মানুষের চোখেমুখে ভয়, চাপা স্বরে বলছে কি হল শ্রীলংকার!

  যুগান্তর ডেস্ক ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এবারের ইস্টার সানডের দিনটি শ্রীলংকাবাসীর জন্য অন্যরকম। সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে একে একে বিস্ফোরিত হয়েছে আত্মঘাতী বোমা। রক্তে ভেসে গেছে ইস্টার সানডের প্রার্থনা চত্বর। একাধিক গির্জা ও হোটেলে বোমা হামলায় তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যুতে শ্রীলংকায় ঘিরে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক, উদ্বেগ, ভয়। দীর্ঘ ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর শান্ত থাকা দ্বীপরাষ্ট্রটির কি হল- দেশটির বাসিন্দার চাপা স্বরে বেরিয়ে আসছে এমন মন্তব্য। খবর বিবিসি ও এএফপির।

দেশটির ১৫ লাখ খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণগুলো একের পর এক ঘটে। বিস্ফোরণের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কম থাকায় হামলার শিকার একদল অন্যদের সতর্ক করতে পারেনি। শ্রীলংকায় গত বছর হুমকি ও সংঘর্ষের মতো প্রায় ৮৬টি ঘটনা ঘটেছে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে। তবে এত বড় ঘটনার আশঙ্কা কখনও করেনি শ্রীলংকাবাসী।

৩৬ বছর বয়সী রাশমি ফার্দান্দো বলেন, ‘এক দশক আগে যুদ্ধেও এতটা ব্যথিত হয়নি। এ হামলায় আমি আমার তিন কাজিনকে হারিয়েছি এবং একজন আইসিইউতে রয়েছে।’ আট ও তিন বছরের দুই কন্যা নিয়ে সেইন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায় প্রার্থনায় গিয়েছিলেন ফার্নান্দো। মঙ্গলবার আবারও এসেছেন সেই গির্জার সামনে। তিনি বলেন, ‘আমরা এসেছি হতাহতের প্রতি সম্মান জানাতে এবং আমার আহত কাজিন যেন সুস্থ হয়ে ওঠে সেজন্য প্রার্থনা করতে।’

এদিন সকালে রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে অন্তত ৩০ লাশ কবরে শোয়ানো হয়। ফুলে মোড়ানো কফিনে ছিল লাশ। উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের কান্নায় ভারি হয়েছিল আকাশ বাতাস। সেইন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জার ফাদার সুরাঙ্গা ওয়ার্নাকুলাসুরিয়া বলেন, ‘পরিস্থিতি ছিল খুবই ভয়াবহ। গতকাল আমি একটি বাড়িতে গিয়েছিলাম, সেখানে সাতটি লাশ ছিল। ক্যাথলিক যাজক হিসেবে এমন ভয়াবহ চিত্র আমি আমার জীবনে দেখিনি।’

নিহতদের প্রতি শোক জানাতে চার ভাইবোন নিয়ে এসেছিলেন বাশিনা কুলারত্নে (১৬)। সে জানায়, ‘আমি জানি না এখানে কার লাশ রয়েছে। কাদের শেষকৃত্যানুষ্ঠান হচ্ছে। কিন্তু তারা সবাই আমাদের ভাই, আমাদের বোন।’ ১৬ বছরের স্কুল শিক্ষার্থী সুদর্শিনী শিবকুমার নিহতদের শোক জানাতে এসেছিল। সেইন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জাটি বাড়ির পাশে হওয়ায় প্রায়ই সে সেখানে যান। শিবকুমার জানায়, ‘গির্জায় যেতে আমার ভালোই লাগে। সেখানে খুবই মনোরম পরিবেশ। কিন্তু হামলার পর খুবই মর্মাহত আমি। মনে একটু একটু ভয়ও কাজ করছে।’ গত পাঁচ বছর ধরে গির্জার প্রধান যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফাদার জুদে ফার্নান্দো। বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন তিনি। ফার্নান্দো বলেন, ‘কি ঘটেছিল তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। প্রথমবারের মতো আমি এমন বিকট শব্দ শুনি। রক্তাক্ত শরীর নিয়ে কাঁদছে সবাই। মেঝেতে পড়ে রয়েছে রক্তমাখা লাশ।’ শোকাহত শ্রীলংকার ব্যস্ততম নেগোম্বো শহর এখন নিস্তব্ধ। অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলো বন্ধ। শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশের টহল। পুরো শহরে সাদা ব্যানারে খচিত হয়েছে শোকবার্তা। অনেকে ব্যানারে ফুলের সঙ্গে গির্জার ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। দেশের প্রতিটি পরতে পরতে শোকের ছায়া। নাগরিকদের চাপা স্বরে বেরিয়ে আসছে, হায়! কি হল শ্রীলংকার!

ভয়ে লংকা ছাড়ছেন পর্যটকরা

ইস্টার সানডের প্রার্থনায় তিন তিনটি চার্চ ও আরও তিনটি হোটেলে বোমা হামলা। তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু। পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত। এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর শ্রীলংকাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়-আতঙ্ক। ইতিমধ্যে দ্বীপ দেশটি ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন বিদেশি পর্যটকরা। আগ্রহ হারাচ্ছে নতুন করে ভ্রমণে ইচ্ছুক অন্যরাও। ফলে ধসে পড়ার সম্ভাবনা দেশটির সমৃদ্ধ পর্যটন খাত। এতে উদ্বেগ জানিয়েছে পর্যটন সংস্থাগুলোও। সোমবার এ খবর জানিয়েছে এএফপি।

রোববার সকাল ৯টায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরই শ্রীলংকার কয়েক দশকের চিত্র হঠাৎ পাল্টে যায়। শ্রীলংকার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন অবকাশ যাপনকারীরা। ট্রাভেল বুকিং ওয়েবসাইট ফার্স্ট চয়েসের এক টুইটার বার্তায় সেই উদ্বেগ উঠে এসেছে। জুডিথ অ্যান ক্লেটন নামের একজন পর্যটক টুইটারে লিখেছেন, ‘ছুটি কাটাতে দেশটি ভ্রমণে যারা বুকিং দিয়েছিলেন তারা এখন কি করছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×