পদক্ষেপ বাস্তবায়নে আন্তরিকতা জরুরি

  নজরুল ইসলাম ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নগর পরিবহন
ফাইল ছবি

আমরা জানি, রাজধানীর নগর পরিবহন ব্যবস্থা বহুদিন ধরে খুবই নৈরাজ্যময় পরিস্থিতির মধ্যে আছে। এই পরিস্থিতি উত্তরোত্তর আরও জটিল হচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা মাঝে-মধ্যেই নানারকম আশার বাণী শুনি।

সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ, যারা নগর পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত, তারা নানারকম পদক্ষেপ নিচ্ছেন বা নেবেন এমন ঘোষণা দিয়ে থাকেন। মাঝে-মাঝে সেসব ঘোষণা কার্যকরের চেষ্টাও করে থাকেন।

শেষ পর্যন্ত আমরা দেখি সেসব কার্যক্রম খুব একটা চলমান থাকে না; যেমন ছিল তেমন অথবা কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ অবস্থায় চলে যায়।

যে পরিকল্পনা আছে, যে নীতিমালা বা আইন আছে সেগুলোর প্রয়োগে সুব্যবস্থা থাকা উচিত এবং সেটার প্রয়োগ বেশ কঠিন হাতেই বাস্তবায়নের চেষ্টা করা উচিত। এটা মনে রাখা দরকার, এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিত নয়, যা বাস্তবসম্মত নয়।

সম্প্রতি ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, লেগুনা চলার অনুমোদন নেই, কাজেই এগুলো রাজধানীতে চলতে পারবে না। প্রশ্ন হল- লেগুনায় যারা চলে এক্ষেত্রে তাদের বিকল্প যানবাহন কী হবে, এটা খেয়াল করতে হবে।

বাস কতগুলো চলবে, তার একটা ঘোষণা দেয়া হয়, রিকশা চলবে কী চলবে না তার একটা ঘোষণা দেয়া হয়।

দুই সিটিতে মিলিয়ে তালিকাভুক্ত রিকশা আছে ৮০ হাজার বা তার কিছু বেশি। বাস্তবে আছে ৫ লাখ বা ৬ লাখ। এখন যদি বলা হয় তালিকাভূক্ত রিকশা ছাড়া বাকিগুলো চলতে পারবে না; তাহলে তালিকার বাইরের রিকশা চলাচল না-হয় বন্ধই থাকল, কিন্তু রিকশার যারা যাত্রী তাদের কী হবে?

তারা কিভাবে চলাচল করবেন, সে বিকল্পগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। তা না হলে বিশৃঙ্খল এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

যে ধরনের পদক্ষেপই নেয়া হোক, পদক্ষেপ তো নিতেই হবে, সেটা বাস্তবসম্মত হতে হবে এবং সেটা কার্যকর করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাও নিতে হবে। তা না করলে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার পর তা সাময়িকভাবে কার্যকর থাকলেও দেখা যাবে কিছুদিন পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

রাজধানীতে পরিবহন পরিচালনার নীতিমালা আছে, লিখিতভাবেই আছে; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাও আছে-স্ট্র্যাটেজিক প্লান আছে; সেই অনুযায়ী বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা করতে গেলে রাস্তাঘাট বাড়াতে হতে পারে; সড়কের মান ঠিক করতে হতে পারে।

ফুটপাত চলাচলের উপযোগী হতে হবে। সাইকেল, মোটরসাইকেল, এসবের চলাচলের ব্যবস্থা কী? এসবের জন্য কি আলাদা লেন আছে? উল্লেখ্য, বিদেশে সাইকেল ও মোটরসাইকেলের চলাচলের জন্য আলাদা লেন আছে। আমাদের দেশে রিকশা বা সাইকেলের চলাচলের জন্য আলাদা লেন দরকার। মোটরসাইকেল চলাচলের জন্যও আলাদা লেন দরকার।

সব রাস্তায় সব বাহন প্রবেশ করতেই পারবে না। কোনো সড়ক প্রশস্ত কম হলে ওই সড়কে বাসের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। কোনো সড়ক যথেষ্ট প্রশস্ত না হলে তা ওয়ানওয়ে হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ক ব্যবহার করতে হবে।

কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য জনবলের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা থাকাও জরুরি। যে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে, সেই সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম : নগর পরিকল্পনাবিদ, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter