টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিশেষ প্রতিবেদন

রাহুলের দোষেই ভোট দেয়নি ভোটাররা

  যুগান্তর ডেস্ক ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাহুলের দোষেই ভোট দেয়নি ভোটাররা
ছবি: এএফপি

উত্তরপ্রদেশের আমেথি আসনটিকে কংগ্রেসের কর্ণধার গান্ধী পরিবারের চিরকালের পাকা আসন বলা হতো। ২০০৪ থেকে এই আসনে টানা তিন-তিনবার জয়ী হয়ে পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষা করেন দলটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী। কিন্তু ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে এসে ছেদ পড়ল সেই ধারাবাহিকতায়। রাহুলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন আমেথির জনগণ।

‘শাহাজাদা’ রাহুলের দোষেই এবার কংগ্রেসকে ভোট দেয়নি ভোটাররা। বিজেপির স্মৃতি ইরানির কাছে ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। এ হার গান্ধী পরিবারের জন্য আবশ্যই একটা বড় আঘাত। তবে রাহুলের এই পরাজয়ে মোটেই অবাক হয়নি স্থানীয় ভোটাররা। তারা বলছেন, রাহুলের উদাসীনতার কারণেই একটা নির্বাচনী দুর্গ হারিয়েছে কংগ্রেস। কেউ কেউ আবার ক্ষোভ ঝেড়ে বলছেন, গান্ধী পরিবারকে একটা উচিত শিক্ষা দেয়ার প্রয়োজন ছিল। এবার লোকসভায় সেই শিক্ষাই দিয়েছে জনগণ।

রাহুলের আগে আমেথিতে সর্বশেষ তার প্রয়াত চাচা সঞ্জয় গান্ধী হেরে গিয়েছিলেন। সেটা ছিল ১৯৭৭ সাল। ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জরুরি অবস্থা বিরোধী ঢেউয়ে পরাজয় ঘটে। পরবর্তী সময় ১৯৮০ সালে বিজেপি থেকে এই আসনটি আবার ছিনিয়ে নেন সঞ্জয়। এরপর থেকেই আমেথি মানে কংগ্রেস।

১৯৮১ সালে সঞ্জয় গান্ধীর মৃত্যুর পর একই বছর উপনির্বাচনে আসনটিতে বিজয় অর্জন করেন রাজীব গান্ধী। ১৯৮৪ এবং ১৯৮৯ সালেও এ আসনে জয় লাভ করেন তিনি। তার মৃত্যুর পর গান্ধী পরিবারের বন্ধু ক্যাপ্টেন সতিশ শর্মা ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে আমেথিতে জয়লাভ করেন। পরে ১৯৯৮ সালে বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাবেক কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় সিং আমেথির সিংহাসনে আসীন হন। যদিও এখানে তার রাজত্ব বেশিদিন চলেনি।

এক বছর পরেই সোনিয়া গান্ধী রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং আমেথিতে নিজের করে নেন। ২০০৪ সালে রায়বেরেলিতে নিজের আসন স্থানান্তরের আগ পর্যন্ত এখানেই ছিলেন তিনি। নিজের স্থলে ছেলে রাহুলকে নিয়োজিত করেন সোনিয়া। এরপর টানা তিন মেয়াদ রাহুলকে সুযোগ দিয়েছে আমেথির জনগণ।

কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাননি রাহুল বরং বরাবরই আমেথির ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন। বিপরীতে বিজেপির স্মৃতি ইরানির জোরাল উপস্থিতি। বিশেষ করে ২০১৪ সালে পরাজয়ের পর থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) স্মৃতি ইরানি বহুবার আমেথিতে এসেছেন। বিপরীতে আমেথির জনগণ রাহুলের দেখা পেয়েছেন কদাচিৎ। আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়া আমেথির বারাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুরেন্দ্র সিং টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যিনি তার নিজের আসনের জনগণের কাছে আসেন না, আমরা তেমন ব্যক্তিকে কেন ভোট দেব। রাহুল সর্বশেষ তিন বছর আগে বোরাওলিয়াতে এসেছিলেন। এমনকি নির্বাচন মৌসুমেও তিনি এখানে পা রাখার প্রয়োজন বোধ করেননি।’

স্বাভাবিকভাবেই রাহুল যখন নিষ্ক্রিয় ছিলেন তখন এ অঞ্চল দাপিয়ে বেড়িয়েছেন প্রতিপক্ষ স্মৃতি ইরানি। তিনি এ অঞ্চলের জন্য রাস্তাঘাট তৈরি করে দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

স্মৃতি ইরানির নির্বাচনকর্মীকে গুলি করে হত্যা : আমেথি আসনে বিজয়ী বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানির ঘনিষ্ট প্রচারকর্মী সুরেন্দ্র সিংকে রোববার সকালে এলাকার বারাউলিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। বিকালেই কর্মীর শেষকৃত্যে অংশ নেন স্মৃতি ইরানি।

এ ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে লখনৌ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আমেথির পুলিশ সুপার রাজেশ কুমার বলেন, ‘রাত প্রায় ৩টার দিকে তাকে গুলি করা হয়। আমরা সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করেছি, তদন্ত চলছে।’

ঘটনাপ্রবাহ : ভারতের জাতীয় নির্বাচন-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×