রাহুল নন, সংসদে সোনিয়াতেই ভরসা

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

দলের সংসদীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আবারও সোনিয়াতেই আস্থা রাখল কংগ্রেস। শনিবার সংসদীয় দলের (কংগ্রেস পার্লামেন্ট পার্টি, সিপিপি) চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হলেন সোনিয়া গান্ধী। দলের নবনির্বাচিত সাংসদরা লোকসভার সেন্ট্রাল হলে নেতা বাছতে বৈঠকে বসেন। সেখানেই চেয়ারপার্সন হিসেবে সোনিয়ার নাম চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সোনিয়ার নাম নেতা হিসেবে প্রস্তাব করেন। নবনির্বাচিত ৫২ সাংসদ সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেন। মোদি মন্ত্রিসভা গঠনের পরের দিন সকালেই লোকসভার সেন্ট্রাল হলে এ বৈঠকে বসে কংগ্রেস। গত ৫ বছর এই দায়িত্ব সামলেছেন কর্নাটকের নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। এবার তিনিও জিততে পারেননি। বৈঠক শেষে সোনিয়া তার আশা জাগানিয়া বক্তব্যে বলেন, ‘হাল ছাড়বেন না। কংগ্রেস আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’ মায়ের কথার সুর ধরে রাহুল বলেন, ঘুরে দাঁড়াবার প্রয়োজন আছে আর সেটা করার সুযোগও আছে কংগ্রেসের কাছে। আরও বলেন, বিজেপির সঙ্গে তার লড়াই মতাদর্শের। আর সেটা তিনি চালিয়ে যাবেন। তার মনে হয় দল পরিচালনার ভার না থাকলে সেই লড়াই লড়া তার পক্ষে সহজ হবে। তিনি বলেন, কংগ্রেসের সবার মনে রাখা উচিত তারা প্রতিটি ভারতীয়র জন্য লড়াই করছেন।

নেতা নির্বাচন হলেও এবারও কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়া নিয়ে সংশয় আছে। যে পরিমাণ আসন পেলে বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়া যায় তার থেকে কংগ্রেসের তিনটি আসন কম আছে। গতবার কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ছিল ৪৪। আর তাই তারা বিরোধী দলনেতার পদ পায়নি। এবারও পরিস্থিতি প্রায় সেরকম। সংসদীয় দলের বৈঠকে সোনিয়া কংগ্রেসকে ভোট দেয়া ১২-১৩ কোটি ভোটারকে ধন্যবাদ জানান।

ভোটারদের পাশাপাশি ছেলে রাহুলকেও ধন্যবাদ জানান মা। নির্বাচনের সময় রাত-দিন এক করে যেভাবে কংগ্রেস সভাপতি মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন, যেভাবে সমাজের সব অংশের মানুষের সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন তা প্রশংসাযোগ্য বলেই মনে করেন সোনিয়া। পাশাপাশি কয়েক মাস আগে কংগ্রেস যে ছত্তিশগড় মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে জয় পেয়েছে তার জন্যও কংগ্রেস সভাপতির ভূমিকা ছিল বলেই তিনি মনে করেন। এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত লোকসভায় বিরোধী দলনেত্রীর পদ সামলেছিলেন সোনিয়া গান্ধী।