মোদির তিন প্রতিশ্রুতি পূরণ

প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের সুখবর

* ১৫ কোটি কৃষককে বছরে ৬ হাজার রুপি পেনশন * ব্যবসায়ী-দোকানিদের জন্য পেনশন প্রকল্প * শহীদ সেনা-পুলিশের সন্তানদের জন্য স্কলারশিপ

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নয়া টিমের প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের জন্য এসেছে সুখবর। ভোটের প্রতিশ্রুতি অনুসারে কৃষকদের জন্য প্রকল্প পাস করেছে মোদির মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম বৈঠকে বসে মোদির নেতৃত্বে নবগঠিত মন্ত্রিসভা। এনডিটিভি জানায়, টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার পর নতুন মন্ত্রিসভা প্রথম বৈঠকেই তিনটি প্রতিশ্রুতি পাস করেছে। কৃষক, ব্যবসায়ী এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর শহীদ পরিবারের জন্য সুসংবাদ দিয়েছে মোদির মন্ত্রিসভা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনসহ ২৪ পূর্ণমন্ত্রী। খবর এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের।

মন্ত্রিসভায় আগের কিষাণ প্রকল্পকে প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় তিন কিস্তিতে বার্ষিক ৬ হাজার করে প্রায় ১৫ কোটি দরিদ্র কৃষককে অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যাদের ৫ একরেরও কম জমি রয়েছে তারা এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রকল্পটি দেশের সর্বত্র ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য। ১৮ থেকে ৪০ বছরের কৃষিজীবীরা এন্ট্রি করতে পারবেন নাম। ৬০ বছর বয়স হলে তারা ৩ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। এই পেনশন স্কিমে একজন কৃষক যে পরিমাণ টাকা রাখবে, কেন্দ্রীয় সরকারও পেনশন তহবিলে সমান পরিমাণে অবদান রাখবে। গ্রাহকের মৃত্যুর পরে পেনশন পাবেন তার স্ত্রী। তিনি ওই পেনশনের ৫০ শতাংশ পাওয়ার অধিকার পাবেন। এই পেনশন প্রকল্পের সব থেকে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পের সব সুবিধা পাবেন কৃষিজীবী মানুষ। প্রকল্পটিতে প্রথম তিন বছরে কমপক্ষে ৫ কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা ঘোষণা করা হয়।

ব্যবসায়ীদের জন্য পেনশন প্রকল্প চালু করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। পেনশন প্রকল্পের আওতায় প্রায় তিন কোটি ব্যবসায়ী ও দোকানি লাভবান হবেন বলে জানানো হয়। ওই প্রকল্পে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮৭ হাজার ২১৭ কোটি রুপি বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে, যা বিগত সরকারের সময় ছিল ৭৫ হাজার কোটি রুপি। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর জানান, জিএসটিসহ যে সব দোকানদার, ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতার বছরে ব্যবসা দেড় কোটি রুপির কম তারা এই স্কিমের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। সারা দেশে সোয়া তিন লাখ কমন সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে তাদের নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলবে।

এছাড়া শহীদ সেনা ও পুলিশের সন্তানদের জন্য স্কলারশিপ প্রকল্পের ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাসিক স্কলারশিপের টাকা ছেলেদের জন্য ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে আড়াই হাজার ও মেয়েদের জন্য ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট করে জানিয়েছেন, আমাদের সরকারের প্রথম সিদ্ধান্ত তাদেরকে উৎসর্গ করা হল, যারা দেশের সেবায় নিয়োজিত।