শ্রীলংকা ট্র্যাজেডি বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের রক্তাক্ত মাশুল

কপাল ফিরছে রাজাপাকসের

  যুগান্তর ডেস্ক ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা তৎপরতার বড় ব্যর্থতা ছিল বলে স্বীকার করেছে শ্রীলংকা। এর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক বিরোধ। গত বছরের শেষ দিকে ৫০ দিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাশুল ৩৬০ জন প্রাণের বিনিময়ে দিতে হয়েছে দেশটিকে। গত রোববার তিনটি গির্জা ও বিলাসবহুল তিনটি হোটেলসহ কয়েক দফা বোমা হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে শ্রীলংকা। এজন্য ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। গোয়েন্দাদের ব্যর্থতা ও সরকারের উদাসীনতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ফলে বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল টাইগারদের দমনের নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের কপাল ফিরছে বলে মনে করছেন পশ্চিমা বিশ্লেষকরা।

রয়টার্স জানায়, গত ১১ এপ্রিল হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থা শ্রীলংকাকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু বিষয়টি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আমলে নেননি। পার্লামেন্টেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রীলংকার প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লক্ষ্মণ কিরিয়েলা বলেন, ‘আমাদের দায় নিতে হবে। যদি গোয়েন্দা তথ্য সঠিক লোকজনের কাছে পৌঁছানো যেত, তাহলে এ হামলা এড়ানো যেত বা ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেত। শীর্ষ কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে গোয়েন্দা তথ্য গোপন করেছিলেন। তথ্য হাতে পেয়েও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যথাযথ পদক্ষেপ নেননি।’

গত বছরের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। বিক্রমাসিংহেও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন আকড়ে রেখে সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে চাপের মুখে ৫০ দিন পর বিক্রমাসিংহেকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন সিরিসেনা। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে একটু রেষারেষির সম্পর্ক বিদ্যমান। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ অ্যালেন কেনান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ দ্বন্দ্বের জেরে প্রেসিডেন্ট নানাভাবে তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন। পুলিশ বাহিনীকে তার বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন। এটা সম্ভব যে, প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপেই পুলিশ বাহিনী মন্ত্রীদের কাছে তথ্য প্রকাশ করেনি।’

দ্বীপরাষ্ট্রটিতে এমন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে রাজাপাকসের কপাল খুলতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগামী অক্টোবর ও ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা ও তার প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহেকে টার্গেট করেছেন রাজাপাকসে। নিয়মানুযায়ী, রাজাপাকসে আর ভোটে লড়তে পারবেন না। দেশটিতে দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না কেউ। কিন্তু তার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে এ চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত রয়েছেন। তামিল টাইগারদের দমনে রাজাপাকসের একান্ত সঙ্গী ছিলেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গোতাবায়া। এটা স্পষ্ট যে, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে রাজাপাকসের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হবে। যদিও তামিলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে গোতাবায়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রোজেক্ট ও মার্কিন আইনি সংস্থা হাউসফেল্ড ক্যালিফোর্নিয়ায় তার বিরুদ্ধে গত মাসে মামলাটি করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×