছিল লবণের সংকটের গুজব। আর সবচেয়ে বড় যে টার্গেট, রাজনৈতিক ফায়দা-তা তো সারা বছরই চলছে। সাম্প্রতিক একটি গুজব হলো দেশের আর্থিক খাত নিয়ে। ভুয়া তথ্য দিয়ে বলা হচ্ছে, দেশের ব্যাংকগুলোয় তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই এর মূল লক্ষ্য।

নানা ফরম্যাটে গুজব বানানো হয়ে থাকে। পাঠককে বিচার করতে হবে ভুয়া সংবাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃত প্রোপাগান্ডা বা ষড়যন্ত্রমূলক কিছু রয়েছে কি না। ফেসবুক, ইউটিউব, এমনকি মূল স্রোতোধারার গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের চরিত্র বুঝতে হবে সবার আগে। এমনকি সত্যিকারের ছবি বা কোনো ঘটনার সঙ্গে কিছুটা মিল রেখেও বিকৃতভাবে সংবাদ সাজানো হতে পারে। রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজম ভুয়া সংবাদকে ভুয়া তথ্য হিসাবে চিহ্নিত করেছে, যেগুলো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচার করা হয় সেটা রাজনৈতিক, নয়তো আর্থিক লক্ষ্য। ফ্রিডম অব দ্য নেট রিপোর্ট ২০১৭ সালে এক জরিপে দেখেছে তুরস্ক, ভেনিজুয়েলা ও ফিলিপাইনসহ ১৭টি দেশে তথ্যের বিকৃতি ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হয়েছিল।

ভুয়া তথ্য চেক করার জন্য সম্প্র্রতি তথ্য অধিদপ্তরে একটি ‘ফ্যাক্ট চেকিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটি গত পাঁচ মাসে ২২টি গুজব শনাক্ত করেছে। সেগুলো চিহ্নিত করে PID BD ফেসবুকে আপলোড করা হয়েছে। এগুলো বিবেচনায় নিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে উল্লিখিত প্রায় সবকটি ফরম্যাটেই গুজবগুলো ছড়ানো হয়েছে।

কিছু গুজবের নমুনা এখানে তুলে ধরছি-বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ দেখানোর নাম করে ২০১৩-১৪ সালের জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তরগুলো ও প্রকল্পে কেবল হিন্দু কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ফেসবুকসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করা হবে, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত নেই, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরে বাংলাদেশের কোনো অর্জন নেই, আবারও মন্দিরে কুরআন শরিফ রাখার সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্বর্তীকালীন ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী, এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ তলানিতে ঠেকেছে, যা ইতিহাসে সর্বনিম্ন, বাংলাদেশের পরিণাম শ্রীলংকার মতো হতে পারে ইত্যাদি।

ক্যারেক্টারাইজেশনের পরের ধাপটি হচ্ছে ক্রিয়েশন। কে এ তথ্যটি তৈরি করে প্রচার করছে, কার কাছ থেকে ফেসবুকে বা ইউটিউবে এলো তা যাচাই করে দেখতে হবে। তথ্যের অন্তর্গত চরিত্র যেমন বোঝা দুষ্কর, তেমনি প্রায় সময় তথ্য নির্মাতা বা প্রচারকারীর মূল চরিত্র চিহ্নিত করাও দুঃসাধ্য। ক্রিয়েটর কখনো কখনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান হতে পারে, আবার কখনো হতে পারে কোনো ব্যক্তিও। তাই তথ্যের চরিত্র বিচারের মধ্য দিয়ে তথ্য নির্মাতা বা উৎসের চরিত্র অনুমান করাই শ্রেয়। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রায় সময় ফেসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহার করা হয়। আধুনিককালে গুজব রটনাকারীরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রায় সময় বিদেশ থেকে গুজব ছাড়ানো হচ্ছে, ফলে তাদের চিহ্নিত করা গেলেও আইনের আওতায় আনা কঠিন হচ্ছে।

তৃতীয় ধাপটি হলো সার্কুলেশন। কীভাবে একটি তথ্য ছড়াতে পারে তাকে চিহ্নিত করা এ ধাপের লক্ষ্য। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্প্রসারণে একটি তথ্য মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে। দুটি প্রধান কারণে এমন হয়-প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং তথ্যের প্রতি মানুষের দুর্নিবার মোহ।

এক্ষেত্রে ফেসবুকের মতো প্লাটফরম শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ৫০টি দেশে ৫৪ শতাংশ মানুষ সংবাদের জন্য ফেসবুককে প্রাথমিক চ্যানেল হিসাবে বেছে নেয়। ফলে গুজব রটনাকারীও ফেসবুককে শক্তিশালী মাধ্যম হিসাবে বেছে নেয়। আরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো ইউটিউব, যেখানে যে কোনো পুরোনো বা অপ্রাসঙ্গিক ভিডিওজুড়ে দিয়ে গুজবের গভীরতা বাড়িয়ে দেওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করার জন্য কোনো গেটকিপার থাকে না, যেটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যমে এডিটররা করে থাকেন। ফলে ভুয়া তথ্য বিনা বাধায় পাঠকের কাছে চলে আসে। তাই মূলস্রোতের গণমাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমের ওপর আস্থা রাখা যাবে না। গুজবের ব্যাপকতার সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হচ্ছে, এটা ধীরে ধীরে সব ধরনের সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা নিশ্চিহ্ন করে দেয়। মানুষ কোনটি গুজব আর কোনটি সত্য এ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে কোনো ধরনের সংবাদকেই আর আস্থায় নিতে পারে না। এ পরিস্থিতি যে কোনো সমাজের জন্য ভয়াবহ। জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৮০ শতাংশ ও সুইডেনে ৭৬ শতাংশ মানুষ ভুয়া তথ্য দেখতে দেখতে মূল সত্য নিয়ে অত্যধিক সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়ে। প্রকৃত সংবাদের প্রতি একটা বড় আস্থার জায়গা তৈরি হলেই তো গুজব সৃষ্টিকারীদের সুবিধা।

ভুয়া তথ্য ঠেকানোর সর্বশেষ ধাপ কাউন্টারিং বা প্রতিকার। এটা তিনভাবে হতে পারে-আইনগত, মানুষকে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সাক্ষর করে তোলা এবং ফ্যাক্ট চেকিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। ইউরোপীয় কমিশন ২০১৮ সালে ডিজিটাল তথ্য ইকোসিস্টেমের স্বচ্ছতা বাড়াতে বলেছে। পাশাপাশি মিডিয়া সাক্ষরতা বাড়ানো, গণমাধ্যম ব্যবহারকারী ও সাংবাদিকদের জন্য তথ্য বিকৃতি প্রতিরোধে নতুন কৌশল বের করা, মিডিয়ার সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং তথ্য বিকৃতি বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা ও জরিপ চালানোর চারটি সুপারিশ করেছে তারা। হেট স্পিচ, ফেইক নিউজ ও বেআইনি তথ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে বাধ্য করতে বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে আইন প্রণীত হয়েছে। আমাদের দেশে গুজব প্রতিরোধে তথ্য মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরের মতোই তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে এবং নজরদারিতে রয়েছে আরও অনেকে। জনগণের কাছে যেন সঠিক তথ্য দ্রুত পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে সচেতনতামূলক তথ্যবিবরণী গণমাধ্যমে প্রেরণ করতে তথ্য অধিদপ্তরের সংবাদকক্ষ সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে। তথ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তর নিয়মিত গুজববিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে, সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

তথ্যবিবরণীগুলো পিআইডির ওয়েবসাইট www.pressinform.gov.bd এবং ফেসবুক PID BDতে আপলোড করা হয়েছে। এছাড়া ফিচার, ইলাস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন উপকরণও প্রিন্ট মিডিয়ায় নিয়মিত প্রেরণ করা হচ্ছে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ও প্রচারসামগ্রী নির্মাণ করে প্রচার করেছে। গণযোগাযোগ অধিদপ্তর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গুজব মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং তথ্য অধিদপ্তরের দুটি পৃথক বিশেষ সেল কাজ করছে। বৈশ্বিক মন্দার এ দুঃসময়ে কিছু কিছু ভুঁইফোঁড় অনলাইন পোর্টাল গুজবে হাওয়া দিতে কাজ করছে। তাই গুজব ঠেকাতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে আরও বলিষ্ঠ হতে হবে। নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টিতে ‘কাউন্সেলিং’ একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক পোস্ট দেওয়া আরেকটি কার্যকর উপায়। এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যেও গুজববিরোধী আলোচনা সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। চোখ, কান খোলা রেখে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে গুজব প্রতিরোধ করুন।

পরীক্ষিৎ চৌধুরী : তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র তথ্য অফিসার

গুজব ঠেকাতে চার ‘সি’

