সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হোক

  সালাহ্ উদ্দিন নাগরী ১৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা

দেশের জনগণকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হয়। দৈনন্দিন চলার পথ মসৃণ নয়, পদে পদে বাধা ও ভোগান্তি নিত্যসঙ্গী। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা আমাদের চলার গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে, পেছন থেকে লাগাম টেনে ধরছে। অবশ্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ায় কোনো কোনো সমস্যার সংখ্যা ও তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসছে।

আবার কোনো কোনোটি দিনকে দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। স্তব্ধ করে দিচ্ছে আমাদের সব আয়োজন, আমাদের স্বপ্নসাধ। জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সেসব সমস্যা আমরা যথাযথভাবে উপলব্ধি করছি না, হয়তো গুরুত্বও দিচ্ছি না; ফলে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁ, এখানে সড়ক বা যানবাহন সংক্রান্ত দুর্ঘটনার কথাই বলা হচ্ছে।

প্রতিদিন পত্রিকার পাতায়, টিভি চ্যানেল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টিভি চ্যানেলের স্ক্রলে যানবাহনজনিত দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর আসছে। এসব নিয়ে নিবন্ধ-প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে, কিন্তু কোনোই কাজ হচ্ছে না, দুর্ঘটনা যেন আমাদের ললাটে খোদাই হয়ে গেছে। যানবাহনজনিত দুর্ঘটনার কারণে অঙ্গহানি, প্রাণহানি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা, ভ্রূক্ষেপহীনতা আমাদের গা সয়ে গেছে।

দেশের অত্যন্ত আলোচিত এই সমস্যাটি নিয়ত তীব্র রূপ ধারণ করছে। ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’, পরিবহন সেক্টরে এই প্রবাদটির প্রয়োগ মনে হয় জরুরি হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুগান্তরের দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়স্পর্শী দু’একটি সংবাদে চোখ বুলিয়ে নেয়া যেতে পারে।

গত ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রামের ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান রিয়া বড়–য়া নামের এক কলেজ ছাত্রীর মাথার ওপর দিয়ে চালিয়ে দেয়া হল। প্রত্যক্ষদর্শী রিয়ার বান্ধবী হাসপাতালের মর্গের সামনে যুগান্তরের প্রতিনিধিকে বলেন, এক বান্ধবীর বিয়ে উপলক্ষে গিফট কিনে পৃথক রিকশাতে বাসায় ফেরার সময় রিয়া তাদের সামনের রিকশায় ছিল, কাভার্ডভ্যানটি ওভারটেক করে রিয়াকে বহনকারী রিকশাকে ধাক্কা দিলে, রিকশাটি রাস্তার ডানপাশে ডিভাইডারের সঙ্গে লাগলে রিয়া ছিটকে পড়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায় কাভার্ডভ্যানটি, মুহূর্তেই সব শেষ।

৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় দুই বাসচালকের রেষারেষিতে ডান হাত বিছিন্ন হয়ে যাওয়া তিতুমীর কলেজের রাজীব হোসেন নামে এক ছাত্রের কয়েকদিন পর মৃত্যু হয়। বাবার সংসারের হাল ধরতে ধোবাউড়া থেকে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে ঢাকায় আসা রোজিনা গত ২০ এপ্রিল রাতে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় উত্তরাগামী বিআরটিসি দোতলা বাসের চাপায় ডান হাত হারিয়ে ২২ তারিখ সকালে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করেন। রোজিনার লাশ ধরে তার মা-বাবার কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

সড়কের নিরাপত্তার দাবিতে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচা) তথ্যানুসারে, ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় বেড়েছে। গত বছর সারা দেশে ৩ হাজার ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ২৮৪ জন নিহত ও ৯ হাজার ১১২ জন আহত হয়েছে। নিহতের তালিকায় ছিল ৫১৬ জন নারী ও ৫৩৯ জন শিশু।

না, পৃথিবীর কোনো দেশে এত ব্যাপক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে না এবং যানবাহন সংক্রান্ত হতাহতের রেজিস্টারও এত বড় হয় না। ঘর থেকে বের হয়ে কেউ যে নিরাপদে বাসায় ফিরে আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। জীবন হাতে নিয়ে ঘর থেকে বের হতে হয়, ভয় লাগে বাহনরূপী দানবগুলো হয়তো এখনই পিষে মেরে ফেলবে।

যুগান্তরের ১৪ মে, ২০১৮-এর প্রতিবেদন মতে, ডেমরা থেকে রামপুরাগামী বাসে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের কেউ কেউ সিগারেট ধরিয়ে, কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে বা ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাচ্ছে। কারও কোনো ভাবান্তর নেই, দেখার কেউ নেই; বলার কেউ নেই।

গত ১৪ জুন যুগান্তরের প্রতিবেদন মতে, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুর সড়কে পরিবহন চালক, হেলপারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে যাত্রীরা। সড়কপথে সুষ্ঠু চলাচলে কোনো আইনও মানা হচ্ছে না। অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের দৌরাত্ম্যে ও বেপরোয়াপনায় ক্রমশই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।

