অস্ত্র ছাড়লেই নিষেধাজ্ঞায় ছাড়
jugantor
উ. কোরিয়াকে পাল্টা শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের
অস্ত্র ছাড়লেই নিষেধাজ্ঞায় ছাড়
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি সম্ভব * নতুন পুনরেকত্রীকরণমন্ত্রী কিম ইয়ন চুল * দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া উপদ্বীপে শান্তির ক্ষেত্রে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ত্র ছাড়লেই নিষেধাজ্ঞায় ছাড়

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগেই পিয়ংইয়ংকে সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। ছাড়তে হবে পরমাণু, রাসায়নিক, জৈব সব ধরনের মারণাস্ত্র। ভিয়েতনামের ব্যর্থ বৈঠকের পর নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে উত্তর কোরিয়াকে এ পাল্টা শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র।

উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ কর্মকাণ্ড স্যাটেলাইটের ছবিতে ধরা পড়ার পর নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করল ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বলেছেন, পরমাণু কেন্দ্র ফের সচল হলেও ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ নিয়ে এখনও আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট

ট্রাম্পের ক্ষমতায় ‘প্রথম মেয়াদ’র মধ্যেই একটা চুক্তিতে পৌঁছা সম্ভব।’ শর্তের পাশাপাশি পিয়ংইয়ংকে চাপে রাখতে সেই পুরনো কৌশলও অব্যাহত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি সপ্তাহেই কোরিয়া

উপদ্বীপে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। অথচ হ্যানয় বৈঠকে আর মহড়া না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ পদক্ষেপ উপদ্বীপের শান্তির ক্ষেত্রে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’

উল্লেখ করে এর কঠোর সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। খবর এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ানের।

যে কোনো উপায়ে উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চায় যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুর ঐতিহাসিক বৈঠকে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, নিরস্ত্রীকরণের পথেই হাঁটছিলেন কিম।

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের সে সম্ভাবনা দেখছিল উভয় পক্ষ। কিন্তু ট্রাম্পের কারণেই ভেস্তে যায় সব। কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন। বৈঠকে নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে আংশিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রস্তাব দেয় পিয়ংইয়ং। কিন্তু এ প্রস্তাব মেনে নিতে অস্বীকার করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দাবি, নিষেধাজ্ঞা বহাল অবস্থাতেই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে পিয়ংইয়ংকে। ট্রাম্পের এ অযৌক্তিক দাবি মেনে নিতে কিম রাজি না হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই বৈঠকের সমাপ্তি টানেন ট্রাম্প।

ব্যর্থ বৈঠকের পর উভয়পক্ষই কঠোর অবস্থানে চলে যায়। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো জানিয়ে দেন, এরপর যুক্তরাষ্ট্র যত আলোচনায় বসুক অবস্থানের নড়চড় হবে না। অন্যদিকে ফের হুমকি-হুশিয়ারি শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প বলেন, পরমাণু অস্ত্র থাকলে উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন।

এর মধ্যে বিশেষায়িত সংবাদমাধ্যম ৩৮ নর্থ ও সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানায়, আংশিক ভেঙে ফেলা পরমাণু কেন্দ্র ফের নির্মাণ করছে পিয়ংইয়ং।

এরপরই বৃহস্পতিবার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, কি উদ্দেশ্যে পিয়ংইয়ং ফের পরমাণু কেন্দ্র চালু করেছে তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ওই কেন্দ্র থেকে যেকোনো উৎক্ষেপণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেয়া দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্ট বলেন, কিমের সঙ্গে আরও একটা শীর্ষ বৈঠকের জন্য প্রস্তুত ট্রাম্প।

তবে সেই বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে বড় চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে চায় ওয়াশিংটন। এতে উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎই উজ্জ্বল হবে।

পরমাণু ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে এ শর্ত-পাল্টা শর্ত আরোপের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন।

এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার নতুন ‘ইউনিফিকেশন মিনিস্টার’ তথা পুনরেকত্রীকরণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন কিম ইয়ন চুলকে। গত বছরের এপ্রিল থেকে চোল রাষ্ট্রয়ত্ত কোরিয়ান ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক একত্রীকরণমন্ত্রী চো মিয়ং গিওনের স্থলে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

