শতফুল ফুটতে দাও

আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ড. মাহবুব উল্লাহ্

তরুণ বয়সে ওতপ্রোতভাবে ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কত মিছিল-মিটিং, কত প্রতিবাদ-বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলাম তা এখন আর হিসাব করে বলতে পারব না। তারুণ্যের ধর্মই হল প্রতিবাদ করা। যে তারুণ্যের মধ্যে প্রতিবাদমুখরতা লক্ষ করা যায় না, সেই তারুণ্য জরাগ্রস্ত বার্ধক্যেরই শামিল। আমি যে ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েছিলাম, তার অন্যতম বিশ্বাস ছিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত।

ওই সময় ছাত্র আন্দোলন পরিচালিত হতো ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে। ওইসব ছাত্র সংগঠনে যারা নেতৃত্ব দিতেন তারা পরবর্তী জীবনে জাতীয় রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন, এমনকি এখনও এদের অনেকে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আসন অলংকৃত করে আছেন। এরা সবাই সুনাম-সুকৃতির সঙ্গে জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন এমনও নয়।

মানবজীবনে উত্থান-পতন থাকে। যারা একসময় খুবই গৌরবমণ্ডিত ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরিণত বয়সে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি। তবে একটা কথা সত্য, সেই সময় ছাত্র-সংগঠন ছাড়া ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠত না। ছাত্রদের আন্দোলন ছিল সংগঠনকেন্দ্রিক। এ ছাত্র-সংগঠনগুলোই যখন ঊনসত্তরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১১ দফা কর্মসূচি উত্থাপন করল তখনই দেশে ঘটে গেল বিশাল গণঅভ্যুত্থান। এ গণঅভ্যুত্থানের সিঁড়ি বেয়েই এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

বাংলাদেশ-উত্তরকালে একমাত্র নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছাড়া বেশিরভাগ ছাত্র সংগঠনই সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্কহীন হয়ে পড়েছে। অছাত্র, মাস্তান এবং শাসকগোষ্ঠীর ধামাধরা নেতৃত্ব ছাত্রছাত্রীদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ নেতৃত্বের মধ্যে প্রতিভার ঝলকও খুব একটা দেখা যায়নি। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণ সাধন না করে একালের নেতৃত্ব আখের গোছাতেই ব্যস্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে মহাপ্রতিপত্তিশালী ছাত্রনেতাদের ক্ষমতার দাপটে কত ছাত্রছাত্রীকে নিগৃহীত হতে হয় তা এক গবেষণার বিষয়। ছাত্র-রাজনীতির গৌরবজনক অধ্যায়ের ছাত্র সংগঠনগুলো সাধারণ ছাত্রদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে, যুক্তিতর্কের ব্যবহার করে নিজ নিজ সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট করত। এখন তার পরিবর্তে আমরা দেখতে পাই হলের বারান্দায় কোনো রকমে গুটিশুটি হয়ে রাত যাপনের সুযোগদানের বিনিময়ে ছাত্রদের পরিণত করা হয় সংগঠনের ক্রীতদাসে। বড় ভাইদের নির্দেশমতো মিছিলে যোগ না দিলে একজন ক্রীতদাস মনিবের কাছ থেকে যে সামান্য সুযোগটি পায় সেটিও হারাতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শাসক দলের অনুগত ভৃত্যে পরিণত হওয়ার ফলে তাদের কাছ থেকেও কোনো ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না।

এভাবেই আমরা অতীত দিনের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে বর্তমানের অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনের পার্থক্য বিচার করতে পারি। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের শাসনামলে উর্দি শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভের একটি স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল। সেই স্ফুলিঙ্গই ওই শাসকদের ক্ষমতা ছেড়ে দিতে সুমতি জোগায়। তারপর একটানা ১০-১১ বছর ছাত্র আন্দোলনের কোনো স্ফুলিঙ্গই লক্ষ করা যায়নি। ব্যতিক্রম হিসেবে দুটি আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা যায়।

একটি হল কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন এবং এ মুহূর্তে চলমান বাসচাপায় পড়ে ছাত্রছাত্রী নিহত ও আহত হওয়ার প্রতিবাদে একটি সর্বাÍক আন্দোলন। লক্ষণীয় বিষয় হল, আন্দোলন দুটির কোনোটিই প্রথাগত ছাত্র আন্দোলনের পথ ধরে সৃষ্টি হয়নি। এদেশের ইতিহাসে দুটি আন্দোলনই সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী। কোটা সংস্কারের আন্দোলনটি কয়েক বছর ধরে উঁকিঝুঁকি মারলেও সম্প্রতি আন্দোলনটি ব্যাপক ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। এ আন্দোলন ছিল সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন।

তবে এর একটি ন্যূনতম সাংগঠনিক কাঠামো ছিল। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী যখন কিছুটা অভিমান ও ক্ষোভের সুরে সংসদে ঘোষণা দিলেন, তাহলে কোনো কোটাই থাকবে না, এটা কী করে করা যায়, তার জন্য একটি কমিটি করে দেবেন বলেও ঘোষণা দিলেন, তারপর মাঝখানে দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও কমিটি গঠন কিংবা এ সংক্রান্ত কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া গেল না। ফলে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতরা আবারও সক্রিয় হল। কিন্তু এ যাত্রায় তাদের ওপর নেমে এলো গ্রেফতার, কারাবন্দি হওয়া এবং হাতুড়িপেটা হওয়ার মতো নির্যাতন, নিপীড়ন।

আন্দোলনটি প্রথম যখন জমে উঠেছিল, তখন পুলিশ তা দমনের জন্য কিছু প্রয়াস গ্রহণ করলেও শেষ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী জমায়েত হওয়ায় পুলিশের পক্ষে কঠোর দমন-নীতি অবলম্বন করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু দুই মাসের ব্যবধানে নানা ধরনের প্রচারণার আশ্রয় নিয়ে সরকারের পক্ষে কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা সম্ভব হল। এর ওপর ভর করেই নেমে এলো নির্যাতন-নিপীড়নের খক্ষ।

বলা যায়, এ আন্দোলন এ মুহূর্তে তার বেগ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। তার মানে এই নয়, যারা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল তাদের মতি পরিবর্তনে সরকার সফল হয়েছে। তবে একটি সত্য পরিষ্কার হয়ে উঠেছে, আন্দোলনটি খুব সহজে সফল হওয়ার নয়।

এ লেখা যেদিন প্রকাশিত হবে সেদিন রোববার। এই রোববারের আগের রোববারে রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় আরেকটি বাসের সঙ্গে রেষারেষি করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসকে অপেক্ষমাণ কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর তুলে দেন চালক।

এতে ঘটনাস্থলেই শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী, আবদুল করিম ও দিয়া খানম নিহত হয়। আহত ৯ জন এখনও চিকিৎসাধীন। এর কয়েকদিন আগে হানিফ পরিবহনের বাসে যাত্রী হিসেবে উঠেছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। বাসটি জ্যামে আটকা পড়লে ওই ছাত্র প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে বাস থেকে নেমে যায়। কিন্তু ফিরে এসে দেখে বাসটি ছেড়ে দিচ্ছে। ছাত্রটি বাসে ওঠার চেষ্টা করলে পড়ে গিয়ে আহত হয়। নিষ্ঠুর-নির্দয় বাস কন্ডাক্টর ছাত্রটিকে রাস্তার পাশে পানিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। কয়েকদিন পর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় তার লাশ পানিতে ভেসে ওঠে।

নিহত ছাত্রটির সহযাত্রী বন্ধুরা বাস কন্ডাক্টরকে জিজ্ঞেস করেছিল, তাদের বন্ধু বাসে নেই কেন? বাস কন্ডাক্টর জানিয়েছিল সে পরের বাসে আসবে। একজন বাস কন্ডাক্টর কতটা নির্দয়-নিষ্ঠুর ও বিবেকহীন হলে একজন আহত যাত্রীকে এভাবে পানিতে ছুড়ে ফেলে দিতে পারে। জানিনা কী কারণে পরিবহন শ্রমিকরা এমন নিষ্ঠুর হয়। এর আগেও সংবাদপত্র থেকে জেনেছি একটি রাতের বাসে দলবদ্ধ হয়ে বাসের ড্রাইভার, কন্ডাক্টর ও হেল্পার এক তরুণী যাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে জঙ্গলের মধ্যে ছুড়ে ফেলেছিল। এ ঘটনাটিও ছিল খুবই মর্মান্তিক।

পরিবহন শ্রমিকদের দ্বারা সংঘটিত এরকম মর্মান্তিক-পৈশাচিক ঘটনার কথা মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। আমি বলছি না, সব পরিবহন শ্রমিক খারাপ। তাদের মধ্যেও ভালো মানুষ আছে, যারা নিয়ম-কানুন মেনে গাড়ি চালায়। তাদের সাবধানতার ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে না। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত আবদুল করিমের পিতাও একজন বাস ড্রাইভার।

তিনি তার দীর্ঘ বাসচালকের জীবনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটাননি। অথচ এরকম একজন আদর্শ বাস ড্রাইভারের সন্তানকে প্রাণ দিতে হল জাবালে নূরের বাস ড্রাইভারের বেপরোয়া আচরণের কারণে। এ দুঃখ আমরা রাখব কোথায়? এর পাশাপাশি নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, যিনি পরিবহন শ্রমিকদেরও নেতা, তিনি সামান্য দুঃখের রেশও না দেখিয়ে আলোচ্য দুর্ঘটনা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে ভারতে এক দুর্ঘটনায় ৩০ জন যাত্রীর মৃত্যুর কথা সাংবাদিকদের শোনালেন। তার এ হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ছাত্রছাত্রীদের খুবই বেদনা দিয়েছে।

