আরও অভিজ্ঞতার অপেক্ষা প্রিয়াংকার

গুঞ্জন শেষ, মোদির বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থী কংগ্রেসের

  যুগান্তর ডেস্ক ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রিয়াংকা গান্ধী
প্রিয়াংকা গান্ধী। ফাইল ছবি

গুঞ্জন সেই শুরু থেকেই। অবশেষে তার অবসান হল। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতারা জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের বারানসি থেকে বিজেপি প্রার্থী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লড়ছেন না প্রিয়াংকা গান্ধী। তার জায়গায় ভাবা হচ্ছে অন্য প্রার্থী।

মোদির বিরুদ্ধে আরেকবার মনোনয়ন দেয়া হল দলের অন্যতম শক্তিশালী নেতা অজয় রায়কে। প্রিয়াংকাকে রেখে বিকল্প চিন্তার কারণ হচ্ছে, গতবারের নির্বাচনে এ রাজ্যে মাত্র চারটি আসন পেলেও এবার বেশিরভাগই জয়ের আশা করছে কংগ্রেস। এছাড়া মোদির হাত থেকে বারানসি কেড়ে নেয়া অনেকটা কঠিনই মনে করছে দলটি।

আর তাই এখানে অযথা শক্তির অপচয় করতে চাচ্ছেন না দলের নেতারা। মোদির মতো একজন হেভিওয়েট প্রার্থীকে টেক্কা দিতে দরকার উচ্চতর অভিজ্ঞতা। যা মাত্র দুই মাস আগে রাজনীতিতে যোগ দেয়া প্রিয়াংকার আপাতত নেই। তাই আরও অভিজ্ঞতার অর্জনে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে প্রিয়াংকাকে। অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করেই আগামীতে ময়দানে নামবেন তিনি।

এবার লোকসভার নির্বাচনের আগে আগে প্রিয়াংকাকে রাজনীতিতে নামান কংগ্রেস সভাপতি ও বড় ভাই রাহুল গান্ধী। দলের সাধারণ সম্পাদকের পদে বসিয়ে নির্বাচনে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বভার তুলে দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পরই এ রাজ্যে ঝিমিয়ে পড়া কংগ্রেসকে জাগিয়ে তুলতে কাজ শুরু করেন তিনি। প্রচারণায় বেশ জোর দেন মন্দিরনগরী বারানসিতেই। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানের নিজকে নিয়ে যান জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

এ কারণেই গুঞ্জন ওঠে, মোদির বিরুদ্ধে তাকে টেক্কা হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এ নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলে রাহুল গান্ধীও বলেন, ‘এই নিয়ে রহস্যে রাখছি আপনাদের। কখনও কখনও রহস্য থাকা ভালো।’ প্রিয়াংকা নিজেও বেশ কয়েকবার বলেন, ‘দলের শীর্ষ নেতা চাইলে বারানসি থেকে প্রার্থী হতে আপত্তি নেই তার।’

উত্তরপ্রদেশভিত্তিক দুটি শক্তিশালী দল সমাজবাদী পার্টি (সপা) ও বহুজন সমাজ পার্টির (বসপা) নেতারাও মনে করছিলেন, মোদির বিরুদ্ধে প্রিয়াংকা বা স্থানীয় কোনো শক্তিশালী নেতাকে প্রার্থী করতে পারে কংগ্রেস।

সোমবারই এই আসনে কংগ্রেস নেতা শ্যাম লাল যাদবের ছেলের বউ শৈলিনী যাদবকে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে সপা। ২০১৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে সপায় যোগ দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেন শৈলিনী। বারানসির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, কংগ্রেস যদি প্রিয়াংকাকে প্রার্থী করে, তাহলে সপা তাদের প্রার্থীকে তুলে নেবে।

২০১৪ সালের বারানসি আর ২০১৯ সালের বারানসি একেবারের আলাদা। সেবার মোদি হাওয়ার তোড়ে তিন লাখ ৭০ হাজার ভোটের বড় ব্যবধানে মোদিকে সংসদে পাঠিয়েছিল বারানসি। মাত্র ৭৫,০০০ ভোট পেয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রায়।

মোদি পেয়েছিলেন প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ভোট। সেই নির্বাচনে প্রায় দুই লাখ ভোট পেয়ে এখানে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন আম আদমি পার্টির প্রার্থী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে এখানকার মানুষের মনে নানা কারণে ক্ষোভ জমেছে মোদির ওপর। অন্যতম কারণ, নির্বাচিত হওয়ার পর একবারও নিজ আসনের জনগণের খোঁজ নেননি মোদি। বারানসিতে বিজেপি যে এবার ভালো অবস্থায় নেই তা দলীয় কর্মীরাও বিলক্ষণ জানেন। প্রিয়াংকার একাধিকবার বারানসিতে প্রচারে আসায় সিঁদুরে মেঘ দেখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথেরা।

ঘটনাপ্রবাহ : ভারতের জাতীয় নির্বাচন-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×