ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

ফিরে আসুক হৃত গৌরব

  ড. সুকোমল বড়ুয়া ০১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফিরে আসুক হৃত গৌরব

আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’। দেশ ও বিশ্বের চাহিদায় উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা আজ অপরিহার্য।

অত্যন্ত গৌরবের বিষয় এ বিশ্ববিদ্যালয় আজ ৯৭ বছরে পদার্পণ করল। ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষে পদার্পণ করবে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান ও বিদ্যাচর্চায় উপমহাদেশের একটি শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

শিক্ষাদান, বিদ্যাচর্চা এবং ছাত্র-শিক্ষকদের জ্ঞান-গবেষণা আর পাণ্ডিত্যে শুধু এ উপমহাদেশে নয়, এর খ্যাতি ইউরোপ আমেরিকাসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা শিক্ষা জগৎকেও আলোকিত করেছিল।

অক্সফোর্ডের আদলে এর পঠন-পাঠন ও শিক্ষাদান পরিচালিত হয়েছিল বলেই এটাকে বলা হতো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলা হয়েছিল এ উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও খ্যাতিমান নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসেপ্টের আদলে, যেখানে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে, পাঠ নেবে এবং জ্ঞানার্জনের নানা প্রয়োজনে লাইব্রেরিসহ শিক্ষকের সাহচর্য লাভ করবে।

প্রাচীন ভারতবর্ষের বিদ্যাচর্চা ও জ্ঞানার্জনের ধরনও ছিল সেরকম। নালন্দায় প্রথমে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হতো দ্বাররক্ষকের কাছে।

তাদের পরীক্ষায় পাস করতে পারলেই প্রাথমিক ভর্তির যোগ্যতা লাভ করা যেত। শিক্ষার সেই বিচারে আমরা আজ কোথায়? তাই তো বিদ্যাচর্চা ও জ্ঞানদানে নালন্দার এত গৌরব ও খ্যাতি। বিশ্বের প্রাচীনতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এটি এখনও অনন্য, অসাধারণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় বিভাগ ছিল মাত্র ১২টি। প্রথমে বিএ, বিএসসি অনার্স এবং এমএ ও এমএসসি সব মিলিয়ে ৮৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়েছিল।

আবাসিক হল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা হল, জগন্নাথ হল ও মুসলিম হল। সে সময় কোনো ছাত্রী হল ছিল না। সব বিভাগে পড়ানোর জন্য শিক্ষক ছিলেন মাত্র ৬০ জন। কলা অনুষদে ২৮, বিজ্ঞানে ১৭, আর আইনে ছিল ১৫ জন।

প্রথম থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পাঠদান করতেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিশ্ববরেণ্য পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রমেশ চন্দ্র মজুমদার, সত্যেন বসু, হরিদাস ভট্টাচার্য, জি এইচ ল্যাংলী, রাধা গোবিন্দ বসাক, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ, বিএম সেনগুপ্ত, গণেশচরণ বসু, রাজেন্দ্র চন্দ্র হাজরা, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ খ্যাতিমান পণ্ডিত।

শুরু থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা আন্দোলনে বেশ অবদান রেখেছে।

যেমন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণআন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল অসামান্য। খেলাধুলা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা ছিল গৌরবের, যা এখনও তা অব্যাহত আছে।

বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার ফলে প্রথমে পূর্ববঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট হিসেবে। ১৯১২ সালের ২৭ মে বেঙ্গল গভর্নমেন্ট কর্তৃক গঠিত রবার্ট নাথান কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পটভূমি তৈরি হয়।

১৯১২ সালে ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে নাথান কমিটির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯২১ সালে ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঢাকার রমনা সিভিল স্টেশন এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর প্রথম এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর মোট জমির পরিমাণ ৩২০.৮২ একর। প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য হলেন স্যার পি জে হার্টগ (১৯২০-১৯২৫)।

দ্বিতীয় উপাচার্য ছিলেন জি. এইচ. ল্যাংলী (১৯২৬-১৯৩৪)। তৃতীয় উপাচার্য ছিলেন এ দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ স্যার এ এফ রহমান (১৯৩৪-১৯৩৬)। প্রথম চ্যান্সেলর ছিলেন লওরেন্স জন লামলে ডানডাস (১৯২১-১৯২২)। এরপর ছিলেন জর্জ আর. বুলওয়ার লিটন (১৯২৩-২৬)।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের বক্তাও ছিলেন। প্রথম রেজিস্ট্রার ছিলেন খান বাহাদুর নাজির উদ্দিন আহমদ (১৯২১-১৯৪৪)। খ্যাতিসম্পন্ন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ডক্টর অব লজ উপাধি পান দ্য রাইট অনারেবল দি আর্ল অব রোনাল্ডসে জি সি আই ১৯২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম পরিবর্তন হয়েছে চারবার। প্রথম ১৯২১ সালে, দ্বিতীয় ১৯৫২ সালে, তৃতীয় ১৯৭২ সালে এবং চতুর্থবার ১৯৭৩ সালে, যা বর্তমানে অটুট রয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত কম-বেশি সময়ে ২৭ জন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অনুষদ সংখ্যা ১৩, বিভাগ ৮৪, ইন্সটিটিউট ১২, গবেষণা ব্যুরো ও সেন্টার ৫৪, আবাসিক হল ২০টি, হোস্টেল সংখ্যা ৩টি। বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা ১ হাজার ৯৯৯, ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩৯ হাজার ৪৯৬। তন্মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ২২ হাজার ২৮ আর ছাত্রীর সংখ্যা ১২ হাজার ৮৩২।

বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটে সান্ধ্যকালীন ক্লাসও চলছে। এখানে নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৩০৮। বর্তমানে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে।

সুদীর্ঘ ৯৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। দিয়েছে দেশ-বিদেশে অনেক খ্যাতি ও গৌরব। অর্জন করেছে অনেক দুর্লভ সম্মানও।

প্রতিষ্ঠিত করেছে দেশ-বিদেশে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান পণ্ডিত ও গবেষক। আজ দেশের নানা প্রশাসনে, হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও অতীতের ছাত্র-শিক্ষকরা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্র-শিক্ষকরা।

বিশ্বের সেরা সম্মান নোবেল বিজয়ও এনেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ড. মুহম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ নানা জায়গায় বেশ কৃতী ও কীর্তিমান হয়ে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাই নতুন নতুন পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক এবং গবেষকরা আমাদের চারপাশের সমুদ্রে বেশ ক’টি দ্বীপের সন্ধান পেয়েছেন। ওই দ্বীপের একটি নামকরণও করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড’।

বর্তমান কক্সবাজারে সরকারিভাবে জায়গাও পাওয়া গেছে, যেখানে সমুদ্র গবেষণাকেন্দ্রসহ পর্যটন এবং নানা গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বাংলাদেশের আরও বিভিন্ন জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য জমি অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য এরই মধ্যে ঢাকার পূর্বাচলে সরকার তথা রাজউক কর্তৃক ৫১.৯৯ একর জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এতে মেগা পরিকল্পনার আলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা এর মধ্যে সমুদ্রসম্পদ, উপকূলীয় অঞ্চলের সম্পদ ব্যবহার, সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং পর্যটন নিয়ে বেশ আশার সঞ্চার করেছেন। সাইবার সেন্টার ও আর্কাইভস, পরিবেশ ও প্রকৃতি, বিজনেস স্টাডিজ, ম্যাথমেটিক্স ও জাতীয় বিজ্ঞান গবেষণায় অনেক গৌরব অর্জন করেছেন।

এমন কী সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা দেশ-বিদেশে নানাভাবে অবদান রেখে চলেছেন। বিদেশে গিয়ে অনেক সম্মানেও ভূষিত হচ্ছেন।

তারপরও বলতে হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর আগের গৌরবের জায়গায় নেই। বিদ্যা, জ্ঞানচর্চা, লেখালেখি-গবেষণা ও পঠন-পাঠনের গতিধারা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

নতুন কিছু হলেও তা আগের মতো নয়। বিশেষ করে ছাত্র-শিক্ষকের রাজনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এর জন্য দায়ী। এটি আমাদের কারও কাম্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উত্তম মূল্যবোধ তৈরির জায়গা। জ্ঞানার্জন ও বিদ্যাচর্চা এবং জ্ঞান ও বিদ্যা বিতরণের সর্বোচ্চ স্থান। বর্তমানে এর ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটি জাতির জন্য কখনও শুভ নয়। আমাদের বুঝতে হবে এটি দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ, যেখানে সৃষ্টি হবে সর্বোচ্চ মেধা এবং জ্ঞানী-গুণী পণ্ডিত মনীষী।

কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া হল বোধ-বুদ্ধি-বিবেক এবং জ্ঞানভিত্তিক মূল্যবোধের শিক্ষা। এর সঙ্গে থাকবে আমাদের নীতি-নৈতিকতা ও সদাচরণ সম্পর্কিত নানা আদর্শিক ও চারিত্রিক গুণাবলি। মানবিক গুণাবলির চরম উৎকর্ষ আমাদেরই দেখানো উচিত। কিন্তু আজ এগুলো নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

দু’দশক আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক বললে সবস্থানে একটি আলাদা মর্যাদা ছিল। কেন এখন আর নেই- ভাবতে বেশ কষ্ট হয়। আমরা জাতির বিবেক।

জাতি আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করে। আমরাই তো পথপ্রদর্শক। সেই জায়গায় কি আজ আমরা আছি? শিক্ষা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা মানুষকে বিকশিত করে।

শিক্ষাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের শক্তি। উচ্চশিক্ষায় চিত্ত প্রসারিত হয়, জ্ঞানের দুয়ার খুলে যায়; বিবেক-বোধ জাগ্রত হয়, আর ভেতরে জ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে। কিন্তু বর্তমানে এর উপস্থিতি খুবই কম দেখা যায়। এ জন্য দেশের নানা স্থানে আজ আমরা প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো হবে জ্ঞানজগতের রাজ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাইরের কোনো বিজ্ঞাপনী ব্যানার থাকা উচিত নয়। এখানে থাকবে জ্ঞান-বিজ্ঞাপনী ব্যানার।

ভেতরে-বাইরে চারদিকেই থাকবে মনীষীদের খোদাইকৃত ছবি ও বাণী, যেগুলো হবে খুবই দুর্লভ ও জ্ঞান সম্পর্কিত। এমনকি বিদ্যা, জ্ঞান ও নানা শিক্ষণীয় লেখা ও প্রতীকও, যেগুলো শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং তাদের বড় হওয়ার স্বপ্ন তৈরি করবে।

চারদিকেই থাকবে দেয়াল ও তোরণ। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলক্ষেত প্রবেশ পথে একটি ‘মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ’ তৈরি করা হয়েছে। চারপাশে আরও চারটি তোরণ তৈরি করা প্রয়োজন।

প্রথমটি শাহবাগ-জাতীয় জাদুঘর সংলগ্ন, দ্বিতীয়টি কার্জন হল-হাইকোর্ট সংলগ্ন, তৃতীয়টি চাঁনখারপুল-ঢাকা মেডিকেল সংলগ্ন, আর চতুর্থটি পলাশী-বুয়েট সংলগ্ন। চারটির ঐতিহাসিক নামও থাকা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিকে দেয়ালও থাকা প্রয়োজন।

এর ফলে দেশের এবং বাইরের লোকদের বিশ্ববিদ্যালয় চিনতে সহজ হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা রক্ষিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন হয়নি, শিগগিরই প্রবর্তন করা উচিত। পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের নামানুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হল, লাইব্রেরি বা স্থাপনা গড়ে ওঠেনি। কর্তৃপক্ষের এদিকেও দৃষ্টি দেয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে সিন্ডিকেট কর্তৃক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে ২০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে (২৭ নভেম্বর ২০১৭), যার আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং সদস্য সচিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি।

আজ প্রতিষ্ঠা দিবসের এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি-সমৃদ্ধি ও গৌরব কামনা করছি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব ছাত্র-শিক্ষক অবদান রেখেছেন এবং যারা প্রয়াত ও শহীদ হয়েছেন তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

কামনা করছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবার সেই ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে’ ফিরে আসুক। জ্ঞান, মেধা ও বিদ্যাচর্চায় সর্বোৎকৃষ্টতা লাভ করুক এবং বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হোক।

প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া : সাবেক চেয়ারম্যান, পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সভাপতি, বিশ্ব বৌদ্ধ ফেডারেশন-বাংলাদেশ চ্যাপ্টার

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter