ফিরে দেখা ২০১৮

আসাদের গলায় জয়ের মালা

  যুগান্তর ডেস্ক ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসাদের গলায় জয়ের মালা
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। ছবি: আল জাজিরা

দীর্ঘ সাত বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ২০১৮ সালে জয়ের মালা উঠেছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের গলায়। সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎই সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এরপরই গত ২৭ ডিসেম্বর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় মানবিজ শহর ছেড়ে চলে গেছে কুর্দি যোদ্ধারা। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কুর্দিদের দখলে থাকা এটি ছিল সর্বশেষ ঘাঁটি। গত সপ্তাহে দামেস্কে দূতাবাস পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আসন্ন বছরে বাহরাইন, কুয়েতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ার সঙ্গে ফের সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চিন্তা করছে। সদস্য পদ বাতিলের ৭ বছর পর আরব লিগ আবার সিরিয়াকে সদস্য করার কথা বিবেচনা করছে।

২০১৮ সালের শেষ ৫ মাসে এমন কূটনৈতিক বিজয়কে আসাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেষমেশ জয় হল বেসামরিক নাগরিকদের রক্তের হোলি খেলায় মত্ত আসাদেরই।

সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্পই মূলত গেম চেঞ্জার। আকস্মিক সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার আগে আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। ওই ফোনকলেই বদলে যায় সব পরিস্থিতি। সিরিয়া থেকে আইএস নির্মূলের দায়িত্ব তুরস্কের ওপর চাপান তিনি।

এরপরই কুর্দি বাহিনীকে হটানোর হুমকি দেয় তুরস্ক। এতেই কুর্দি ওয়াইপিজি বাহিনী মানবিজ ছেড়ে চলে যায়। তুরস্ক কুর্দি ওয়াইপিজি বাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বলেই গণ্য করে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী নৃশংস যুদ্ধে আসাদ রাসায়নিক অস্ত্রকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১০৬টি রাসায়নিক হামলা হয়েছে। অনুসন্ধানে এর তথ্যও মিলেছে।

অথচ ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তিতে (সিডব্লিউসি) সই করে দেশের রাসায়নিক অস্ত্রের ভাণ্ডার ধ্বংস করতে সম্মত হয়েছিলেন আসাদ।

রাসায়নিক হামলার জন্য পশ্চিমারা আসাদ ও তার মিত্র রাশিয়াকে দায়ী করেছে। কিন্তু আসাদ রাসায়নিক হামলার দায় বরাবরই বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে আসছেন। তার ভাষ্য, ২০১৩ সালে হস্তান্তরের পর থেকে তার সরকারের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র আর নেই।

সিরিয়ার কারাগারে বন্দিদের হত্যা ও পুড়িয়ে মারার অভিযোগ রয়েছে আসাদের বিরুদ্ধে। সিরিয়ায় সামরিক কারাগারের বন্দি হত্যার তথ্য গোপন করতে ‘লাশ পোড়ানোর চুল্লি’ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন।

স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব নিয়ার ইস্টার্ন অ্যাফেয়ার্সের ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী স্টুয়ার্ট জোনস এ তথ্য দেন।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, দামেস্কের সেডনায়া কমপ্লেক্সের ছাদের বরফ গলে যাচ্ছে। ক্রিমেটোরিয়ামের উত্তাপের কারণেই এমনটা হয়েছে। জোনসের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন বন্দিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : সিরিয়া যুদ্ধ

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×