শ্রীলঙ্কা ট্র্যাজেডি

চার্চে যেতে ভয় পাচ্ছেন খ্রিস্টানরা

মর্গেলাশ খুঁজছে স্বজনরা

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রীলংকার তিনটি চার্চে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা দেশটির সংখ্যালঘু খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদেরকে ভীত ও শঙ্কিত করে তুলেছে। এখন প্রার্থনা করতে চার্চে যেতে ভয় পাচ্ছেন তারা। মুসলিমদেরও একই অবস্থা। দাঙ্গার ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। চার্চের পুরোহিত ও স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে এএফপি। এদিকে নিহত স্বজনদের লাশ খুঁজে পেতে হাসপাতাল মর্গে ভিড় করছে মানুষ। সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয় লাশ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া। মর্গের সামনেই বড় স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে নিহতদের ছবি। কিন্তু এ দৃশ্য সহ্য করতে পারছেন না অনেকেই। কারণ বেশিরভাগ লাশই ছিন্নভিন্ন। কোনোটার মুখ বিকৃত হয়ে গেছে। কোনোটার পা উড়ে গেছে। এমন ভয়াবহ ছবি দেখে কেউ চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ চোখের পানিতে বুক ভাসাচ্ছেন। কেউ শনাক্তকরণ করতে পারলে হস্তান্তর করা হচ্ছে লাশ।

রোববার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় শ্রীলংকার ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের তিনটি বড় গির্জা। এগুলো হচ্ছে সেইন্ট অ্যান্থনির চার্চ, সেইন্ট সেবাস্টিয়ানের চার্চ ও জায়ন চার্চে। এদিন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে চার্চগুলোতে প্রার্থনায় সমবেত হয়েছিল হাজারও মানুষ। বিস্ফোরণে প্রতিটি গির্জাই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ছাদ উড়ে যায়। বিধ্বস্ত গির্জাগুলোর বেঞ্চ আর যিশুর ভাস্কর্যে রক্তের দাগ লেগে থাকতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেসব ছবি ও ভিডিও এখন ভেসে বেড়াচ্ছে।

গতকালের ঘটনায় শ্রীলংকার পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো বিশ্ব। আর স্থানীয় সংখ্যালঘুদের জীবন এখন হুমকির মুখে। নিগম্বে অবস্থিত সেইন্ট সেবাস্তিয়ান চার্চের পুরোহিত ফাদার লুর ফারনানদো সোমবার এএফপিকে বলেন, ‘হামলার পর অনেকেই এখন চার্চে প্রার্থনায় আসতে ভয় পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি তাদেরকে কি বলব তা আমার জানা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমাদেরকে আরও শক্ত হতে হবে এবং চার্চে গিয়ে প্রার্থনা অব্যাহত রাখতে হবে।’ নিগম্বের ৫৫ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক রনজন ক্রিস্টোফার ফারনার্ড জানান, হামলার পর থেকে চার্চে যাওয়ার ব্যাপারে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। হামলার তার বন্ধুর ১১ বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি খুব শঙ্কিত। কিন্তু আমাদেরকে চার্চে যেতে হবে। হতাহতদের জন্য প্রার্থনা করতে হবে।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×