মার্কিন কংগ্রেসে বিশেষ শুনানি : চাপ সৃষ্টির দাবি

পাকিস্তানে সরকারের স্বার্থে বিরোধী নেতাদের গুম করছে সেনাবাহিনী

গত দুই দশকে ৫ হাজার গুম * ২০১১-২০১৮ পর্যন্ত ৩০০০ গুম * ৭ মাসে ৫১০ গুম রিপোর্ট

  যুগান্তর ডেস্ক ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানে সরকারের স্বার্থে বিরোধী নেতাদের গুম করছে সেনাবাহিনী

পাকিস্তানে গুম ও জোরপূর্বক অপহরণ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে এক বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক কংগ্রেসের হাউস উপকমিটিতে বুধবার এই শুনানি গ্রহণ করা হয়।

শুনানিতে দেশটিতে অব্যাহত রাজনীতিক গুম ও জোরপূর্বক অপহরণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসম্যানরা। গণতন্ত্র পরিপন্থী মানবাধিকার লঙ্ঘনের এ কৌশল বন্ধে পাকিস্তান সরকারের ওপরে চাপ সৃষ্টি করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন।

পাশাপাশি গুম-অপহরণের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তুলেছেন আইনপ্রণেতারা।

দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গুম ও জোরপূর্বক অপহরণের বিষয়টি অনেক পুরনো হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এই নির্মম গুম-অপহরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণাধীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

ক্ষমতাসীনদের তালিকা ধরে বেছে বেছে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক গুম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। এ কাজ করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যের বরাতে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সাল থেকে দেশটিতে এ ধরনের প্রায় ৩ হাজার গুমের ঘটনা ঘটেছে। কংগ্রেসের শুনানিতে বলা হয়, পাক সরকারের এই শক্তিশালী গুম-অপহরণের ভয়াবহ চর্চা ইতিমধ্যেই স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশ্ব গণমাধ্যমের সমালোচনা কুড়িয়েছে।

পাকিস্তান রাজনীতি নিয়ে বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের এ বিরল শুনানিকে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানে জোরপূর্বক গুম-অপহরণ শুরু হয় সাবেক সামরিক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফের আমলে। ১৯৯৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন মোশাররফ। সব সরকারই শাসন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এই ‘দাওয়াই’ চালিয়ে যাচ্ছে।

২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের পর পাকিস্তানে গুমের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধি পায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। দেশটির বহু মানুষ শিকার হয় আত্মঘাতী বোমা হামলার।

মোশাররফের আমলেই শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের সম্মিলিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’। বহু লোককে সন্ত্রাসী সন্দেহে আটক করে নিয়ে যায় সরকারি বাহিনীগুলো। আটককৃতদের অনেককেই তুলে দেয়া হয় মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাতে।

বন্দি করে রাখা হয় কুখ্যাত গুয়ানতানামো কারাগারে। গুমের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন মানবাধিকার সংস্থা ডিফেন্স অব হিউম্যান রাইটস পাকিস্তানের চেয়ারম্যান ও খ্যাতনামা মানবাধিকার কর্মী আমিনা মাসুদ জাঞ্জুয়া বলেন, গত দুই দশকে পাকিস্তানে ৫ হাজারের বেশি গুমের ঘটনা ঘটেছে।

অ্যামনেস্টির মতে, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত কমিশনের কাছে ৩ হাজার গুমের মামলা এসেছে। গুমের ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের।

তবে দেশটির বিচারবিভাগ বলছে, এই সংখ্যা অতিরঞ্জিত। যারা এ ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সরকারের সেই বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে লিখিত কোনো অভিযোগ বা কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না।

ডন বলছে, কেবল ২০১৬ সালের প্রথম ৭ মাসেই ৫১০টি গুমের রিপোর্ট করেছে পত্রিকাটি। গুমের ঘটনা তদন্ত করতে দেশটিতে কমিশন অব ইনকয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়অরান্স নামে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান পলিটিক্সের অধ্যাপক আকিল শাহ বলেন, রাজনীতিবিরোধী নেতাদের গুম-অপহরণ সংস্কৃতি এ অঞ্চলের বহুল প্রচলিত ‘পুরাতন ঐতিহ্য’।

সম্প্রতি বছরগুলোতে এ অপচর্চা আরও বেড়েছে। আর এ জন্য দায়ী সরকার ও তার আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় বাহিনী। সরকারি স্বার্থবিরোধী সামাজিক মাধ্যম ও রাজনীতিক, অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর সাঁড়াশি অভিযানের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে।’

পাকিস্তানের গুম তদন্ত কমিশনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কমিশন ৩০০টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত করে।’ তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিশন, ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের প্রতি চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাজ করা উচিত’।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.