যুদ্ধাস্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলছে চীন : পেন্টাগন

  যুগান্তর ডেস্ক ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরিতে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে চীন। কোনো কোনো যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিদেরও ছাড়িয়ে গেছে দেশটি। জন্মবিশ্বাস এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধের মুখোমুখি হতে পিছপা হবে না বেইজিং। মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের নতুন প্রতিবেদনে এমন হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে। চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা এজেন্সির অশ্রেণীভুক্ত এ প্রতিবেদন সামনে এলো। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

‘চীনের সামরিক শক্তি’ শিরোনামের এ প্রতিবেদনে হুশিয়ার করে বলা হয়, গত কয়েক বছর ধরে অস্ত্র সজ্জায় সজ্জিত হচ্ছে চীন। বর্তমানে দেশটি দূরপাল্লার প্রযুক্তি, মাঝারি ও মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক অস্ত্রে আধুনিক হয়েছে। শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে হাইপারসনিক অস্ত্র ও শত্রুপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে দক্ষ হয়েছে চীন।

মার্কিন রিপোর্টে বলা হয়, শেষ কয়েক দশকে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি করেছে চীন। উৎপাদন শিল্পে চীন সারা পৃথিবীর ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠা থেকেই এই অগ্রযাত্রার শুরু। কম খরচে ও ভালো পরিকাঠামোতে উৎপাদনের আকর্ষণে সারা পৃথিবীর তাবড় কোম্পানির গন্তব্য এখন চীন। তাতে কোম্পানিগুলোর মুনাফা হলেও চীনের কাছে চলে যাচ্ছে প্রযুক্তি। সেই প্রযুক্তির বলে বলীয়ান হয়েই এখন বিশ্বের সেরা সেরা বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্রের মালিক চীন।

সিএনএন বলছে, চীনের শক্তি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। আঞ্চলিক বিভেদপূর্ণ অঞ্চল যেমন তাইওয়ানে হামলার বিষয়েও হুশিয়ারি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, সামরিক সক্ষমতা চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে (পিএলএ) আরও শক্তিশালী করবে। বিশ্বের যে কোনো আধুনিক অস্ত্রেশস্ত্রে এগিয়ে যাবে পিএলএ। এসব অস্ত্রের কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশটি। রিপোর্টে বলা হয়, চীনের এ সামরিক অগ্রগতির অর্থ হল আকাশ, স্থলে, সমুদ্রে ও মহাকাশে শক্তিশালী হয়ে উঠছে দেশটি। এটি আঞ্চলিক যুদ্ধে চীনের জয় নিশ্চিত করবে।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে- চীন তার সামরিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি উন্নততর করছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চীন আরও বেশি জন্মবিশ্বাসী হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাইওয়ান যদি স্বাধীনতা ঘোষণা করতে যায়, তবে সামরিক শক্তি প্রয়োগেও দ্বিধা করবে না চীন। তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে মনে করে বেইজিং।

মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, গত ৪০ বছরে সামরিক ক্ষেত্রে শুধুই অগ্রগতি হয়েছে চীনের। কিন্তু তারা কোথাও কোনো যুদ্ধ করেনি। নিজেদের সামরিক সক্ষমতা যাচাই করতে সত্যিকারের ক্ষেত্র প্রয়োজন তাদের। সেই জন্য তাইওয়ানকেই তারা বেছে নিতে পারে নিজেদের প্রথম যুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে। গোয়েন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি সেই দিকেই এগোচ্ছে।

ভূগর্ভে ইস্পাতের মহাপ্রাচীর চীনের

পরমাণু বোমা, বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা ও শব্দের চেয়ে ১০ গুণ দ্রুতগতির হাইপারসনিক মরণাস্ত্রের হামলা প্রতিহত করতে ইস্পাতের ভূগর্ভস্থ মহাপ্রাচীর তৈরি করেছে চীন। হাইপারসনিক অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে যাওয়ার মাঝপথে দিক পরিবর্তন এবং যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারে। বুধবার চীনের দৈনিক গ্লোবাল টাইমসে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সর্বোচ্চ পদক অর্জনকারী বিজ্ঞানী কিয়ান কিহু এ প্রাচীর নির্মাণের কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×