নাইজেরিয়ায় পেটের জ্বালায় জঙ্গি হচ্ছেন নারীরা

একবেলা খেলে আরেক বেলার নিশ্চয়তা নেই

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: গার্ডিয়ান

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারাম। এক দশক ধরে ঘুম হারাম করে দিয়েছে সাধারণ মানুষ, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহর-উপশহর সর্বত্র একটানা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

চালাচ্ছে খুন-হত্যা-ধর্ষণ-লুটতরাজ। বর্তমানে জঙ্গিগোষ্ঠীটির নয় হাজারের বেশি যোদ্ধা রয়েছে। মূলত গ্রামাঞ্চলের কিশোর-যুবকদের যোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। গত কয়েক বছরে বহু নারী ও কিশোরীকেও অপহরণ করে গোষ্ঠীটি।

প্রধানত রান্নাবান্নার কাজে ও স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার আবার কখনও আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এদেরকে অপহরণ করা হয়।

কিন্তু বহু নারী ও কিশোরীই স্বেচ্ছায় যোগ দিচ্ছে জঙ্গিগোষ্ঠীতে। এমনকি অপহরণের পর সেনাবাহিনীর মাধ্যমে উদ্ধার হওয়ার পরও ফের বোকো হারাম যোদ্ধাদের কাছে ফিরে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ, এই অঞ্চলের প্রবল দারিদ্র।

এক কথায়, নিতান্ত পেটের দায়ে জঙ্গি হয়ে যাচ্ছে নারীরা। তেল ও কৃষিসমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও কাজ নেই মানুষের। একবেলা খেলে আরেক বেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও চরম বৈষম্য। তার ওপর সরকারের সীমাহীন শোষণ-দুর্নীতি। সবমিলিয়ে হতাশার জীবন ছেড়ে একটু খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার আশায় আশ্রয় নিচ্ছে জঙ্গির আস্তানায়।

দ্য গার্ডিয়ানের রোববারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নাইজেরীয় নারীদের এই অন্ধকার জীবনের দিক। জঙ্গি আস্তানা থেকে পালিয়ে আসার পরও আবার সেখানেই ফিরে যাচ্ছে অনেকেই। জাহরা ও আমিনা (প্রকৃত নাম নয়) তেমনই দুই নারী।

জঙ্গি ডেরা থেকে পালিয়ে আসার পর বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাইদুগুরি শরণার্থী বাস করছেন তারা। গার্ডিয়ানকে এক সাক্ষাৎকারে এই দুজন জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর জঙ্গিদের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী হিসেবে। জঙ্গি জীবন কঠিন ও অনিশ্চিত হলেও সেখানে পর্যাপ্ত খাবার দেয়া হতো তাদের। স্ত্রী হিসেবে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থার ছিল।

তাদের সেখানে শিক্ষাদীক্ষা এবং ধর্মকর্মের সুবিধাও ছিল। কিন্তু শরণার্থী শিবিরে এখন দিনে একবেলা খেয়ে এক কঠিন জীবন পার করছেন তারা। আর এ কারণেই আবার বোকো হারামের কাছে ফিরে যেতে চান তারা।

২০০৯ সাল থেকে তারা নিয়মিতভাবে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ধর্মীয় উপাসনালয় এমনকি সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করে যাচ্ছে।

এ পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে এই সংগঠন এবং ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এখন নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চল দখলে নিয়ে সেখানে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে এবং তারা পুরো নাইজেরিয়া এবং এর আশপাশের দেশগুলোতেও তাদের শাসন জারি করতে চায়।