আইএসের চূড়ান্ত পরাজয়

  যুগান্তর ডেস্ক ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস নিয়ন্ত্রিত আর কোনো অঞ্চল নেই। তাদের সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এমনটাই দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। আইএসের লড়াই করছে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। শনিবার এক ঘোষণায় তারাও জানিয়েছে, পূর্ব সিরিয়ায় আইএসের শেষ ঘাঁটি বাঘুজ দখল করে নিয়েছে তাদের যোদ্ধারা। এর মধ্যদিয়ে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কথিত ‘খেলাফত’র অবসান হল বলে মনে করা হচ্ছে। খবর সিএনএন ও বিবিসির।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘১০০ ভাগ পরাজিত হয়েছে আইএস। শুক্রবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সামনে পূর্বের এবং বর্তমানের দুটি মানচিত্র তুলে ধরেন তিনি। তিনি মানচিত্র দুটি একজন সাংবাদিকের হাতে তুলে দেন। বলেন, আপনারা যদি দেখেন, এই হল আইএস। গতরাত পর্যন্ত অবস্থা হল এই। মানচিত্র দুটিতে দেখা গেছে, আগে সিরিয়াজুড়ে আইএসের আধিপত্য ছিল। কিন্তু এখন তা একেবারেই নেই।’

এক টুইট বার্তায় আইএসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের কথা জানায় এসডিএফ। শনিবার এসডিএফের এক মুখপাত্র মুস্তাফা বালি আইএসের চূড়ান্ত পরাজয়ের কথা ঘোষণা করেন। বলেন, বাঘুজে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তাদের পাঁচ বছরের খিলাফতের অবসান হয়েছে। আরও বলেন, সিরিয়ার ছোট্ট একটি গ্রাম বাঘুজে ছিল আইএসের শেষ ঘাঁটি এবং সেখানে তারা নিজেদের পতাকা উড়িয়েছে।

এক সময় আইএসের শক্তি যখন তুঙ্গে, তখন তারা সিরিয়া এবং ইরাকের ৮৮ হাজার বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করত। আয়তনের দিক থেকে সেটি ছিল ব্রিটেনের সমান। সেখানকার বাসিন্দা এক কোটি লোকের ওপর তারা জঙ্গি ধর্মীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করেছিল। তেল বিক্রি, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং ডাকাতি করে তারা শত শত কোটি ডলার আয় করেছিল। সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার যোদ্ধা আইএসের পক্ষে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং কুর্দি-প্রধান এসডিএফ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে হারতে হারতে তারা শেষ অবস্থান নিয়েছিল পূর্ব সিরিয়ার বাঘুজে। এখন তাদের সেই ঘাঁটিরও পতন ঘটল। এসডিএফ আইসএসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই শুরু করে গত মার্চ মাসে। কিন্তু সেই অভিযানের তীব্রতা কিছুটা কমে আসে যখন জানা যায় যে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিভিন্ন ভবন, তাঁবু আর সুড়ঙ্গগুলোতে বহু বেসামরিক মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন। লড়াই থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হাজার হাজার নারী ও শিশু সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

খিলাফতের উত্থান-পতন

২০০৪-১১: জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস’র উত্থান মূলত ২০০৬ সালে। এরআগে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় ইরাকে আল কায়েদার একটি শাখা গঠিত হয়। ২০০৬ সালে সেই সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

২০১১: সংগঠনটি ২০১১ সালে সিরিয়া সংকটের সময় সেখানে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। আর এর নেতৃত্বদেন আইএস’র প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি।

২০১৩: সালে আল কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আইএস। পরে সংস্থাটির নাম নতুন করে রাখা হয় ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট।

২০১৪: ইরাকের ফালুজা এবং সিরিয়ার রাকা শহর দখল করার মধ্য দিয়ে হঠাৎ বড় ধরণের সাফল্য পায় আইএস। এ বছরের জুনে জঙ্গি সংগঠনটি ইরাকের মসুল এবং তিরকিত দখল করে নেয়। সেই বছর ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লেভান্টের নাম আবার পরিবর্তন করে ইসলামিক স্টেট(আইএস) করেন সংগঠনটির প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি।

২০১৫: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শার্লি হেবদো নামে একটি বিদ্রুপাত্মক সাময়িকীর অফিসে হামলা চালায় আইএস। এ ঘটনার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়ে দায় স্বীকার করে আইএস এবং এর অনুসারীরা।

২০১৬: পতন শুরু হয় আইএস’র। ওই বছরের জুনে আইএস’র প্রথম দখল করা ফালুজা পুনঃদখলে নেয় ইরাকি বাহিনী। একই বছরের আগস্টে মার্কিন সমর্থিত কুর্দি দল ওয়াইপিজে নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস(এসডিএফ) বাহিনী সিরিয়ার মানবিজ দখলে নেয়।

২০১৭: আইএস একের পর এক তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা হারাতে শুরু করে। ওই বছরের জুনে আইএস’র কাছ থেকে মসুল শহর পুনঃদখল করে ইরাকি বাহিনী পাশাপাশি খিলাফতের ইতি ঘোষণা করেন। সেপ্টেম্বরে সিরিয়ার দেইর আল জোর প্রদেশ পুনরুদ্ধার করে রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ান বাহিনী। অক্টোবরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স(এসডিএফ) সিরিয়ার রাকা শহর দখলে নেয়।

২০১৮: দক্ষিণ দামেস্কের আইএস নিয়ন্ত্রিত ইয়ারমুক পুনরুদ্ধার করে সিরিয়া সরকার। এ ছাড়া ইসরাইলের সীমান্তবর্তী গোলান মালভূমি থেকেও তাদের উচ্ছেদ করা হয়। এ বছরের শেষেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। যদিও সেই সময় অনেক মিত্র দেশই তার এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×