শাটডাউন বিড়ম্বনা: ২৮ দিন

অর্থের অভাবে তদন্ত বন্ধ ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে খুনিরা

মামলার জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছোটাছুটি করতে যে অর্থের প্রয়োজন সেটাও পাচ্ছেন না আইনজীবীরা * বেতন না পাওয়ায় ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছেন কর্মচারীরা

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের কারণে চরম বিপাকে পড়েছে সরকারের আইন ও বিচার বিভাগ। অর্থাভাবে ভেঙে পড়েছে অপরাধ তদন্ত কর্মকাণ্ড। ফলে বিচার ছাড়াই ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে খুনি ও অপরাধীরা।

শুক্রবার চার সপ্তাহব্যাপী শাটডাউনের ভয়াবহ প্রভাব সম্পর্কে হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির সরকারি আইনজীবীরা। অচলাবস্থার মধ্যে বেতন ছাড়াই অফিস চালিয়ে যাচ্ছেন প্রায় ছয় হাজার আইনজীবী।

কিন্তু মামলা তদন্ত করার মতো প্রয়োজনীয় কোনো তহবিল নেই। ফলে তদন্তের জন্য অতীব দরকারি ডিএনএ পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। মামলার জন্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছোটাছুটি করতে যে অর্থের প্রয়োজন সেটাও পাচ্ছেন না সহযোগী আইনজীবীরা।

ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমালেও আইনজীবীদের পক্ষে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে ছাড়া পাচ্ছে অপরাধীরা। শনিবার এ খবর জানিয়েছে এএফপি।

খবরে বলা হয়, অচলাবস্থার চরম প্রভাব পড়ছে সরকারের অন্যান্য বিভাগের কর্মচারীদের ওপরও। এক কথায়, হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন শাটডাউনের কবলে পড়া সরকারি কর্মচারীরা।

চাল-ডাল ও নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য কিনতে শিশুর ব্যবহৃত জ্যাকেট থেকে শুরু করে দেয়াল ঘড়িটিও বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে বেতনহীন কয়েক লাখ কর্মী। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের দ্বন্দ্বে মার্কিন ইতিহাসের দীর্ঘতম শাটডাউন শনিবার ২৮ দিনে পড়ে। প্রায় এক মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় ভাড়ারে টান পড়েছে কর্মচারীদের। আর তাই ঘটি-বাটি বিক্রি করে সংসারের খরচ চালাচ্ছেন তারা।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ অচলাবস্থা শুক্রবার ২৮তম দিনে গড়িয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন কারাগার, বিমানবন্দর, এফবিআই ও নাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আট লাখ কর্মচারী বেতনহীন দিন পার করছেন।

আন্দ্রেয়া ক্যাভালারোর স্বামী কোস্টগার্ডে চাকরি করেন। সরকারে অচলাবস্থা চলার পরও তাকে প্রতিদিন কাজে যেতে হচ্ছে। কিন্তু প্রায় এক মাস হতে চললেও বেতন না পাওয়ায় কনিষ্ঠ সন্তানের প্রথম জন্মদিনের সময় উপহার দেয়া বোম্বার জ্যাকেটটি ফেসবুকে পাঁচ ডলারে বিক্রির জন্য পোস্ট দিতে হয়েছে তাকে। শুধু জ্যাকেটই নয়, বাড়িতে থাকা শিশুদের কাপড়চোপড় ও খেলনাগুলোকে পাঁচ থেকে ১০ ডলারের মধ্যে বিক্রি করার পোস্ট দিয়েছেন আন্দ্রেয়া।

উইন্ডি বেটসের স্বামী মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। নাসার জন্য অর্থ ছাড় না দেয়ায় বেতনহীন আছেন বেটসের স্বামী। খাদ্যদ্রব্য কিনতে আর ঋণ পরিশোধের জন্য বেটসকে তার বিয়ের সময় কেনা স্মৃতিচিহ্ন টোস্টিং গ্লাস ৬০ ডলারে বিক্রি করতে হয়েছে চোখের পানি বিসর্জন দিয়ে।

ক্লিভল্যান্ডের বাসিন্দা বেটসকে এখন ঘরের আসবাবপত্র, কৃত্রিম চারাগাছ, গহনা সবই একে একে বিক্রি করতে হচ্ছে। মেয়ের বিয়ের জন্য অনলাইন থেকে কয়েকটি বিয়ের পোশাক কিনে রেখেছিলেন লরা স্লেমনস। তবে এগুলো পছন্দ না হওয়ায় ঘরেই তুলে রেখেছিলেন তিনি।