বিপদ উল্টে সিরিসেনার ঘাড়ে

‘খোঁড়া হাঁস’ রাজাপাকসেকে পদে বহাল রাখতে ক্ষমতার জোর খাটালে বিপাকে পড়বেন সিরিসেনা * স্বৈরশাসকের আসনে সওয়ার হতে পারেন, শিগগিরই বৈঠকে বসছেন বিক্রমাসিংহে-রাজাপাকসে

  সালমান রিয়াজ ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিপদ উল্টে সিরিসেনার ঘাড়ে
শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলংকার সাংবিধানিক সংকটের বোঝা উল্টো এখন ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার ঘাড়ে এসে ভর করছে। ভারত মহাসাগরের এ দ্বীপরাষ্ট্রে তিনিই সমস্যা সৃষ্টি করেছিলেন।

সমাধানও এখন তার হাতে। পার্লামেন্টের স্পিকার দেশের ‘অশুভ শক্তি’ তাড়াতে সফল সেনানায়কের ভূমিকা পালন করেছেন।

‘দুই প্রধানমন্ত্রী’ সংকটে পালের হাওয়া কোন দিকে দুলছে তা নিরূপণ করেছেন স্পিকার। বল এখন প্রেসিডেন্টের কোর্টে। সিরিসেনাকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভুলভাল কিছু হলেই বিপদে পড়বেন তিনি। পড়তে পারেন অভিশংসনের মুখে। প্রধানমন্ত্রী পদ বাতিল করে স্বৈরশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাও ফেলে দেয়ার নয়। কারণ বিশ্বরাজনীতিতে এ ধারা হরহামেশাই চলছে।

‘নিজ পায়ে কুড়াল মারা’ এমন চিন্তা মাথায় নিলেই রক্তগঙ্গা বয়ে যেতে পারে শ্রীলংকায়।

সংবিধানিক ক্ষমতার ঊর্ধ্বে গিয়ে ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে সরিয়ে মাহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসান সিরিসেনা। বিতর্কিত এ সিদ্ধান্তে দ্বীপরাষ্ট্রকে সংবিধানিক সংকটে ফেলে দেন তিনি। পরে আরও একধাপ এগিয়ে সিরিসেনা পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ৫ জানুয়ারি আগাম নির্বাচনের ডাক দেন।

রাজপথে নেমে আসেন বিক্রমাসিংহে দলের নেতাকর্মীরা। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সুপ্রিমকোর্টে সিরিসেনার সিদ্ধান্তের বৈধতায় চ্যালেঞ্জ জানায়। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্টের ডিক্রিতে স্থগিতাদেশ দিয়ে পার্লামেন্ট চালুর ঘোষণা দেয়। বুধবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে রাজাপাকসের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটে ১২২ এমপি সমর্থন দেন।

এতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাশূন্য হয়ে পড়ে শ্রীলংকা। সিরিসেনা অনাস্থা ভোট প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিলেও তাকেই এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে সিরিসেনাকেই নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে হবে।

এক্ষেত্রে সিরিসেনার কাছে তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহেকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে তার সঙ্গে সমঝোতা করা। দ্বিতীয়ত, বিক্রমাসিংহের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) অন্য কোনো নেতাকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানো।

তৃতীয়ত, স্বৈরশাসনের পথ বেছে নেয়া। বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ গত তিন বছরে দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ছিল তীব্র। জোট গড়ে ক্ষমতায় এলেও নীতিগত সিদ্ধান্তে ছিল ভিন্নমত। দিন দিন বাড়তে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ্য কোন্দলে রূপ নেয়।

একে অপরের ‘চিরশত্রুতে পরিণত হওয়ার এ পরিস্থিতিতে বিকল্প চিন্তা করছেন সিরিসেনা। তিনি ইউএনপির দুই এমপিকে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে শ্রীলংকা গার্ডিয়ান। ‘খোঁড়া হাঁস’ রাজাপাকসেকে পদে বহাল রাখতে সিরিসেনা ক্ষমতার জোর খাটালে তা হবে চরম বোকামি। এতে বিপদে পড়বেন নিজেই। অ

ভিশংসনের মুখে পড়বেন তিনি। পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন। ২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টে প্রয়োজন হবে ১৬০ এমপির সমর্থন। রাজনৈতিক সংকটের শুরুতে সিরিসেনার বিরুদ্ধে অভিশংসনের চিন্তা করেছিল বিক্রমাসিংহের দল।

কিন্তু প্রয়োজনীয় এমপিদের সমর্থন না থাকায় সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। এখনও সিরিসেনাকে অভিশংসনের আপাতত সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রমাসিংহের শরিক দল জনতা ভিমুক্তি পেরামুনার নেতা অরুনা কুমারা দিশানায়েকে।

প্রধানমন্ত্রী দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে একক ক্ষমতার আসনে বসতে পারেন সিরিসেনা। স্বৈরশাসনের ঝাণ্ডা তুললে রক্তস্রোত বয়ে যাবে শ্রীলংকায়। ভারত উপমহাদেশের এ দেশটিতে মিশ্র সামন্ততান্ত্রিক ও মুক্তচিন্তা চর্চা বিদ্যমান। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

আর গরিব সমাজের লোকেরা এখনও সনাতন সামন্ততান্ত্রিকতাকে আকড়ে ধরে রয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা হল, একক রাজার শাসনে পরিচালিত হবে দেশ। এমন ধারণা থেকে স্বৈরশাসকের আসনে সওয়ার হতে পারেন সিরিসেনা। এসব সম্ভাবনা নিয়েও চিন্তিত ‘দুই প্রধানমন্ত্রী’।

শিগগিরই বিক্রমাসিংহে ও রাজাপাকসে পার্লামেন্ট ভবনে আলোচনার টেবিলে বসছেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন উভয় পক্ষের পাঁচজন করে নেতা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×