বিজেপির অন্দরে ‘প্রার্থী বাছাই’ বিদ্রোহ

নতুন মুখ না পুরনো- দোলাচলে মোদি * ‘গো ব্যাক মোদি’ হ্যাশট্যাগে গর্জে উঠল তামিলনাড়ু

  যুগান্তর ডেস্ক ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিজেপির অন্দরে ‘প্রার্থী বাছাই’ বিদ্রোহ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই নিয়ে ঘোর সংকটে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি। বিজয়ী প্রার্থীদেরই রাখা হবে, নাকি নতুন মুখ এনে বিরোধী হাওয়া সামাল দেয়া হবে- তা নিয়েই দোলাচলে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিক্ষুব্ধরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করায় দ্বন্দ্ব আরও বাড়ছে।

লোকসভার বিভিন্ন আসনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে মোদি-শাহ জুটির সামনে এখন জোড়া চ্যালেঞ্জ। একদিকে সামলাতে হবে দলের অন্দরের বিদ্রোহ, অন্যদিকে আটকাতে হবে বিজেপিবিরোধী হাওয়ার ঝাপটাও।

ইন্ডিয়া টুডে জানায়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর বদলে গেছে বিজেপির অন্দরমহলের চিত্র। মোদির কারিশমা আর অমিতের প্রশ্নাতীত নিয়ন্ত্রণ- এই জোড়া অস্ত্রে এতদিন মুখ খোলার সুযোগ পাননি কেউই। কারণ এ কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুললে তার ফল ভুগতে হতো নিঃশব্দেই।

নির্বাচনী কৌশল ঠিক করতে দলীয় সংগঠনে এত দিন শেষ কথা বলতেন অমিতই। রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী হাওয়া সামাল দিতে তার নীতি ছিল নতুন মুখের প্রতি নির্ভরতা।

এজন্য প্রার্থী নির্বাচনের সময় হেভিওয়েটরাও থাকতেন বাদ পড়ার শঙ্কায়। একই কৌশলে এবারের লোকসভায় এগোলে সমস্যায় পড়ছে বিজেপি। কারণ, বিজেপির জয়ের জন্য মোদি-শাহ জুটির অপরিহার্যতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন প্রার্থীরা। প্রথম মুখ খুলেছেন রেলমন্ত্রী মনোজ সিং। প্রার্থী দেয়ার আগেই জানিয়েছেন, তিনি উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর আসন থেকেই লড়বেন। এ আসনে জিতেই তিনি সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

তাকে প্রার্থী করা না হলে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মনোজ। ছত্তিশগড়ের রায়পুর আসনের বিজেপি সংসদ সদস্য রমেশ ব্যাস মোদি-শাহ জুটির বিরোধী হিসেবেই পরিচিত। তাকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা ছিল বেশ ক্ষীণ। কিন্তু রাজ্য বিধানসভায় হারের পর হঠাৎ করেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন তিনি। রমেশকে সরানো হলে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়বেন তিনি, যা হবে বিজেপির জন্য চরম বিপদের।

ফলে তাকে বাদ দেয়ার রাস্তা থেকে সরে আসতে হচ্ছে শীর্ষ নেতৃত্বকে। বিজেপির বন্দরে এমন চিত্র আগে কখনো দেখা যায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও পানিসম্পদমন্ত্রী উমা ভারতী যে নির্বাচনে লড়বেন না, তাও জানিয়ে দিয়েছেন।

বিক্ষোভের আঁচ প্রথম টের পাওয়া গিয়েছিল বিধানসভার প্রার্থী বাছাইয়ের সময়ই। রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে জানিয়েছিলেন, তার পছন্দের প্রার্থীদেরই টিকিট দিতে হবে। মধ্যপ্রদেশে কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের সুপারিশে তার ছেলেকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেননি অনেকেই।

সেই প্রার্থীর হারে আরও জোরাল হয়েছে বিক্ষুব্ধদের স্বর। কৈলাসকে দেখে দলের অন্য প্রভাবশালী নেতারাও পছন্দের প্রার্থীকে ভোটে দাঁড় করাতে চাইছেন। সময়ের সঙ্গে সেই অনুরোধের পাহাড় জমতে শুরু করেছে। বিদ্রোহ সামাল দিতে তাই রাজস্থান-মধ্যপ্রদেশে শুরু হয়েছে শাস্তি, বহিষ্কার আর বরখাস্তের পালা।

এদিকে অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল কলেজের (এআইআইএমএস) শিলান্যাসের জন্য রোববার তামিলনাড়ুর মাদুরাইতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তার আগে টুইটারে ‘গো ব্যাক মোদি’ হ্যাশট্যাগে গর্জে উঠেছে তামিলবাসী। সাইক্লোন ‘গাজা’র আঘাতে মাদুরাইয়ের তিন লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

সেই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এই টুইটার উষ্মা। বেশিরভাগ টুইটেই প্রয়াত দক্ষিণী নেতা ইভিআর পেরিয়ারের একটি কার্টুন বলছে ‘গো ব্যাক মোদি’। যে কার্টুনটির চারপাশজুড়ে রয়েছে তামিলনাড়ুর মানচিত্র। তামিলনাড়ুর গর্জনে ভয় পেয়ে দৌড়ে পালাচ্ছেন গেরুয়া জ্যাকেট পরা মোদি।

ফেসবুকেও শুরু হয়েছে মোদিবিরোধী ক্যাম্পেইন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×