ইমরান খানের চমক

  এম হুমায়ুন কবির ২৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইমরান খান
ইমরান খান। ছবি: যুগান্তর

পাকিস্তানের মোটামুটি সুষ্ঠু একটি নির্বাচন আয়োজন দক্ষিণ এশিয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা। সেখানে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে এর অনেক ভূমিকা থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে সবার মনোযোগ ছিল পাকিস্তানের নির্বাচনের দিকে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া ৪৭ শতাংশ ভোটের ফলাফলে মনে হচ্ছে সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে। দ্বিতীয় হচ্ছে সদ্য ক্ষমতা হারানো প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন ও তৃতীয় স্থান পেতে যাচ্ছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।

এ ফলাফলের ভিত্তিতে বলা যায়, পাকিস্তানে এটি একটি নতুন চমক। সে ক্ষেত্রে সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী অবস্থানে থাকবে পিএমএল-এন ও পিপিপি। আমি বলব, এটা একটা চমক।

কারণ অনেক দিন ধরে রাজনীতি করছেন ইমরান এবং এ পর্যায়ে এসে ভোটাররা তাকে সমর্থন দিয়েছে। কিছু বিষয় অবশ্য মনে রাখতে হবে, পাকিস্তানের মতো একটি দেশে ১০ কোটির বেশি ভোটার ও ৮৫ হাজারের বেশি ভোট কেন্দ্র নিয়ে দেশটির নির্বাচন কমিশন যেভাবে বড় ধরনের একটি নির্বাচন আয়োজন করেছে, তা বড় ধরনের অর্জন। তাও আবার একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায়।

তবে এটাও মনে রাখতে হবে, ভোট নিয়ে অনেক অভিযোগ উঠেছে। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে না পারা, বিশেষত নওয়াজ শরিফের দলের সঙ্গে বিরূপ আচরণ, এমনকি তাকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে বিভিন্ন চেষ্টা ও সাজা দেয়ার কথা এসেছে। তারপরও যে বিষয়টা ইতিবাচক তা হল গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠান। এ জন্য দেশটির সরকার ও জনগণ প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

নির্বাচনের ফলাফলকে আমি বলব মিশ্র। কারণ তিনটি প্রদেশে- পাখতুনখোয়া, সিন্ধু ও বেলুচিস্তানে স্থানীয় পরিষদে তিনটি বড় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের রায় জনগণ দিয়েছে। ফলে কেন্দ্রে যে দলই সরকার গঠন করুক, তারা কিন্তু প্রাদেশিক পরিষদগুলোকে এড়িয়ে বড় ধরনের কিছু করতে পারবে না।

এ ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যের একটি পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে আশা করা যায় এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য এটি ইতিবাচক দিক। একটা বিষয় লক্ষণীয়, এ নির্বাচনকে সামনে রেখে উগ্র ও ইসলামপন্থীরা একজোট হয়েছিল; কিন্তু বড় দলগুলোকে টেক্কা দিয়ে তারা খুব একটা ভালো করতে পারেনি। এ জন্য এখন পর্যন্ত তিনটি দলের মধ্যে ভারসাম্য থাকছে।

সামনে কী হবে সেদিকে তাকালে দেখা যায়, ইমরান খান ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের কথা বলেছিলেন। এটা কেমন হবে, এর চেহারাই বা কী হবে, কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা দেখার বিষয়। ইমরান খানকে নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।

তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে অনেক ধরনের কথা বলেছেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হল রাজনীতিতে তিনি অপরিপক্ব। সরকার যিনিই গড়ুন, সামনে দ্বিমুখী সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। ভবিষ্যৎ সরকারকে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। ভঙ্গুর অর্থনীতি উদ্ধারে কিছু করতে না পারলে ইমরানের সম্ভাব্য সরকারকে পিপিপি ও পিএমএল-এনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ইমরান ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখার পক্ষে; কিন্তু উভয় দেশের সঙ্গে সম্পর্কের সমন্বয় কীভাবে হয় তা দেখার বিষয়। এরই মধ্যে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ ছাড়া চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডোরের বিষয় আছে। বেইজিং-ইসলামাবাদ পুরনো বন্ধু। এগুলো ঠিকা রাখার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। ইমরান খান বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ও পুরনো লেনদেন নিয়ে বিভিন্ন সময় ইতিবাচক কথা বলেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ কিছু বিষয়ের নিষ্পত্তি চায়। ইমরান খান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কীভাবে মোকাবেলা করেন, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

এম হুমায়ুন কবির : সাবেক রাষ্ট্রদূত

ঘটনাপ্রবাহ : পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×