ফ্রান্স-লন্ডনের মসজিদে গির্জায় কড়া পাহারা

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর ফ্রান্স ও লন্ডনের মসজিদ-গির্জাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। দুই দেশের প্রার্থনালয়গুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবারের হামলায় নিউজিল্যান্ডের আল নূর ও লিনউড মসজিদে জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৯ জন। ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের মেয়র সাদিক খান জানিয়েছেন, শুক্রবার অধিক মানুষ মসজিদে যান। মসজিদগুলোকে ঘিরে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি সশস্ত্র হামলা প্রতিরোধের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিসটোফার ক্যাস্টানার মসজিদে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা নিশ্চিত করেছেন। টুইটারে সাদিক খান লিখেছেন, নিউজিল্যান্ড থেকে সকালে (শুক্রবার) হৃদয়বিদারক খবর পেলাম। সেখানে নিরীহ মানুষ শুধু তাদের বিশ্বাসের জন্য প্রাণ হারিয়েছেন। যারা এ হামলার মুখোমুখি হয়েছেন তাদের পাশে রয়েছে লন্ডন। আমরা সবসময় এ বৈচিত্র্যতার পক্ষে থাকব, যা কিছু মানুষ ধ্বংস করতে চায়। এরপরই তিনি লন্ডনের মুসলিমদের উদ্দেশে লেখেন, আমি এখানকার মুসলমানদের আশ্বস্ত করতে চাই। আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। মসজিদের পাশে কড়া পাহারা থাকবে। টুইটে তিনি সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে জানানোরও আহ্বান জানান।

এছাড়া ক্লিভল্যান্ড, নর্থ ইয়র্কশায়ারের মসজিদ ও গির্জাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নর্দার্ন ইকো ডটকম। নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ক্লিভল্যান্ড পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল আদরিয়ান রবার্ট বলেন, ‘আমাদের শহরে আমরা আগের চেয়ে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছি। এ ধরনের আপত্তিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য এমন ব্যবস্থা।’ একই ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে নর্থ ইয়র্কশায়ারের পুলিশ। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিসটোফার জানান, রাজধানী শহরের প্রত্যেকটি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শহরের হাসপাতাল ও সব স্কুলে যে যেভাবে আছে, সেভাবেই ভেতরে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের বাসা থেকে বের না হতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে লোকজনকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, বন্দুকধারীর হামলায় গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। তবে এখনও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাসিন্দাদের ক্রাইস্টচার্চ সড়ক দিয়ে চলাচল নিষেধ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত ঘর থেকে বের না হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্কুলগুলো থেকেও কাউকে বের না হতে বলা হয়েছে।