বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া মালদ্বীপে শান্তি ফিরবে না

২০০ বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের ৫০ ভাগই বিচারক শিক্ষা সূচকের ৭ম গ্রেডেরও কম শিক্ষাগত যোগ্যতার

  যুগান্তর ডেস্ক ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া মালদ্বীপে শান্তি ফিরবে না
মালদ্বীপ সংকট

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ব্যতীত মালদ্বীপে কখনই শান্তি ফিরবে না। দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা সেখানকার আসল সংকট নয়।

আসল সংকট হল দেশটির বিচার বিভাগে সরকারি হস্তক্ষেপ। রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ এ স্তম্ভটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। রাজনীতিকদের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে এ বিভাগ।

গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু সরকার ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে এর সংস্কার ও স্বাধীনতা ছাড়া বিকল্প সমাধান নেই। আর এই পথেই শান্তি ফিরবে মালদ্বীপের।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে মালদ্বীপ সংকট সমাধানের এ পথ দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক স্বৈরশাসক মামুন আবদুল গাইয়ুমের শাসনামলে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতিরাই মালদ্বীপের সাম্প্রতিক সব সংকটের মূল।

২০১০ সালে নতুন সরকারের আমলে গৃহীত নতুন সংবিধানে তাদেরকেই আবার আজীবনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ পাওয়া ২০০ বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের ৫০ ভাগই বিচারক শিক্ষা সূচকের ৭ম গ্রেডেরও কম শিক্ষাগত যোগ্যতার।

এদের এক-চতুর্থাংশেরই আবার যৌন হয়রানি, অর্থ আত্মসাৎ ও সহিংসতার মতো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। বহির্বিশ্বে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নাম কামিয়েছে মালদ্বীপ। তবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে দেশটির বিভাজন ও অস্থিতিশীলতাও কম আলোচিত নয়।

গত সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্টের ১৫ দিনের জরুরি অবস্থার ঘোষণা সেই অস্থিশীলতার আনকোরা দৃষ্টান্ত। দেশটির এ অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির শুরু প্রধানত স্বৈরশাসক মামুন আবদুল গাইয়ুমের পতনের পর। পতনের আগে ৩০ বছর ধরে মালদ্বীপ শাসন করেন তিনি।

অবশেষে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত একটি অবাধ ও মুক্ত গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সেই সময়ের রাজনৈতিক বন্দি প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ নাশিদের কাছে পরাজিত হন মামুন। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে উদারপন্থী ও প্রগতিশীল নাশিদ দেশের বিভিন্ন সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে হাত দেন।

কিন্তু নাশিদের এই সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড থমকে যায় বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপে। দেশটির এ বিচারবিভাগ এখনও সাবেক স্বৈরশাসক মামুনের প্রতি অনেকটাই অনুগত।

নাশিদের বিরুদ্ধে ইসলাম-বিদ্বেষ এবং বিচারবিভাগের কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। অবশেষে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন নাশিদের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওয়াহিদ হাসান। ২০১৩ সালের নির্বাচনে নাশিদ বেশি ভোট পেলেও সরকারের নির্দেশে নির্বাচনের ফল বারবার পাল্টে দেয় সুপ্রিমকোর্ট। শেষে মামুনের সৎভাই আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে অবৈধভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয় নাশিদকে। এরপর থেকে চলছে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের স্বৈরশাসন। সীমাহীন দুর্নীতি ও প্রতিপক্ষের ওপর নানা নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছেন তিনি।

সম্প্রতি আলজাজিরার এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে উঠে আসে তার দুর্নীতি, সরকারি সম্পত্তি লুট ও বিদেশে অর্থ পাচারের গোপন কর্মকাণ্ড।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.