হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

রুশ আঁতাতের প্রমাণ মেলেনি * অবৈধভাবে এ তদন্ত বাধাগ্রস্ত করেছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো উপসংহার টানেননি মুলার

  যুগান্তর ডেস্ক ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে কোনো আঁতাত করেননি বলে বিশেষ কৌঁসুলির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রবার্ট মুলারের ওই তদন্ত প্রতিবেদনের একটি সারসংক্ষেপ রোববার কংগ্রেসে উপস্থাপন করেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। বিবিসি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পদ কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে এ তদন্ত বাধাগ্রস্ত করেছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো উপসংহার টানেননি মুলার। আবার ট্রাম্পের কোনো দায় ছিল না- এমন কথাও সেখানে বলা হয়নি। এমন প্রতিবেদনের কারণে নিঃসন্দেহে এটি ট্রাম্পের হাঁপ ছাড়ার দিন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত দুই বছরে ট্রাম্পের জীবনে হয়তো এমন ভালো দিন আর আসেনি। ঘাড়ের ওপর রুশ সংযোগের যে মেঘ চেপে বসেছিল, তা সরে গেছে।

ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারশিবিরের সঙ্গে মস্কোর আঁতাত নিয়ে এ তদন্তকে বিভিন্ন সময়ে বর্ণনা করেছেন ‘উইচ হান্ট’ হিসেবে। রোববার প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প টুইটারে এর প্রতিক্রিয়া লিখেছেন, ‘কোনো আঁতাত হয়নি, বাধাও দেয়া হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ওই তদন্ত ছিল ‘অবৈধ’ এবং তা ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। তবুও আমাদের দেশকে এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, এটা লজ্জার। এ প্রতিবেদন ট্রাম্পের জন্য একটা বড় বিজয় এনে দিয়েছে। এখন ডেমোক্র্যাটদের নতুন রাজনৈতিক কৌশলে হাঁটতে হবে। ডেমোক্র্যাটরা হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্টকে সরাতে চাইলে এখন তা ব্যালট বাক্সের মাধ্যমেই করতে হবে; যা ২০২০ সালের নভেম্বরের আগে সম্ভব নয়। তার অভিশংসনের বিষয়টিও আর ডেমোক্র্যাটদের প্রধান রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না। ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণে এ মুহূর্তে তাদের একমাত্র অস্ত্রটি হল, ২০২০ সালের নির্বাচনে তাকে পরাস্ত করা।

২০১৬ সালের নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করেন ট্রাম্প। হিলারিকে হারাতে ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও রুশ সংযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছিলেন এফবিআই’র সাবেক প্রধান জেমস কমি। ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করলে এফবিআই’র সাবেক প্রধান মুলারকে বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ দেয় বিচার বিভাগ। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ২২ মাসের মাথায় শুক্রবার মুলার তার প্রতিবেদন জমা দেন। এ সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের সাবেক ছয় ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে বিচারের মুখোমুখি করেন তিনি। কয়েকজনকে জেলেও পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসারে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কোনো মার্কিন নাগরিক বা ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের কোনো সদস্য জেনেশুনে রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাত করেছেন- এমন কোনো প্রমাণ বিশেষ কৌঁসুলি পাননি। এ তদন্ত ট্রাম্প বাধাগ্রস্ত করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে উইলিয়াম বার লিখেছেন, তদন্তকারীরা সাধারণত যেভাবে নিজেদের মতামত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সেরকম কোনো সিদ্ধান্ত টানতে চাননি মুলার।

এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর রিপাবলিকান সমর্থকরা উল্লসিত আর ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা উদ্বিগ্ন হয়েছেন। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, আজ তাদের জন্য খারাপ দিন, যারা আশা করেছিলেন মুলার তদন্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নামিয়ে আনা হবে। টেলিভিশনে মুলারের প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসার শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ট্রাম্পের সমর্থক হেনরি থম্পসন। তিনি বলেন, আমাদের প্রেসিডেন্টকে যারা হেয় করতে চেয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তারাই হেয় হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে সাউথ ক্যারোলিনার ডেমোক্র্যাট নেতা স্যাম স্কারডন জানান, ট্রাম্পের সদ্য নিয়োগ করা অ্যাটর্নি জেনারেলের সংক্ষিপ্তসার নয়, তারা মুলারের পুরো প্রতিবেদন দেখতে চান। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটে ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদানের মাধ্যমে কোনো আইন ভঙ্গ করেননি- এ ব্যাপারে মুলার কোনো সিদ্ধান্তই দেননি। তাদের দাবি, উইলিয়াম বারের চিঠিতে যত প্রশ্নের উত্তর মিলেছে, তার চেয়ে অধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×