এ মন্ত্রী আগেও বাসচালকের যোগ্যতা সম্পর্কে যা বলেছিলেন সেজন্য সারা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু মন্ত্রী পদত্যাগও করেননি, দুঃখ প্রকাশও করেননি। এবার ছাত্রছাত্রীরা যখন রাজধানী অচল করে দিল এবং মন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে বলল তখনও তিনি এতে সাড়া দেননি। প্রধানমন্ত্রীর ভর্ৎসনার পর তিনি তার আচরণকে ‘ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে’ দেখার অনুরোধ জানালেন। অথচ তিনি সরাসরি বললেন না, আমি আমার মন্তব্যের জন্য খুবই দুঃখিত, এর ফলে যারা কষ্ট পেয়েছেন তাদের সবার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

 

 

 

বাংলাদেশের অবস্থা এখন এমনটি দাঁড়িয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ না দিলে কোনো কিছুই হয় না। এটা শুভ লক্ষণ নয়। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যে ভেঙে পড়েছে এটা তারই বহিঃপ্রকাশ। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এমনটি হওয়ার কথা নয়। যার যা দায়িত্ব সে যদি তা পালন করে তাহলে সব ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয় না।

বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টরে যে নৈরাজ্য বিদ্যমান সে ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমে অনেকেই কথা বলেছেন। ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক, চালকদের দীর্ঘক্ষণ ধরে একটানা গাড়ি চালানো, বাসের সঙ্গে বাসের প্রতিযোগিতাসহ অনেক সমস্যার কথাই বলা যায়। এসব সম্ভব হচ্ছে সুশাসনের অভাব, দুর্নীতি, ক্ষমতার প্রতাপ, দেখভালহীনতা ইত্যাদির ফলে। এই নৈরাজ্যের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহজসাধ্য নয়। বিশেষ করে যখন শৃঙ্খলাভঙ্গই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। প্রতি বছর বহুসংখ্যক মানুষকে প্রাণ হারাতে হচ্ছে। এই প্রাণ হারানোর তালিকা থেকে মিশুক মনিরের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিরাও বাদ যায়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জীবনে যে ট্র্যাজেডি নেমে আসে তা কেউ মুছে ফেলতে পারে না। এসব দুর্ঘটনার জন্য দু-একটি ক্ষেত্রে আদালত থেকে ক্ষতিপূরণের ডিক্রি পাওয়া গেলেও প্রায় দুই যুগ পরও তার কোনো বাস্তবায়ন হয় না। পরিবহন মালিকরা ক্ষমতাধর বলেই আদালতের রায়কেও নানা ফন্দি-ফিকিরে অগ্রাহ্য করে চলে।

হালে যে ছাত্র আন্দোলন হচ্ছে সেই আন্দোলন প্রথাগত ছাত্র-আন্দোলন থেকে যোজন যোজন দূরে। এই শিক্ষার্থীদের কোনো নেতা নেই, কোনো পক্ষের উসকানিও নেই। জনমত তৈরিতে স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে। এমন কথাই লেখা হয়েছে একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকের প্রতিবেদনে। প্রচারের কাজে এরা ব্যবহার করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। এ ফেসবুকেই একজন শিক্ষার্থী দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। ছবিতে একটা লাল রঙের বাস হলদেটে চোখ পাকিয়ে তাড়া করছে একদল শিশুকে। বাসটির হাঙরের মতো দাঁত। সেই দাঁতের ফাঁকে আটকা পড়েছে একটি শিশু। তবুও থামছে না বাস। সে ছুটছে তো ছুটছেই। আর পেছনে দাঁড়িয়ে হাসি হাসি মুখে পুরো ঘটনা দেখছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। মন্ত্রী বলছেন, ‘আমার নতুন উদ্ভাবন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ!’ ফেসবুকের এ ছবিটির বর্ণনা নিয়েছি ওই একই দৈনিকের পাতা থেকে। বহু বছর ধরে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না দেখে আমিও ভাবতে শুরু করেছিলাম, এই প্রজন্ম সমাজের অন্যায়-অবিচার সম্পর্কে উদাসীন। তারা শুধু ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নে বিভোর। আর ফেসবুকের পোকা হয়ে তারা সমাজ বিচ্ছিন্নতায় ভুগছে। এখন দেখছি আমার এ ধারণা ভুল। ওদের প্ল্যাকার্ডের ভাষা খুবই সৃজনধর্মী।

একটি স্কুলগামী শিশু একটা বড় কাগজে ‘বিবেক তবে কবে ফিরবে’ উঁচিয়ে ধরে পথচারীদের দেখাচ্ছেন। একটি প্ল্যাকার্ডে কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত কবিতার লাইন, ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?’ এ প্ল্যাকার্ডের ভাষা আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শ্রেণীতে পড়া নজরুলের কবিতার এ ছত্রটিকে এমন প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারে যারা, তাদের নিয়ে আশাবাদী হতে চাই। শুধু তাদের বলব, পরার্থপরতার এ চেতনার সঙ্গে তোমরা তোমাদের জ্ঞান ও শিক্ষার ভিতটিকে আরও মজবুত করে তুলবে। তবেই তোমাদের জেগে ওঠা সার্থক হবে।

ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