দেশপ্রেমের চশমা

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি যৌক্তিক বটে

  মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন

একমাত্র সরকারে সম্পৃক্ত দলগুলো ছাড়া বিএনপিসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ দলের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা নেই। একাদশ সংসদ নির্বাচন নিকটবর্তী হওয়ায় এ দলগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে। এ প্রবন্ধে ইসির কার্যকলাপ বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে উল্লিখিত দাবির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হবে।

নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা। এর প্রধান কাজ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কমিশন যাতে স্বাধীন ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন দেশে কমিশনকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কমিশনের কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করে না। বাংলাদেশেও নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কমিশনের সিইসি ও ইসি কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আইন ও পেশাদারিত্ব না থাকায় এ দেশে কমিশন পরিপূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না।

অনেক ক্ষেত্রেই কমিশনকে অঘোষিত সরকারি ডিকটেশন অনুযায়ী কাজ করতে হয়। এর ফলে কমিশন মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা হারায়। সংবিধানে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতা-উত্তরকালে ৪৭ বছরে সিইসি ও ইসি কমিশনারদের নিয়োগের জন্য কোনো সরকার নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন তৈরি করেনি। পরিবর্তে সব সরকারই কমিশনে ‘মনপছন্দ’ লোক বসিয়ে তাদের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে সচেষ্ট থেকেছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তিনটি বড় দলকেই দায়ী করা যায়।

বর্তমান সরকারের ইসি গঠনের জন্য সংসদে একটি আইন পাস করে সে আইনানুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করে কৃতিত্ব নেয়ার সুযোগ ছিল। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এমন আইন পাস করতে সরকারের অসুবিধা হতো না। কিন্তু সরকার তা করেনি। এর পরিবর্তে লোক দেখানো ৬ সদস্যবিশিষ্ট সার্চ কমিটি গঠন করে তাদের প্রস্তাবিত ব্যক্তিত্বদের দিয়ে কমিশন গঠন করার দাবি করেছে। এ ৬ জনের মধ্যে ছিলেন আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, দু’জন শিক্ষাবিদ এবং দু’জন সরকারি কর্মকর্তা।

আশ্চর্যের বিষয়, এ সময় বিএনপি ‘নির্বাচন কমিশন গঠন ও শক্তিশালীকরণ : বিএনপির প্রস্তাবাবলি’ শীর্ষক যে ১৩ দফা সংবলিত পুস্তিকা প্রকাশ ও প্রচার করেছিল, তাতে দলটি ইসি গঠনের জন্য আইন তৈরির পরামর্শ দেয়নি। এ থেকে মনে করা যায় বড় দলগুলো চায় না যে, সুনির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে সৎ, সাহসী ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হোক। পরিবর্তে দলগুলো নিজেদের ‘মনপছন্দ’ ব্যক্তিদের কমিশনে বসিয়ে তাদের কাছ থেকে রাজনৈতিক আনুকূল্য লাভ করতে চায়।

সরকার এমন ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগ দেয়, যারা ওপরে কিছুটা নিরপেক্ষ ইমেজের হলেও ভেতরে সরকারদলীয় আদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু বর্তমান কমিশনের বেলায় সে ভদ্রতাও রক্ষিত হয়নি। এমনই এক ব্যক্তিত্বকে সিইসি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যিনি একটি বড় দলের শাসনামলে ওএসডি হওয়ার এবং চাকরি বিধি ভেঙে জনতার মঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।

এ কমিশন গঠন প্রক্রিয়া গোড়া থেকে অগণতান্ত্রিক ছিল। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্বহীন যে সার্চ কমিটি করা হয়, তা ছিল লোক দেখানো ব্যাপার। সার্চ কমিটির অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় লুকোচুরি ছিল। কারণ এ কমিটি অনুসন্ধান করে যে ১০ ব্যক্তির নাম মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেন; নাগরিক হিসেবে জনগণের সে ১০ ব্যক্তির নাম জানার অধিকার আছে। কিন্তু জনগণকে ওই ১০ ব্যক্তির নাম জানানো হয়নি।

পরবর্তী সময়ে শোনা গেছে, বর্তমান সিইসির নাম ওই ১০ জনের তালিকায় ছিল না (যুগান্তর, ২৯.০৭.২০১৭)। রাষ্ট্রপতি যদি সার্চ কমিটির তালিকা থেকেই নিয়োগ না দেবেন, তাহলে ওই কমিটিকে দিয়ে তালিকা করানো হল কেন? সরকার যাকে খুশি তাকেই তো কমিশনে নিয়োগ দিতে পারত। কারণ মহামান্য রাষ্ট্রপতির তো এ নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বাইরে যাওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ নেই। কাজেই সার্চ কমিটির ব্যাপারটি ছিল লোক দেখানো মেলোড্রামা। আমি নিজে এমন কমিটির সদস্য হলে এবং প্রস্তাবিত নামের বাইরে থেকে সিইসি নিলে অসম্মানিত বোধ করতাম।

দেশে অনেক সুযোগ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও আমলা থাকা সত্ত্বেও তাদের বাদ দিয়ে সরকার এমন এক ব্যক্তিকে সিইসি করল, যাকে সার্চ কমিটি পছন্দ করেনি এবং যার একাডেমিক ও সার্ভিস রেকর্ড অতীতের সব সিইসির চেয়ে নিুমানের। তবে মান্যবর সিইসির যে যোগ্যতাই থাকুক না কেন, তার পক্ষে এহেন সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব নিয়ে স্বাধীনভাবে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ ছিল।

সেজন্য সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বারবার তাকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে নাগরিক সমাজের আস্থা অর্জনের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেসব পরামর্শ আমলে নেননি। এ কারণে তিনি তার কাজের মধ্য দিয়ে নাগরিক সমাজের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রধান ক্লায়েন্ট হল রাজনৈতিক দল। কমিশন নির্বাচন করে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যই। এছাড়া কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ এবং যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজন করে তার সবই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কাজেই কমিশনের সংশ্লিষ্টতা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেই বেশি হওয়া উচিত। অথচ এ কমিশন দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার আগে কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে।

এ নির্বাচন বিষয়ে সিইসি ৩১ মে ও ৬ জুন ২০১৭ তারিখে যথাক্রমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেকের সঙ্গে বৈঠক করে সমালোচিত হন। পরবর্তী সময়ে ৩১ জুলাই সুশীল সমাজ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেও কমিশন সমালোচিত হয়।

কারণ দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের জন্য পরামর্শ করতে সারা দেশ থেকে একজনকেও না ডেকে কেবল ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বসবাসকারী ৫৯ জনকে তাদের পূর্বানুমতি না নিয়ে এজেন্ডাবিহীন নিমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে ডাকা হয়, যাদের মধ্যে ২৬ জনই ওই মতবিনিময় সভায় অনুপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ইসি ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও একই উদ্দেশে ইসি সংলাপ করে। এসব সংলাপে সরকারি দল ব্যতিরেকে প্রায় সবাই ইসিকে নাগরিক সমাজের আস্থা অর্জনের পরামর্শ দিয়ে বুঝিয়ে দেন- ইসির ওপর জনগণের আস্থা নেই।

নির্বাচনে বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহার না করতে পরামর্শ দিলেও সরকারি দলের ১১ দফা প্রস্তাবের ৯ নম্বর দফায় ইভিএমে নির্বাচনের দাবি করে। সরকারি দল নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী ব্যবহার করতে বললেও বিএনপিসহ অনেক দল সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে নির্বাচনকে সন্ত্রাস ও দুর্নীমিুক্ত করতে পরামর্শ দেয়।

এ কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মধ্যে একমাত্র নাসিক নির্বাচন বাদ দিলে বাকি সব নির্বাচনে সহিংসতা-দুর্নীতি-কারচুপি হয়েছে। এর মধ্যে কুসিক, খুসিক, বসিক, সিসিক, গাসিক নির্বাচনের নাম উল্লেখ করা যায়। এসব নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নির্মাণ ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় ইসি ব্যর্থ হয়। সরকারদলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রকাশ্যে তাদের কর্মী-ক্যাডারের মাধ্যমে ভোট কাটাকাটি ও কেন্দ্র দখল করে বিরোধীদলীয় প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরা, অনেক ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একত্রে মিলে সরকারদলীয় প্রার্থীদের বিজয় সুনিশ্চিত করে।

শত শত ভোট কেন্দ্রে প্রকাশ্যে দুর্নীতি-কারচুপি হলেও ইসি এসব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়নি। এসব স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় দুর্নীতি-কারচুপি এমন উচ্চতায় পৌঁছে যে, রেওয়াজ ভেঙে মার্কিন রাষ্ট্রদূত খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচনী অনিয়ম প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা জানান। এছাড়া সরকার প্রধান এবং মন্ত্রীরা সরকারি যানবাহন ও প্রটোকল ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা করলেও ইসি সে ব্যাপারে নীরব থাকে। এসব কারণে নাগরিক সমাজে ইসির ভাবমূর্তি হ্রাস পেতে থাকে।

তবে ইসি সবচেয়ে বেশি ইমেজ হারায় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, এ ইসি দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার কিছুদিন পর বলেছিল, তারা সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করবে না। সে কথামতো গত বছর জুলাই মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করে সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণায়ও ইসি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএমে নির্বাচন করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা লাভ করে, তা ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক।

ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা কেন্দ্রগুলোয় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দৃশ্যমান ছিল। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক ভোটাররা এ ব্যবস্থায় ভোট দিতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হন। তাদের বারবার বুঝিয়ে দেয়া সত্ত্বেও তারা ভুল করছিলেন। এর মধ্যে আবার বরিশাল ও খুলনায় কিছু বুথে ইভিএম নষ্ট হয়ে যায়।

বরিশালে ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি কক্ষের মধ্যে ৪টি ওয়ার্ডে ১১টি কেন্দ্রের ৭৮টি কক্ষে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করতে গিয়ে ইসি কর্মকর্তারা বেহাল অবস্থায় পড়েন। তার মধ্যে এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন নষ্ট হয়ে গেলে ওই কক্ষে ভোটারদের ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ভোট দিতে হয়। ফলে ভোটাররা ইভিএমে ভোটগ্রহণ করায় ইসির ওপর বিরক্ত হন। তা ছাড়া বুয়েটে তৈরি ইভিএম অন্য কোনো সমজাতীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এর সক্ষমতা পরীক্ষা করানো হয়নি। ফলে এ ইভিএম যে হ্যাকপ্রুফ তা বলা যায় না। দেশের মধ্যে অনেকে এ ইভিএম হ্যাক করা সম্ভব বলে চ্যালেঞ্জ করলেও তাদের তা প্রমাণের সুযোগ দেয়া হয়নি।

এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মাত্র কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নিতে গিয়ে যখন ইসির এমন নাকানিচুবানি অবস্থা, তখন কমিশন সভায় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি পাস হওয়ার আগেই ইসির জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩ হাজার ৮২১ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় লাখ ইভিএম মেশিন ক্রয়ের প্রকল্প গ্রহণ করা ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়ার শামিল (যুগান্তর, ১৮.০৮.২০১৮)।

পরবর্তী সময়ে ৩০ আগস্ট ৩৫তম কমিশন সভায় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে। ইসি কমিশনার মাহবুব তালুকদার সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার ইসির পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কমিশন সভা ত্যাগ করেন। পরে তার অনুপস্থিতিতে বাকিরা মিলে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পাস করেন। যেখানে একজন সুশিক্ষিত ও সম্মানিত ইসি কমিশনারকেই কমিশন সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজি করাতে পারেননি, সেখানে ইভিএমে ভোট প্রদানে প্রযুক্তি-অসচেতন সাধারণ মানুষকে ইসি কীভাবে সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণে রাজি করাবেন?

প্রথমে সংসদ নির্বাচন ইভিএমে না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে ওই নির্বাচনের রোডম্যাপেও সে সিদ্ধান্ত বহাল রেখে হঠাৎ নির্বাচনের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিভক্ত সিদ্ধান্তের (৪:১) মধ্যে সতর্ক নাগরিক সমাজ ইসির সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যোগসাজশ খুঁজে পায়।

তারা মনে করছেন, সরকার যে কোনো উপায়ে নির্বাচন জিতে আরেক মেয়াদ ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু স্বচ্ছ নির্বাচন হলে সরকারের পক্ষে ক্ষমতায় আসা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে ওই নির্বাচনে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যদি দেশব্যাপী ছাত্র-যুবকরাও জেগে ওঠে, তাহলে দুর্নীতি-কারচুপির নীলনকশার বাস্তবায়ন কঠিন হবে। সেক্ষেত্রে মেশিনের কারিশমায় নীরবে-নিঃশব্দে ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং করে নির্বাচন জেতার পরিকল্পনাই হচ্ছে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বলে কোনো কোনো নির্বাচন বিশেষজ্ঞের অভিমত।

সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলো এত বোকা নয় যে, এ বিষয়গুলো তারা বুঝতে পারছে না। এজন্য সরকারে শরিক দলগুলো বাদে প্রায় সব দল থেকেই ইসি পুনর্গঠনের জোরালো দাবি উঠেছে। আর এমন দাবি উঠবেই না বা কেন! কারণ তারা যখন দেখছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লি ইউনিভার্সিটির ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গণনায় কারচুপির কারণে ওই নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে, তখন তারা তো এমনটা ভাবতেই পারে যে, এখানেও এমনটি করার জন্য সিইসি পূর্বপ্রতিশ্রুতি ভেঙে ইভিএমে ভোটগ্রহণের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

তাছাড়া প্রস্তাবিত ইভিএম মেলার আগে ইসি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আলাপ করবেন না এবং ওই মেলায় নাকি কোনো রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণও জানানো হবে না (মানবজমিন, ১৪.০৯.২০১৮)। তাহলে যারা নির্বাচনের প্রধান অংশীজন, সেই রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে তিনি কি অন্য জায়গা থেকে লোক ভাড়া করে এনে ইভিএম মেলা করবেন? জনগণ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছে, ইভিএম ব্যবহার করে ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ইসি কোনো বিশেষ দলকে সহায়তা করতে চায়। এ সবকিছু বিবেচনায় নিলে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিকে অযৌক্তিক বলা যায় না।

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter