উদারপন্থী বিচারকের অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন মার্কিনিরা

খবরদার আপনি মারা যাবেন না

  যুগান্তর ডেস্ক ১২ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রথ বেডার গিন্সবার্গ (৮৫
রথ বেডার গিন্সবার্গ (৮৫)

যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থী নারী বিচারক রথ বেডার গিন্সবার্গ (৮৫) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় গভীর উদ্বেগে রয়েছেন মার্কিনিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিচারকের আরোগ্য কামনা করেছেন অনেকে।

তৈরি হয়েছে ‘হ্যাশট্যাগ রথবেডারগিন্সবার্গ’। সেখানে একজন লিখেছেন, ‘খবরদার আপনি মারা যাবেন না। আপনাকে আমাদের খুবই প্রয়োজন।’ লরেন ডুকা নামের একজন লিখেছেন, ‘আমি গিন্সবার্গকে আমার সবগুলো পাঁজরের হাড় আর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করব।’ খবর বিবিসির।

বুধবার গিন্সবার্গ তার কার্যালয়ে পড়ে গেলে পাঁজরের তিনটি হাড় ভেঙে যায়। শুক্রবার হাসপাতাল ছেড়েছেন তিনি। শনিবার থেকে তিনি বাসায় অফিস করছেন।

তবে এখনও উদ্বেগ কমেনি। টকশো উপস্থাপিকা জিমি কিমেল তার অনুষ্ঠানে এ বিচারক সম্পর্কে বলেন, ‘যে কোনো মূল্যেই ৮৫ বয়সী এ বিচারকের নিরাপত্তা দিতে হবে।’ হ্যালোউইনে যেমন খুশি তেমন সাজো উৎসবের থিম হিসেবে অনেকে গিন্সবার্গকে গ্রহণ করেছেন।

শিশুকে বাবা-মায়েরা গিন্সবার্গের বিখ্যাত চশমার ফ্রেমটি পরিয়ে, হাতে বিচারকের একটা হাতুড়ি ধরিয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। এমনকি তার আদলে তৈরি পুতুল পর্যন্ত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টে সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিচারকার্য পরিচালনা করছেন গিন্সবার্গ। মার্কিন সুপ্রিমকোর্টে দ্বিতীয় নারী বিচারক তিনি। এর আগে তিনি দু’বার ক্যান্সারের সঙ্গে লড়েছেন। তার হার্টে রিং পরানো রয়েছে।

এত কিছুর পরও তিনি জীবনে কোনোদিন আদালতে যুক্তিতর্কের দিন অনুপস্থিত থাকেননি। তার জীবন নিয়ে সম্প্রতি একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র। লেখা হয়েছে বই, যা প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ‘বেস্ট সেলার’ হয়েছিল। তার জন্য এত শুভকামনার পেছনে রয়েছে রাজনীতির মারপ্যাঁচ। গিন্সবার্গ যুক্তরাষ্ট্রে উদারপন্থীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।

গিন্সবার্গ অবসরে গেলে অথবা মারা গেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পছন্দের তৃতীয় বিচারক নিয়োগ দিতে পারবেন। ফলে সুপ্রিমকোর্টে কট্টর রক্ষনশীলরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে।

আর তাতে উদারপন্থীরা মুশকিলে পড়বে। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই দু’জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। যাদের একজন ব্রেট ক্যাভানা। যার বিরুদ্ধে অন্তত তিনজন নারী যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন।

গিন্সবার্গ যুক্তরাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত মামলায় বিচারক ছিলেন। যেমন ভার্জিনিয়া রাজ্যে সেনাবাহিনীর ইন্সটিটিউটে শুধু পুরুষদের নিয়োগ দেয়ার নীতি বদলে তার ভূমিকা ছিল। নৌবাহিনী থেকে এক নাবিককে সমকামী হওয়ার কারণে বরখাস্ত করা হয়েছিল সেই অভিযোগের শুনানি করেছিলেন তিনি।

গিন্সবার্গের সংগ্রামী জীবন : ১৯৩৩ সালে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে তার জন্ম। একজন ইহুদি অভিবাসীর মেয়ে তিনি। ১৭ বছর বয়সে মাকে হারিয়েছেন ক্যান্সারে। ১৯৫৪ সালে কর্নওয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করেন। এরপরই বিয়ে করেন এবং গর্ভবতী হন।

গর্ভবতী হওয়ার কারণে তাকে চাকরি থেকে পদাবনতি দেয়া হয়েছিল। এ কারণে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের বিষয়টি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ১৯৫৬ সালে হার্ভাড ল’ স্কুলে যে নয়জন নারী ভর্তি হয়েছিলেন গিন্সবার্গ তাদের একজন।

পরে বদলি হয়ে কলাম্বিয়া ল’ স্কুলে চলে আসেন গিন্সবার্গ। ক্লাসের সবচেয়ে সেরা শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও চাকরি খুঁজতে বেগ পেতে হয়েছে তাকে। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তিনটি কারণে আমি আটকে যাচ্ছিলাম, আমি ইহুদি, আমি নারী এবং আমি একজন মা।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×