কোরিয়ার পরমাণু প্যাঁচালে ‘কচ্ছপ বেগে’ কিম

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মধ্যে বৈঠক আয়োজনে ‘সকাল-সন্ধ্যা’ প্রস্তুতি চলছে ভিয়েতনামে। কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে রূপরেখা প্রণয়নই ট্রাম্প-কিমের দ্বিতীয় এ বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য।

কোরিয়া উপদ্বীপ ঘিরে কয়েক দশক ধরে চলা বিশ্বের এ ‘পরমাণু প্যাঁচাল’ দ্রুত সমাধানে এবার ‘কচ্ছপ বেগে’ ভিয়েতনামে যাচ্ছেন কিম। বিমানে না গিয়ে ট্রেনে যাবেন তিনি। আর এতে প্রায় তিন দিন লেগে যাবে।

বৈঠকের প্রস্তুতি সংক্রান্ত দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এবারের বৈঠকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে অধিক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

আগামী ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ভিয়েতনামে ট্রাম্প ও কিমের দ্বিতীয় বৈঠক হবে। ওই বৈঠককে সামনে রেখে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হ্যানয়ে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে কিমের। রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তরের রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে ট্রেনে করে ভিয়েতনামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন কিম। এতে আড়াই দিন সময় লেগে যাবে। ভিয়েতনামের সীমান্ত স্টেশন ডং ডাং-এ ট্রেনটি থামবে।

এরপর সেখান থেকে গাড়িতে করে ১৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হ্যানয়ে পৌঁছবেন তিনি। বংশপরম্পায় পাওয়া বাপ-দাদার ট্রেন ভ্রমণেই বেশি স্বাচ্ছদ্যবোধ করেন কিম। উত্তরের সাবেক নেতা ও কিমের দাদা কিম ইল সাং ও বাবা কিম জং ইল ট্রেনেই ভ্রমণ করতেন। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তরের প্রধান মিত্র চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুমতি পেতেও ট্রেনযোগেই দু’বার বেইজিং গেছেন কিম।

ভিয়েতনামের সরকারি এক অতিথিশালায় ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে বৈঠক হবে। বৈশ্বিক এ ইস্যুটি নিয়ে ১২ জুন সিঙ্গাপুরে প্রথম ওই ঐতিহাসিক বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও কিম। সেখানে কোরিয়া উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে সম্মত হন উত্তরের নেতা।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি। কিন্তু নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা আজও সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় দু’দেশের মধ্যে দরকষাকষি চলছে। এ বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প বেশ কয়েকবার কিমের সঙ্গে নতুন বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।