৩শ’র বেশি রাসায়নিক হামলা

আইএস গেলেই শুরু হবে এলাকা দখলের লড়াই

  যুগান্তর ডেস্ক ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আইএস গেলেই শুরু হবে এলাকা দখলের লড়াই
ছবি: গার্ডিয়ান

ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) স্বঘোষিত খেলাফত রাষ্ট্রটির পতন ঘটেছে ২০১৭ সালে। সিরিয়ায় গোষ্ঠীটির পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কোণঠাসা হতে হতে গোষ্ঠীটির অবস্থান এখন শেষ ঘাঁটি ইদলিবের ৭০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ‘আইএসের পতন হয়েছে’ বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে অধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি অব হিউম্যান রাইটস।

মার্কিন নেতারা বলছেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইএসের পতনের ঘোষণা দেয়া হবে।’ এমন খবরে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, রাশিয়া থেকে তুরস্ক, দামেস্ক থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত ‘শকওয়েভ’ তথা তোলপাড় চলছে। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে বিশ্বের বড় শক্তিগুলো। আইএসের পতনের সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলে নতুন করে প্রভাব বিস্তারের খেলা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও সিরিয়া। বসে থাকবে না ইসরাইল, ইরান, তুরস্কও। রোববার দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির এ চিত্র।

বর্তমানে আলেপ্পোর কিছু অংশ ও ইদলিবের অধিকাংশ এলাকাই নিয়ন্ত্রণ করছে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দা সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম। প্রায় ৩০ লাখ অধিবাসী অধ্যুষিত এই জনপদ গত কয়েক বছর ধরেই আসাদ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। আইনের শাসনের অনুপস্থিতিতে এ অঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে গোষ্ঠী। গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে জনগণের ওপর অকথ্য নির্যাতন, সম্পদ লুট, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে এদের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারে না কেউ।

আলজাজিরা জানিয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে মোহাম্মদ নুর হামেদি অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারককে গাড়িতে তুলে নেয় পাঁচ মুখোশধারী সশস্ত্র যোদ্ধা। এরপর তায়ের পায়ের আঙুলের সব আঙুল তুলে ফেলে। আইএসের পতনের মুখে বহু গোষ্ঠীটি বহু যোদ্ধা এখন সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশ এ ইদলিবে পালিয়ে যাচ্ছে। আইএসের যোদ্ধাদের পলায়নের ফলে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শেষ হলেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রুশ বাহিনী ও ইরানি বাহিনী এখন ইদলিব প্রদেশ পুনরুদ্ধারে হামলা চালাবে। ফলে তুরস্কের জন্য নতুন করে সৃষ্টি হতে পারে ব্যাপক শরণার্থী সমস্যা। আইএসের পতনের পর করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করতে গত সপ্তাহেই রাশিয়ার সোচিতে বৈঠকে বসেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান, ইরানি প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বৈঠকে ইদলিব থেকে ‘সন্ত্রাসীর শিকড় উপড়ে ফেলতে কড়া পদক্ষেপ’ নিতে এরদোগানের প্রতি আহ্বান জানান পুতিন। কিন্তু এরদোগান এখনই কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে চান না। তার নজর যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত তুরস্কের সঙ্গে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বে সীমান্তে।

গত বছরের আফরিন অভিযানের মতো এ বছরও যেকোনো সময় অভিযান চালাতে পারে তুর্কি বাহিনী। এই মুহূর্তে সিরিয়ার ৯৫ ভাগই সিরীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সহযোগিতায় পুরো সিরীয় ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন আসাদ। কিন্তু এরদোগান এটা নিয়ে এখনই খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না। এর প্রধান কারণ ট্রাম্প।

ঘটনাপ্রবাহ : সিরিয়া যুদ্ধ

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×