ব্রেক্সিট পরে, ব্রিটেনে এখন সরকার নিয়ে টানাটানি

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। ছবি: এএফপি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের চুক্তি পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ব্রেক্সিট ইস্যুতে এখন সরকারের গদি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। ২৩০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ব্রেক্সিট চুক্তি নাকচ হওয়ার পর মের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উঠেছে।

বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে। ইতিমধ্যে লেবার পার্টির ৭১ নেতা আরেকটি ব্রেক্সিট গণভোটের ডাক দিয়েছেন। ব্রিটেনে এখন কী ঘটতে যাচ্ছে- বুধবার এক প্রতিবেদনে সেই সম্ভাব্যতা জানিয়েছে বিবিসি।

অনাস্থা প্রস্তাব

২৯ মার্চের মধ্যে ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার কথা। হাতে সময় মাত্র ৭৩ দিন। এর মধ্যে তেরেসার বড় পরাজয় হল। এখন তার ক্ষমতার গদি ধরে টানাটানি শুরু হয়েছে। অনাস্থা প্রস্তাব জিতে গেলে সরকার ১৪ দিন সময় পাবে। এর মধ্যে সরকার বা অন্য কোনো দলকে অনাস্থায় জিততে হবে। অন্যথায় আগাম নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে। এ নির্বাচন হবে ২৫ কর্মদিবসের পর। যদি তেরেসা অনাস্থায় টিকে যায় তাহলে নতুন করে ব্রেক্সিট বিষয়ে সংসদে ভোটের ডাক দিতে পারবেন।

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট

নতুন ব্রেক্সিট ইস্যুতে সংসদে ভোটেও যদি কিছু না হয়, তাহলে ইইউর সঙ্গে দেনদরবার করে ব্রিটেনের সুবিধামতো কোনো চুক্তি ছাড়াই বিচ্ছেদে যেতে হবে। চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট হওয়ার অর্থ হল ব্রিটেনকে রাতারাতি বিচ্ছেদ প্রস্তুতির সময় ছাড়াই সম্পর্ক ছেদ করতে হবে। কোন খাতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা মোকাবেলায় কী করতে হবে- সেটি বোঝার কোনো সময় পাবে না যুক্তরাজ্য।

নতুন ব্রেক্সিট চুক্তি

ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউর সঙ্গে নতুন চুক্তিতে যেতে পারে ব্রিটেন। এক্ষেত্রে বিলম্বিত ব্রেক্সিটের জন্য আর্টিকেল ৫০ পরিবর্ধিত করা হতে পারে। এজন্য ইইউকে অনুরোধ জানাতে হবে। ইইউ কাউন্সিলে একটি ভোটের জন্য সব ইইউ দেশগুলোকে একমত হতে হবে।

আরেকটি গণভোট

একটি নতুন গণভোটের সম্ভাবনাও রয়েছে। নির্বাচন ও গণভোট অ্যাক্ট-২০০০ অনুসারে হবে এ গণভোট। ইতিমধ্যে বিরোধী লেবার পার্টির ৭১ নেতা গণভোটের ডাক দিয়েছেন। ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ভোটের দাবি জানানো ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টির নেতা মাইকেল ফারাগে বলেন, ‘আমি মনে করি আরেকটি গণভোটই সমাধানের পথ খুলে দেবে।’ এক্ষেত্রে ২২ সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের বিশেষজ্ঞরা। তড়িঘড়ি করলেও মার্চ মাসের শেষ নাগাদের আগে সম্ভব নয়।

আগাম সাধারণ নির্বাচন

ব্রেক্সিট চুক্তির প্রতি রাজনৈতিক আস্থা অর্জনে আগাম নির্বাচনের পথে হাঁটাই তেরেসার জন্য উত্তম পন্থা হবে। নির্বাচন ডাকার ক্ষমতা তেরেসার নেই। ফিক্স টার্ম পার্লামেন্ট অ্যাক্ট অনুসারে দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন আদায় করতে হবে।