 পরীক্ষিৎ চৌধুরী 
০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
গুজব ঠেকাতে চার ‘সি’
প্রতীকী ছবি

ফের চাঙা হয়ে উঠেছে গুজবের কারবারিরা। বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা তথ্যকে ‘সংবাদ’ আকারে পরিবেশন করে ষড়যন্ত্রের জাল ফেলা হচ্ছে। সেই জালে জড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। আতঙ্ক ছড়াতে তৈরি করা হচ্ছে গুজবের চোরাস্রোত। সেই চোরাস্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে নিরীহ মানুষ। সহজলভ্য ইন্টারনেটের আশ্রয় নিয়ে সূক্ষ্ম কৌশলে এসব বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব। দেশ-বিদেশ থেকে স্বনামে, বেনামে অহরহ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। পাঠকের নিশ্চয়ই মনে আছে-পদ্মা সেতুর জন্য শিশুর মাথা খোঁজা হচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে সেতু নির্মাণকে বাধাগ্রস্ত করার পাঁয়তারা করা হয়েছিল, যে গুজবের শিকার হন একজন মা। শিশু অপহরণকারী ভেবে গুজবের ফাঁদে পা দেওয়া উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে মেরে ফেলে।

এভাবে গুজব বা মিথ্যা তথ্যের প্রচার হলে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিরীহ মানুষই। এ ফাঁদে না পড়তে সচেতন হতে হবে। গুজব বা মিথ্যা তথ্য ও প্রকৃত সংবাদের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। হতে হবে প্রকৃত তথ্যসমৃদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে ‘মিডিয়া লিটারেসি’ বা ‘গণমাধ্যম সাক্ষরতা’ বলে একটি শব্দবন্ধ সারা বিশ্বে চালু হয়েছে। ‘মিডিয়া লিটারেসি’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, লেখালেখি হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় এ নিয়ে বিশেষ বিভাগ খোলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, প্রত্যেক মানুষকে গণমাধ্যম ব্যবহার করার সাক্ষরতা অর্জন করতে হবে। আরও একটি শব্দবন্ধ সারা বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। ফেইক নিউজ বা ভুয়া সংবাদ। যদিও ‘ফেইক নিউজ’ শব্দজোড়াকে অনেক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মেনে নেননি। তাদের মতে, মিথ্যা বা ভুয়া তথ্য কখনই সংবাদ উপাধি পেতে পারে না। ‘সংবাদ’ সব সময় বস্তুনিষ্ঠ। যে তথ্য মিথ্যা তাকে সংবাদ বলাই যাবে না। ‘ভুয়া সংবাদ’ প্রাচীনকাল থেকেই চলমান। তবে গত কয়েক বছরে ইন্টারনেট ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার ঘটায় এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন মানুষের হাতেই তথ্যভান্ডার। মোবাইল ফোনে প্রতিমুহূর্তে লাখ লাখ তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে দুনিয়াজুড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় গুজব ছড়ানোর হার বেড়ে গেছে। এ সংকট বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়।

মোকাবিলার চার ধাপ

সরকার ও সমাজ সমষ্টিগতভাবে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় যা-ই করুক না কেন, এ ফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে ব্যক্তি মানুষকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে। জানতে হবে ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে কোন তথ্য নিতে হবে, কোন তথ্যটিকে দেখামাত্র ডিলিট করে দিতে হবে।

ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় ইংরেজি অক্ষর ‘সি’ দিয়ে তৈরি চারটি শব্দ বিবেচনায় নিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা। এগুলোর প্রথমটি হলো ক্যারেক্টারাইজেশন। কোনো তথ্য যখন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্যাড বা মোবাইল ফোনের পর্দায় ভেসে উঠবে, কোন লক্ষ্য নিয়ে সে তথ্য প্রচার হচ্ছে, তার চরিত্র নির্ধারণ করাই হবে প্রথম কাজ। কিছু অনলাইন পোর্টাল বা সংবাদপত্র চটকদার শিরোনাম দিয়ে তার কাটতি বাড়াতে চায়। ইন্টারনেটের বিস্তারে ‘ভুয়া তথ্য’ কীভাবে ইলেকট্রনিক মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সুন্দর সাজসজ্জা নিয়ে ‘সংবাদ’ আকারে পরিবেশিত হতে পারে, তাও বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। গুজবের লক্ষ্য হতে পারে সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা লোটা। যেমন, দেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল সবশেষ ২০২১ সালে শারদীয় দুর্গাপূজার সময়। আর্থিক ফায়দা লোটার জন্য রটানো হয়েছিল লবণের সংকটের গুজব। আর সবচেয়ে বড় যে টার্গেট, রাজনৈতিক ফায়দা-তা তো সারা বছরই চলছে। সাম্প্রতিক একটি গুজব হলো দেশের আর্থিক খাত নিয়ে। ভুয়া তথ্য দিয়ে বলা হচ্ছে, দেশের ব্যাংকগুলোয় তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই এর মূল লক্ষ্য।

