ব্রেক্সিটের পর মানবাধিকার কনভেনশনও ছাড়বে ব্রিটেন

  যুগান্তর ডেস্ক ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরপরই ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ইসিএইচআর) থেকেও বের হয়ে যেতে পারে যুক্তরাজ্য। ব্রেক্সিটের বিকল্প প্রস্তাব খোঁজার সঙ্গে সঙ্গে ‘ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইট’ থেকে যুক্তরাজ্যকে প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা চিন্তা-ভাবনা করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। সরকারের একজন মন্ত্রী শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কনভেনশনটির সুরক্ষায় বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে চলেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। তেরেসার সরকারের এ সিদ্ধান্তে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইইউ ও ব্রিটিশ উভয়পক্ষের আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। মানবাধিকার নিয়ে ব্রিটেনের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আইনজীবীদের একটি কমিটি। খবর ইনডিপেনডেন্টের।

১৯৫৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার আরও ৭ বছর আগে (১৯৫০) ইউরোপীয় দেশগুলোর মানবাধিকার সুরক্ষায় মানবাধিকার ঘোষণা ইউরোপীয় কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়। তাই এটাকে ইইউর ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে হয়ে থাকে। কনভেনশনটির আরও শক্তিশালী করতে ১৯৯৬ সালে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্ট’ নামে আরেকটি বিল স্বাক্ষরিত হয়। ব্রিটেন আইনটির অন্যতম স্বাক্ষরকারী ও পৃষ্ঠপোষক। কাউন্সিল অব ইউরোপ কনভেনশনটি পরিচালনা করে। তা ছাড়া প্রথমে এ কাউন্সিলে যোগ না দিয়ে কোনো দেশ ইইউর সদস্য হতে পারে না। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতির অগ্রগতিতে যুক্তরাজ্যের যে ভূমিকা রয়েছে, তা-ও এ সিদ্ধান্তে মধ্য দিয়ে ক্ষণ্ণি হতে পারে।

ব্রেক্সিটের কয়েক বছর আগে থেকেই কনভেনশন থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের কথা বলে আসছে লন্ডন। কনভেনশন ছেড়ে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার মানে দাঁড়ায়- এর মধ্য দিয়ে তারা ৪৭ সদস্যের কাউন্সিল অব ইউরোপ এবং সম্ভবত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকেও বেরিয়ে যাবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, কনভেনশন থেকে ব্রিটেনের বের হওয়া ‘মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে’।

মুখে মুখে চুক্তিটির সুরক্ষায় ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ বলে এলেও ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে এ বিষয়ে নতুন করে আরও জোর দিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে যুক্তরাজ্য। চলতি বছরের ২৯ মার্চ ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবে দেশটি। এ মুহূর্তে ব্রেক্সিট পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে কনভেনশন নিয়েও বিচার-বিবেচনা করছে তেরেসার সরকার। শনিবার পার্লামেন্টের একটি ইনকোয়ারি কমিটিকে চিঠি লিখে বিষয়টি অবহিত করেছে সরকার। বলেছে, ‘ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলেই ঐতিহাসিক আইনটির ভবিষ্যৎ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’ সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক ও বিব্রতকর বলে অভিহিত করেছে লর্ডস-ইইউ জাস্টিস সাব কমিটি। কমিটির প্রধান ব্যারোনেস কেনেডি এ ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×