তিয়েনআনমেনে ঠিক কাজই করেছিল চীন
jugantor
তিয়েনআনমেনে ঠিক কাজই করেছিল চীন
সিঙ্গাপুরে শাংগ্রি-লা সংলাপে বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৩০ বছর আগে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের কঠোর হস্তে দমনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেন। তার দাবি ওই সময় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার যা করেছিল তা সঠিক ছিল। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য ও তাইওয়ানকে চীন থেকে কেউ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে বেইজিং ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে’। রোববার সিঙ্গাপুরে এশিয়া প্রতিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলনে শাংগ্রি-লা সংলাপে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

১৯৮৯ সালে চীনে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সাত সপ্তাহব্যাপী ওই আন্দোলন দমনে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। ৩ ও ৪ জুন সরকারি অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। চীন কখনও ওই ঘটনায় হতাহতদের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ওয়েই ফেন তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ওই ঘটনাকে রাজনৈতিক ‘হাঙ্গামা’ বলে মন্তব্য করে বলেন, ‘৩০ বছর পর প্রত্যেকেই তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ওই ঘটনা সম্পর্কে জানে। ৩০ বছরে কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণে চীনের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আপনি কি মনে করেন ৪ জুনের ওই ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার ভুল করেছিল? ওই ঘটনার উপসংহার টানা হয়েছে। হাঙ্গামা দমনে সরকার ছিল দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।’

তিয়েনআনমেন ইস্যুতে তিনি আরও বলেন, স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও তাইওয়ানকে নিজেদের অধিকারে নিয়ে আসার কথাও বলে আসছে তারা। ২০১১ সালের পর ওয়েই ফেন হচ্ছেন প্রথম চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী যিনি শাংগ্রি-লা সংলাপে যোগ দিলেন, তবে চীনের স্বার্থে কেউ আঘাত করলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে ইতস্তত করা হবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন ফেন। তিনি বলেছেন, ‘চীন হামলার শিকার না হলে হামলা করবে না।’ সংঘাতের পরিণতি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ারি দিয়ে ফেন বলেন, ‘দুই পক্ষ জানে তাদের মধ্যে সংঘাত কিংবা যুদ্ধ উভয় দেশ ও পৃথিবীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্নভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় চীনের সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে সেখানে প্রায়ই জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার দাবিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ চলাচল করে। এতে করে সম্প্রতি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নাজুক হয়ে পড়ছে।

তিয়েনআনমেনে ঠিক কাজই করেছিল চীন

সিঙ্গাপুরে শাংগ্রি-লা সংলাপে বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৩ জুন ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৩০ বছর আগে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের কঠোর হস্তে দমনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেন। তার দাবি ওই সময় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার যা করেছিল তা সঠিক ছিল। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য ও তাইওয়ানকে চীন থেকে কেউ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে বেইজিং ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে’। রোববার সিঙ্গাপুরে এশিয়া প্রতিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলনে শাংগ্রি-লা সংলাপে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

১৯৮৯ সালে চীনে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সাত সপ্তাহব্যাপী ওই আন্দোলন দমনে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। ৩ ও ৪ জুন সরকারি অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। চীন কখনও ওই ঘটনায় হতাহতদের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ওয়েই ফেন তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ওই ঘটনাকে রাজনৈতিক ‘হাঙ্গামা’ বলে মন্তব্য করে বলেন, ‘৩০ বছর পর প্রত্যেকেই তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ওই ঘটনা সম্পর্কে জানে। ৩০ বছরে কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণে চীনের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আপনি কি মনে করেন ৪ জুনের ওই ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার ভুল করেছিল? ওই ঘটনার উপসংহার টানা হয়েছে। হাঙ্গামা দমনে সরকার ছিল দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।’

তিয়েনআনমেন ইস্যুতে তিনি আরও বলেন, স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও তাইওয়ানকে নিজেদের অধিকারে নিয়ে আসার কথাও বলে আসছে তারা। ২০১১ সালের পর ওয়েই ফেন হচ্ছেন প্রথম চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী যিনি শাংগ্রি-লা সংলাপে যোগ দিলেন, তবে চীনের স্বার্থে কেউ আঘাত করলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে ইতস্তত করা হবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন ফেন। তিনি বলেছেন, ‘চীন হামলার শিকার না হলে হামলা করবে না।’ সংঘাতের পরিণতি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ারি দিয়ে ফেন বলেন, ‘দুই পক্ষ জানে তাদের মধ্যে সংঘাত কিংবা যুদ্ধ উভয় দেশ ও পৃথিবীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্নভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় চীনের সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে সেখানে প্রায়ই জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার দাবিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ চলাচল করে। এতে করে সম্প্রতি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নাজুক হয়ে পড়ছে।