বিশ্ব মোড়ল হতে চায় ব্রিটেন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক ঘাঁটি হবে * ১৪ জানুয়ারি ভোটাভুটি ব্রেক্সিটের সম্ভাবনা ৫০-৫০

  যুগান্তর ডেস্ক ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব মোড়ল হতে চায় ব্রিটেন
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেভিন উইলিয়ামসন। ছবি: টেলিগ্রাফ

আবার বিশ্বমোড়ল হতে চায় ব্রিটেন। সাবেক আমলের মতো ফের দেশে দেশে বসাতে চায় সামরিক ঘাঁটি। আগামী বছরের মার্চে ব্রেক্সিট হয়ে গেলেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে বসানো হবে এসব ঘাঁটি।

নতুন এ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের ‘সত্যিকারের বিশ্বশক্তি’ হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেভিন উইলিয়ামসন। রোববার সানডে টেলিগ্রাফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ১৯৬০-এর দশকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাম্রাজ্য গুটিয়ে নেয়ার নীতি বাতিল করবে ব্রিটেন এবং সেই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে নতুন ভূমিকায় হাজির হবে।

বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র আর ‘পুলিশগিরি’ করবে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক দিন পরই ব্রেক্সিট পরবর্তী বিশ্বে ব্রিটেনের ভূমিকা খোলাসা করেন উইলিয়ামসন।

এদিকে ব্রেক্সিট হওয়া না হওয়া নিয়ে ৫০-৫০ সম্ভাবনা দেখছেন ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়াম ফক্স। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে যে ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া তৈরি করেছেন, তা যদি সংসদে পাস না হয় তাহলে ঝুলে যেতে পারে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া। দ্য টেলিগ্রাফ, সিএনএন ও ইউকে এক্সপ্রেস।

সাক্ষাৎকারে ব্রেক্সিটের গুরুত্বের নানান দিক তুলে ধরে উইলিয়ামসন বলেন, সরকারের সহযোগিতায় ব্রেক্সিটের দিন থেকেই বিভিন্ন ঘাঁটিতে সেনা মোতায়েন করা হবে।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডার মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ দেশগুলোর পাশাপাশি এশিয়া, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোতে নতুন ঘাঁটি যোগ করা হবে।’

এ দিন লিয়াম ফক্স বলেন, তিনি মনে করেন, ‘নিজেদের সম্মান রক্ষার্থেই’ প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়া উচিত। ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন যদি বাধাপ্রাপ্ত হয় তাহলে ভোটাররা সংসদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এ মাসে ব্রেক্সিট প্রস্তাবের ওপর সংসদে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মে ভোটের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছেন এটা জেনে যে, বড় ব্যবধানে প্রস্তাবটি পরাজিত হবে। ১৪ জানুয়ারি সংসদে ভোটাভুটি হওয়ার দিন নির্দিষ্ট হয়েছে।

২৯ মার্চ যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা। আর ইইউ ত্যাগের শর্ত হিসেবে মে তৈরি করেছেন ইইউ ত্যাগের শর্তাবলী, যা ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন চুক্তি নামে পরিচিত। চুক্তিটি কার্যকর করতে হলে তা পাস করাতে হবে সংসদে।

কিন্তু চুক্তির শর্ত নিয়ে ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যেই রয়েছে প্রবল দ্বিমত, যার জেরে দুই ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রীসহ আরও কয়েক মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এমনকি খোদ নিজের দলের সংসদ সদস্যরা মে’র নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

তাদের অনাস্থাপত্রের জেরে মের বিরুদ্ধে ১২ ডিসেম্বর সংসদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভোটাভুটিও। বেশিরভাগ সংসদ সদস্য মে’র নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিলেও তাদের অবস্থান ব্রেক্সিট চুক্তির শর্তের বিরুদ্ধে।

বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়াম ফক্স বলেছেন, সংসদ সদস্যরা যদি তেরেসা মে’র ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের খসড়া চুক্তিতে সমর্থন না দেন তাহলে ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। তার ভাষায়, ‘ফিফটি ফিফটি চান্স।’ সেক্ষেত্রে ব্রেক্সিট বাতিল হয়ে যাওয়ার দিকেই এগোবে পরিস্থিতি।

ফক্সের ভাষ্য, ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন তখনই শতভাগ নিশ্চিত হবে, যখন সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত খসড়া চুক্তিটির পক্ষে ভোট দেবেন। যদি চুক্তিটি পাস না হয়, তাহলে ভোটার ও সংসদের মধ্যে থাকা আস্থার বন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ ভোটাররা ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×