জীবন সাজাতে জীবনবাজি

জীবন সাজাতে জীবনবাজি রাখতে দ্বিধা করছেন না শরণার্থীরা। কদমে কদমে ভয়, শঙ্কা। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, কণ্টকাকীর্ণ জঙ্গল, বিপদসংকুল বরফাচ্ছাদিত পাহাড়-পর্বত ডিঙিয়ে ছুটছেন সুখ ধরতে। কারও সামনে পড়ছে আরেকটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের গোলাগুলি, কামান, বোমা, মর্টার আর রক্তাক্ত লাশ। প্রাণ হাতের মুঠোয় নিয়ে তবুও ছুটে চলা অবিরাম। উদ্দেশ্য- একটু নিরাপদ আবাসস্থল। নিজ দেশে যুদ্ধবিগ্রহ, উৎপীড়ন, সহিংসতা এবং অভাব-অনটন থেকে পালিয়ে বিপদকে আলিঙ্গন করছেন তারা। তাদের অধিকাংশই যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্য ও দারিদ্র্যপীড়িত আফ্রিকান অঞ্চলের বাসিন্দা। দ্য গার্ডিয়ান ও সিএনএন সোমবার পৃথক দুটি প্রতিবেদনে শরণার্থীদের জীবনবাজি রাখার এ চিত্র তুলে ধরেছে।

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আল্পস পর্বত পেরিয়ে ফ্রান্সে শরণার্থীরা

মৃত্যুর শঙ্কাকে তোয়াক্কা না করে ইউরোপের বৃহত্তম পর্বতমালা আল্পসের হিমবাহ পেরিয়ে ফ্রান্সে ঢুকছেন শরণার্থীরা। ইরাক, সিরিয়া, তিউনিশিয়া, টোগো থেকে আসা শরণার্থীরা ইতালি হয়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করছেন। আল্পস পর্বতমালার সবচেয়ে উচ্চতম পর্বত ইতালি-ফ্রান্স সীমান্তে অবস্থিত মোঁ ব্লঁ, যার উচ্চতা ৪ হাজার ৮০৮ মিটার। আল্পসে সর্বদা বরফে আচ্ছাদিত থাকে। শীতের সময়ে তা আরও বেড়ে যায়। বরফের উঁচু উঁচু চাঁই পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন শরণার্থীরা। অত্যধিক ঠাণ্ডায় অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। শনিবার ফরাসি সীমান্ত থেকে কিছু দূরে চার শরণার্থীকে আটক করা হয়েছে।

তাদেরই একজন তিউনিশিয়া থেকে আসা সামি দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, ‘ফ্রান্স থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ছিলাম আমরা। পৌঁছানোর আগেই ধরা খেলাম।’ ইতালিতেও কয়েক বছর ছিলেন তিনি। সামি বলেন, ‘ইতালিতে আমাদের জন্য কিছুই নেই। জীবন গড়তে শেষ বাজিটা ধরতেও প্রস্তুত।’ তাদের আরেক সঙ্গী টোগোর দারমান তামিমউ (২৯) হাউপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ইরাকের তালিপ ফালা জানালেন তার তিক্ত অভিজ্ঞতা, ক্রোয়েশিয়ায় একবার ধরা পড়ে পুলিশের বেধড়ক মার খেয়েছি। মারে সামনে দাঁত পড়ে গেছে।

বোমা-বুলেট মাড়িয়ে সৌদিতে আফ্রিকানরা

দারিদ্র্যকবলিত আফ্রিকার দেশগুলো থেকে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছে হাজার হাজার মানুষ। তাদের অধিকাংশই হর্ন অব আফ্রিকাখ্যাত ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও জিবুতির বাসিন্দা। সামনে পড়ে আরব উপদ্বীপ ও হর্ন অব আফ্রিকাকে পৃথককারী প্রণালি বাব এল-মানদেব। এরপরের গন্তব্য যুদ্ধক্ষেত্র ইয়েমেন, সেখান থেকে সৌদি আরব। পুলিশ-নিরাপত্তারক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে ঢুকে পড়ছে সীমান্তে। ইয়েমেনের ভয়াবহতা তাদের অনেকের কাছে অজানা। বোমা, বুলেট, মর্টার, মাইন আর লাশ পেরিয়ে যাওয়ার পথে তারাও লাশ হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থার তথ্যানুসারে, প্রতি মাসে অন্তত ২২ হাজার শরণার্থী ইয়েমেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা পেরোনের চেষ্টা করছেন। ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধ শুরু হলে প্রায় ৪০ হাজার ইয়েমেনি জিবুতিতে শরণার্থী হন। তাদের অনেকেই এখন জিবুতি থেকে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কৃষ্ণসাগরের পারে আশ্রয় নেয়া নাগিব জানান, একটি ছোট্ট মাছ ধরা নৌকায় চড়ে এসেছি। ভাগ্য ভালো, পানির ক্ষীপ্রতা কম ছিল। বিপৎসংকুল পথ পাড়ি দিতে তিন ঘণ্টা লেগেছে। ইথিওপিয়ার মারকাজি শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে অনেকে পাচারকারীদের মাধ্যমে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছেন। এজন্য কয়েকদিন ধরে অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় শুধু শুকনো খাবার খান তারা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×