যাত্রী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ- উপরে উল্লিখিত রুটে বেশিরভাগ যাত্রীবাহী পরিবহন অবৈধ, চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন। ওরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়, ট্রাফিক আইন ও সড়কে চলাচলের নিয়ম সম্পর্কে তারা একেবারেই অজ্ঞ, অধিকাংশ চালক মাদকাসক্ত। সড়কে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে শক্তিশালী পরিবহন সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট মহলকে ম্যানেজ করে ফেলে। এদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি প্রক্রিয়াই গ্রহণ করা যায় না।

সড়ক-মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, প্রাণহানি ঘটছে, চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে, একেকটা পরিবার পথে বসে যাচ্ছে, এসব নিয়ে নিয়মিত খবর প্রকাশ হচ্ছে, তারপরও চালক ও হেলপাররা দুর্ঘটনার জন্য পথচারী ও যাত্রীদের দায়ী করছে। যাত্রাবাড়ী থেকে টঙ্গীতে যাতায়াতকারী তুরাগ পরিবহনের বাসচালক পলাশের মতে, সম্প্রতি কারওরান বাজারে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের রেষারেষিতে হাত বিছিন্ন হয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা রাজীবের দোষেই ঘটেছে। পরে অবশ্য স্বীকার করে, বেশি ট্রিপের আশায় ও নিজের বাহাদুরি দেখাতে বাসচালকদের মধ্যে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে যারা ভাবেন, তারা মনে করেন- চালকদের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও জীবনবোধ সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা না থাকার কারণে তাদের মানসিকতা বিকৃত হয়ে যাচ্ছে এবং এ ধরনের এলোমেলো কথা বলছে।

শহরের মধ্যে কোনো দুর্ঘটনার একটি অতিপরিচিত চিত্র আমাদের চোখে ভেসে ওঠে- বাস-ট্রাক-মিনিবাস পেছন থেকে কোনো রিকশা বা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিচ্ছে, আরোহী চালকসহ সবাই রাস্তার উপরে ছিটকে পড়ছে এবং তৎক্ষণাত কোনো বড় গাড়ির ড্রাইভার তাদের ওপর গাড়ি চাণিয়ে দিয়ে পিষে দ্রুত কেটে পড়ছে। আর কতকাল আমাদের এসব দৃশ্য দেখতে হবে? দুর্ঘটনা রোধে সর্বাত্মক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

দক্ষ চালক তৈরি, রাস্তা, ফুটপাত ও আনুষঙ্গিক ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, ট্রাফিক সিগন্যাল পদ্ধতির আধুনিকীকরণ এবং আইনের যথোপযুক্ত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে না পারলে কাক্সিক্ষত ফল আসবে না। এজন্য যা করা দরকার, তা হল-

দেশের দু’একজনকে ম্যানেজ করে, অন্য কোনোভাবে প্রভাবান্বিত করে যথাযথ ড্রাইভিং পরীক্ষা ব্যতীত বৈতরণী পার হওয়ার সব পথ বন্ধ করতে হবে।

নকল লাইসেন্স প্রদানের অবৈধ পথগুলো জরুরি ভিত্তিতে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভুয়া লাইসেন্স পরীক্ষার যন্ত্র বসাতে হবে।

শহরের ভেতরে ও বাইরে সড়ক, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়িচালক, হেলপারের সক্ষমতা/ফিটনেস পরীক্ষা করতে হবে; একই সঙ্গে কেউ মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছে কিনা, তাও দেখতে হবে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

চালকের লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস সংক্রান্ত যে কোনো বিষয় পরীক্ষা করার অধিকার যাত্রীদের দিতে হবে। কারণ যাত্রীরাই তো সবচেয়ে ঝুঁকিগ্রস্ত স্টেকহোল্ডার। প্রয়োজনে চালকের লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস ও রুট পারমিট কপি করে যাত্রীদের চোখে পড়ার মতো জায়গায় সেঁটে দিতে হবে এবং ওই ডকুমেন্টগুলো যথাযথভাবে না থাকলে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা যাত্রীদের প্রদান করতে হবে।

দুমড়ানো-মোচড়ানো, ট্যাপ খাওয়া, রঙচটা গাড়ির চলাচল বন্ধ করতে হবে। কারণ ওই ধরনের গাড়িগুলো দুর্ঘটনা বেশি ঘটিয়ে থাকে।

অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে হবে।

গাড়িচালকরা একটু ফাঁকা রাস্তা পেলে পাগলা ঘোড়ার মতো গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়, তাই শহরের ভেতরে ও বাইরে সড়ক এবং মহাসড়কে স্পর্শকাতর জায়গায় গাড়ির গতিসীমা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে এবং সেটা পালনে বাধ্য করার ব্যবস্থা করতে হবে।

