মুলারের তদন্ত রিপোর্ট জমা

আগামী সপ্তাহেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল * পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান কংগ্রেসের উভয়কক্ষের আইনপ্রণেতাদের

  যুগান্তর ডেস্ক ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোপন আঁতাতের অভিযোগ নিয়ে করা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বিচার বিভাগীয় বিশেষ কৌঁসুলি (স্পেশাল কাউন্সিল) রবার্ট মুলার। প্রায় দুই বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে শুক্রবার অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন তিনি। প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তৈরি করে আগামী সপ্তাহেই মার্কিন কংগ্রেসের সামনে উপস্থাপন করবেন উইলিয়াম বার। প্রতিবেদনের কতুটুকু কংগ্রেসকে জানানো হবে সেটাও তার ওপরই নির্ভর করছে। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ও যতটা সম্ভব স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতিবেদনটি মার্কিন জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের উভয়কক্ষের প্রতিনিধিরা। প্রতিবেদন জমা দেয়ার মধ্যদিয়ে মুলারের কাজ আপাতত সম্পন্ন হল। প্রতিবেদনটিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে নাকি তাকে ছাড় দেয়া হয়েছে- জানতে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্যদিয়ে যে মার্কিন রাজনীতিতে একটা বড় ধরনের ঝড় বয়ে যাবে সে সম্ভাবনাই প্রবল। এমনকি এতদিন ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে যে জল্পনা-কল্পনা সেই প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে এর মধ্যদিয়ে।

রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যাটর্নি উইলিয়াম বার শুক্রবার বিকালে মার্কিন কংগ্রেসকে এক চিঠিতে জানিয়েছেন, মুলারের একটি প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন তিনি। চলতি সপ্তাহের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব তিনি প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ কংগ্রেসে উপস্থাপন করার কথা জানান সেই চিঠিতে। উইলিয়াম বার বলেছেন, তিনি মুলার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোড রোসেনস্টেইনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন যে তদন্ত প্রতিবেদনের কতুটুকু জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে কতটুকু করা হবে না। আইন ও বিচার বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী তিনি ‘যতদূর সম্ভব স্বচ্ছতা রেখে কাজ করতে বদ্ধপরিকর’ বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি ও বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির বেশ কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা তাকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল যত তাড়াতাড়ি ও যতটা সম্ভব স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতিবেদনটি প্রকাশে অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মুলারের রিপোর্টে নতুন করে আর কোনো অভিযোগ তোলার সুপারিশ করা হয়নি। তবে তদন্তকালে ধারাবাহিকভাবে ট্রাম্পের সাবেক ছয় সহযোগী এবং কয়েকজন রুশ নাগরিকসহ মোট ৩৪ জন ও তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মুলার।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের সঙ্গে মস্কোর আঁতাত ছিল বলে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের অনেকেই সন্দেহ করে আসছেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাস পরই অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে মুলারকে নিয়োগ দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি রড রজেনস্টাইন। ২০১৭ সালের মে মাস থেকে তদন্ত শুরু করেন মুলার। তার তদন্তের প্রধান লক্ষ্য ছিল দুটি। প্রথম, মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে ট্রাম্প শিবির মস্কোকে উদ্বুদ্ধ করেছিল কিনা। দ্বিতীয়ত, এ অভিযোগ তদন্তে এফবিআইর তদন্তে ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করেছিলেন কিনা। কারণ নিয়োগের মাত্র কয়েকদিন পরই এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। রাশিয়া সংযোগ তদন্তের কারণেই বরখাস্ত করা হয়েছিল কিনা সেটাও খতিয়ে দেখার দায়িত্ব মুলারকে দেয়া হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×