উ. কোরিয়াকে পাল্টা শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের

অস্ত্র ছাড়লেই নিষেধাজ্ঞায় ছাড়

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি সম্ভব * নতুন পুনরেকত্রীকরণমন্ত্রী কিম ইয়ন চুল * দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া উপদ্বীপে শান্তির ক্ষেত্রে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৯ মার্চ ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অস্ত্র ছাড়লেই নিষেধাজ্ঞায় ছাড়
ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগেই পিয়ংইয়ংকে সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। ছাড়তে হবে পরমাণু, রাসায়নিক, জৈব সব ধরনের মারণাস্ত্র। ভিয়েতনামের ব্যর্থ বৈঠকের পর নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে উত্তর কোরিয়াকে এ পাল্টা শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র।

উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ কর্মকাণ্ড স্যাটেলাইটের ছবিতে ধরা পড়ার পর নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করল ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বলেছেন, পরমাণু কেন্দ্র ফের সচল হলেও ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ নিয়ে এখনও আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট

ট্রাম্পের ক্ষমতায় ‘প্রথম মেয়াদ’র মধ্যেই একটা চুক্তিতে পৌঁছা সম্ভব।’ শর্তের পাশাপাশি পিয়ংইয়ংকে চাপে রাখতে সেই পুরনো কৌশলও অব্যাহত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি সপ্তাহেই কোরিয়া

উপদ্বীপে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। অথচ হ্যানয় বৈঠকে আর মহড়া না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ পদক্ষেপ উপদ্বীপের শান্তির ক্ষেত্রে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’

উল্লেখ করে এর কঠোর সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। খবর এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ানের।

যে কোনো উপায়ে উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চায় যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুর ঐতিহাসিক বৈঠকে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, নিরস্ত্রীকরণের পথেই হাঁটছিলেন কিম।

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের সে সম্ভাবনা দেখছিল উভয় পক্ষ। কিন্তু ট্রাম্পের কারণেই ভেস্তে যায় সব। কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন। বৈঠকে নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে আংশিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রস্তাব দেয় পিয়ংইয়ং। কিন্তু এ প্রস্তাব মেনে নিতে অস্বীকার করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দাবি, নিষেধাজ্ঞা বহাল অবস্থাতেই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে পিয়ংইয়ংকে। ট্রাম্পের এ অযৌক্তিক দাবি মেনে নিতে কিম রাজি না হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই বৈঠকের সমাপ্তি টানেন ট্রাম্প।

ব্যর্থ বৈঠকের পর উভয়পক্ষই কঠোর অবস্থানে চলে যায়। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো জানিয়ে দেন, এরপর যুক্তরাষ্ট্র যত আলোচনায় বসুক অবস্থানের নড়চড় হবে না। অন্যদিকে ফের হুমকি-হুশিয়ারি শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প বলেন, পরমাণু অস্ত্র থাকলে উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন।

এর মধ্যে বিশেষায়িত সংবাদমাধ্যম ৩৮ নর্থ ও সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানায়, আংশিক ভেঙে ফেলা পরমাণু কেন্দ্র ফের নির্মাণ করছে পিয়ংইয়ং।

এরপরই বৃহস্পতিবার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, কি উদ্দেশ্যে পিয়ংইয়ং ফের পরমাণু কেন্দ্র চালু করেছে তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ওই কেন্দ্র থেকে যেকোনো উৎক্ষেপণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেয়া দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্ট বলেন, কিমের সঙ্গে আরও একটা শীর্ষ বৈঠকের জন্য প্রস্তুত ট্রাম্প।

তবে সেই বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে বড় চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে চায় ওয়াশিংটন। এতে উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎই উজ্জ্বল হবে।

পরমাণু ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে এ শর্ত-পাল্টা শর্ত আরোপের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন।

এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার নতুন ‘ইউনিফিকেশন মিনিস্টার’ তথা পুনরেকত্রীকরণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন কিম ইয়ন চুলকে। গত বছরের এপ্রিল থেকে চোল রাষ্ট্রয়ত্ত কোরিয়ান ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক একত্রীকরণমন্ত্রী চো মিয়ং গিওনের স্থলে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।