পশ্চিমবঙ্গে প্রচারণা

শেখানো বোল গাইছেন মমতার নায়িকারা

  যুগান্তর ডেস্ক ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেখানো বোল গাইছেন মমতার নায়িকারা
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবারের নির্বাচনেও টালিগঞ্জের সেলিব্রেটিদের প্রার্থী করেছেন। তারকা প্রার্থী দাঁড় করানোর রকমারি সুবিধা মমতার কাছেও অজানা নয়।

রুপালি পর্দার হিরো-হিরোইনদের জনতার সামনে দাঁড় করিয়ে রঙিন স্বপ্নে বিভোর করার কার্যকরী কৌশল বটে! যদিও সবসময় যে তারকা প্রার্থী দাঁড় করানোর চাল খেটে যায় তা নয়। কিন্তু সফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও তৃণমূল নেত্রী দাঁড় করিয়েছেন দুই হার্টথ্রব অভিনেত্রীকে- মিমি চক্রবর্তী এবং নুসরাত জাহান। মিমি লড়ছেন যাদবপুর থেকে আর নুসরাত উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট থেকে। ভোটের প্রচারে তারা শেখানো তোতাপাখির বোল আওড়াচ্ছেন। রাজনৈতিক মঞ্চে ভাষণ দেয়ার আগে যে একটু-আধটু হোমওয়ার্ক প্রয়োজন পড়ে, তার কোনো বালাই নেই।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, যাদবপুর ও বসিরহাট কেন্দ দুটিতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে জিতেছিল তৃণমূল। এবার দুই আসনে প্রার্থী বদল করেছেন মমতা। আগামী ১৯ মে সপ্তম ধাপে এ দুই আসনে ভোট হবে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রচারে জোর দিয়েছেন মিমি-নুসরাত। প্রচারে মমতার এ নায়িকারা একঘেয়ে শেখানো বুলি আওড়িয়ে যাচ্ছেন। তারা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে গভীরতার ও বুদ্ধিমত্তার ছাপ নেই, তা দলের নেতাসহ সমর্থকরাও বুঝছেন। হয়তো প্রকাশ্যে কিছুই বলছেন না। তোতাপাখির মতো এসব বুলির চর্বিতচর্বণ এমন, ‘আমি দিদির লোক, আপনাদের জন্য কাজ করতে এসেছি’ বা ‘আমি আপনাদেরই একজন, ভোটের পরেও আমাকে দেখতে পাবেন’ ইত্যাদি।

একটি প্রচারে নুসরাত আক্রমণ করে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। বললেন, তিনি দেশকে ‘ঢপের চপ’ ছাড়া কিছুই দেননি। সমকক্ষ প্রতিপক্ষকে তোপের বানে বিদ্ধ করা যায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আক্রমণ করে বসছেন রাজনীতির নবাগতা; শুধু হাততালির জন্য? ‘প্রধানমন্ত্রী কিছুই করেননি’ ধরনের উক্তি ছুড়ে দিচ্ছেন সে ফ সস্তা হাততালি কুড়াতে। আর তাতে পুরো চিত্রটিই আরও রঙ্গময় হয়ে উঠছে।

রাজনীতিতে সেয়ানে-সেয়ানে আক্রমণের বান ছোটানো যায়। মমতার মতো ঝানু রাজনীতিক এবং মোদির মতো ক্ষুরধার নেতা একে অপরকে কটাক্ষ করতে পারেন, বাক্যবাণে আঘাত করতে পারেন।

তোতাপাখির মতো শেখানো বুলি যে এ টালিগঞ্জের মনহরিণীরা ক্রমাগত আওড়িয়ে চলেছেন তা একটি শিশুও বুঝবে। আর জনপ্রতিনিধিত্বের বিপদ এখানেই।

রাজনীতিতে সবে পা রাখা এই কন্যারা যেভাবে কথা বলছেন, তাতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে তাদের কোনো হোমওয়ার্ক বা পরিকল্পনা কিছুই নেই। জেতা আসন ধরে রাখার জন্য যেটুকু করা প্রয়োজন, দলের ঘাড়ে পা রেখে সেটুকু করতে পারলেই তারা কৃতার্থ। কিন্তু রাজনীতিকে বিনোদনের হাতিয়ার বানানোয় আসল জনতোষী ইস্যুগুলোর দিকেই কারও নজর নেই।

ঘটনাপ্রবাহ : ভারতের জাতীয় নির্বাচন-২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×