ভারতে এবার নতুন ‘নারী দল’

২৮৩ আসনে প্রার্থী দেবে ন্যাশনাল উইমেন’স পার্টি

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে এবার খেল দেখাবে নতুন ‘নারী দল’। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৫ আসনের ২৮৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ প্রার্থীদের বিপক্ষে লড়বে দলের নারী প্রার্থীরা। নবগঠিত দলটির প্রধান এজেন্ডাই হল, লোকসভায় পুরুষ আধিপত্য ভেঙে ফেলা।

লোকসভা দখল নয়, পুরুষ সদস্যদের সমানসংখ্যক নারী সদস্য রাখাই এই একমাত্র উদ্দেশ্য। নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার এই ব্রত নিয়েই সোমবার ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গঠিত হল ন্যাশনাল উইমেন’স পার্টি (এনডব্লিউপি)।

এই নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক দলের সংখ্যা এক হাজার ৯০০ ছাড়িয়ে গেল। খবর ইন্ডিয়া টুডে, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

ভারতের নারী সমাজকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে এদিন মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে নতুন ইতিহাসের সূচনা করলেন হায়দারাবাদের খ্যাতনামা ডাক্তার ও সমাজকর্মী শ্বেতা শেঠী। দলটির প্রেসিডেন্টও তিনি। দলের নামসহ লোগোও প্রকাশ করা হয়েছে।

এনডব্লিউপি নিজেদেরকে ‘মায়েদের দল’ হিসেবে বর্ণনা করছে। দলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে শ্বেতা বলেন, ‘লোকসভায় ভারতীয় নারীদের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই আমাদের

মিশন। আমার সেই মিশনে এগিয়ে যাওয়ার পথে এটা আমাদের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, রাজনীতিতে যে লিঙ্গ বৈষম্য রয়েছে তা দূর করা এবং এভাবে ভারতের মতো পিতৃশাসিত সমাজে নারীর সমানাধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।’

শ্বেতা বলেন, পার্লামেন্টে সংরক্ষিত আসনের জন্য নারীরা গত দুই দশক ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। এই মুহূর্তে মাত্র ৪ শতাংশ নারী পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করছে। তিনি বলেন, যতদিন না সংরক্ষণ আইন পাস হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন অব্যাহত রাখবে এনডব্লিউপি।

তিনি আরও ‘মূলত আমরা এমন একটা সমাজে বাস করি যেখানে বেশিরভাগ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পুরুষরাই নিয়ে থাকে। পার্লামেন্টে নারীদের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় আদতে নারীদের কিছুই বলার থাকে না। এটা নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী অধিকারের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করছে।’

‘শুধু নারীদের জন্য দল এনডব্লিউপি নারীদের পূর্ণউন্নয়ন পরিবেশ সৃষ্টি করবে যা তাদের পূর্ণ নারীর সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলবে এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যগুলোকে অর্জনে সহায়তা করবে।’

নিজের বক্তব্যে ভারতের চলমান নারী নির্যাতনের চিত্রও তুলে আনেন শ্বেতা। তিনি বলেন, নারীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধ মহামারী আকারে বাড়ছে। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে দল সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে।

দল এমন সব উদ্যোগ নেবে যেকোনো নারী নির্ভয়ে একাকি রাস্তায় চলাচল করতে পারে। নারীদের সুরক্ষায় তার শিগগিরই ‘মহিলা রক্ষক’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপস চালু করবে বলেও এদিন ঘোষণা দেন তিনি।

শবরিমালা মন্দির বিতর্ক নিয়েও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নারী দলের প্রধান শ্বেতা। বিষয়ে দলের অবস্থানকে ‘নিরপক্ষে’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের শাসনব্যবস্থার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান লোকসভায় আর কোনো দেশে এত বেশি রাজনৈতিক দল নেই। কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), সমাজবাদী পার্টি (এসপি), তৃণমূল কংগ্রেস, বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি), জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিএম) প্রভৃতি দেশটির কয়েকটি প্রধান দল। এবার সঙ্গে যোগ হল ন্যাশনাল উইমেন’স পার্টি।