ফিরে দেখা ২০১৮

এক ট্রাম্পেই ডুবল ইরান

  যুগান্তর ডেস্ক ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক ট্রাম্পেই ডুবল ইরান
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সিএনএন

‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (আগে আমেরিকার স্বার্থ) নীতিকে কাঁটায় কাঁটায় বাস্তবায়নের পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের গোঁয়ার্তুমির জোরে ইরান চুক্তি প্রত্যাহার করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প সব মিত্র দেশের উপদেশ আঁস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন।

তিনি খুবই স্থূলভাবে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ অন্য দেশগুলোর স্বার্থের প্রতি অসম্মান করেছেন। চুক্তি থেকে সরে গিয়ে ‘ধর মার কাট’ নীতিতে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করেন ট্রাম্প। তেহরানের তেল রফতানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে মিত্র দেশের ওপরও চাপ দেন তিনি।

এক ট্রাম্পই ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে ডুবাচ্ছে। পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় মত্ত থাকা ইরানের অর্থনীতি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। ডলারের ডলায় পিষ্ট হয়ে কমে গেছে রিয়ালের মান। বন্ধ হয়েছে শ্রমিক-শিক্ষকদের বেতন।

এর প্রতিবাদে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে হাজার হাজার জনগণ।

২০১৫ সালে ইরান বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সম্মত হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া এ চুক্তির অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে ইরান। দেশটির বিরুদ্ধে আনা অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়ার শর্তে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পরমাণু কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে অনুমতি দেয়। চুক্তিটি বাতিল করে সব ভেস্তে দিয়েছেন ট্রাম্প।

চুক্তিটি ভেঙে দেয়ার ফলে ইরান তার পরমাণু কার্যক্রম পুনরায় শুরুর স্বাধীনতা পেল। তবে সেক্ষেত্রে ঘাড়ে চেপে বসবে বড় বড় অবরোধের বোঝা। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্প তার যুক্তি হিসেবে বলেন, ‘পরমাণু চুক্তির জোরে তেহরান মধ্যপ্রাচ্য নিজেদের কব্জায় নেয়ার জন্য বেপরোয়া হয়েছে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মানেই এই নয় যে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেবে। বরং চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ইরানের কট্টরপন্থীদের আরও সাহসী করে তুলেছে। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন এবং আশপাশের এলাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। উত্তর কোরিয়াকে বারবার হুমকি-ধমকির মধ্যে রেখে তাদের পরমাণু শক্তিধর হতে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার উত্তর কোরিয়ার মতোই ইরানকেও পরমাণু শক্তিধর হওয়ার পথে ঠেলে দিলেন ট্রাম্প।

এর বিপরীতে তেলনির্ভর ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখতে দেশটির তেল রফতানি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এজন্য ইরানের প্রধান তেল রফতানিকারক দেশ চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও তুরস্ককে হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরান মোট তেল রফতানির ২২ শতাংশ চীনে, ১৪ শতাংশ জাপানে, ১৩ শতাংশ ভারতে, ৭ শতাংশ দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতে করে থাকে। চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে বেইজিং হয়তো ট্রাম্পের হুমকি কানে তুলবে না। কিন্তু অন্য দেশগুলো ওয়াশিংটনের মিত্র।

তবে অর্থনীতির খড়গ ইরানের ওপর পড়তে শুরু করেছে। বছরের শেষদিকে এসে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য ৭০ শতাংশ কমেছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ইরানের পরমাণু সমঝোতা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×