এক বুক হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরছেন কিম

ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া দ্বিতীয় পরমাণু সম্মেলন ব্যর্থ

  যুগান্তর ডেস্ক ০৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

অনেক আশা নিয়ে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে গিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। নিজের বিলাসবহুল ট্রেনে চেপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একদিন আগেই পৌঁছে যান তিনি। তখন পুরো আত্মবিশ্বাস ছিল, উভয়পক্ষের মধ্যে একটা সমঝোতা হবেই।

সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে তুলে দেয়া হবে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু কোনো সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই মাঝপথেই শেষ হয়েছে আলোচনা। পাঁচ দিন পর শনিবার সেই ট্রেনেই একেবারে খালি হাতে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন তিনি।

এদিন ট্রেনে ওঠার পর যখন ভিয়েতনামবাসীর দিকে হাত নাড়ছিলেন, তখন তার চোখে-মুখে ছড়িয়ে ছিল হতাশার ছাপ। নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার সঙ্গে জড়িত উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন।

গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি হয়। যৌথভাবে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে একমত হন ট্রাম্প ও কিম। তবে নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় কয়েক সপ্তাহ পরই তা একরকম থমকে যায়।

দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও দর কষাকষি অব্যাহত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আলোচনার তারিখ ও ভেন্যু নির্ধারিত হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, এ বৈঠকে পরমাণু ইস্যুতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে দুই পক্ষ।

পিয়ংইয়ংয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে কোনো পিছুটান ছিল না কিমের। পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই হ্যানয়ে এসেছিলেন তিনি। একটা চুক্তি স্বাক্ষর হবে- এমনটাই প্রত্যাশা ছিল তার। উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রত্যাশাই তাই একটা চুক্তি নিয়েই বাড়ি ফিরবেন তারা।

উত্তর কোরীয় কর্মকর্তারা মনে করছিলেন সিঙ্গাপুর বৈঠকের চেয়ে এবার প্রেক্ষাপটটাও একটু ভিন্ন হবে। কারণ এবার তারা সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গেই বিষয়টা নিয়ে কথা বলবেন। চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাস থেকেই প্রথমবারের মতো বিদেশি কোনো গণমাধ্যমের কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেন কিম।

ট্রাম্পের সঙ্গে বসার কিছুক্ষণ আগে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, বৈঠক থেকে ভালো একটা ফল বেরিয়ে আসবে।’

কিন্তু সন্ধ্যা বেলায় হঠাৎই ভেস্তে যায় বৈঠক। যেটা কোরীয়দের জন্য বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির তৈরি করে। আলোচনা সংক্ষিপ্ত করে বৈঠকের ইতি টেনেছেন দুই নেতা। যৌথ বিবৃতিতেও অংশ নেননি তারা। পরে পৃথক পৃথক বিবৃতি দেন। বাতিল করা হয় বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ। ট্রাম্প-কিমের মধ্যে তৃতীয় কোনো বৈঠক হবে কিনা সে ব্যাপারেও কোনো পরিকল্পনা হয়নি।

হ্যানয়ে সবকিছুই প্রস্তুত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছার কারণে শেষ পর্যন্ত সবকিছু বিফলে গেছে বলে মনে করছেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো। বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর হতাশা ফুটে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ও জাপানের নেতাদের কথাও।

দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকে নিরন্ত্রীকরণ ইস্যতে কোনো চুক্তি না হওয়াই অনুতাপ করেছেন দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। তবে আলোচনার ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। সেই সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছতে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত