পাকিস্তানে পুলিশ শুধু নেতা-আমলাদের জনগণের নয়

ধর্ষণকে পুলিশ কোনো অপরাধই মনে করে না * দেশটির গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগও নিশ্চুপ * ব্রিটিশ শাসকদের তৈরি ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে

  যুগান্তর ডেস্ক ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানের পুলিশ বাহিনী শুধু নেতা-আমলাদের নিরাপত্তার জন্য, জনগণের জন্য নয়। রাজনৈতিক নেতা, সরকার ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরই সুরক্ষা দিচ্ছে পুলিশ। সাধারণ জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তার জন্য গঠন করা হলেও দেশটির সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না পুলিশ। রাজনৈতিক দলগুলোর হস্তক্ষেপের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মুখথুবড়ে পড়েছে। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ শাসকদের যেভাবে সুরক্ষা দেয়া হতো, সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডনের এক নিবন্ধে দেশটির পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পাঞ্জাব, খায়বার পাখতুনখাওয়া ও সিন্ধু প্রদেশে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগের কথা বিবেচনায় নিলে বিষয়টা পরিষ্কার হয়। এ অঞ্চলগুলোতে সম্প্রতি বেশ কিছু উচ্চমাত্রার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রাদেশিক পুলিশ বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন সরকার এসব অপরাধ দমনে এবং অপরাধ সংঘটনের পর যথাযথ তদন্ত করতে সম্পূর্ণ অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পুলিশ দিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের হয়রানি চলছে চরমমাত্রায়।

নিবন্ধে বলা হয়, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দায়বদ্ধ থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর হস্তক্ষেপে পুলিশের কার্যক্রম মূলত মুখথুবড়ে পড়েছে। পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখাওয়া ও সিন্ধু প্রদেশে বর্তমানে যথাক্রমে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ক্ষমতায় রয়েছে। এখন বাস্তবতা এমন যে, পুলিশ বাহিনী গঠন করা হয়েছে শুধু দলগুলোর নেতা, সরকার ও তার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সুরক্ষার জন্য। সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এখন থেকে কয়েকশ’ বছর আগে ব্রিটিশ শাসকরা যে ধারা তৈরি করেছিল এখনও সেই ধারাই চলছে। বর্তমানে পাকিস্তানের পুলিশের নীতিতেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায়। আর তাই শিশুদের বিরুদ্ধেও ধর্ষণের মতো পাশবিক অপরাধ সংঘটিত হলেও পাক পুলিশ সেগুলোকে এখন সাধারণ ঘটনা হিসেবেই মনে করে। দেশটিতে সপ্তাহের প্রতিটা দিনই এ ধরনের ভয়াবহ বহু অপরাধ ঘটছে। পুলিশ যেন এগুলোকে অপরাধই মনে করে না। ভয়াবহ কোনো অপরাধ পুলিশের ডায়েরিতে নথিভুক্ত করতে হলেও তাদের তোষামোদ করা লাগে। সম্প্রতি দেশটিতে বেশ কিছু শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গণমাধ্যমের কল্যাণে সামনে আসে। তবে এসব ঘটনা দেশটির পুলিশ বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে তেমন কোনো বড় ব্যাপার ছিল না। সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যস্ত ছিল তারা।

শিশু নির্যাতনের এসব মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ স্পষ্টতই ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে শিশুদের হত্যাকাণ্ডকে বিরোধীদের বিপক্ষে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। এ নিয়ে চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপের রাজনীতি। এক্ষেত্রে দেশটির গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের ভূমিকাও সন্তোষজনক নয়। গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগ বিভিন্ন কেলেঙ্কারির গন্ধ অনুসরণ করে চলছে। জনগণের নিরাপত্তা সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনীর এ ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হচ্ছে বাহিনীর প্রতি সরকারের অবহেলার দৃষ্টিভঙ্গি। স্বাধীনতার পর গত ৭০ বছর ধরে সবসময় বাহিনী কম বেতন, অল্প প্রশিক্ষণ পেয়ে আসছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের। তবে সেটা জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য নয়, ধনী ও ক্ষমতাবান রাজনীতিক ও নেতাদের সুরক্ষায়।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.