নানা ফরম্যাটে গুজব বানানো হয়ে থাকে। পাঠককে বিচার করতে হবে ভুয়া সংবাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃত প্রোপাগান্ডা বা ষড়যন্ত্রমূলক কিছু রয়েছে কি না। ফেসবুক, ইউটিউব, এমনকি মূল স্রোতোধারার গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের চরিত্র বুঝতে হবে সবার আগে। এমনকি সত্যিকারের ছবি বা কোনো ঘটনার সঙ্গে কিছুটা মিল রেখেও বিকৃতভাবে সংবাদ সাজানো হতে পারে। রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজম ভুয়া সংবাদকে ভুয়া তথ্য হিসাবে চিহ্নিত করেছে, যেগুলো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচার করা হয় সেটা রাজনৈতিক, নয়তো আর্থিক লক্ষ্য। ফ্রিডম অব দ্য নেট রিপোর্ট ২০১৭ সালে এক জরিপে দেখেছে তুরস্ক, ভেনিজুয়েলা ও ফিলিপাইনসহ ১৭টি দেশে তথ্যের বিকৃতি ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হয়েছিল।

ভুয়া তথ্য চেক করার জন্য সম্প্র্রতি তথ্য অধিদপ্তরে একটি ‘ফ্যাক্ট চেকিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটি গত পাঁচ মাসে ২২টি গুজব শনাক্ত করেছে। সেগুলো চিহ্নিত করে PID BD ফেসবুকে আপলোড করা হয়েছে। এগুলো বিবেচনায় নিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে উল্লিখিত প্রায় সবকটি ফরম্যাটেই গুজবগুলো ছড়ানো হয়েছে।

কিছু গুজবের নমুনা এখানে তুলে ধরছি-বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ দেখানোর নাম করে ২০১৩-১৪ সালের জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তরগুলো ও প্রকল্পে কেবল হিন্দু কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ফেসবুকসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করা হবে, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত নেই, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরে বাংলাদেশের কোনো অর্জন নেই, আবারও মন্দিরে কুরআন শরিফ রাখার সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্বর্তীকালীন ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী, এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ তলানিতে ঠেকেছে, যা ইতিহাসে সর্বনিম্ন, বাংলাদেশের পরিণাম শ্রীলংকার মতো হতে পারে ইত্যাদি।

ক্যারেক্টারাইজেশনের পরের ধাপটি হচ্ছে ক্রিয়েশন। কে এ তথ্যটি তৈরি করে প্রচার করছে, কার কাছ থেকে ফেসবুকে বা ইউটিউবে এলো তা যাচাই করে দেখতে হবে। তথ্যের অন্তর্গত চরিত্র যেমন বোঝা দুষ্কর, তেমনি প্রায় সময় তথ্য নির্মাতা বা প্রচারকারীর মূল চরিত্র চিহ্নিত করাও দুঃসাধ্য। ক্রিয়েটর কখনো কখনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান হতে পারে, আবার কখনো হতে পারে কোনো ব্যক্তিও। তাই তথ্যের চরিত্র বিচারের মধ্য দিয়ে তথ্য নির্মাতা বা উৎসের চরিত্র অনুমান করাই শ্রেয়। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রায় সময় ফেসবুকে ভুয়া আইডি ব্যবহার করা হয়। আধুনিককালে গুজব রটনাকারীরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রায় সময় বিদেশ থেকে গুজব ছাড়ানো হচ্ছে, ফলে তাদের চিহ্নিত করা গেলেও আইনের আওতায় আনা কঠিন হচ্ছে।

তৃতীয় ধাপটি হলো সার্কুলেশন। কীভাবে একটি তথ্য ছড়াতে পারে তাকে চিহ্নিত করা এ ধাপের লক্ষ্য। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্প্রসারণে একটি তথ্য মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে। দুটি প্রধান কারণে এমন হয়-প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং তথ্যের প্রতি মানুষের দুর্নিবার মোহ।

এক্ষেত্রে ফেসবুকের মতো প্লাটফরম শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ৫০টি দেশে ৫৪ শতাংশ মানুষ সংবাদের জন্য ফেসবুককে প্রাথমিক চ্যানেল হিসাবে বেছে নেয়। ফলে গুজব রটনাকারীও ফেসবুককে শক্তিশালী মাধ্যম হিসাবে বেছে নেয়। আরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো ইউটিউব, যেখানে যে কোনো পুরোনো বা অপ্রাসঙ্গিক ভিডিওজুড়ে দিয়ে গুজবের গভীরতা বাড়িয়ে দেওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করার জন্য কোনো গেটকিপার থাকে না, যেটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যমে এডিটররা করে থাকেন। ফলে ভুয়া তথ্য বিনা বাধায় পাঠকের কাছে চলে আসে। তাই মূলস্রোতের গণমাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমের ওপর আস্থা রাখা যাবে না। গুজবের ব্যাপকতার সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হচ্ছে, এটা ধীরে ধীরে সব ধরনের সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা নিশ্চিহ্ন করে দেয়। মানুষ কোনটি গুজব আর কোনটি সত্য এ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে কোনো ধরনের সংবাদকেই আর আস্থায় নিতে পারে না। এ পরিস্থিতি যে কোনো সমাজের জন্য ভয়াবহ। জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৮০ শতাংশ ও সুইডেনে ৭৬ শতাংশ মানুষ ভুয়া তথ্য দেখতে দেখতে মূল সত্য নিয়ে অত্যধিক সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়ে। প্রকৃত সংবাদের প্রতি একটা বড় আস্থার জায়গা তৈরি হলেই তো গুজব সৃষ্টিকারীদের সুবিধা।

ভুয়া তথ্য ঠেকানোর সর্বশেষ ধাপ কাউন্টারিং বা প্রতিকার। এটা তিনভাবে হতে পারে-আইনগত, মানুষকে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সাক্ষর করে তোলা এবং ফ্যাক্ট চেকিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। ইউরোপীয় কমিশন ২০১৮ সালে ডিজিটাল তথ্য ইকোসিস্টেমের স্বচ্ছতা বাড়াতে বলেছে। পাশাপাশি মিডিয়া সাক্ষরতা বাড়ানো, গণমাধ্যম ব্যবহারকারী ও সাংবাদিকদের জন্য তথ্য বিকৃতি প্রতিরোধে নতুন কৌশল বের করা, মিডিয়ার সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং তথ্য বিকৃতি বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা ও জরিপ চালানোর চারটি সুপারিশ করেছে তারা। হেট স্পিচ, ফেইক নিউজ ও বেআইনি তথ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে বাধ্য করতে বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে আইন প্রণীত হয়েছে। আমাদের দেশে গুজব প্রতিরোধে তথ্য মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরের মতোই তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে এবং নজরদারিতে রয়েছে আরও অনেকে। জনগণের কাছে যেন সঠিক তথ্য দ্রুত পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে সচেতনতামূলক তথ্যবিবরণী গণমাধ্যমে প্রেরণ করতে তথ্য অধিদপ্তরের সংবাদকক্ষ সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে। তথ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তর নিয়মিত গুজববিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে, সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

তথ্যবিবরণীগুলো পিআইডির ওয়েবসাইট www.pressinform.gov.bd এবং ফেসবুক PID BDতে আপলোড করা হয়েছে। এছাড়া ফিচার, ইলাস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন উপকরণও প্রিন্ট মিডিয়ায় নিয়মিত প্রেরণ করা হচ্ছে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ও প্রচারসামগ্রী নির্মাণ করে প্রচার করেছে। গণযোগাযোগ অধিদপ্তর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গুজব মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং তথ্য অধিদপ্তরের দুটি পৃথক বিশেষ সেল কাজ করছে। বৈশ্বিক মন্দার এ দুঃসময়ে কিছু কিছু ভুঁইফোঁড় অনলাইন পোর্টাল গুজবে হাওয়া দিতে কাজ করছে। তাই গুজব ঠেকাতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে আরও বলিষ্ঠ হতে হবে। নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টিতে ‘কাউন্সেলিং’ একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক পোস্ট দেওয়া আরেকটি কার্যকর উপায়। এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যেও গুজববিরোধী আলোচনা সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। চোখ, কান খোলা রেখে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে গুজব প্রতিরোধ করুন।

পরীক্ষিৎ চৌধুরী : তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র তথ্য অফিসার

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন