বিশ্লেষণ

তিন তাবিজে ছুটবে ব্রেক্সিট পাগলামি

  যুগান্তর ডেস্ক ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিন তাবিজে ছুটবে ব্রেক্সিট পাগলামি
ছবি: সংগৃহীত

ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই সবার মনে একটাই প্রশ্ন ছিল, ব্রেক্সিট কি আদৌ হবে? ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি নাকচ হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই প্রশ্ন আবারও সামনে আসছে।

কথা উঠছে ব্রেক্সিট পরামর্শক দল তথা ব্রিটিশ সরকারের অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতা নিয়েও। গণভোটের সময় থেকে সম্পাদিত চুক্তি পর্যন্ত নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি এবং বাস্তবে সেগুলোর অনুপস্থিতি এই আলোচনাকে এত সমস্যাসংকুল ও ঝামেলাপূর্ণ করে তুলেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনা এখনও ভালোভাবেই শেষ করা সম্ভব। অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র উতরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্লুমবার্গ বলেছে, ইইউ থেকে বিচ্ছেদ কখনই সস্তা, সহজ কিংবা নিষ্কণ্টক হবে না। তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তিনটি উপায় অবলম্বন করলে এটি ভালোভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।

এক. প্রতিপক্ষের বক্তব্য ও বিশ্বাসকে চিহ্নিত করতে হবে: যে কোনো আলোচনা কিংবা বিতর্কে প্রত্যেক পক্ষকে অপর পক্ষের বক্তব্য ও বিশ্বাসকে স্বীকার করে নেয়া দরকার। এক্ষেত্রে ব্যর্থতা অচলাবস্থার দিকেই নিয়ে যায়। আর সে কারণেই আপসহীন বা কট্টরপন্থীরা ভালোভাবে সরকার পরিচালনায় ব্যর্থ হয়।

ব্রেক্সিটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ব্রেক্সিটপন্থী ও ব্রেক্সিটবিরোধীদের কারও একে অন্যের বিরুদ্ধে অতিকঠোর হওয়া উচিত নয়। তবে এটা ঠিক যে, ব্রেক্সিট গণভোট থেকে শুরু করে চুক্তি পর্যন্ত অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা নানা প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিয়েছে। বর্ণবাদ, কট্টরপন্থা এমনকি অভিবাসনভীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে কনজারভেটিভ সরকার। সেই জায়গা থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।

দুই. নতুন উদ্যমে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু করা : ২০১৬ সালের জুন থেকে এ পর্যন্ত গত আড়াই বছরে যা কিছু হয়েছে তার সবই ছিল একটা কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য বিচ্ছেদের লক্ষ্যে। এখন এর সবকিছুই ছুড়ে ফেলতে হবে। স্বীকার করতে হবে, এগুলোয় শুধু সময়ই অপচয় হয়েছে।

ব্রেক্সিট ঘিরে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলো সম্ভাব করে তোলার এক বিশাল দায়িত্ব তেরেসা মে’র ঘাড়ে। আর সময় নষ্ট না করে আবার প্রথম থেকেই শুরু করতে হবে। একটি সুষ্ঠু ব্রেক্সিটের জন্য বিরোধীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু করতে হবে।

তিন. ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও উন্নত করা : ব্রেক্সিট প্রশ্নে ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিকে ‘কঠোর’ বিবেচনা করছেন ব্রিটিশ এমপিরা। আর এ কারণেই এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা। বাজারে কিছু তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। ইইউকে কেন ব্রেক্সিট চুক্তিটি ব্রিটেনের জন্য এতটা কঠোর করতে হল। উত্তর হচ্ছে, পাছে অন্যান্য দেশ ইইউ থেকে সহজে বের হয়ে যাওয়ার চিন্তা না করতে পারে, সেজন্যই এই কৌশল। এর অর্থ ব্রিটেন সম্পর্কে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে ইইউ’র মধ্যে। এক্ষেত্রে ইইউ সামরিক জোট ন্যাটো ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্পর্ক নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউরোপজুড়ে শরণার্থী ও অভিবাসন সমস্যার ওপরও সমভাবে নজর দিতে হবে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের।

ঘটনাপ্রবাহ : ব্রেক্সিট ইস্যু

আরও
আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×