কোনো কোনো পরিবহন মালিকের শত শত যানবাহন রাস্তায় চলছে এবং সংখ্যাধিক্যের কারণে সব যানবাহনের ক্লোজ মনিটরিং না থাকায় ওইসব যানবাহনের দ্বারা বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ও অনিয়ম নিয়মিত ঘটছে। তাই ব্যক্তিগত মালিকানায় বাস, ট্রাকের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।

শহর এলাকায় বাস, মিনিবাস ও টেম্পোতে যাত্রী ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রাস্তার ওপর ডান-বাম দিয়ে অন্য যানবাহন চলা অবস্থায় একটু গতি কমিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। ফলে অনেক যাত্রী রাস্তায় পড়ে আহত ও জখম হচ্ছে, এমনকি মৃত্যুবরণও করছে। বাসস্টপেজ ছাড়া কোথাও যেন যানবাহন থামতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রী ও চালকসহ সবাইকে আকৃষ্ট করার জন্য ক্ষুদ্র পরিসরের মধ্যেই দৃষ্টিনন্দন বাসস্টপেজ নির্মাণ করতে হবে।

রাস্তায় ডিভাইডার না থাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা বেড়ে যায়। প্রত্যেক রাস্তায় ডিভাইডারের ব্যবস্থা করতে হবে।

দুর্ঘটনাপ্রবণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে দেশি-বিদেশি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে গঠিত কমিটির পরামর্শ মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হবে।

শহরের ভেতরে ও বাইরে ড্রাইভারদের ওভারটেক ও পাল্টাপাল্টি থেকে বিরত রাখার জন্য কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আমাদের অনেক রাস্তায়ই ফুটপাত নেই এবং যেখানে যতটুকু আছে, সেটাও আবার ক্ষমতাধরদের দখলে। মানুষ হাঁটবে কোথায়? দুর্ঘটনা কমবে কিভাবে?

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের আগে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিকতা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনা রোধে সম্প্রতি যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা অনুসরণ করতে হবে।

ঢাকা শহরে যানজটের কারণে এমনিতেই ২০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যায় না, এর মধ্যে সুযোগ পেলেই আমাদের ড্রাইভাররা দানবে পরিণত হয়। লেন, বাইলেন ও আবাসিক এলাকায় বখে যাওয়া তরুণ-যুবকরা যে গতিতে গাড়ি চালায়, অন্য কোনো সভ্য দেশে এমনটি ঘটে কিনা, আমার জানা নেই। তাদের গতির মহড়া দেখে মনে হয়, ওদের আন্তর্জাতিক কার রেসিং প্রতিযোগিতায় পাঠানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

যানবাহনজনিত কারণে আমাদের এখানে যত ঘটনা ঘটছে, তাকে কি দুর্ঘটনা বলা যায়? যখন অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও দ্বারা বা কোনো কারণে কোনো ক্ষতি হয়ে যায়, শুধু তখনই সেটাকে দুর্ঘটনা বলা যেতে পারে। যানবাহন ও রাস্তাঘাটের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, চালক ও হেলপারদের গাফিলতি ও অসচেতনতার জন্য ইচ্ছাকৃত ও নিয়মিত ঘটে যাওয়া এ বিষয়গুলোকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে অভিহিত করলে ‘দুর্ঘটনা’ নামের এই শব্দটিকেই অপমান করা হবে।

এদেশের সৃষ্টিলগ্ন থেকে সড়ক, মহাসড়কে যত ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে, সন্দেহের প্রথম তীরটি কিন্তু চালকের গায়েই বিদ্ধ হচ্ছে। আমরা যদি মোবাইল ফোনের কয়েক কোটি সিম নতুন করে নিবন্ধন করতে পারি, ভারত যদি দেশকে কালো টাকামুক্ত করার জন্য লক্ষ-কোটি টাকার নোট বাতিল করার পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে আমরা কেন পরিবহন সেক্টরের বাস, ট্রাক, টেম্পো, মিনিবাসের ১২-১৪ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করে ধাপে ধাপে যথাযথভাবে ইস্যু করতে পারব না? পারতে আমাদের হবেই, পরিবহন সেক্টরের এই ক্রান্তিকালকে সফলতার সঙ্গে অতিক্রম করতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা বা যানবাহনঘটিত দুর্ঘটনা কি অপ্রতিরোধ্য? অবশ্যই নয়। সড়ক বা যানবাহন সংক্রান্ত দুর্ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে না দেখে হলিস্টিকওয়েতে বিবেচনা করতে হবে; স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কতকিছুর জন্য কত ধরনের প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হচ্ছে; যানবাহনজনিত দুর্ঘটনা রোধে আমরা কি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করতে পারি না? আমরা আর বলতে চাই না, শুনতে চাই না- ‘ট্রাক আসছে ট্রাক; শুয়োরমুখো ট্রাক আসছে, দুয়োর বেঁধে রাখ।’

সালাহ্উদ্দিন নাগরী : সরকারি চাকরিজীবী

[email protected]

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter