রোহিঙ্গা সংকটের জট খোলা সম্ভব

  এ কে এম শামসুদ্দিন ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প
ফাইল ছবি

গত ১১ সেপ্টেম্বর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে অক্সফার্ম বাংলাদেশের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সম্পর্কিত One Year On : Time to Put Women and Girls at the Heart of the Rohingya Response শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারকে চাপ না দিলে কথা রাখে না। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, তাদের ওপর চাপ পড়লেই তারা কথা বলে।’

তিনি বলেন, বিশ্বের সবাই সম্মিলিতভাবে চাপ দিলেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে তাদের আবাসভূমিতে ফিরে যেতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সেই সঙ্গে সারা বিশ্বে জনমত বাড়ানোর কাজও চলছে। জাতিসংঘের স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর এবং ৭৩তম সাধারণ অধিবেশন শুরুর আগে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আমাদের আশাবাদী না করে পারে না।

এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক গণহত্যা সংক্রান্ত জাতিসংঘের প্রতিবেদন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাস্তুচ্যুত করার বিষয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্তের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর মিয়ানমার ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আছে।

চলমান এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামকে কাজে লাগানোর এখনই উপযুক্ত সময়। জানা গেছে, গত মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি ১৮ সেপ্টেম্বর জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের চলতি অধিবেশনে উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের পরদিন বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে একটি আলোচনা সভারও আয়োজন করেছে। এ ছাড়া আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতা দেয়ার পাশাপাশি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককালে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা যায়।

গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও জাতিগত নিধন থেকে রক্ষা এবং প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দেশ ও জাতিসংঘের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনার জন্য আফগানিস্তান, ডেনমার্ক, জাপান, রোমানিয়া, গুয়েতেমালা, রুয়ান্ডা, ইউক্রেন, উরুগুয়ে ও নেদারল্যান্ডস এই মোট নয়টি দেশ সম্মিলিতভাবে একটি প্রস্তাব ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৯তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত দোষীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

এখন সহজেই অনুমান করা যায় যে, আন্তর্জাতিক এ অধিবেশনগুলোতে রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে এবং মিয়ানমারকে কঠোর সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হবে।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানসহ নয়টি দেশ সাধারণ অধিবেশনের এজেন্ডায় তাদের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্তির জন্য অনুরোধ করার সময় ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ অধিবেশনে গৃহীত এবং জাতিসংঘের ৬০/১ নম্বর সংকল্পপত্রে অন্তর্ভুক্ত World Summit Outcome-এর ১৩৮ ও ১৩৯ অনুচ্ছেদের রেফারেন্স দিয়ে জাতিসংঘকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নিধন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ থেকে নিজ নিজ নাগরিকদের রক্ষা করা প্রতিটি রাষ্ট্রের অবশ্য কর্তব্য বলে অবহিত করে।

কোনো রাষ্ট্র তার নাগরিকদের উল্লেখিত অপরাধ থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে, সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কী কী দায়িত্ব সে সম্পর্কেও স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৩৮ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা আছে, বিদ্বেষবশত জাতিগত নিধন (সাধারণ অর্থে সংখ্যালঘিষ্ঠ জনগোষ্ঠীকেই বোঝায়), গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা উল্লেখিত ঘটনা থেকে নাগরিকদের রক্ষা করা জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের প্রাথমিক এবং অবশ্য কর্তব্য।

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহল সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকে এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে উৎসাহ প্রদান করবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

১৩৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে, উল্লেখিত অপরাধমূলক ঘটনা থেকে সাধারণ নাগরিকদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক মহলেরও দায়িত্ব আছে। এ দায়িত্ব জাতিসংঘের চার্টারের চ্যাপ্টার ৬ ও ৮-এর আলোকে হতে হবে, অর্থাৎ মানবিক ও শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক উপায়ে।

যদি শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে কোনো ফলপ্রসূ সমাধান সম্ভব না হয় এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র এসব নৃশংস কার্যকলাপ থেকে তাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে স্পষ্টত ব্যর্থ হলে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে চ্যাপ্টার ৭ অনুসারে ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ৭ নাম্বার চ্যাপ্টার তখনই কার্যকর করা হয় যখন অন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার পরও আশানুরূপ কোনো ফল পাওয়া না যায়। চ্যাপ্টার ৭ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কতগুলো জটিল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের একমত হওয়া।

অতঃপর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইতিপূর্বে শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে যে সমাধানের পথ বের করে, জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে তা গ্রহণের জন্য আহ্বান করে, যদি কোনো পক্ষ সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করে তাহলেই চ্যাপ্টার ৭ অনুসারে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেয়া যায়।

সাধারণ অধিবেশনে আলোচনার জন্য প্রস্তাব উত্থাপনকারী দেশগুলো পরিষ্কার না করলেও এর উদ্দেশ্য বুঝতে অসুবিধা হয় না। মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর ইতিহাসের জঘন্য গণহত্যায় সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগণকে নাগরিকত্বসহ পূর্ণমর্যাদায় নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সৃষ্টি করাই যে তাদের উদ্দেশ্য তা বলাইবাহুল্য।

জাতিসংঘ চার্টারের ৭ নাম্বার চ্যাপটার এখনই হয়তো প্রয়োগের প্রয়োজন হবে বলে মনে হয় না। তবে এই পদক্ষেপে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ২০০৫ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত World Summit Outcome-এর ১৩৮ ও ১৩৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে মিয়ানমারের ওপর বল প্রয়োগের পথটি খোলা থাকল।

জাতিসংঘের বর্তমান সাধারণ অধিবেশনে এই প্রস্তাব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে রোহিঙ্গাদের জন্য যেমন ভালো হবে, বাংলাদেশের জন্যও সমস্যা সমাধানের পথ কিছুটা প্রশস্ত হবে। এটি আমাদের জন্য একটি খুশির খবর। তবে আমরা আরও বেশি খুশি হতে পারতাম যদি এই প্রস্তাব উত্থাপনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের নামটি দেখতে পেতাম।

অবশ্য এই তালিকায় নাম থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সাধারণ অধিবেশনকে সামনে রেখে অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পথে যদি কিছুটা এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলে মন্দ কী? আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ সবরকম প্রস্তুতি নিয়েই এই অধিবেশনে যোগদান করছে।

এখন বাংলাদেশের উচিত হবে অধিবেশনের এই সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফরকালে রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্রে মিয়ানমারের নাগরিক লেখার পরিবর্তে ‘রাখাইনের বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি’ লেখার বিষয়ে তিনি যে সম্মতি জ্ঞাপন করে এসেছেন সে ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করা এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য সব মহলকে রাজি করানো, যাতে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের সেদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে আসে।

বাংলাদেশের জন্য কাজটি কিছুটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এ ব্যাপারে চীন ও রাশিয়াকে রাজি করানো হবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ দুটি দেশ বরাবরের মতো মিয়ানমারের পক্ষাবলম্বন করে আসছে। মিয়ানমারের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বেশ নিবিড়।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মিয়ানমার এ দুটি দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করে ও সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। বাংলাদেশেরও রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি আছে, যার অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করার মতো।

সামরিক প্রশিক্ষণ লেনদেন ছাড়াও এ দুটি দেশ থেকে বাংলাদেশ উল্লেখ করার মতো সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম ক্রয় করে থাকে। কূটনৈতিক লক্ষ্য ঠিক রেখে এ দুটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ যদি আরও নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে পারতো তাহলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের প্রতি তাদের মনোভাব আরও নমনীয় হতো বলে মনে হয়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ এখনও সঠিক পদক্ষেপটি নিতে পারে। প্রয়োজনে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের পর অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে চীন এবং রাশিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফর করে উভয় দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথে এগোতে পারেন।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হবে সন্দেহ নেই, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার দায়ে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর জেনারেলদের বিচার করার জন্য এ মাসের গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ঘোষণা এবং ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের পর।

মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে জাতিসংঘের চলতি অধিবেশন বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে কোনো সংশয় নেই। আশা করি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে গণহত্যার বিচারসহ রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রটিকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এ কে এম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter