ডাকসু ও অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে

  মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডাকসু ও অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে

প্রায় তিন দশক ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ছাত্র সংসদের’ কোনো কার্যক্রম নেই। দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যমণ্ডিত ও শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (Dhaka University Central Students Union) তথা DUCSU বা ‘ডাকসু’র নির্বাচন ও কার্যক্রম বছরের পর বছর ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

ছাত্রছাত্রীরা অবশ্য ‘ছাত্র সংসদের’ কাজকর্মের জন্য নিয়মিতভাবে নির্ধারিত ফি দিয়ে যাচ্ছে। এটি যে একটি ঘোরতর অন্যায় কাজ সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও অবস্থা একইরকম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ এ দেশের বীর ছাত্রসমাজ দেশবাসীর সঙ্গে মিলে বুকের রক্ত দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মহান ইতিহাস রচনা করেছে। সংগ্রাম করে সামরিক স্বৈরশাসনের যুগের অবসান ঘটিয়েছে। ভোটাধিকার, সংগঠন-সমিতি করার অধিকার, গণতন্ত্র ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেছে। অথচ তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যা অগ্রাধিকারমূলকভাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া উচিত ছিল- সেই ডাকসুসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদের নির্বাচন ও তাদের কার্যক্রম আজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ছাত্রদের সংসদ নির্বাচন না হলেও বছর বছর শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হচ্ছে ঠিকই। আইনজীবী, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ইত্যাদি পেশাজীবীর নির্বাচনও যথাবিহিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে, স্থানীয়ভাবে ও প্রতিষ্ঠানগতভাবে তাদের সমিতিগুলো ঠিকঠাকই কাজ করে যাচ্ছে। কেবল ছাত্রসমাজ তাদের আপন-আপন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব নির্বাচিত সংসদ গঠনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এটি একটি বিস্ময় ও

পরিতাপের বিষয়ই শুধু নয়, নির্লজ্জ বঞ্চনা ও বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনাও বটে!

ডাকসুসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও তার কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই সমালোচনার ঝড় বইছে। যে অল্পসংখ্যক মানুষ ছাত্র সংসদের নির্বাচন ও কাজকর্ম সমর্থন করে না, তাদের প্রধান যুক্তি হল- ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে গেলেই দলাদলি-মারামারি হবে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। কিন্তু এ যুক্তি ধোপে টিকতে পারে না। কারণ এ যুক্তি যদি সত্য হতো তাহলে গত প্রায় তিন দশক ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও তার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হানাহানি ও নৈরাজ্যমুক্ত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তেমনটি হয়নি, বাস্তবে ঘটনা ঘটেছে উল্টো। যে সময় ডাকসুর কার্যক্রম ও ছাত্র সংসদগুলোর কার্যক্রম বহাল ছিল, সে সময়ের তুলনায় গত তিন দশকে, যখন সেসবের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে, তখনই বরং হানাহানি, অরাজকতা, অসামাজিক ও অপরাধমূলক কাজকর্ম এবং নৈরাজ্যমূলক পরিবেশ লাগামহীনভাবে বেড়েছে। এ থেকে প্রমাণ হয়- হানাহানি, নৈরাজ্য ইত্যাদির জন্য ছাত্র সংসদের নির্বাচন এবং তাদের কাজকর্ম কোনোভাবেই দায়ী নয়। বরং ছাত্র সংসদ না থাকাটিই এসবের জন্য বহুলাংশে দায়ী।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র নেতৃত্ব না থাকার ফলে তৈরি হওয়া শূন্যতার সুযোগে ছাত্র নামধারী অপরাধী শক্তি পেশিশক্তি প্রদর্শন করে স্বঘোষিত ‘মাতবর’ বনে যেতে সক্ষম হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তারা তাদের অপরাধমূলক কাজের আশ্রয়স্থলে পরিণত করে। নিজের ও ক্যাডারদের লালনের জন্য তারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভর্তি বাণিজ্য, সিট বাণিজ্য ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়। অচিরেই লুটপাটের প্রক্রিয়ার অতি স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হিসেবে লুটের মাল ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তাদের নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয়ে যায় হানাহানি। প্রটেকশনের জন্য তারা রাজনৈতিক শক্তির ক্যাডারের ভেক ধারণ করে। ‘লীগ’ ও ‘দল’ হিসেবে পরিচয় ধারণ করে তারা লিপ্ত হয়ে পড়ে চর দখলের মতো দ্বন্দ্ব-সংঘাতে। দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মাঝেই ৬০ঃ৪০ হিসাবে অথবা অন্য কোনো হিসাবে ভাগবাটোয়ারার ফয়সালা হয়। কয়েকদিন ঠাণ্ডা থাকে গোলাগুলি-হানাহানির উত্তেজনা। আবার আসে লুটপাটের মওকা। ফের শুরু হয়ে যায় হানাহানি। ভাগ বেশি পেতে হলে চাই বেশি পেশিশক্তি ও উপরতলার কানেকশন। অস্ত্র, ক্যাডার, গডফাদার ইত্যাদিতে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকার প্রয়োজনীয়তা ও প্রণোদনা আসে এখান থেকেই। শুধু ‘লীগ’ ও ‘দল’- এ দুই সংগঠনের মধ্যেই নয়, একই সংগঠনের বিবদমান একাধিক গ্রুপের মধ্যেই অনুরূপ কারণে হানাহানির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। চলে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার রক্তাক্ত প্রতিযোগিতা।

ছাত্র সংসদের বিরোধিতাকারীদের আরেকটি যুক্তি হল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলবে তার পরিচালকমণ্ডলীর ইচ্ছানুসারে। সবকিছু চালাবে তারাই। তারা যেভাবে বলবে, ছাত্রছাত্রীদের সেভাবেই চলতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্ব হল পরিচালক ও শিক্ষকদের শক্ত হাতের শাসন ও নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা। সেক্ষেত্রে ‘ছাত্র সংসদের’ কী করার থাকতে পারে? শিক্ষা প্রদান ও গ্রহণের বিষয়টি হল রাখালের গরু চরানোর মতো একটি বিষয়। গরুকে জিজ্ঞেস করে কোনো রাখাল কি কখনও গরু চরায়?

এ ধরনের চিন্তা যাদের মাথায় থাকে তারা আসলে ‘শিক্ষা’ বিষয়টি কী সেটিই ঠিকমতো বোঝে না। শিক্ষা অন্যান্য পণ্যের মতো স্রেফ লেনদেনের কিংবা গলা দিয়ে ওষুধ ঢুকিয়ে দেয়ার মতো বিষয় নয়। শিক্ষা শুধু মুখস্থ বিদ্যা ও পরীক্ষা পাসের ব্যাপার নয়। এমনকি, শিক্ষা শুধু প্রশ্নের উত্তর দিতে জানার বিষয় নয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হল সঠিকভাবে উত্তর দিতে জানার চেয়ে সঠিকভাবে প্রশ্ন করার শিক্ষা দেয়া। এর ফলেই সম্ভব হয় জ্ঞান ভাণ্ডারের ক্রমাগত বিকাশ। অন্যথায় হাজার হাজার বছর ধরে মানুষকে জ্ঞানের একই ভাণ্ডারের মাঝে আটকে থাকতে হতো। ঠিকমতো প্রশ্ন করতে না শিখলে জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়া কখনও সম্ভব হতে পারে না। শিক্ষাকে কখনই তাই গরু চরানোর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মিলিটারি প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র বা জেলখানা বলে গণ্য করা যেতে পারে না।

প্রকৃত শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল বংশপরম্পরায় সঞ্চিত জ্ঞান অর্জন এবং তার পরিপুষ্টি ও বিকাশ সাধন করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব হল শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে এবং সত্যিকার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। ক্লাসের পাঠ্যক্রমের সীমাবদ্ধতা থেকে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ক্লাসের বইপত্র-লেকচারের বাইরে তাদের নানামুখী সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, অধিকার বোধের জাগরণ, জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ড, স্বদেশ ও বিশ্বের নানা ঘটনার সঙ্গে পরিচয় ও সম্পৃক্তি, মুক্তচিন্তার বিকাশ, যুক্তিবাদী মানসিকতার কার্যক্রম আত্মস্থ করা, সৃজনশীলতার বিকাশ ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে আবশ্যক কাজ। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ হতে পারে এসব কাজের একটি

প্রধান বাহন।

ছাত্র সংসদগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল শিক্ষার্থীদের ‘ট্রেড ইউনিয়ন’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। ক্লাসরুমের ভাঙা চেয়ার-বেঞ্চ-টেবিল, সাদা হয়ে যাওয়া ব্ল্যাকবোর্ড, লাইব্রেরিতে বইয়ের স্বল্পতা, সেশনজট, টয়লেটের সমস্যা ইত্যাদি থেকে শুরু করে ছাত্র বেতনের হার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন সার্ভিস ব্যবস্থাপনা, শিক্ষানীতি, শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ, মুক্তবুদ্ধি চর্চার অবারিত সুযোগ, সমাজের সামগ্রিক গণতন্ত্রায়ণ ইত্যাদি নানা বিষয় ছাত্র সংসদের এখতিয়ারভুক্ত। ছাত্রজীবন ও শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে এগুলো প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। এসব বিষয় ছাড়াও আছে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত নানা বিষয়। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থাও শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রজীবনকে সরাসরি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানচর্চার পরিবেশকে এবং ছাত্রজীবন অব্যাহত রাখার আর্থিক সামর্থ্যকেও বহুলাংশে প্রভাবিত করে। এসব বিষয়ে কথা বলা, সক্রিয় থাকা, সংগ্রাম করা ছাত্র সংসদগুলোর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাছাড়া সব শিক্ষার্থীকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা শিক্ষার একটি প্রধান লক্ষ্য। দেশ-জাতি-জনতার সেবক হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলাটা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই অন্যতম কাজ। এভাবেই স্বাভাবিক ও যুক্তিগ্রাহ্যভাবে চলে আসে ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গ। কিন্তু সে রাজনীতির প্রসঙ্গটি আসে দলীয় বিবেচনা থেকে নয়। তা আসে ছাত্রসমাজের সাধারণ স্বার্থের বিবেচনা থেকে।

তাই দেখা যাচ্ছে যে, পাঠ্যবই, ক্লাস, লেকচার, পরীক্ষা ইত্যাদি যেমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবশ্যিক অঙ্গ, ঠিক সমান গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল ছাত্র সংসদের মাধ্যমে পরিচালিত কাজকর্ম। যুক্তির কথা হল এই যে, নিয়মিতভাবে ক্লাস, পরীক্ষা ইত্যাদি না নিতে পারলে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়, ঠিক তেমনি বছর বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন না করতে পারলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া উচিত।

আমাদের দেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে। দলীয় ভূমিকার বাইরে আগাগোড়াই ছাত্রসমাজের ছিল সমাজে একটি সচেতন রাজনৈতিক অবদান। ডাকসু সেই ভূমিকা ও অবদান রাখার ক্ষেত্রে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নয়, দেশের গোটা ছাত্রসমাজের নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে ডাকসু না থাকায় সেক্ষেত্রে প্রায় পরিপূর্ণ শূন্যতা বিরাজ করছে।

‘ছাত্র সংসদ’ ও ‘ছাত্র সংগঠন’ এক বিষয় নয়। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে হানাহানির ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরে বলা হয়ে থাকে, ‘ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোর সহ-অবস্থান নিশ্চিত হলে তারপর ডাকসু নির্বাচন দেয়া হবে। নয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’ হায়রে অজুহাতের বাহার! জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আগে সহ-অবস্থান প্রতিষ্ঠা হওয়াকে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বশর্ত করা হলে তা কি মেনে নেয়া যেতে পারে? এ যেন ‘ডিম আগে না মুরগি আগে’র মতো কূটতর্কে আটকে ফেলে হীন উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা! আগে ডাকসু, না আগে সংগঠনগুলোর সহ-অবস্থান? বলাবাহুল্য, ডাকসু না থাকলে পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসী ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণ থেকে ‘লীগ’, ‘দল’ ইত্যাদি সংগঠনকে মুক্ত করা যাবে না। ফলে সহ-অবস্থানও নিশ্চিত হবে না। তাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক অবস্থা প্রতিষ্ঠার কাজটি শুরু করতে হবে ডাকসু নির্বাচন দিয়ে।

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এ ব্যবস্থাপত্র সমানভাবে প্রযোজ্য।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এখন আবার আলোচনা সামনে এসেছে। বছরখানেকেরও বেশি সময় আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিজে (যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যও বটে) ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রকাশ্যে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে নির্দেশ মানা হয়নি। ৯ মাস আগে হাইকোর্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তাও পালন করা হয়নি। এ ৬ মাসের সময়সীমার পর আরও প্রায় ৩ মাস পার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আদালত অবমাননার অপরাধের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার পর গত সপ্তাহে ভিসি মহোদয় পরিবেশ পরিষদের সভা ডেকে তৎক্ষণাত নির্বাচন তফসিল ঘোষণার বদলে আরও ৬ মাস পর (অর্থাৎ ২০১৯ সালের মার্চ মাসে) ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন। একই দিনে তিনি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার আবেদন করেছেন। এ সবের ফলে তার প্রকৃত সদিচ্ছা সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। ডাকসু নির্বাচন বছর বছর হওয়ার নিয়ম রয়েছে। নির্বাচন করার জন্য ১ বছর ধরে চাপ এবং ৬ মাস ধরে যদি প্রস্তুতি নিতে হয়, তাহলে বছর বছর নির্বাচন হবে কী করে?

বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডার আছে। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও তা আছে। কবে ক্লাস শুরু করতে হবে, কবে পরীক্ষা নিতে হবে ইত্যাদি তারিখ তাতে নির্ধারণ করা থাকে। সেই অনুসারে ক্লাস শুরু, পরীক্ষা অনুষ্ঠান না করতে পারলে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়, পরিচালক বদল করা হয়। ক্লাস, পরীক্ষা ইত্যাদির মতো ছাত্র সংসদও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের অত্যাবশ্যক উপাদান। তাই একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখও নির্দিষ্ট করে দেয়া প্রয়োজন। সেই তারিখ মোতাবেক ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ঘোষণা দেয়া প্রয়োজন। ছাত্রসমাজের জন্য প্রকৃত জ্ঞানার্জন এবং শিক্ষিত হয়ে ওঠার ব্যবস্থা নিয়ে দায়িত্বহীনতা আর সহ্য করা যায় না। ধৈর্যেরও সীমা আছে। ২৮ বছর তো গেল! আর কত?

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি; সাবেক ভিপি, ডাকসু

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : ডাকসু নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter